kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

করোনায় সৃষ্ট দরিদ্ররা বাজেটে উপেক্ষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনায় সৃষ্ট দরিদ্ররা বাজেটে উপেক্ষিত

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের যে বাজেট উপস্থাপন করেছেন, সেখানে করোনায় সৃষ্ট দরিদ্র মানুষ পুরোপুরি উপেক্ষিত রয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশের অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলেছেন, করোনাভাইরাস বাংলাদেশে সংক্রমণের আগে দারিদ্র্যের হার ছিল ২০.৫ শতাংশ। করোনার কারণে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

গতকাল বুধবার খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ আয়োজিত ‘২০২০-২১ বাজেট ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. এ কে এনামুল হক, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশাসহ অন্যরা। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলী।

ড. কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, ‘বর্তমানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যার প্রতিফলন বাজেটে সেভাবে দেখা যাচ্ছে না।’

ড. এ কে এনামুল হক বলেন, ‘অতি দরিদ্র মানুষ করোনার কারণে দ্বিগুণ হলেও বরাদ্দের ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন বাজেটে দেখা যাচ্ছে না। যদিও প্রতি বাজেটের বরাদ্দই খরচ হয় মূলত অর্থবছরের ছয় মাস পর থেকে। সরকারের সদিচ্ছার অভাব না থাকলেও আমাদের সামগ্রিক ব্যবস্থাতেই রয়েছে সমস্যা।’

ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, “প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা খাতে ৯৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা বেশি। কিন্তু সামাজিক সুরক্ষা খাতে ১৪ হাজার কোটি টাকার বাড়তি বরাদ্দে সরকারি কর্মচারীদের পেনশন, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার, প্রবাসী আয়ের অংশ, বেসরকারি ব্যাংকের করোনাকালের সুদের অংশও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাহলে এগুলোকে ‘সুরক্ষা’ বলা যাবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়।

ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, শহরের বস্তিবাসী দরিদ্রদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকা উচিত ছিল বাজেটে। জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যক্রমগুলো যত দ্রুত সম্ভব ডিজিটাইজেশন করা দরকার। স্বাস্থ্যের পাশাপাশি খাদ্য ও পুষ্টি এ সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বের বিষয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা