আয়াতের অর্থ
‘তিনিই মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি দান করেন, যেন তারা তাদের ঈমানের সঙ্গে ঈমান দৃঢ় করে নেয়, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর বাহিনীগুলো আল্লাহরই এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। এটা এ জন্য যে তিনি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের দাখিল করবেন জান্নাতে, যার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত, যেখানে তারা স্থায়ী হবে...।’
(সুরা : ফাতহ, আয়াত : ৪-৫)
আয়াতদ্বয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও আল্লাহর আনুগত্যের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
শিক্ষা ও বিধান
১. আয়াতে অন্তরের প্রশান্তি দ্বারা উদ্দেশ্য হুদাইবিয়ার সন্ধির ফলে সাহাবিদের অন্তরে সৃষ্ট মনঃকষ্ট ও গ্লানি দূর করা।
২. হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় উমর (রা.) বলেন, আমরা সত্য দ্বিনের অনুসারী। তাহলে কেন দ্বিনের ব্যাপারে আমরা হীনতা মেনে নেব? রাসুলুল্লাহ (সা.) উত্তর দেন, আমি আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। আমি কখনো তাঁর আদেশের অবাধ্য হবো না এবং তিনি কখনো আমাকে ধ্বংস করবেন না।
৩. আল্লাহর অনুগ্রহে হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় মুমিনরা শুধু এই বাহ্যিক গ্লানি মেনে নেয়নি, বরং তাদের ঈমানি দৃঢ়তাও বৃদ্ধি পায়।
৪. নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করার পুরস্কার হলো পাপ মুক্তি ও জান্নাত লাভ।
৫. সব পরিস্থিতিতে আল্লাহর আনুগত্য করা এবং দ্বিনের ওপর অটল থাকাকে আয়াতে মহাসাফল্য বলা হয়েছে।
(জাদুল মাসির : ৭/৪২৫)



