kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

হাবিব নাজ্জার

কোরআনে বর্ণিত একজন ধর্মপ্রচারক

সাইফুল ইসলাম তাওহিদ   

২৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কোরআনে বর্ণিত একজন ধর্মপ্রচারক

আল্লাহ মানুষের হিদায়াতের জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন। তারা মানুষকে সৎ পথে আহ্বান করেছেন। অসৎ পথ থেকে নিষেধ করেছেন। এই নবী-রাসুলদের অনুসারীদের থেকে অনেকে তাদের দাওয়াতি কাজে সহযোগিতা করেছেন। ফলে তারাও নবী-রাসুলদের মতো স্বজাতির নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের কারো কারো কথা কোরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। আবার অনেকের নাম জানা যায়নি। তেমনই একজন দ্বিনপ্রাণ দায়ির আলোচনা তুলে ধারা হলো—

আন্তাকিয়া (বর্তমানে তুরস্কে অবস্থিত) অঞ্চলের প্রতি আল্লাহ তাআলা হিদায়াতের পথ দেখানোর জন্য কয়েকজন রাসুল (আল্লাহর প্রতিনিধি) প্রেরণ করেন। ওই শহরে বসবাস করতেন হাবিব নাজ্জার নামে এক ব্যক্তি। হাবিব নাজ্জার পেশায় কাঠমিস্ত্রি। তাঁর ছিল কুষ্ঠরোগ। এ রোগের বহু চিকিৎসা করে, দেব-দেবীর কাছে প্রার্থনা করে কোনো লাভ হয়নি তাঁর। রাসুলরা ওই অঞ্চলে যাওয়ার পথে হাবিব নাজ্জারের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়। তাঁরা তাঁকে একত্ববাদের দাওয়াত দেন। হাবিব নাজ্জার বললেন, আমি আপনাদের কথা মেনে নিলে আমার কী উপকার হবে? রাসুলরা বললেন, তুমি আমাদের দাওয়াত মেনে নিলে আল্লাহর কাছে আমরা তোমার রোগমুক্তির জন্য দোয়া করব। হাবিব নাজ্জারই রাসুলদের প্রতি প্রথম ঈমান আনেন। রাসুলরাও তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া করেন। তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং তিনি নগরের এক প্রান্তে নির্জনে আল্লাহর ইবাদত করতে থাকেন।

রাসুলরা আন্তাকিয়া অঞ্চলের মানুষের কাছে গিয়ে আল্লাহর একাত্ববাদের দাওয়াত দেন। কিন্তু মানুষ তাদের দাওয়াত কবুল না করে তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। এ ঘটনার চিত্রায়ণ কোরআনে এভাবে হয়েছে, ‘আপনি তাদের কাছে সে জনপদের অধিবাসীদের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করুন, যখন সেখানে রাসুল আগমন করেছিলেন। আমি তাদের কাছে দুজন রাসুল প্রেরণ করেছিলাম, অতঃপর তারা তাদের (রাসুলদ্বয়কে) মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। তখন আমি তাদের শক্তিশালী করলাম তৃতীয় একজনের মাধ্যমে। তারা সবাই বলল, আমরা তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছি। তারা বলল, তোমরা তো আমাদের মতোই মানুষ, রহমান আল্লাহ কিছুই নাজিল করেননি। তোমরা শুধু মিথ্যাই বলছ। রাসুলরা বলল, আমাদের রব জানেন, আমরা অবশ্যই তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছি। স্পষ্টভাবে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব।’ (সুরা ইয়াসিন, আয়াত : ১৩-১৭)

রাসুলরা তাদের দাওয়াতি কাজ অব্যাহত রাখলেন। আন্তাকিয়া অঞ্চলের অধিবাসীরা একসময় রাসুলদের হত্যা করতে উদ্যত হলো। তাদের চক্রান্তের খবর শুনে হাবিব নাজ্জার তাঁর জাতির কাছে দৌড়ে আসে এবং স্বজাতিকে সত্য বোঝানোর চেষ্টা করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর শহরের প্রান্তভাগ থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এলো। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা রাসুলদের অনুসরণ করো। অনুসরণ করো তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোনো বিনিময় কামনা করে না, অথচ তারা সুপথপ্রাপ্ত।’ (সুরা ইয়াসিন, আয়াত : ১৯-২১)

হাবিব নাজ্জার তাঁর জাতিকে হিদায়াতের পথে আনার জন্য নানা ধরনের যুক্তি দিয়ে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু হতভাগা জাতি সঠিক পথের দিশা পেল না। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমার কি হলো যে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যাঁর কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে, আমি তাঁর ইবাদত করব না? আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্যদের উপাস্যরূপে গ্রহণ করব? করুণাময় যদি আমাকে কষ্টে নিপতিত করতে চান, তবে তাদের সুপারিশ আমার কোনোই কাজে আসবে না এবং তারা আমাকে রক্ষাও করতে পারবে না। এরূপ করলে আমি প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হব। আমি নিশ্চিতভাবে তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম। অতএব আমার কথা শুনে নাও।’ (সুরা ইয়াসিন, আয়াত : ২২-২৫)

এই হতভাগা জাতি হাবিব নাজ্জারের কথা অমান্য করল। তারা তাঁকে হত্যা করল। ইরশাদ হয়েছে, ‘তাকে বলা হলো, তুমি জান্নাতে প্রবেশ কোরো। সে বলল, হায়! আমার জাতি যদি জানতে পারত যে আমার রব আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।’ (সুরা ইয়াসিন, আয়াত : ২৬-২৭)

এরপর আল্লাহ ওই জাতির প্রতি শাস্তি প্রেরণ করেন। আল্লাহ বলেন, ‘তারপর আমি তার সম্প্রদায়ের ওপর আকাশ থেকে কোনো বাহিনী অবতীর্ণ করিনি এবং আমি (বাহিনী) অবতরণকারীও না। বস্তুত তা ছিল এক মহানাদ। অতঃপর সঙ্গে সঙ্গে সবাই নিস্তব্ধ হয়ে গেল। (সুরা ইয়াসিন, আয়াত : ২৮-২৯)

তাফসিরবিদরা বলেন, আন্তাকিয়া অঞ্চলে প্রেরিত তিনজন রাসুল হলেন শামউন, ইউহান্না ও বাবুলস।

 



সাতদিনের সেরা