আমি আমার প্রধানমন্ত্রীর নিয়োজিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আমার বাচ্চাগুলো বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে—এটা হতে পারে না।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী

আমি আমার প্রধানমন্ত্রীর নিয়োজিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আমার বাচ্চাগুলো বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে—এটা হতে পারে না।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী

প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আবারও ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার থেকে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম শুরু করে।
দীর্ঘদিন পর ভ্রমণ ভিসা চালু হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ভ্রমণপ্রেমী, উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থী এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ভারতে যেতে ইচ্ছুকরা।
পর্তুগালে কর্ম ভিসায় যেতে ইচ্ছুক সাজিদুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুধু ভারতের ভ্রমণ ভিসা বন্ধ থাকায় বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত থাকলেও ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ভারতে যেতে পারিনি। এখন ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় সেই জটিলতা দূর হবে বলে আশা করছি।’
গতকাল সকালে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) ঘুরে দেখা যায়, সেখানে মেডিক্যাল ভিসার আবেদনকারীদের উপস্থিতি ছিল বেশি। যদিও ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে, তবে এখনো আবেদন জমা দেওয়ার জন্য স্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ফলে ভ্রমণ ভিসার আবেদনকারীদের কেউ আবেদন জমা দিতে আসেননি। তবে অনেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে আইভ্যাকে আসেন।
নারায়ণগঞ্জ থেকে মেডিক্যাল ভিসার আবেদন জমা দিতে আসা তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছি। এক সপ্তাহ আগে মেডিক্যাল ভিসার আবেদন করেছি। আজ আবেদনপত্র জমা দেওয়ার স্লট ছিল, তাই এসেছি। ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় অনেকের ভোগান্তি কমবে।’
আইভ্যাকে আসা মেডিক্যাল ভিসাপ্রত্যাশীদের বেশির ভাগই ট্যুরিস্ট ভিসা ফের চালু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে তাঁরা নির্ধারিত সময়ে স্লট বরাদ্দ এবং ভিসা প্রক্রিয়া আরো সহজ ও দ্রুত করার দাবি জানান।
গত বৃহস্পতিবার দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা ফের চালুর ঘোষণা দেন। তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে ভারতের ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে। একই সঙ্গে মানবিক বিবেচনায় মেডিক্যাল ভিসা আরো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে চিকিৎসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশিরা প্রয়োজনীয় সেবা সময়মতো পেতে পারেন।
তিনি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন জমা নেওয়া হবে। পরে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য শহরের আইভ্যাক কেন্দ্রেও এই কার্যক্রম চালু করা হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য প্রায় সব ধরনের নিয়মিত ভিসা ইস্যু স্থগিত করে। সে সময় বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
পরে আগস্টের শেষ দিকে সীমিত পরিসরে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া শুরু হলেও ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হয়নি।

৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল গতকাল রবিবার প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এতে মোট এক হাজার ৫২১ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাডার পদে এক হাজার ৩০২ জন এবং নন-ক্যাডার পদে ২০১ জন মনোনীত হয়েছেন।
৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাডার পদে তিন হাজার ৪৮৭ জনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার ৬৬৩টিতে। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে মাত্র এক হাজার ৩০২ জন প্রার্থীকে এই বিসিএসে নিয়োগের সুপারিশ করেছে পিএসসি। বাকি দুই হাজার ৩৪৩টি ক্যাডার পদে নিয়োগে যোগ্য প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যায়নি। অথচ এই বিসিএসে তিন লাখ ৭৪ হাজার ৭৪৭ জন চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছিলেন।
ফল প্রকাশের বিজ্ঞপ্তিতে পিএসসি জানিয়েছে, বিভিন্ন ক্যাডারে মোট তিন হাজার ৬৬৩টি শূন্য পদের বিপরীতে এক হাজার ৩২০ জনকে নিয়োগের লক্ষ্যে সুপারিশ করা হয়েছে। কয়েকটি কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডারে চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয়সংখ্যক যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় বিভিন্ন ক্যাডারে দুই হাজার ৩৪৩টি পদে কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন করা সম্ভব হয়নি।
পিএসসির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডারে যোগ্য লোকবল পাওয়া যায় না। সবাই সাধারণ ক্যাডারে আবেদন করেন, সেখানে যেতে চান। বিগত কয়েকটি বিসিএসের ফল খেয়াল করলে দেখবেন, এ ধরনের সংকট আগে থেকেই চলে আসছে। এটি ক্রমে আরো বাড়ছে। এবার খুব বেশি সংকট দেখা যাচ্ছে।’
২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল পিএসসি। ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর প্রিলির ফল প্রকাশ করা হয়। এতে পাস করেন ১০ হাজার ৬৪৪ জন। ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। চলতি বছরের ৭ এপ্রিল লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে পাস করেন তিন হাজার ৬৩১ জন। তাঁরা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। তাঁদের মধ্যে এক হাজার ৩০২ জনকে ক্যাডার এবং ২০১ জনকে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনাকে খুব একটা আমলে নিচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক ও সেতু, নৌ-পরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, বিরোধী দল হিসেবে এটি তাঁদের প্রথম অভিজ্ঞতা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা আরো গঠনমূলক সমালোচনা করতে শিখবেন।
গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, বাজেট নিয়ে সংসদে তেমন নেতিবাচক আলোচনা হয়নি। কিছু সদস্য রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে ই-চালানের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ, কর অব্যাহতি কমানো, রাজস্ব ফাঁকি শনাক্তকরণ এবং ভ্যাট কাঠামোর সংস্কারের ফলে এ ধরনের আশঙ্কার কোনো কারণ নেই বলে তিনি মনে করেন।
মন্ত্রী বলেন, যাঁরা শঙ্কা প্রকাশ করছেন, তাঁরা প্রথমবার বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করছেন। অনেক ক্ষেত্রে সমালোচনা করতে গিয়ে ভুল করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, আরো কয়েকবার বিরোধী দলে থাকলে তাঁরা আরো ভালোভাবে সমালোচনা করতে শিখবেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, এবারের বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে প্রায় ৩০ শতাংশ, ভৌত অবকাঠামো খাতে ১৮ শতাংশের বেশি এবং সাধারণ সেবা খাতে প্রায় ২৬ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বরাদ্দ দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৯ শতাংশ। অথচ নেপাল ও ভুটানে এই হার ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী কর আহরণ বাড়ানোর যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তাতে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর বিষয়টিকে বাজেটের অন্যতম ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী রবিউল আলম। তিনি বলেন, গত অর্থবছরে রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যয়ে মোট বরাদ্দের ৭২.৭ শতাংশ ব্যয়ের পরিকল্পনা থাকলেও এবার তা কমিয়ে ৬৬.৩ শতাংশ করা হয়েছে। অন্যদিকে উন্নয়ন ব্যয় ২৭.৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৩.৭ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) তিন লাখ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ১৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন ব্যয়ও নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এবারের বাজেটে উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
ঘাটতি বাজেটের সমালোচনার জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, কর ও রাজস্ব যথাযথভাবে আহরণ করা গেলে এবং নির্ধারিত ব্যাংকঋণ পাওয়া গেলে ঘাটতি বাজেট হওয়ার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাজেটেও জিডিপির তুলনায় ঘাটতির উদাহরণ রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্ধারিত ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। এ ছাড়া বাজেটে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরশীলতাও কমানো হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংকঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা, যা কমিয়ে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি কমলে মানুষের সঞ্চয় বাড়বে, ফলে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট তৈরি হবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।