সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে আক্রমণ, পাল্টা-আক্রমণে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিল দুই দলই। ম্যাচের ৮৭ মিনিট পর্যন্ত স্পেন-বেলজিয়ামকে আলাদা করা যায়নি। ১-১ গোলের সমতায় খেলা এগোচ্ছিল অতিরিক্ত সময়ের দিকে। তবে ৮৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে গোল করেন মিকেল মেরিনো। এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডের গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়। বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স।
পর্তুগালের বিপক্ষেও শেষ ষোলোতে বদলি হিসেবে নেমে দলের জয়সূচক গোলটি করেছিলেন মেরিনো। গত রাতে মাঠে নামার ২ মিনিটের মাথায় গোলের দেখা পান তিনি। পাউ কুবারসির শট বেলজিয়াম গোলরক্ষক লামেন্স তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হলে ফিরতি শটে বল জালে জড়ান মেরিনো। এর আগে প্রথমার্ধ শেষ হয়েছিল ১-১ গোলের সমতায়। অবশ্য প্রথমার্ধের হাইড্রেশন ব্রেকের আগ পর্যন্ত লক্ষ্যে কোনো শটই নিতে পারেনি কোনো দল। গোলের সুযোগও তৈরি হয়েছিল হাতে গোনা কয়েকটি। তখন মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপের দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালের
প্রথমার্ধ বুঝি গোলশূন্যই শেষ হতে যাচ্ছে। কিন্তু সেই ধারণা বদলে যায় বাকি সময়ে। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে হাইড্রেশন ব্রেকের পর ম্যাচে আসে গতি, বাড়ে আক্রমণের তীব্রতা। আর সেই রোমাঞ্চের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন দুই মিডফিল্ডার—ফাবিয়ান রুইজ ও চার্লস ডি কেটেলিয়ার। ৩০তম মিনিটে লামিন ইয়ামালের বাড়ানো বল থেকে দুর্দান্ত ফিনিশে স্পেনকে এগিয়ে দেন রুইজ। তবে বেশিক্ষণ সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি স্প্যানিশরা। ৪১তম মিনিটে জেরেমি ডোকুর নিখুঁত ক্রস থেকে শক্তিশালী হেডে সমতা ফেরান ডি কেটেলিয়ার।
এই গোল ছিল চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে প্রতিপক্ষের প্রথম গোল। একই সঙ্গে প্রায় ৬৫০ মিনিট পর স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমনের জাল খুঁজে পেল প্রতিপক্ষ। বিশ্বকাপে এর আগে সর্বশেষ স্পেন গোল হজম করেছিল কাতারে ২০২২ সালে, গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে। সেবার শেষ ষোলোয় মরক্কোর বিপক্ষে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে গোলশূন্য সমতার পর টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছিল স্প্যানিশরা। চলতি আসরে প্রথম পাঁচ ম্যাচেও স্পেনের জালের দেখা পায়নি কোনো প্রতিপক্ষ। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা ছয় ম্যাচে ক্লিন শিট রাখার অনন্য কীর্তি গড়ে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েছে গত রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসে। দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথমার্ধে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোল হজম করে স্প্যানিশরা। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণে দুই দলেই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল। এই সময় চোট নিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে মাঠ ছাড়েন বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। ৭২ মিনিটের সময় বেরিয়ে যান তিনি। বেলজিয়ামের হয়ে বিশ্বকাপে নিজের ২১তম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন কোর্তোয়া। তবে শেষটা সুখকর হয়নি। তাঁর বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ৮৮ মিনিটে গোল হজম করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোলরক্ষক লামেন্স। এই গোলেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন। থামে বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ যাত্রা।




