• ই-পেপার

প্রশিক্ষণে ব্যয় ৬১ কোটি ভ্রমণে ৩১ কোটি টাকা

উক্তি

উক্তি

জনগণের শক্তি ও নতুন সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ

চার মাসে বিপিসির লোকসান ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চার মাসে বিপিসির লোকসান ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি খাতে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়লেও দেশের বাজারে তা না বাড়ায় বিপুল অর্থ লোকসানের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগে চড়া দামে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল কিনে দেশে তা কম দামে বিক্রি করায় গত চার মাসেই প্রতিষ্ঠানটির লোকসান ছাড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটিক প্রাইসিং ফর্মুলা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়মিত সমন্বয় করে আসছিল সরকার। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসের শুরুতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন দাম নির্ধারণ করে থাকে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশে সাধারণ মানুষের ওপর চাপের কথা বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় বাজারে তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। ফলে প্রতি লিটার তেলে বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি গুনতে হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাকে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, সংকটের ভয়াবহতা ও বিপুল পরিমাণ লোকসানের চিত্র তুলে ধরে গত ২৩ জুলাই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত মার্চ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত সময়ে জ্বালানি তেলের মোট ৭২টি পার্সেল আমদানি করা হয়েছে। শুধু এই সাড়ে চার মাসের ব্যবধানেই লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। সংকট সামাল দিতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি ভর্তুকি হিসেবে বরাদ্দ দেওয়ার জরুরি আবেদন জানিয়েছে বিপিসি।

চিঠিতে বিপিসির মারাত্মক তারল্য সংকটের চিত্র তুলে ধরে আরো বলা হয়, স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে বিপিসিকে সব সময় অন্তত দুই মাসের জ্বালানি তেল আমদানির সমপরিমাণ অর্থ অর্থাৎ প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা চলতি মূলধন বা সংস্থান হিসেবে হাতে রাখতে হয়। কিন্তু বর্তমানে টানা লোকসানের কারণে দেখা দিয়েছে বিপিসির নগদ অর্থের তীব্র সংকট। চিঠিতে আরো বলা হয়, এই মুহূর্তে আর্থিক সহায়তা না পেলে ব্যাংকগুলোতে সময়মতো এলসি (ঋণপত্র) বা আমদানির মূল্য পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। আর তা না করা গেলে বিদেশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তেল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে, যা দেশকে চরম জ্বালানি সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে যে হারে মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে, দেশের বাজারে সেটির পুরো প্রভাব না ফেলার নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলেও দীর্ঘ মেয়াদে এই ঘাটতি পূরণ না হলে দেশের পুরো জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলই বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।

 

আয়কর আইনের ১৪৭ ধারা

এনবিআরের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের দাবি ৮ শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
এনবিআরের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের দাবি ৮ শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের

আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা প্রয়োগসংক্রান্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ১৯ জুলাইয়ের একটি বিজ্ঞপ্তি নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশের শীর্ষ আটটি ব্যবসায়ী সংগঠন। তারা বলেছে, এ বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তিটি অবিলম্বে স্থগিত বা প্রত্যাহার করা উচিত।

গত বুধবার এনবিআরের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে এই দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে কর কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত বিষয়টির সমাধানের আহবান জানানো হয়েছে।

চিঠিতে যৌথ স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) সভাপতি মইনুল ইসলাম, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান ও মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান।

যৌথ চিঠিতে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, ১৯ জুলাই জারি করা এনবিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির শেষ অনুচ্ছেদ পর্যালোচনা করলে প্রতীয়মান হয়, আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারার প্রয়োগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি। ফলে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ—কোনো পর্যায়ের ব্যবসায়ীই এ ধারার বাস্তব প্রয়োগ বা এর সম্ভাব্য জটিলতা সম্পর্কে আগে থেকে অবগত ছিলেন না। তাঁদের মতে, এনবিআরের আকস্মিক এই বিজ্ঞপ্তি দেশীয় উৎপাদন ও সেবা খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়, করব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় ব্যবসায়ীসমাজ সব সময় ইতিবাচক। তবে রাজস্ব আদায়ের নামে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভীতি তৈরি না করে উদ্যোক্তা ও আয়কর কর্মকর্তাদের মধ্যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন।

বর্তমান অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন ব্যবসায়ী নেতারা। তাঁদের ভাষ্য, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা এবং প্রায় এক কোটি মানুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনীতির বর্তমান মন্থরতা কাটিয়ে এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যবসার পরিধি সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। এ জন্য সরকার ও ব্যবসায়ীসমাজের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

যৌথ চিঠিতে সাংবিধানিক ও আইনি সুরক্ষার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, কম্পানি আইন ১৯৯৪ অনুযায়ী করপোরেট রেকর্ডের গোপনীয়তা রক্ষা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আইন ২০১৬ অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনার স্বাধীনতা ও বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং সংবিধানের ৩১ ও ৪২ অনুচ্ছেদে নাগরিকের আইনগত অধিকার ও সম্পত্তির সুরক্ষার বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব আইনি ও সাংবিধানিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারার প্রয়োগ ও এর কার্যকারিতা পুনর্বিবেচনার আহবান জানান তাঁরা।

অর্থনৈতিক উত্তরণের এই সময়ে কোনো ধরনের নিপীড়নমূলক পদক্ষেপ এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার ভিত্তিতে রাজস্ববান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।

 

এমপি নজরুলের ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
এমপি নজরুলের ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে
গাজী নজরুল ইসলাম

জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য (সাতক্ষীরা-৪) গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, তা নির্ধারিত হবে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায়। দল তাঁর সদস্য পদ বাতিলের জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিলেও শুধু দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার কারণে কোনো সংসদ সদস্যের পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের বিধান সংবিধানে নেই।

সম্প্রতি ব্যক্তিগত ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় তদন্ত শেষে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। পরে তাঁর সদস্য পদ বাতিলের জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়। তবে গাজী নজরুল ইসলাম এখনো পদত্যাগ করেননি। তিনি দাবি করেছেন, ভিডিওতে থাকা নারী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী।

সংবিধানের ৬৬ থেকে ৭০ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা ও সদস্য পদ বাতিলের শর্ত উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে দল থেকে বহিষ্কারের কারণে সদস্য পদ বাতিলের কোনো বিধান নেই। অনুচ্ছেদ ৭০ অনুযায়ী, দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত কোনো সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর সদস্য পদ বাতিল হবে।

গাজী নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে আলোচনায় এসেছে সংবিধানের ৬৬(২)ঘ অনুচ্ছেদ। এতে বলা হয়েছে, নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বছরের কারাদণ্ড হলে এবং মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিক্রম না করলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো রায় আদালত থেকে হয়নি।

সংসদ সদস্যের পদ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে তা নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে ‘দ্য মেম্বারস অব পার্লামেন্ট (ডিটারমিনেশন অব ডিসপিউট) অ্যাক্ট, ১৯৮০’-এ। আইন অনুযায়ী, স্পিকার প্রথমে গাজী নজরুল ইসলামের বক্তব্য নেবেন। তিনি পদত্যাগ না করলে স্পিকার উভয় পক্ষের বক্তব্যসহ বিষয়টি ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। এরপর নির্বাচন কমিশন ১২০ দিনের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করে স্পিকারকে সিদ্ধান্ত জানাবে।

অতীতে এ ধরনের একাধিক নজির রয়েছে। ১৯৯৮ সালে বিএনপির ড. মো. আলাউদ্দিন ও হাসিবুর রহমান স্বপনের সদস্য পদ এবং ২০০১ সালে মেজর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের সদস্য পদ নির্বাচন কমিশন বাতিল করেছিল। অন্যদিকে ২০০৫ সালে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত আবু হেনা এবং ২০১২ সালে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত এইচ এম গোলাম রেজার সদস্য পদ বহাল ছিল। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর সদস্য পদ শূন্য হয় তাঁর পদত্যাগের কারণে।

গাজী নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে তিনি পদত্যাগ না করলে স্পিকারের মাধ্যমে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে গেলে সাংবিধানিক বিধান, বিদ্যমান আইন ও আগের নজির বিবেচনায় কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।

 

প্রশিক্ষণে ব্যয় ৬১ কোটি ভ্রমণে ৩১ কোটি টাকা | কালের কণ্ঠ