• ই-পেপার

মেইল-ইমেইল

মশার উপদ্রব বন্ধ হোক

মশার উপদ্রব বন্ধ হোক

বর্তমান বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে মশার প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির ফলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ইত্যাদি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে এবং মশাবাহিত রোগের আশঙ্কা দিন দিন বেড়েই চলেছে, যা জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতেই দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এরই মধ্যে বহু মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশে এক লাখেরও বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল, যা পরিস্থিতির গভীরতা স্পষ্ট করে। বর্তমানে পানি জমে থাকা, অপরিষ্কার ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নালার অস্বাস্থ্যকর অবস্থা এবং নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের অভাব এই সমস্যাকে আরো তীব্র করে তুলছে। এ ছাড়া বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে কিউলেক্স মশার সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে, যা নগরবাসী ও দেশবাসীর জন্য অতিরিক্ত ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে শিশু, বয়স্ক ও সাধারণ মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।

আশা করছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

নুসরাত জাহান কিন্নরী

শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

পরিবেশ বাঁচাতে হবে

পরিবেশ বাঁচাতে হবে

৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস এলেই আমরা বৃক্ষরোপণ আর সেমিনারে মেতে উঠি। কিন্তু বাস্তবে আমাদের চারপাশের পরিবেশ আজ ধুঁকছে। দূষিত বাতাসে শিশুরা শ্বাসকষ্টে ভুগছে। কারখানার বর্জ্যে কালো হওয়া শীতলক্ষ্যায় জাল ফেলার জায়গা নেই। অপরিকল্পিত উন্নয়নে আমরা যেন নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একখণ্ড বধ্যভূমি বানাচ্ছি।

অথচ বাংলাদেশে আইনি কাঠামোর অভাব নেই। সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুস্থ পরিবেশ আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫, দণ্ডবিধির (চবহধষ ঈড়ফব) ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির (ঈত্চঈ) ১৩৩ ধারায় দূষণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার কথা রয়েছে। এমনকি উচ্চ আদালত নদীকে জীবন্ত সত্তা স্বীকৃতি দিয়েছেন। কিন্তু প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্য ও আইনের প্রয়োগহীনতায় এসব আজ শুধুই কাগুজে দলিলে পরিণত হয়েছে। পরিবেশ ধ্বংস এক নীরব হত্যাকাণ্ড ও চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, আইনের কঠোর প্রয়োগ ও সম্মিলিত সচেতনতাই পারে এই ধ্বংসযজ্ঞ রুখতে। প্রকৃতিকে বাঁচাতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই হোক এবারের পরিবেশ দিবসের মূল অঙ্গীকার।

মো. বাইজিদ শেখ

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকার খাল দখল ও দূষণ মুক্ত করুন

ঢাকার খাল দখল ও দূষণ মুক্ত করুন

ঢাকা একটি জনবহুল শহর। গত কয়েক বছরে শহরের জনসংখ্যা দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বাড়ছে না শিক্ষা, সচেতনতা। ঢাকা শহরের খালগুলোর দিকে তাকালেই তা উপলব্ধি করা যায়। রাজধানী শহর ঢাকায় একসময় খালের সংখ্যা বেশি থাকলেও এখন সেগুলোর দেখা মেলে না। দূষণ ও দখলে অনেক খালই আজ বিলীন হয়ে গেছে। ঢাকার অনেক বাসিন্দা খাল ভরাট করে তৈরি করছে বাসভবন ও বিভিন্ন স্থাপনা। পরিবেশ সম্পর্কে অজ্ঞতা, অসচেতনতাই মূলত এর প্রধান কারণ। সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যদি কঠোর ভূমিকা না নেয়, তাহলে খাল ভরাট সমস্যা প্রকট হতে থাকবে। জলাবদ্ধতার পাশাপাশি ছড়াবে রোগ-বালাই। এই সমস্যা সমাধানে সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। খাল দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনগণের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ঢাকার খালগুলোকে রক্ষা করা সম্ভব।

বর্তমান সরকারের কাছে প্রত্যাশা, এই বিষয়ে অবিলম্বে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নূরাত ইসলাম

শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা

রাস্তা সংস্কার চাই

রাস্তা সংস্কার চাই

বগুড়া সদরের বড়িয়াবটতলার দ্বিতীয় বাইপাসসংলগ্ন চৌরাস্তার পশ্চিম পাশের রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে রাস্তাটিতে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। ফলে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এটি একটি ব্যস্ততম এলাকা। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে অনেক মানুষ যাতায়াত করে। রাস্তার এই বেহালের কারণে প্রায়ই সিএনজি, বাস, অ্যাম্বুলেন্স, রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও বয়স্ক মানুষের জন্য এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের এমন ভগ্নদশা চলতে থাকলে অচিরেই এটি বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। নাগরিক নিরাপত্তা ও জনদুর্ভোগ লাঘবে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা অতীব জরুরি। এ জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আশু দৃষ্টি কামনা করছি।

সরফরাজ শিপন

শিক্ষার্থী, সরকারি শাহসুলতান কলেজ, বগুড়া

মেইল-ইমেইল | কালের কণ্ঠ