• ই-পেপার

অন্য জীবন

অক্সফোর্ডের জাদুঘরে সুরভীর সৌরভ

উক্তি

উক্তি

অপরাধী আমাদের কাছে একজন অপরাধীই। সে দলের যত বড় নেতাই হোক না কেন, আমাদের কাছে তার পরিচয়—একজন অপরাধী।

মো. আসাদুজ্জামান, আইনমন্ত্রী

 

ইরান ইস্যুতে থমথমে মধ্যপ্রাচ্য

পাকিস্তান-কাতারের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় ইসরায়েল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
ইরান ইস্যুতে থমথমে মধ্যপ্রাচ্য

পাল্টাপাল্টি প্রাণঘাতী হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এখন অস্বস্তিকর নীরবতা বিরাজ করছে। যদিও একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কারিগরি আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এটা ঠিক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই দিনের প্রাণঘাতী হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে বন্দুকের শব্দ থেমেছে এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো কূটনীতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। কিন্তু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনা কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ঠিকই রয়ে গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবস্থা এখন ‘পেনরোজ স্টেয়ার্স’-এর মতো। এটি এক ধরনের অপটিক্যাল ইলিউশন বা দৃষ্টিভ্রম। প্রথম দেখায় মনে হয়, একটি সিঁড়ি চারদিকে ঘুরে আবার একই জায়গায় ফিরে আসছে। কিন্তু আপনি যেন সব সময় ওপরের দিকে উঠছেন বা নিচের দিকে নামছেন। বাস্তবে এমন সিঁড়ি তৈরি করা সম্ভব নয়। তবে ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থা এখন এই পেনরোজ স্টেয়ার্সের মতো! বিশ্লেষকরা দাবি করেছেন, এই পরিস্থিতির অনেকটাই ট্রাম্পের নিজের সিদ্ধান্তের ফল। তিনি এমন একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছিলেন, যার কোনো সুস্পষ্ট ও চূড়ান্ত প্রস্থান কৌশল ছিল না। একই সঙ্গে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করেছিলেন, তা সংঘাতের মূল কারণগুলো সমাধান করতে পারেনি। গত বুধবার হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বিমান হামলা চালায়। এরপর তিনি আবারও সেই পুরনো দ্বিধার মুখে পড়েছেন। তাঁর সামনে এখন দুটি কঠিন পথ। প্রথমত, যুদ্ধ আরো বিস্তৃত করা; যার মানবিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য হতে পারে চড়া। দ্বিতীয়ত, এমন একটি ভঙ্গুর সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা, যা সমালোচকদের মতে ইরানকে বিপুল অর্থনৈতিক সুবিধা দিলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দিতে ব্যর্থ হবে। মাত্র তিন সপ্তাহ আগে সমঝোতাকে নিজের ‘অন্যতম বড় কূটনৈতিক সাফল্য’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন ট্রাম্প। তাই সাম্প্রতিক সংঘাত সেটির কার্যকারিতা নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলেছে। বাস্তবে নতুন করে হামলার নির্দেশ দিয়ে তিনি এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, যেখানে ইরানের হাতে থাকা কৌশলগত সুবিধা ভাঙতে গিয়ে আরেকটি সংঘাতের ঝুঁকি নিচ্ছেন।

পাকিস্তান-কাতারের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে পাকিস্তান ও কাতার। তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও কাতারের কর্মকর্তারা ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তাঁরা উভয় পক্ষকে সামরিক অভিযান বন্ধ করে আবার আলোচনায় ফেরার আহবান জানিয়েছেন। পাকিস্তান সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দোহার সঙ্গে সমন্বয় করে ইসলামাবাদ উত্তেজনা কমাতে এবং পরবর্তী দফার আলোচনা আয়োজনের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। পাকিস্তানি সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা অপ্রত্যাশিত হলেও উভয় পক্ষই বুঝতে পারছে, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ কোনো পক্ষের অনুকূলে যাবে না। সর্বশেষ উত্তেজনার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। অন্যদিকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষকেই আবার কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার আহবান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বিদ্যমান সমঝোতা বাস্তবায়ন করা গেলে এখনো দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল বিক্রির লাইসেন্স বাতিল করায় আলোচনা এগোবে কি না, তা বেশ অনিশ্চিত।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের শত্রুতা সম্পূর্ণ যৌক্তিক :  লেবাননভিত্তিক সামরিক বিশ্লেষক অ্যালেক্স আলফিরাজ শিয়ার্স বলেছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু মূল সমস্যাটি হলো চরম অবিশ্বাস। তাঁর ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, এই আলোচনা থেকে খুব সামান্যই ফল পাওয়া যাবে। অনেক দিক থেকেই এসব আলোচনা প্রায় প্রতীকী এবং আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রকৃত গতি না আসা পর্যন্ত বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা সম্ভবত কোনো দিকেই এগোবে না।’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানি শাসকগোষ্ঠীর যে শত্রুতা, তা অত্যন্ত গভীর এবং অনেকাংশেই সম্পূর্ণ যৌক্তিক।’

সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় ইসরায়েল : যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের চলমান উত্তেজনায় যুক্ত হয়ে ইরানে আবারও হামলা চালাতে ইসরায়েলের একটি অংশ আগ্রহী। তবে এ জন্য তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান। নাম প্রকাশ না করে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেরুজালেমের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, আগামী কয়েক দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকবে। একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট। পত্রিকাটি জেরুজালেমের একটি সূত্রের বরাতে জানায়, ভবিষ্যতে সম্ভাব্য হামলায় যুক্ত হতে এবং পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ পুনরায় শুরু করতে আগ্রহী ইসরায়েল।

হরমুজে ফের অচলাবস্থা : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টাহামলা শুরু হওয়ায় বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে আবার বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কমে গেছে। ফলে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সরবরাহ সংকটে থাকা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার নতুন করে বড় ধাক্কা খেল। জাহাজ চলাচলের তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার থেকে কোনো বড় বাণিজ্যিক জাহাজ নিজেদের অবস্থান জানান দিয়ে এই প্রণালি পার হয়নি। জলপথটি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সূত্র : সামা টিভি, টাইমস অব ইসরায়েল, নিউইয়র্ক টাইমস, আল জাজিরা

 

জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী
শেখ রবিউল আলম

বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণ, বন্দর উন্নয়ন ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চেয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার লন্ডনে যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডারের সঙ্গে বৈঠকে শেখ রবিউল আলম প্রযুক্তি হস্তান্তর, নাবিকদের ভিসা সহজীকরণ এবং টেকসই সামুদ্রিক পরিবহন ব্যবস্থার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। এ বৈঠকে বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ, সামুদ্রিক প্রকৌশল, বন্দর উন্নয়ন, সামুদ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা এবং বন্দরভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

বৈঠকে নৌপরিবহনমন্ত্রী আন্তর্জাতিক জাহাজে কর্মরত বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য ওকেটিবি এবং অন্যান্য ট্রানজিট ও নাবিক ভিসা দ্রুত ও সহজতর করার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা

কামনা করেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে হংকং আন্তর্জাতিক কনভেনশন বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমানে দেশের ৪২টি জাহাজ পুনর্ব্যবহার ইয়ার্ডের মধ্যে ২৭টি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে এবং অবশিষ্ট ইয়ার্ডগুলোকে পর্যায়ক্রমে ওই মানদণ্ডে উন্নীত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থার জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস সংক্রান্ত বৈশ্বিক উদ্যোগকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। যদিও বাংলাদেশ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের প্রধান উৎস নয়, তবু পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, সবুজ প্রবৃদ্ধি এবং টেকসই সামুদ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

নাহিদ ইসলাম

শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য
নাহিদ ইসলাম

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্যই দেশে ফিরবেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার রায় অলরেডি হয়ে গেছে। এখন এই সরকারের উচিত যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় গণহত্যাকারীকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল রয়টার্সে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আজকে একটা

ইন্টারভিউয়ে আমরা দেখেছি যে ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। দেশ তো অলরেডি ১৬ বছরের ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে। এখন আমরাও চাই দেশে ফিরবেন, ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য।’

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এটা তো শেখ হাসিনা ঠিক করবেন না, তিনি কিভাবে আসবেন। তিনি কাদের নিয়ে আসবেন, সারেন্ডার করবেন কী করবেন না—এটা ঠিক করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। বাংলাদেশ সরকার এটা নিয়ে কথা বলবে দিল্লির সঙ্গে, এখানে আর কোনো পক্ষ নেই। ফলে এটা সরকার ঠিক করবে—তাঁকে কখন আনবে, কিভাবে আনবে এবং কিভাবে বিচারের রায় কার্যকর করবে। সব প্রস্তুতি নিয়েই তাঁকে আনতে হবে।’

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ আরো বলেন, ‘আমি মনে করি, এটাও দেশের স্থিতিশীলতার জন্য বড় একটা উদ্যোগ হবে। এ সরকারের দ্রুত রায়টি কার্যকর করা উচিত। এ ছাড়া অন্য কোনো পরিকল্পনা যদি কেউ ভাবে, তাহলে সেটা কারো জন্যই ভালো হবে না।’

এ সময় নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা অংশগ্রহণ করেছে, রাজনৈতিকভাবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য তারা প্রস্তুত আছে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছি।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী আশিকিন আলম। এতে সারা দেশ থেকে আসা বিভিন্ন উদ্যোক্তারা অংশ নেন।

‘আওয়ামী লীগের বিচার সঠিক রাস্তা’ : অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার যদি কোনো ধরনের পাঁয়তারা হয় আর সরকার যদি সেটাকে প্রশ্রয় দেয়, তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন সরকারই হবে।

এনসিপির আহ্বায়ক আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে দলগতভাবে বিচারের মুখোমুখি করার কথা সরকারও ভাবছে। আমরা মনে করি, এটাই সঠিক রাস্তা। শেখ হাসিনার রায় অলরেডি হয়ে গেছে। এখন এটা কার্যকর করতে হবে। শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরে, কেবল ফিরবে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য।’

শেখ হাসিনা নিজের দলের নেতাকর্মীদের ত্যাগ করে দিল্লিতে পালিয়ে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এটা দিল্লির নিয়ন্ত্রিত একটা দল। ফলে শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত নয়। দিল্লি থেকে তাঁকে যতটুক পারমিট করা হয়, পারমিশন দেওয়া হয়, সে অনুযায়ী তিনি কথা বলেন।’

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘ফলে শেখ হাসিনা আসবেন কি আসবেন না, কিভাবে আসবেন, বিচার হবে কি না—এটা মূলত দিল্লির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করবে।’

মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সাজা (১০ বছরের কারাদণ্ড) নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘হাসানুল হক ইনুর রায় বিচারব্যবস্থা এবং ট্রাইব্যুনালকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়াও আমরা পাইনি। সরকার তো একটা রাজনৈতিক দলও; সেই দলের জায়গা থেকেও কিন্তু আমরা কোনো প্রতিক্রিয়া পাইনি।’