দ্বিনের ওপর দৃঢ়তা উত্তম গুণাবলিকে পূর্ণতা দেয়। আর তা না থাকলে মন্দ স্বভাব বৃদ্ধি পায়।
—ওয়াসেতি (রহ.)

দ্বিনের ওপর দৃঢ়তা উত্তম গুণাবলিকে পূর্ণতা দেয়। আর তা না থাকলে মন্দ স্বভাব বৃদ্ধি পায়।
—ওয়াসেতি (রহ.)

আয়াতের অর্থ
মহান আল্লাহ বলেন, ‘দুনিয়ার জীবন তো শুধু ক্রীড়া-কৌতুক। তোমরা যদি ঈমান আনো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তাহলে তিনি তোমাদের প্রতিদান দেবেন এবং তিনি তোমাদের কাছে ধন-সম্পদ চান না। যদি তিনি তোমাদের কাছে তা চান, অতঃপর তিনি তোমাদের ওপর প্রবল চাপ দেন, তাহলে তো তোমরা কার্পণ্য করবে। আর তিনি তোমাদের গোপন বিদ্বেষগুলো প্রকাশ করে দেবেন।’ (সুরা : মুহাম্মদ, আয়াত : ৩৪-৩৫)
শিক্ষা ও বিধান
১. পার্থিব জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত সময়। বুদ্ধিমান ওই ব্যক্তি যে এই সময়গুলো কল্যাণকর কাজে ব্যয় করবে এবং আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি নেবে।
২. যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ পালন করে, আখিরাতে তার জন্য অফুরন্ত প্রতিদান থাকবে।
৩. স্বভাবগতভাবেই সম্পদ মানুষের খুবই প্রিয়। তাই আল্লাহ অনুগ্রহ করে সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ তাঁর পথে ব্যয়ের নির্দেশ দিয়েছেন।
৪. আল্লাহ চাইলে পুরো সম্পদ ব্যয়ের নির্দেশ দিতে পারতেন; কিন্তু তখন মানুষ তা পালনে কার্পণ্য করত।
৫. বস্তুত কেউ আল্লাহর জন্য ব্যয়ে কার্পণ্য করলে সে যেন নিজের জন্য ব্যয়ে কার্পণ্য করল। ফলে সে আখিরাতে সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে।
(আত-তাফসিরুল মুনির, খণ্ড : ২৬, পৃষ্ঠা : ৪৬৪)

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি সাম-ই, আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি বাসারি, লা-ইলাহা ইল্লা আনতা।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমার দেহ সুস্থ রাখুন। হে আল্লাহ! আমাকে সুস্থ রাখুন আমার শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে। হে আল্লাহ! আমাকে সুস্থ রাখুন আমার দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নাই।’
সূত্র : আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি আমার পিতাকে বললাম, হে আব্বাজান! আমি আপনাকে প্রতিদিন ভোরে ও সন্ধ্যায় তিনবার বলতে শুনি : ‘হে আল্লাহ! আমার দেহ সুস্থ রাখুন। হে আল্লাহ! আমাকে সুস্থ রাখুন আমার শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে। হে আল্লাহ! আমাকে সুস্থ রাখুন আমার দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।’ তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এ বাক্যগুলো দ্বারা দোয়া করতে শুনেছি। সে জন্য আমিও তাঁর নিয়ম অনুসরণ করতে ভালোবাসি। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৯০)

মসজিদ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের মডেল হিসেবে প্রথম স্মার্ট মসজিদ উদ্বোধন করেছে কাতার। গত ৯ জুন বৃহস্পতিবার দেশটির ধর্মীয় দাতব্য ও ইসলামবিষয়ক মন্ত্রণালয় রাজধানীর মুয়াইথার এলাকায় মসজিদটি উদ্বোধন করেন। মসজিদটির নামকরণ হয়েছে, ‘কায়েস বিন সা‘দ বিন উবাদাহ মসজিদ’। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এটিই কাতারের প্রথম স্মার্ট মসজিদ।
গণমাধ্যমের তথ্য মতে, মসজিদটিতে একসঙ্গে প্রায় ৩৫০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষদের জন্য ৩০০ জনের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন প্রধান নামাজের হল এবং নারীদের জন্য পৃথক ৫০ জনের নামাজের স্থান রয়েছে। এ ছাড়া ইমাম ও মুয়াজ্জিনের আবাসন এবং প্রয়োজনীয় সেবা সুবিধাও রাখা হয়েছে। চার হাজার ১৫ বর্গমিটার জমির ওপর নির্মিত এ মসজিদটি আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মাণ করা হয়েছে, যা কাতারের ইসলামী পরিচয়কে প্রতিফলিত করে।
মসজিদটিতে এমন বিভিন্ন স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা পরিচালনাগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার কমাতে সহায়তা করবে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বুদ্ধিমান (ইন্টেলিজেন্ট) ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সৌর প্যানেল, যা মসজিদের আলো ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরিচালনা করবে। এ ছাড়া অজুর পানি পুনর্ব্যবহারের জন্য ওয়াটার রিসাইকেল সিস্টেমের ব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে অজুতে ব্যবহৃত পানিকে শোধন করে টয়লেটে ব্যবহারের উপযোগী করা হবে। পাশাপাশি আশপাশের সবুজায়নে সেচের কাজেও লাগানো হবে।
মসজিদের চারপাশে সবুজায়ন এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে কার্বন নিঃসরণ কমে এবং পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।
এ প্রকল্পের অর্থায়ন করেছেন দেশটির অন্যতম দানবীর আয়েদ বিন হাসান জুনাইদ আল-ওবাইদি। এর মাধ্যমে কাতারে ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ওয়াক্ফভিত্তিক দাতব্য অনুদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আবারও ফুটে উঠেছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্মার্ট মসজিদ প্রকল্পটি তাদের ২০২৫-২০৩০ কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ। এ পরিকল্পনায় মসজিদের অবকাঠামোর উন্নয়ন, ধর্মীয় সেবার মান ও দক্ষতা বৃদ্ধি, মসজিদ পরিচালনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ওয়াকেফর অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ উদ্যোগটি ‘কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০’-এর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ জাতীয় কর্মপরিকল্পনার লক্ষ্য হলো টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া, মানুষের জীবনমান উন্নত করা এবং সমাজসেবায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা আরো শক্তিশালী করা।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ বিন হামাদ আল-কুওয়ারি বলেন, এই প্রকল্পটি মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি খাতের সফল অংশীদারির একটি উদাহরণ। এর মাধ্যমে মসজিদ নির্মাণে স্মার্ট সিস্টেম ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত পরিকল্পনার আওতায় ভবিষ্যতে কাতারের বিভিন্ন এলাকায় আরো স্মার্ট মসজিদ নির্মাণ করা হবে। (সূত্র : গলফ নিউজ)