আয়াতের অর্থ
‘...তাদের লক্ষণ তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার প্রভাবে প্রস্ফুটিত থাকবে; তাওরাতে তাদের বর্ণনা এরূপ এবং ইনজিলেও তাদের বর্ণনা
এরূপই। তাদের দৃষ্টান্ত একটি চারাগাছ, যা থেকে নির্গত হয় কিশলয়, অতঃপর তা শক্ত ও পুষ্ট হয়। পরে কাণ্ডের ওপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে, যা চাষির জন্য আনন্দদায়ক।...’ (সুরা : ফাতহ, আয়াত : ২৯)
আয়াতে সাহাবায়ে কেরাম (রহ.)-এর অনন্য মর্যাদা বর্ণনা করা হয়েছে।
শিক্ষা ও বিধান
১. হাসান বসরি (রহ.) বলেন, আয়াতে ‘মুখমণ্ডলে সিজদার প্রভাব’ দ্বারা কিয়ামতের দিন মুমিনের চেহারায় যে ঔজ্জ্বল্য সৃষ্টি হবে তা উদ্দেশ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই জ্যোতির মাধ্যমে তাঁর উম্মতকে চিনতে পারবেন।
২. সাহাবায়ে কেরাম ও মুমিনদের এসব বৈশিষ্ট্য পূর্ববর্তী আসমানি কিতাব তাওরাত ও ইনজিলেও বর্ণিত হয়েছে।
৩. আয়াতে উপমার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দ্বিনি দাওয়াতের কৌশল ও ধারাক্রম তুলে ধরা হয়েছে। তা হলো ধীরে ধীরে হলেও সুদৃঢ়ভাবে অগ্রসর হওয়া।
৪. শরিয়তের দৃষ্টিতে সাহাবিদের সমালোচনা করা নিষিদ্ধ। ইমাম মালিক (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি কোনো একজন সাহাবির ব্যাপারে অন্তরে বিদ্বেষ পোষণ করে এই (২৯ নম্বর) আয়াতে তার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি রয়েছে।
৫. ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি কোনো একজন সাহাবির দোষ ধরল বা সমালোচনা করল, সে আল্লাহর দাবি প্রত্যাখ্যান করল এবং মুসলমানদের শরিয়তকে বাতিল গণ্য করল। (তাফসিরে কুরতুবি : ১৯/৩৪২)



