আমরা সবাই পরীক্ষা দিয়ে পাস করে এসেছি। আজ পরীক্ষার হলে ঘাড় ঘোরাতে দেয় নাই—এইটা একটা আন্দোলনের সাবজেক্ট হলো?
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী

আমরা সবাই পরীক্ষা দিয়ে পাস করে এসেছি। আজ পরীক্ষার হলে ঘাড় ঘোরাতে দেয় নাই—এইটা একটা আন্দোলনের সাবজেক্ট হলো?
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী

শিশুদের মানসিক ও আবেগগত বিকাশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ এখন বিশ্বজুড়ে। কত বছর বয়স হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা যাবে, সেই সময়সীমা এরই মধ্যে বেঁধে দিয়েছে কয়েকটি দেশ। এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) এমনটা করার কথা ভাবছে। ইইউর একটি উপদেষ্টা প্যানেল প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্ল্যাটফর্ম নিরাপদ বলে প্রমাণ করতে না পারা পর্যন্ত ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছে। এর ভিত্তিতে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়সসীমা নির্ধারণের আহবান জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন।
প্রশিক্ষিত এই চিকিৎসকের মতে, তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের কোনোভাবেই স্ক্রিনের সামনে আনা উচিত নয়। তাঁর পরামর্শ, শিশুদের বয়স ও পরিপক্বতা বিবেচনা করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া উচিত। সুযোগটি পর্যায়ক্রমে ধাপে ধাপে বাড়ানো দরকার।
অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিয়েছে। টিকটক, ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে শিশুদের প্রবেশাধিকার সীমিত করতে বিভিন্ন বিধি-নিষেধ চালু বা অনুমোদন করেছে দেশগুলো। শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের বয়সসীমা আইনের মাধ্যমে নির্ধারণের ওপর জোর দিয়ে ভন ডার লিয়েন গত সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘শৈশব কারো জন্য অপেক্ষা করবে না। একবার শৈশব চলে গেলে তা আর কখনোই ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।’
গাড়ি চালানো ও অ্যালকোহল সেবনের প্রচলিত নিয়মের উদাহরণ টেনে উরসুলা বলেন, যেসব কাজের জন্য পরিপক্বতার প্রয়োজন হয়, সমাজ সেগুলোর জন্য একটি নির্দিষ্ট বয়স নির্ধারণ করে দেয়। একইভাবে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বয়সসীমা থাকা উচিত।
উরসুলা ভন ডার লিয়েন উদাহরণ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ‘অন্তহীন স্ক্রলিং’-এর (এন্ডলেস স্ক্রলিং) মতো বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এগুলো ব্যবহারকারীদের আসক্ত করার মতো একধরনের নকশা। প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর এই আসক্তির জায়গাটি নিয়ে দ্রুত কাজ করা প্রয়োজন। খুব ছোট শিশুদের ওপর বিধি-নিষেধের বাইরে উরসুলা নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমার প্রস্তাব করেননি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপীয় কমিশন ইইউভুক্ত ২৭টি সদস্য দেশের বিবেচনার জন্য এ বিষয়ে কিছু সুপারিশ তৈরি করবে।
ভন ডার লিয়েনের বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ প্রায়ই ইইউভুক্ত দেশগুলোর সরকারগুলোর অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় প্রভাব ফেলে। অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ইইউর একটি বিশেষ প্যানেল গঠিত হয়েছিল। গত সোমবার সেই প্যানেল তাদের প্রতিবেদন ভন ডার লিয়েনের কাছে জমা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা নিরাপদ কি না, তা প্রমাণ করার দায়িত্ব তাদেরই পালন করতে হবে। এটি প্রমাণ করার দায় কোনো নিয়ামক সংস্থা, অভিভাবক বা শিশুর ওপর বর্তায় না।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ‘যতক্ষণ না এই প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ডিজিটাল সেবাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে, ততক্ষণ ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ সীমিত রাখা উচিত।’ অনলাইনজগতে উঠতি বয়সীদের নিরাপত্তা আরো জোরদার করতে প্যানেলটি আরো একটি সুপারিশ করেছে। তারা ১৩ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্যও অতিরিক্ত কিছু সতর্কতামূলক বয়সসীমা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করতে ইইউর সদস্য দেশগুলোকে অনুরোধ জানিয়েছে। সূত্র : রয়টার্স

এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি, বেড়িবাঁধ ইত্যাদি পর্যায়ক্রমে নতুন করে গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল শুক্রবার কক্সবাজারের চকরিয়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং মাতামুহুরী নদীসহ খরস্রোতা বিভিন্ন ছড়ায় নেমে আসা উজানের ঢলের পানিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া বেড়িবাঁধ, বসতবাড়ি, সড়কসহ গ্রামীণ অবকাঠামো পরিদর্শন করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথমে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি রাষ্ট্রীয় কাজে বিদেশে অবস্থান এবং দেশে সংসদ অধিবেশন থাকায় সময়মতো বন্যাদুর্গতদের দেখতে আসতে না পারায় আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।
দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে জরিপ পরিচালিত হচ্ছে। জরিপ শেষে বিভিন্ন অবকাঠামো মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে তারা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।
এর পর চকরিয়া পৌরসভার কোচপাড়ায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) কর্তৃক ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় মাতামুহুরী নদীর ভাঙন থেকে দুই তীর রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানদের টেকসই প্রকল্প নিতে নির্দেশ দেন তিনি। এ সময় বন্যায় বসতবাড়ি হারানো বাকপ্রতিবন্ধী ছালেহা বেগমকে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নগদ এক লাখ টাকা অর্থ সহায়তা দেন। (সেই ছালেহা বেগমের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়া নিয়ে কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশিত হয়)।
এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নামার চিরিঙ্গা জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। এ সময় মুসল্লিদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাতামুহুরী নদী এবং বিভিন্ন ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চকরিয়ার অন্তত ১৫টি স্থানে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। আজ শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পেকুয়া এবং নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনসহ বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করবেন তিনি। তারপর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।

করাতকলের এক শ্রমিকের কথা পড়েছিলাম পত্রিকায়। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ। সংসারে তিনটি মেয়ে। মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি খুব চিন্তিত ছিলেন। কোনো রকমে খাইয়ে পরিয়ে তাদের বড় করে তুলতে পারবেন, কিন্তু বিয়ের খরচ জোগাড় করবেন কী করে? করাতকলে কাজ করার সুবাদে কাঠের মূল্যটা তিনি বুঝেছিলেন। এই চিন্তা থেকে বাড়ির আঙিনা আর চারপাশে শ খানেক সেগুনগাছের চারা লাগিয়েছিলেন। পরিবারের সবাই মিলে গাছগুলোর খুব যত্ন নিতেন। বড় মেয়ের বিয়ের সময় দেখা গেল পঁচিশ-তিরিশটি সেগুনগাছ বিক্রির উপযুক্ত হয়েছে। সেই গাছ বিক্রি করে তিনি মেয়ের বিয়ে দিলেন। উদ্বৃত্ত কিছু টাকাও রয়ে গেল হাতে। শূন্য জায়গাটিতে নতুন করে সেগুনগাছের চারা লাগালেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় মেয়ের বিয়েও দিলেন একইভাবে, সেগুনগাছ বিক্রি করে। বছর বিশেক সময়ের মধ্যে দেখা গেল গাছ বিক্রির টাকায় তিন মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পরেও হাতে বেশ কিছু টাকা রয়ে গেছে। অন্যদিকে নতুন চারাগুলোও বড় হয়ে উঠেছে। এই গাছগুলোই মানুষটির সবচেয়ে ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছিল। গাছ বিক্রির টাকায় মধ্য বয়সে তিনি নিজেই একটি করাতকলের মালিক হয়ে উঠেছিলেন। বাকি জীবন কাটিয়েছেন সচ্ছলভাবে।
এ রকম বহু মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে গাছ। সংসারে সচ্ছলতা এনে দিয়েছে গাছ। গাছের চেয়ে বড় বন্ধু মানুষের আর কেউ নেই। নানা রকমভাবে মানুষের ভরসার জায়গা গাছ। গাছ থেকে আপনি ফল পাবেন, কাঠ পাবেন। গাছ আপনাকে প্রাকৃতিক ঝড়ঝঞ্ঝা থেকে রক্ষা করবে। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বহু বহু প্রচণ্ড ঝড়ের সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়েছে সুন্দরবনের হাজার লক্ষ গাছ। ঝড়ের তীব্রতা বুক দিয়ে ঠেকিয়েছে অনেকখানি। সমুদ্র উপকূলবর্তী লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। গাছ আপনার পরিবেশ রক্ষা করবে। গাছ আপনাকে স্নিগ্ধ শীতল ছায়া দেবে। অক্সিজেন দিয়ে আপনাকে বাঁচিয়ে রাখবে। আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসা পৃথিবীর প্রাচীনতম চিকিৎসা পদ্ধতি। গাছের শিকড়বাকড় আর লতাপাতা দিয়ে ওষুধ তৈরি করে এই শাস্ত্রের কৃতি মানুষেরা প্রাচীনকাল থেকে কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়ে এসেছেন। আধুনিক বিজ্ঞানের কালেও আয়ুর্বেদীয় ওষুধ মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছে। গাছ নিয়ে ভাবলে গাছের সীমাহীন উপযোগিতা আপনি খুঁজে পাবেন।
গাছের সৌন্দর্যের কোনো তুলনা নেই। এই পৃথিবী সুন্দর করে রেখেছে গাছ, এই পৃথিবী সজীব করে রেখেছে গাছ। অনাদিকাল থেকে গাছের ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে প্রাণিকুল। গাছ খাদ্য জুগিয়েছে, গাছ জীবন বাঁচিয়েছে, গাছ প্রকৃতিকে সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছে। বসন্তে ফুলে ফুলে ভরে গেছে প্রকৃতি। ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছে মানুষ। গাছপালা, ফুলের সৌন্দর্য আর বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ অথবা সবুজ ঘাসের মাঠের বর্ণনা সারা পৃথিবীর কবি-লেখকরা লিখে গেছেন। আমাদের দেশের কত প্রকৃতিপ্রেমীর কথা শুনি। গরিব মানুষ। সংসার ভালোমতো চলে না। তার পরও সেই মানুষ পয়সা বাঁচিয়ে বাঁচিয়ে নিজের বাড়ির আঙিনা আর গ্রামজুড়ে একের পর এক গাছ লাগিয়ে গেছেন। ও রকম এক দরিদ্র মানুষ ত্রিশ হাজারেরও বেশি তালগাছের চারা রোপণ করেছেন। তালগাছ বজ্রপাত থেকে রক্ষা করে। গ্রাম থেকে তালগাছগুলো উধাও হয়ে গেছে বলে বজ্রপাতে জীবনহানির পরিমাণ বেড়ে গেছে। আমরা বহু রকমভাবে, সামান্য লোভের কারণে বনভূমিগুলো উজাড় করে ফেলেছি। গাছপালা ধ্বংস করে ফেলেছি। আমরা একবারও ভেবে দেখিনি, নিজেদের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কত বড় সর্বনাশ আমরা করছি। নিজেদের মৃত্যু আমরা নিজেরা ডেকে আনছি। নির্বিচারে বৃক্ষ হত্যা করে আমরা আসলে নিজেদেরই হত্যা করছি। আজ যে পরিবেশ বাঁচাও বাঁচাও বলে আমরা চিৎকার করছি, এই চিৎকার বহু বহু বছর আগেই করা উচিত ছিল। তাহলে পরিবেশের এতটা ক্ষতি হতো না। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে নিজের আঙিনার গাছের একটি ডাল কাটতে হলেও সিটি করপোরেশনের পারমিশন লাগে। আর আমরা শত্রুতা করে একজনের বাগানের হাজার হাজার কলা বা পেঁপেগাছের চারা কেটে দিয়ে এলাম। এসব দেখে মনে হয়, আমরা মানুষ হব কবে?
সুসংবাদ হলো, পরিবেশের এই দুর্দিনে মানুষের কিছুটা সচেতনতাও এখন দেখা যাচ্ছে। মানুষ সচেতন হলে, আর সেই সচেতনতার প্রতিফলন যদি তার কর্মে ঘটে, তাহলে সবকিছুই জয় করা সম্ভব। গাছের প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশের মানুষ অনেকটাই যেন নতুন করে অনুভব করতে পারছে। নতুন করে প্রকৃতির প্রেমে যেন নিমজ্জিত হতে যাচ্ছে মানুষ। এর চেয়ে বড় আনন্দের সংবাদ আর কিছু নেই। মানুষ তার আঙিনা সুন্দর করতে চাইছে গাছ বুনে। ইট-রডের শহরেও ছাদবাগান করছে। গ্রামের পথঘাট খোলা জায়গায় গাছের চারা রোপণে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।
সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বিশাল এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে পঁচিশ কোটি বৃক্ষচারা রোপণ করার ঘোষণা দিয়েছেন। জাতির প্রতি আহবান জানিয়েছেন, ‘আসুন, সবুজ বসতি গড়ে তুলি। বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মতো বিষয়টি যদি আমাদের নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে পারি, তাহলে আমরা সবুজ স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ বসতি গড়ে তুলতে পারব।’ [দৈনিক কালের কণ্ঠ, ১০ জুলাই ২০২৬]। এ এক অবিস্মরণীয় আহবান। এই আহ্বানে দেশের মানুষ উদ্দীপ্ত হয়েছে, ব্যাপক সাড়া পড়েছে দেশজুড়ে।
সবুজ সুন্দর পরিবেশে সবাই বাঁচতে চায়। আমাদের ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ’ যাত্রা শুরুরকাল থেকেই প্রতি বর্ষাঋতুতে হাজার হাজার চারা রোপণ করে চলেছে সারা দেশে। এই বছরও ব্যাপকভাবে চলছে সেই কাজ। ‘শুভসংঘ’র মতো অন্যান্য সামাজিক সংগঠনও চারা রোপণ করছে। এই সচেতনতা ও চেষ্টা নিশ্চয় আগামীর বাংলাদেশ সবুজ করে তুলবে, সুস্বাস্থ্যময় করে তুলবে। ‘শুভসংঘ’র একটি স্লোগান, ‘সবুজে সুন্দর আগামী’। আমরা আমাদের আগামীর জীবন সবুজে সুন্দর করে তুলতে চাই। একটি অনুরোধ দেশের মানুষকে করছি, আসুন, আজ থেকে আমরা যে যেখানে আছি সেখানে জন্মগ্রহণ করা প্রতিটি নবজাতকের জন্য একটি চারা রোপণ করি। বাড়ির আঙিনায় বা আশপাশের খোলা জায়গায় চারাটি যেন পত্রপল্লবে সুশোভিত হতে পারে সেদিকে নজর রাখি। এই শুভকাজটি, আসুন, সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে তুলি।