• ই-পেপার

দুই বছর পর চালু ভারতে পর্যটক ভিসা

উক্তি

উক্তি

আমি আমার প্রধানমন্ত্রীর নিয়োজিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আমার বাচ্চাগুলো বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে—এটা হতে পারে না।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী

 

 

৪৭তম বিসিএসের ফল প্রকাশ

যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় ২৩৪৩ ক্যাডার পদ শূন্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় ২৩৪৩ ক্যাডার পদ শূন্য

৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল গতকাল রবিবার প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এতে মোট এক হাজার ৫২১ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাডার পদে এক হাজার ৩০২ জন এবং নন-ক্যাডার পদে ২০১ জন মনোনীত হয়েছেন।

৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাডার পদে তিন হাজার ৪৮৭ জনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার ৬৬৩টিতে। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে মাত্র এক হাজার ৩০২ জন প্রার্থীকে এই বিসিএসে নিয়োগের সুপারিশ করেছে পিএসসি। বাকি দুই হাজার ৩৪৩টি ক্যাডার পদে নিয়োগে যোগ্য প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যায়নি। অথচ এই বিসিএসে তিন লাখ ৭৪ হাজার ৭৪৭ জন চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছিলেন।

ফল প্রকাশের বিজ্ঞপ্তিতে পিএসসি জানিয়েছে, বিভিন্ন ক্যাডারে মোট তিন হাজার ৬৬৩টি শূন্য পদের বিপরীতে এক হাজার ৩২০ জনকে নিয়োগের লক্ষ্যে সুপারিশ করা হয়েছে। কয়েকটি কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডারে চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয়সংখ্যক যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় বিভিন্ন ক্যাডারে দুই হাজার ৩৪৩টি পদে কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন করা সম্ভব হয়নি।

পিএসসির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডারে যোগ্য লোকবল পাওয়া যায় না। সবাই সাধারণ ক্যাডারে আবেদন করেন, সেখানে যেতে চান। বিগত কয়েকটি বিসিএসের ফল খেয়াল করলে দেখবেন, এ ধরনের সংকট আগে থেকেই চলে আসছে। এটি ক্রমে আরো বাড়ছে। এবার খুব বেশি সংকট দেখা যাচ্ছে।’

২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল পিএসসি। ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর প্রিলির ফল প্রকাশ করা হয়। এতে পাস করেন ১০ হাজার ৬৪৪ জন। ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। চলতি বছরের ৭ এপ্রিল লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে পাস করেন তিন হাজার ৬৩১ জন। তাঁরা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। তাঁদের মধ্যে এক হাজার ৩০২ জনকে ক্যাডার এবং ২০১ জনকে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।

সড়ক ও রেল মন্ত্রী

বিরোধী দলের বাজেট সমালোচনা আমলে নিচ্ছি না

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিরোধী দলের বাজেট সমালোচনা আমলে নিচ্ছি না
শেখ রবিউল আলম

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনাকে খুব একটা আমলে নিচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, বিরোধী দল হিসেবে এটি তাদের প্রথম অভিজ্ঞতা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা আরো গঠনমূলক সমালোচনা করতে শিখবে।

গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বাজেট নিয়ে সংসদে তেমন নেতিবাচক আলোচনা হয়নি। কিছু সদস্য রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির আশঙ্কা প্রকাশ

করেছেন। তবে ই-চালানের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ, কর অব্যাহতি কমানো, রাজস্ব ফাঁকি শনাক্তকরণ এবং ভ্যাট কাঠামোর সংস্কারের ফলে এ ধরনের আশঙ্কার কোনো কারণ নেই বলে তিনি মনে করেন।

মন্ত্রী বলেন, যাঁরা শঙ্কা প্রকাশ করছেন, তাঁরা প্রথমবার বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করছেন। অনেক ক্ষেত্রে সমালোচনা করতে গিয়ে ভুল করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, আরো কয়েকবার বিরোধী দলে থাকলে তাঁরা আরো ভালোভাবে সমালোচনা করতে শিখবেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, এবারের বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে প্রায় ৩০ শতাংশ, ভৌত অবকাঠামো খাতে ১৮ শতাংশের বেশি এবং সাধারণ সেবা খাতে প্রায় ২৬ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বরাদ্দ দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৯ শতাংশ। অথচ নেপাল ও ভুটানে এই হার ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী কর আহরণ বাড়ানোর যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তাতে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর বিষয়টিকে বাজেটের অন্যতম ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী রবিউল আলম। তিনি বলেন, গত অর্থবছরে রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যয়ে মোট বরাদ্দের ৭২.৭ শতাংশ ব্যয়ের পরিকল্পনা থাকলেও এবার তা কমিয়ে ৬৬.৩ শতাংশ করা হয়েছে। অন্যদিকে উন্নয়ন ব্যয় ২৭.৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৩.৭ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) তিন লাখ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ১৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন ব্যয়ও নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এবারের বাজেটে উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

ঘাটতি বাজেটের সমালোচনার জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, কর ও রাজস্ব যথাযথভাবে আহরণ করা গেলে এবং নির্ধারিত ব্যাংকঋণ পাওয়া গেলে ঘাটতি বাজেট হওয়ার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাজেটেও জিডিপির তুলনায় ঘাটতির উদাহরণ রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্ধারিত ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। এ ছাড়া বাজেটে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরশীলতাও কমানো হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংকঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা, যা কমিয়ে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি কমলে মানুষের সঞ্চয় বাড়বে, ফলে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট তৈরি হবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া সফরে সেনাপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া সফরে সেনাপ্রধান
ওয়াকার-উজ-জামান

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পাঁচ দিনের সরকারি সফরে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সেনাপ্রধান গতকাল রবিবার এ সফরে যান।

আইএসপিআর জানায়, সফরকালে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে সেনাবাহিনী প্রধানের চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়ার প্রতিরক্ষাসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ক্রমবর্ধমান।

১৯৯৩ সালে চেকোস্লোভাকিয়া ভেঙে পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়ার আত্মপ্রকাশের পর বাংলাদেশ উভয় দেশের সঙ্গে পৃথকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করে। এ ছাড়া বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য এবং প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানি হয়; আর চেক প্রজাতন্ত্র থেকে যন্ত্রপাতি, শিল্প সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিপণ্য আমদানি করা হয়।

উল্লেখ্য, চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া উভয়ই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, শিক্ষা, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো সম্প্রসারণের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।