• ই-পেপার

মেইল-ইমেইল

চা-শিল্পের সংকট নিরসন করুন

চা-শিল্পের সংকট নিরসন করুন

সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, পঞ্চগড় ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রায় আড়াই লাখ একরের বেশি জমিতে চা চাষ হয়। চা উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের নবম। কিন্তু এর পরও দেশের চা-শিল্পে রয়েছে নানা সংকট। আন্তর্জাতিক বাজারে আজও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। এর জন্য নিলাম পদ্ধতির নির্ভরতা কমিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া ও মিসরের বাজারে চায়ের চাহিদার সুযোগ গ্রহণ করে রপ্তানি বাড়াতে হবে। প্যাকেজিং উন্নত ও নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি করে বিশ্ববাজারে প্রবেশ করতে হবে। চা-শিল্পকে শিল্প খাতের পাশাপাশি কৃষিশিল্পের অন্তর্গত করা জরুরি, যাতে উদ্যোক্তারা স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ পেতে পারেন। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, দেশের অন্যান্য খাতের তুলনায় চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি অত্যন্ত নগণ্য (বর্তমানে দৈনিক মাত্র ১৭০ টাকা)। বর্তমান বাজারে এই সামান্য আয়ের কারণে তাঁরা তিন বেলা পুষ্টিকর খাবার জোগাতে হিমশিম খান। এ ছাড়া অনেক চা-বাগানে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধায় এখনো ঘাটতি রয়েছে। এসব সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

বি এম হিশাম লাজ

শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

বালুঘাট বন্ধ : কর্মহীন হাজারো শ্রমিক

বালুঘাট বন্ধ : কর্মহীন হাজারো শ্রমিক

সম্প্রতি সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কলমাকান্দা ও তাহিরপুর অঞ্চলে বালু উত্তোলন কার্যক্রম এবং বালুঘাট বন্ধ থাকায় হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাঁদের অনেকের জন্য এই কাজই ছিল একমাত্র জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থান বন্ধ থাকায় তাঁরা ও তাঁদের পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য, চিকিৎসা এবং সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ বহন করাও এখন তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিকল্প কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় এই সংকট দিন দিন আরো গভীর হচ্ছে। কর্মহীন মানুষের এই দুরবস্থা শুধু তাঁদের পরিবারকেই নয়, পুরো অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থাকেও প্রভাবিত করছে। আইন ও পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়গুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে শ্রমিকদের জীবিকা ও মানবিক দিকটিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, পরিবেশগত ও আইনগত বিষয়গুলো সমন্বয় করে এমন একটি কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক, যাতে একদিকে পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত হয়, অন্যদিকে হাজারো শ্রমিকের জীবিকা পুনরুদ্ধারের পথও সুগম হয়।

সিরাজুমমনির মোস্তাকিম

শিক্ষার্থী, সিদ্ধেশ্বরী কলেজ

অনলাইন জুয়ার ফাঁদে তরুণ প্রজন্ম

অনলাইন জুয়ার ফাঁদে তরুণ প্রজন্ম

বর্তমানে দেশে অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। তরুণদের ওপর এই নেতিবাচক প্রভাবের বড় কারণ হচ্ছে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা। অনেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে আকৃষ্ট করা হচ্ছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে পড়ছে, আর্থিক সংকটে পড়ছে, মানসিক অবসাদে ভুগছে, অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এবং পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। ডিজিটাল ডিভাইস ও ইন্টারনেটের  সহজলভ্যতাই অনলাইন জুয়ায় তরুণদের একমাত্র কারণ নয়, বরং বেকারত্ব, দারিদ্র্য, অসচেতনতা, পারিবারিক তৎপরতার অভাব ও রাষ্ট্রীয় আইনের শিথিলতা সমানভাবে দায়ী। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি, অবৈধ অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে তরুণদের সচেতন করে তোলার ক্ষেত্রে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

মোছা. মায়া আক্তার

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

ইছামতীর পারে অবৈধ তৎপরতা

ইছামতীর পারে অবৈধ তৎপরতা

সাতক্ষীরায় ইছামতী নদীর পারে প্রকাশ্যে চলছে বেআইনি কর্মকাণ্ড। বছরের পর বছর ধরে কিছু অসাধু চক্র নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধ কেটে কিংবা ফুটো করে অবৈধভাবে পাইপ বসিয়ে নদীর পানি ওঠানোর ব্যবস্থা করে থাকে। কালীগঞ্জের শুইলপুর থেকে দেবহাটার ভাতশালাসহ ইছামতী নদীর বিভিন্ন অংশে বর্তমানে এমন অসংখ্য অবৈধ পাইপের অস্তিত্ব দেখা যায়। কোথাও বাঁধ কেটে, কোথাও আবার বাঁধের নিচ দিয়ে পাইপ বসিয়ে নদীর পানি মাছের ঘেরে বা চিংড়ি চাষে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিবছর সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ ভাঙার ঘটনা ঘটে। তখন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ সরকারের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে। কিন্তু খুব কম ক্ষেত্রেই আলোচনা হয়, এর পেছনে অবৈধ কর্মকাণ্ড দায়ী। আরেকটি ভয়াবহ প্রভাব পড়ে কৃষিতে। লবণাক্ত নদীর পানি যখন বাঁধ ভেঙে ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ে, তখন শুধু একটি মৌসুম নয়, সেই জমির উৎপাদনক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়।

এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। শুধু পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে হবে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এবং সর্বোপরি স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

তরিকুল ইসলাম

সাংবাদিক ও উন্নয়নকর্মী

মেইল-ইমেইল | কালের কণ্ঠ