৫৬. অতএব যারা কাফির হয়েছে, তাদের আমি কঠিন শাস্তি দেব দুনিয়ায় এবং আখিরাতে, তাদের কোনো সাহায্যকারী নেই। ৫৭. পক্ষান্তরে যারা ইমান এনেছে এবং সৎ কাজ করেছে, তাদের প্রাপ্য পরিপূর্ণভাবে দেওয়া হবে। আর আল্লাহ অত্যাচারীদের ভালোবাসেন না। ৫৮. আমি তোমাদেরকে পড়ে শোনাই এসব আয়াত এবং নিশ্চিত বর্ণনা। - সুরা আলে ইমরান তাফসির : যেসব ইহুদি হজরত ঈসা (আ.)-এর প্রতি কুফরি করেছে বা তাঁর ব্যাপারে সীমা অতিক্রম করেছে কিংবা যেসব খ্রিস্টান তাঁর সঙ্গে অহমিকা প্রদর্শন করেছে, আল্লাহ তায়ালা তাদের সঙ্গে অনুরূপ আচরণই করেছেন। তাদের হত্যা করে বা বন্দি করে দুনিয়ায় শাস্তি দিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে সব ধনসম্পদ ও রাজত্ব কেড়ে নিয়েছেন এবং পরকালেও তাদের কঠোর শাস্তি দেবেন। আল্লাহর শাস্তি থেকে তাদের হিফাজতের জন্য কেউ থাকবে না। অন্যদিকে যারা ইমান এনেছে এবং সে অনুযায়ী সৎকর্ম করেছে, তাদের আল্লাহ তায়ালা পুরস্কার দান করবেন। অর্থাৎ দুনিয়ার জীবনেও এবং পরকালের জীবনেও। দুনিয়ায় বিজয় দান করবেন এবং পরকালে জান্নাতে স্থান দেবেন। এরপর বলা হয়েছে, 'আল্লাহ তায়ালা জালিমদের ভালোবাসেন না।' বিপদাপদ মুমিনের জন্য প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ : আয়াতে বলা হয়েছে, 'যারা কুফরি করেছে, আমি তাদের শাস্তি দেব দুনিয়া ও আখিরাতে'- এখানে আয়াতের বিষয়বস্তুতে প্রশ্ন দেখা দেয় যে কিয়ামতের মীমাংসার বর্ণনায় এ কথা বলার মানেই বা কী যে ইহকাল ও পরকালে শাস্তি দেব? কারণ তখন তো ইহকালের শাস্তি হবেই না। এর সমাধান এই যে এ কথাটি অপরাধীকে লক্ষ করে বিচারকের এরূপ উক্তির মতোই যে, এখন তোমাকে এক বছর শাস্তি ভোগ করতে হবে। এমতাবস্থায় আবার অপরাধে লিপ্ত হলে নিশ্চিতরূপেই দুই বছরের সাজা হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে এক বছরের সঙ্গে অতিরিক্ত এক বছর যুক্ত হয়ে মোট দুই বছর সাজা হবে। আলোচ্য আয়াতেও অনুরূপ বোঝা দরকার। ইহকালের সাজা তো হয়েই গেল। এর সঙ্গে পরকালের সাজা যুক্ত হয়ে কিয়ামতের দিন মোট সাজা পূর্ণ করা হবে। অর্থাৎ ইহকালে সাজা পরকালের সাজার প্রায়শ্চিত্ত হবে না। কিন্তু মুমিনের অবস্থা এর বিপরীত। ইহকালে তাদের ওপর কোনো বিপদাপদ এলে গুনাহ মাফ হয় এবং পরকালে দণ্ড মওকুফ হয়। সে কারণেই আল্লাহ জালিমদের ভালোবাসেন না বলে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। অর্থাৎ মুমিনরা ইমানের কারণে আল্লাহর প্রিয়। প্রিয়জনের সঙ্গে এমনই ব্যবহার করা হয়। পক্ষান্তরে কাফিররা কুফরের কারণে আল্লাহর ঘৃণার পাত্র। ঘৃণিতদের সঙ্গে এরূপ ব্যবহার করা হয় না (বয়ানুল কোরআন)। এরপর আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'যালিকা নাতলুহা...' অর্থাৎ হজরত ঈসা (আ.) সম্পর্কিত যেসব ঘটনায় তাঁর জন্মের ইতিকথা রয়েছে এবং তাঁর দ্বীনের পরিচয় মিলে, সেসব ঘটনা তোমাকে বলা হলো। তা লাওহে মাহফুজ থেকে অহির মাধ্যমে তোমার (নবী মুহাম্মদ (সা)-এর) কাছে নাজিল করেছেন। কাজেই তাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। যেমন আল্লাহ তায়ালা সুরা মারইয়ামে বলেছেন, 'তিনি ঈসা ইবনে মরিয়ম। একটি পরম সত্য কথা, যাতে তোমরা দ্বিধাদ্বন্দ্ব প্রকাশ করছ আল্লাহ তায়ালার জন্য সমীচীন নয় যে, তিনি কাউকে নিজ সন্তান হিসেবে গ্রহণ করবেন। তিনি পবিত্রতম। তিনি যখন কোনো ব্যাপারে ইচ্ছা করেন তখন শুধু বলেন হও, আর তখনই তা হয়ে যায়।' তাফসিরে মা'আরেফুল কোরআন ও ইবনে কাছির অবলম্বনে