• ই-পেপার

চট্টগ্রাম ছাড়া ৫৯ জেলায় এইচএসসি পরীক্ষা চলবে

  • স্থানীয় প্রশাসনের মতের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত : আন্ত শিক্ষা বোর্ড

সংসদ ভবনের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে, নিজের কক্ষেও বাটি পাতেন ডেপুটি স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংসদ ভবনের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে, নিজের কক্ষেও বাটি পাতেন ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় সংসদ ভবনের মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সরকারি দলের হুইপ জি কে গউছ। এ সময় বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, বৃষ্টির দিনে তাঁর নিজের কক্ষের ছাদ থেকেও পানি পড়ে। তাই তাঁকেও বাটি পেতে ঘরের মধ্যে পানি আটকে রাখতে হয়।

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি উত্থাপন করেন হুইপ জি কে গউছ। তিনি বলেন, সংসদ ভবনের ওপরের তলায় থাকা মসজিদে অনেক সংসদ সদস্য জামাতে নামাজ আদায় করেন। কিন্তু বর্তমানে মসজিদের ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ছে। পানি আটকাতে সেখানে সারিবদ্ধভাবে বালতি রাখা হয়েছে। যে সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়, সেই সংসদ ভবনের মসজিদের এমন অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদ ভবনের ছাদ দিয়ে পানি পড়ার বিষয়টি তাঁরও জানা আছে। তিনি বলেন, কষ্টের কথা কাকে বলব। বৃষ্টির দিনে আমি যখন নিজের ঘরে ঘুমাতে যাই, তখন আমার ঘরের ছাদেও পানি পড়ে। তাই আমাকেও বাটি দিয়ে পানি আটকে রাখতে হয়। ডেপুটি স্পিকারের এ মন্তব্যে সংসদকক্ষে কিছুক্ষণ হাস্যরসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানান, সংসদ ভবনের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের।

 

জগন্নাথদেবের রথযাত্রা বৃহস্পতিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
জগন্নাথদেবের রথযাত্রা বৃহস্পতিবার

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) বাংলাদেশের উদ্যোগে এবারও শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষে ৯ দিনব্যাপী উৎসব পালিত হবে। আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৮টায় ঢাকায় ইসকন স্বামীবাগ মন্দিরে বিশ্বশান্তি কামনায় বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ সহযোগে অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মাধ্যমে উৎসবের শুভসূচনা করা হবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর স্বামীবাগ মন্দিরে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক শ্রীমৎ ভক্তিময় নিতাই স্বামী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। ইসকন সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর স্বামীবাগ থেকে রথযাত্রা জয়কালী মন্দির, ইত্তেফাক মোড়, শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলার মোড়, পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেস ক্লাব, হাইকোর্ট, দোয়েল চত্বর, শহীদ মিনার ও পলাশীর মোড় হয়ে শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে পৌঁছাবে। পরে ২৪ জুলাই শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে একই পথে স্বামীবাগ মন্দিরে ফিরবে। শ্রীমৎ ভক্তিময় নিতাই স্বামী বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায়, প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। তারা সর্বোচ্চ নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

ডেমরায় বিস্ফোরণে পাঁচ মাদরাসা শিক্ষার্থী আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডেমরায় বিস্ফোরণে পাঁচ মাদরাসা শিক্ষার্থী আহত

রাজধানীর ডেমরায় একটি মাদরাসায় বিস্ফোরণে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল ৩টার দিকে ডেমরা পূর্ব বক্সনগর এলাকার দারুননাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসার ষষ্ঠ তলায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এ বিস্ফোরণের ঘটে বলে মাদরাসাটির শিক্ষার্থী ও পুলিশ জানিয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। ডেমরা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোহাম্মদ মামুন হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, আবাসিক মাদরাসাটিতে শিক্ষার্থীরা খাওয়া-দাওয়া করে ঘুমাচ্ছিল। সেখানের একটি কক্ষে বিদ্যুতের বোর্ডে শর্ট সার্কিট থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত পরিদর্শক মো. ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়েছে। তারা হলোরেদোয়ান, মোদাব্বির, সাফি, মো. উজাইফা ও রোমান। তাদের সবার বয়স আনুমানিক ১২ থেকে ১৫ বছর। আহতরা জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে রেদোয়ানের অবস্থা গুরুতর।

 

 

হাইকোর্ট

দেনমোহর আদায় বা পরিশোধ পদ্ধতি নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ কেন নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেনমোহর আদায় বা পরিশোধ পদ্ধতি নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ কেন নয়

বিয়ের সময় ধার্য করা দেনমোহর পরিশোধ বা আদায়ে একটি বিশদ পদ্ধতি বা নীতিমালা করা নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিটে প্রাথমিক শুনানির পর গতকাল সোমবার এই রুল দেন বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

বিয়ের সময় ধার্য করা দেনমোহর আদায় বা পরিশোধ এবং নারীর অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ১০ ধারার অস্পষ্টতা দূর করে এই ধারার অধীনে একটি বিশদ পদ্ধতি বা নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালযয়ের সচিব, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যানকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

জনস্বার্থে রিটটি করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফাহমিদা আখতার। গতকাল রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খাঁন জিয়াউর রহমান।

আইনজীবী ফাহমিদা আখতার সাংবাদিকদের বলেন, শুনানিতে হাইকোর্ট বলেছেন, ধর্মীয় বিধান উপেক্ষা করে লোক দেখানো অতিরিক্ত দেনমোহর নির্ধারণের প্রবণতা থেকেই নানা জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়াহ নীতির বাইরে যাওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেছেন আদালত।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খাঁন জিয়াউর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, রিটে অন্তর্বর্তী আদেশ চাওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আমি আপত্তি জানিয়েছিলাম। আদালত রুল জারি করেছেন।

দেনমোহর নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে গত ৫ জুলাই দায়ের করা হয় রিটটি। এতে বলা হয়, অধিকাংশ বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রী দেনমোহরের টাকা পরিশোধের দাবি জানালেও খুব কমই পরিশোধ করা হয়। কেবল বিবাহবিচ্ছেদের মতো বিষয় সামনে এলেই দেনমোহরের টাকা পরিশোধের প্রশ্ন আসে। আর যখন তা পরিশোধ করা হয়, তখন টাকার বাজার মূল্য আর আগের মতো থাকে না। মুদ্রাস্ফীতির হার বা সময়ের ব্যবধান বিবেচনা না করে দেনমোহরের টাকা আদায় করা বা পরিশোধ করা পক্ষপাতমূলক এবং একই সঙ্গে তা দেনমোহর ধার্য করার মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থি।

রিটে আরও বলা হয়, যেহেতু শরীয়া আইনে নারী অধিকার সুরক্ষায় দেনমোহরসহ বেশ কিছু ইতিবাচক বিধান রয়েছে, তার পরও আর্থ-সামাজিক কারণ এবং পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যের কারণে এই বিধানগুলোর কার্যকারিতা হারাচ্ছে। আইনি মানদণ্ড না থাকায় দেনমোহরের সুরক্ষামূলক উদ্দেশ্যকে অনেকাংশেই ব্যাহত করেছে। শুধু তাই না, অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল নারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

রিটে বলা হয়েছিল, যেহেতু দেনমোহর একজন বিবাহিত নারীর অর্জিত এবং আইনত বলবেযাগ্য অধিকার, তাই আইনগত অস্পষ্টতা বা কোনো নীতিমালা না থাকার কারণে তার কার্যকারিতা হারাতে দেওয়া যায় না। বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ নারীদের অধিকার ও আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ।