• ই-পেপার

৪৭তম বিসিএসের ফল প্রকাশ

যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় ২৩৪৩ ক্যাডার পদ শূন্য

দুনিয়া মাতানো ফুটবল বিশ্বকাপ

দক্ষিণ আফ্রিকা-কানাডা ম্যাচটির প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি কোনো দল

দক্ষিণ আফ্রিকা-কানাডা ম্যাচটির প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি কোনো দল

লস অ্যাঞ্জেলেসে রাউন্ড অব ৩২-এর প্রথম ম্যাচে গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকা-কানাডা ম্যাচটির প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি কোনো দল।           ছবি : রয়টার্স

আজকের খেলা

আজকের খেলা

ব্রাজিল-জাপান (রাত ১১টা)

জার্মানি-প্যারাগুয়ে (রাত ২-৩০ মিনিট)

নেদারল্যান্ডস-মরক্কো (কাল সকাল ৭টা)

নক আউটের আনন্দে কঙ্গো

রোনালদোদের ড্র

ক্রীড়া প্রতিবেদক
নক আউটের আনন্দে কঙ্গো

৪৮ দলের বিশ্বকাপ! এতগুলো দল খেললে সেটি আবার বিশ্বকাপ হয় নাকি? প্রথমবার ৪৮ দলের বিশ্বকাপ নিয়ে এমন তির্যক প্রশ্ন অনেক জায়গা থেকেই উঠেছে। কিন্তু যে কটি দল এই প্রশ্নকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে, ডিআর কঙ্গো তাদের অন্যতম। ১৯৭৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেছিল দলটি। সেবার জায়ার নামে খেলা দলটি তিন ম্যাচই হেরে বাড়ির পথ ধরেছিল। তিন দেশের আয়োজনে এবারের বিশ্বকাপ ডিআর কঙ্গোর ৫২ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়েছে। সেই অপেক্ষা ঘোচানোর পরের পর্বটা হলো একদম রূপকথার গল্পের মতো। ‘কে’ গ্রুপে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে তারা তৃতীয় স্থানধারী সেরা আট দলের একটি হিসেবে ‘রাউন্ড অব ৩২’-এ জায়গা করে নিয়েছে।

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয়টিও ইতিহাস হয়ে গেছে তাদের জন্য। এটাই যে বিশ্বকাপে তাদের প্রথম জয়। অবশ্য ম্যাচের ১০ মিনিটেই এলদোর শোমুরোদভের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল উজবেকিস্তান। ১৭ মিনিটের সময় সেই গোল ডিআর কঙ্গোর মিডফিল্ডার নাথানায়েল এমবাকু ফেরত দিলেও ভিএআর রিভিউতে তা বাতিল হয়। গোলটি বিল্ড-আপের সময় প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার এমবাকুর ফাউলের শিকার হন। এরপর একটা পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, জয়হীন আরেকটি বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের অপেক্ষায় ডিআর কঙ্গো। ভাবনা বদলান ইয়োয়েন ভিসা। বিরতির পর ৬৮ মিনিটের সময় পেনাল্টি থেকে দলকে সমতায় ফেরান এই ফরোয়ার্ড। এরপর ম্যাচের বাকি গল্পটা শুধুই ডিআর কঙ্গোর। সমতা ফিরিয়ে যেন আত্মবিশ্বাসে চড়ে বসেছিল দলটি। একের পর এক আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছিল উজবেকিস্তানের রক্ষণ। এরই ধারাবাহিকতায় ৭৮ মিনিটে ফিস্টন মায়েলে ও যোগ করা সময়ে ভিসার দ্বিতীয় গোলে বড় জয় নিয়েই পরের পর্বে খেলার উচ্ছ্বাসে মাতেন ডিআর কঙ্গোর খেলোয়াড়রা।

ডিআর কঙ্গোর এই স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়েছিল পর্তুগালকে রুখে দিয়ে। জমাট রক্ষণের সঙ্গে আক্রমণে ওঠার মুনশিয়ানা দেখিয়ে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের বিপক্ষে বেশ প্রশংসাই কুড়িয়েছিল তারা। পরের ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে ১-০ গোলে হারলেও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য আরেকবার জানান দিয়েছে ডিআর কঙ্গো। সেরা ৩২-এর লড়াইয়ে অবশ্য তাদের আসল চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। সেখানে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে হবে তাদের। ‘কে’ গ্রুপ থেকে ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে সেরা দুই দল হিসেবে পরের পর্বে খেলবে কলম্বিয়া ও পর্তুগাল। একই সময় মায়ামিতে গোলশূন্য ড্র হয় দুই দলের ম্যাচটি। গ্রুপ সেরা হতে হলে জিততেই হতো পর্তুগালকে। উল্টো কলম্বিয়ার বিপক্ষে হতাশই করে তারা। তাদের সেরা তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোও ছিলেন ম্লান এবং মলিন।

ম্যাচজুড়ে অবশ্য দাপট দেখিয়েছে কলম্বিয়া। শুরুর দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল তারা। লুইস দিয়াজের শট পোস্টে প্রতিহত হয়ে বল চলে আসে জন কর্দোবার কাছে। কিন্তু তাঁর হেড গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ১৭ মিনিটে কর্দোবা পর্তুগিজ ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে জোরালো শট নিলেও তা দারুণভাবে রুখে দেন গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা। ২২ মিনিটে কলম্বিয়ার আরো একটি নিশ্চিত সুযোগ পর্তুগালের ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেস গোললাইন থেকে ফেরত পাঠান। ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্তটি আসে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে। কর্নার থেকে ডেভিনসন সানচেজ দারুণ হেডে বল জালে জড়ালে উৎসবে মেতে ওঠে কলম্বিয়ান সমর্থকরা। তবে লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলেন। ভিএআর রিভিউতে দেখা যায়, সানচেজের পায়ের আঙুল পর্তুগিজ ডিফেন্ডারের চেয়ে সামান্য এগিয়ে ছিল। ফলে গোলটি বাতিল হয়। ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় দুই দলকে। গ্রুপ সেরা হওয়ায় রাউন্ড অব ৩২-এ ঘানাকে পেয়েছে কলম্বিয়া। রানার্সআপ পর্তুগালকে লড়তে হবে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে।

 

‘সাদা পতাকা’ নিয়ে উদ্বেগ

ভুল বার্তা গেলে হুমকিতে পড়তে পারে বিনিয়োগ ও শ্রমবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভুল বার্তা গেলে হুমকিতে পড়তে পারে বিনিয়োগ ও শ্রমবাজার

ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই দেশে বিভিন্ন দেশের পতাকা টানানোর সংস্কৃতি নতুন নয়। তবে এবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরবি হরফে কালেমাখচিত বিশেষ নকশার সাদা পতাকা টানানোকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিষয়টিকে ধর্মীয় পরিচয়ের প্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ব্যবসা-বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ ধরনের প্রতীক ভুলভাবে ‘উগ্রবাদী’ গোষ্ঠীর প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হলে দেশের ভাবমূর্তি, বিদেশি বিনিয়োগ এবং প্রবাসী শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

কয়েক সপ্তাহে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং সাভার, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, বগুড়া, যশোর, দিনাজপুর, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কালেমাখচিত সাদা

পতাকা টানানোর ঘটনা ঘটে। কোথাও কোথাও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাও হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কয়েকটি স্থানে পতাকা সরিয়ে দিলেও পরে আবার সেগুলো টানানো হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, এটি ইসলামের কালেমাবাহী নিশান, কোনো দেশি বা বিদেশি উগ্রবাদী সংগঠনের প্রতীক নয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বিশ্বে প্রতীকের অর্থ শুধু স্থানীয় ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকে না। আন্তর্জাতিকভাবে কোনো প্রতীক যদি উগ্রবাদী সংগঠনের প্রতীকের সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে বিদেশি গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেটি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদের মতে, খেলার সঙ্গে সম্পর্কহীন এ ধরনের পতাকা প্রদর্শন অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহি আকবরের মতে, বাস্তবে বাংলাদেশে এমন কোনো উগ্রবাদী উত্থান না থাকলেও কিছু মানুষের অতিউৎসাহী কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভুল বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। এতে দেশের স্থিতিশীলতা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক অংশীদারের কারণে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এমন সময়ে ধর্মীয় প্রতীককে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য শোডাউন বা বিতর্ক দেশের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিংকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে ব্যবসায়ী নেতারাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শুধু অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নয়, একটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক পরিবেশ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও মূল্যায়ন করেন। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, পশ্চিমা বিশ্ব এ ধরনের বিষয় অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে দেখে। ফলে ভুল বার্তা গেলে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিশ্বের ১৫০টির বেশি দেশে কর্মরত এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি। নিরাপত্তা ইস্যুতে কঠোর দেশগুলোতে বাংলাদেশের বিষয়ে ভুল ধারণা তৈরি হলে ভবিষ্যতে শ্রমবাজারেও অযাচিত জটিলতা দেখা দিতে পারে।

এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সাদা পতাকা টানানোর বিষয়টি নজরদারিতে রয়েছে। এটি নিছক ফুটবল উন্মাদনার অংশ, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো অসৎ উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।