পেনাল্টি থেকে গোল মিস করেছিলেন প্রথমার্ধেই। তখন ফ্রান্সের কপালে দুঃখ ভর করে কি না তা নিয়ে তৈরি হয় সংশয়। কারণ এভাবেই এবারের বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। কিন্তু সেই কিলিয়ান এমবাপ্পে জ্বলে উঠলেন, দ্বিতীয়ার্ধে একটি গোল করলেন এবং আরেকটি অ্যাসিস্টে উসমান দেম্বেলেকে দিয়ে করালেন গোল। এতেই আফ্রিকার দেশ মরক্কোর স্বপ্নযাত্রা থেমে গেল কোয়ার্টার ফাইনালে। বোস্টনে তাদের ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে স্বাচ্ছন্দ্যেই সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল হট ফেভারিট ফ্রান্স।
চার বছর আগেও সেমিফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে তাদের বিস্ময়যাত্রার সমাপ্তি টানে ফরাসিরা। এবারও মরক্কো থামল সেই ফরাসিদের দাপটেই। তীব্র এক লড়াইয়ের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছিল আগে থেকেই।
প্রথমার্ধের শুরু থেকেই দুই দল খেলা চালিয়ে গেছে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে। তবে বেশকিছু সুযোগ তৈরি করেও তা থেকে গোল আদায় করতে পারেনি ফ্রান্স। অন্যদিকে মরক্কানরা মনোযোগী ছিল মূলত কাউন্টার অ্যাটাকেই। ফরাসিরা গোল পেতে পারত ম্যাচের ছয় মিনিটেই; কিন্তু দায়োত উপেমেকানোর হেড ঠেকিয়ে দেন ইয়াসিন বুনু। দুই দলই দাপটের সঙ্গে খেলা চালিয়ে গেলেও মরক্কোর আক্রমণভাগ খুব বড় চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারেনি ফরাসি গোলরক্ষককে। ২৬ মিনিটের সময় ফরাসিদের একটি সংঘবদ্ধ আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে ছোট ডি-বক্সের বিপজ্জনক অবস্থানে চলে যাওয়া এমবাপ্পেকে ঠেকাতে গিয়ে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজারউই। সরাসরিই পেনাল্টি দেন রেফারি, যা ভিএআর বিশ্লেষণেও বহাল থাকে। কিন্তু এমবাপ্পের স্পট কিক ঠেকিয়ে বোস্টনের গ্যালারিতে মরক্কান ভক্তদের গগণবিদারি চিৎকারে ফেটে পড়ার সুযোগ করে দেন বুনু। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই ফরাসি ফরোয়ার্ডের ধীরগতির শট ঠেকিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে ১৬ বারের চেষ্টায় মাত্র দ্বিতীয়বার পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হলেন এমবাপ্পে।
৩৭ মিনিটে দেজিরে দুয়ের আরেকটি শট রুখে দেন এই গোলরক্ষক। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবেই শেষ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে ফরাসিদের আক্রমণের ধার আরেকটু বেড়ে যায়। কোচ দিদিয়ের দেশম বিরতির সময় তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে কথা বলেও চুপ থাকেননি, দৌড়ে বেড়িয়েছেন মাঠের পাশ দিয়ে। ফরাসি আক্রমণও হয়েছে তীব্রতর। তবে মরক্কোর দুর্দান্ত রক্ষণভাগ এবং গোলপোস্টে সবই নস্যাৎ হয়েছে পর্বতের মতো অটল বুনুর দক্ষতায়। অবশেষে সাফল্য আসে ৬০ মিনিটের সময়। দুয়ের কাছ থেকে বল নিয়ে ডান পায়ের তীব্র শটে এমবাপ্পে পরাস্ত করেন বুনুকে (১-০)। এটি এই ফরাসি তারকার চলতি বিশ্বকাপে অষ্টম গোল। তিনি ছুঁয়ে ফেলেছেন সর্বাধিক গোল করা আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসিকে (তাঁর গোলও আটটি)। ফ্রান্সের প্রথম ফুটবলার হিসেবে তিনি দুই বিশ্বকাপে দেখালেন আটটি গোল করার গৌরব। ৬৮ মিনিটে ফ্রান্সের গোলের ব্যবধান দ্বিগুণ হয়েছে এমবাপ্পের অবদানেই। তাঁর কাছ থেকে বল পেয়ে এবার লক্ষ্যভেদ করেছেন উসমান দেম্বেলে (২-০)। বিশ্বকাপের নক আউট ম্যাচে ১৩ গোলে তাঁর সরাসরি অবদান, গত ৬০ বছরে তাঁর চেয়ে শুধু মেসিরই বেশি এমন রয়েছে (১৪)।
এর কিছুক্ষণ পরেই এমবাপ্পেকে মাঠ থেকে তুলে নেন দেশম। পরে ৮৪ মিনিটে একটি মোক্ষম সুযোগ পেয়েছিল অ্যাটলাস লায়নস গোল পরিশোধ করে কিছুটা ফিরে আসার। কিন্তু আশরাফ হাকিমির ফ্রি কিক থেকে পাওয়া বলে উনাহির শট ঠেকিয়ে দেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেনিওঁ। এর পর আর তেমন কোনো ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি মরক্কো। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের হারে এবার শেষ আট থেকেই বিদায় নেয় তারা।




