• ই-পেপার

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ হচ্ছে বিসিএস কর্মকর্তা

আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাবির সপ্তম সমাবর্তন : উপাচার্য

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাবির সপ্তম সমাবর্তন : উপাচার্য
সংগৃহীত ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সপ্তম সমাবর্তন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জান্নাতুল ফেরদৌস সিনেট হলে অনুষ্ঠিত ৪৩তম বার্ষিক অধিবেশনে উপাচার্যের ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সপ্তম সমাবর্তন আয়োজন করতে আগ্রহী। এ বিষয়ে আপনাদের পরামর্শ ও সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।’ তবে এর আগে গত বছরের সিনেট অধিবেশনে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সমাবর্তন করার কথা জানিয়েছিলেন উপাচার্য। 

মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় ঢাবিতে ‘আমি পারি’ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় ঢাবিতে ‘আমি পারি’ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
ছবি: কালের কণ্ঠ

শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিগত বিকাশকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাপোর্ট ফর স্টুডেন্টস উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ (ডিইউএসএসডি) এবং মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠান শোনোর যৌথ উদ্যোগে শনিবার (২৭ জুন) ‘আমি পারি’ শীর্ষক একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেল ২টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের ১০১৩ নম্বর কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

‘সবকিছুর আগে আমাদের বাঁচতে হবে’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শোনোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেরিলিন আহমেদ। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন এবং প্রয়োজনের সময় সহায়তা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডার বিভাগের অধ্যাপক ও ডিইউএসএসডির ক্লাব মডারেটর ড. তাওহিদা জাহান। তিনি বলেন, সচেতন, ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপনই ব্যক্তিগত সাফল্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

কর্মশালার মূল অধিবেশন পরিচালনা করেন শোনোর মনোবিজ্ঞানী ও মানসিক স্বাস্থ্য প্রশিক্ষক সালেহ সিদ্দিক। প্রায় এক দশকের পেশাগত অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি অংশগ্রহণকারীদের আত্ম-পরিচয়, আত্মবিশ্বাস, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর যোগাযোগ, নেতৃত্ব বিকাশ, মাইন্ডফুলনেস অনুশীলন এবং মানসিক স্থিতিস্থাপকতা বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেন।

কর্মশালার শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা দুটি আত্মমূল্যায়ন সম্পন্ন করেন। এর ফলাফলের ভিত্তিতে আগামী জুলাই ২০২৬-এ একটি পূর্ণদিবসব্যাপী ফলো-আপ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আয়োজকরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বুয়েটকে বিশ্বমানের গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে : মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
বুয়েটকে বিশ্বমানের গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে : মাহদী আমিন

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ‘বুয়েটের যেমন সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে সৃজনশীলতা, মেধা, বুদ্ধি ও দেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রয়েছে, ঠিক তেমনি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে অনেক অবদান রয়েছে।’

শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে বুয়েট অডিটরিয়ামে ২০২৫-২৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, ‘অবকাঠামোর ক্ষেত্রে, ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই বুয়েটের ফ্যাকাল্টি মেম্বার্সদের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। বিশ্বের যত বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন না কেন, দেখবেন সেখানে আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা রয়েছেন, তারা সেখানে হয় পড়াশোনা করছেন অথবা কেউ না কেউ শিক্ষকতা করছেন। অর্থাৎ বুয়েটে ভর্তির মাধ্যমে আপনারা খুব রিয়েল একটা লেগেসি পাচ্ছেন, যেটা বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। যেই ঐতিহ্য বর্তমানে বাংলাদেশের বাইরেও বিশ্বের অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত।’

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার মাত্র চার মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য এমন একটা শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রধানমন্ত্রীর যে লক্ষ্য—একজন শিক্ষার্থী শুধু কোনো সার্টিফিকেট অর্জন করবে না, শিক্ষাব্যবস্থার মধ্য থেকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। একজন মানুষ—যার ন্যায়, নীতি, সততা, যোগ্যতা, দেশপ্রেম থাকবে। একই সঙ্গে সেই দক্ষতা এবং যোগ্যতা নিয়ে তিনি গড়ে উঠবে। যেখানে আগামীর বাংলাদেশের কর্ণধার হিসেবে তারা চাকরির জন্য, ব্যবসার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য, সে প্লাটফর্মগুলোতে সুযোগ পাবে।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বুয়েটকে অবশ্য বড় একটা ভূমিকা রাখতে হবে। যেহেতু আপনারা দেশের শীর্ষ মেধাবী, সবচেয়ে বেশি সৃজনশীলতা নিয়ে আপনারাই তো আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন, সেটাই স্বাভাবিক। আপনারা যারা রয়েছেন, জীবনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য পড়াশোনা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে পড়াশোনার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিসকেও প্রাধান্য দেওয়া উচিত। স্পোর্টস কালচারকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। পুঁথিগত বিদ্যা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আপনাদের ইন্টারপারসোনাল স্কিলস, ট্রান্সফারেবল স্কিলস, টিম স্কিল, লিডারশিপ—এই প্রত্যেকটা তৈরি করতে হবে।’

সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে বুয়েট শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার কথা জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, তিনি গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন কিভাবে বুয়েটে গবেষণার জন্য আরো বেশি ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থা আমরা করতে পারি। এত বড় বিশ্ববিদ্যালয়, প্রো-ভিসি স্যারকে বলছিলাম অডিটরিয়ামের এই অবস্থা কেন? আমাদের মনে হয় সরকারের দিক থেকেও আরো বেশি সহযোগিতা করার প্রয়োজন রয়েছে এবং আমরা ইনশাআল্লাহ সেটা করব।’

বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হকের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হাসিব চৌধুরী এবং ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এন এম গোলাম জাকারিয়া।

বুয়েটের আবাসন সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
বুয়েটের আবাসন সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাগত শিক্ষার্থীদের পরিচিতিমূলক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বুয়েটের আবাসিক হল সমস্যার সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আজ শনিবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের পরিচিতিমূলক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আবাসনের সমস্যা হলে পড়াশোনায়ও বিঘ্ন ঘটে।  বুয়েটের আবাসিক হলগুলোতে সিটের অপ্রতুলতা রয়েছে। এই সমস্যাগুলোর সমাধান করা আমাদেরই দায়িত্ব। এ বিষয়ে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানাব এবং এই সমস্যার সমাধান করব।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘বুয়েটের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মেধাবী। কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীরাও অনেক সময় বিপথগামী হতে পারে। এখানে একসময় অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, যা কেউ ভুলতে পারছে না। সেই স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য আমরা আবরার ফাহাদের নামে একটি হল করতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব।’ 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার মানোন্নয়নে ‘রিসার্চ গ্র্যান্ট’ বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়া, গবেষণায় ব্যবহৃত ল্যাবগুলো আধুনিক ও মানসম্মত নয়। এখনো অনেক ল্যাবেই পুরনো যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলোর আধুনিকায়নে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী।