১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামী এখনো জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, অতীতের সেই অবস্থান নিয়ে দলটির এখনো নতুন করে ভাবার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করারও আহবান জানান তিনি।
গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংসদে বিরোধী দলের বেঞ্চের দিকে ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যাঁরা ওই পাশে আছেন, তাঁরা নানা সময় আমাদের ক্ষুব্ধ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এখন সময় এসেছে নিজেদের দিকেও একবার ফিরে তাকানোর। ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য আপনারা কখনো জাতির কাছে ক্ষমা চাননি। যদি সেই ভুল স্বীকার করতেন, তাহলে আজকের অনেক সমস্যাই সৃষ্টি হতো না।’
জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা অধ্যাপক গোলাম আযমের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ‘তিনি একসময় বলেছিলেন, ১৯৭১ সালে তাঁরা কোনো ভুল করেননি। কিন্তু আমার বিশ্বাস, এখনো সময় আছে। আপনারা নতুন করে বিষয়টি ভেবে দেখতে পারেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে জাতির সামনে তুলে ধরা উচিত। ১৯৭১ সালের বিষয়ে আপনাদের স্পষ্ট বক্তব্য আমরা কখনো শুনিনি। যদি আপনারা সেই ইতিহাস স্বীকার করেন, তাহলে আপনাদের জন্য রাজনীতি আরো সহজ হয়ে যাবে।’
জামায়াতের রাজনৈতিক মিত্র জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রসঙ্গ টেনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, তরুণদের এই রাজনৈতিক দলটি সম্ভাবনাময় হলেও এমন একটি দলের সঙ্গে তাদের জোট করা দুঃখজনক, যে দল বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রিয় ছাত্র ও তরুণদের দল এনসিপি ভালো করছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি দুঃখিত যে তারা এমন একটি দলের সঙ্গে জোট করেছে, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তারা তাদের রাজনৈতিক অবস্থান আরো পরিষ্কার করবে বলে আশা করি।’
বাজেট আলোচনায় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনে দেশের অর্থনীতি প্রায় খাদের কিনারে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশ নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছে এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের ফলে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি হয়েছে।
বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, এবারের বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি ভবিষ্যতের উন্নয়নের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা। আগামী এক বছরে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, পরবর্তী তিন বছরে রাজস্ব ও আর্থিক খাতের সংস্কার এবং পাঁচ বছরের মধ্যে অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিরোধী দলের ওয়াক আউট : সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার ন্যায্য সময় না পাওয়া, সংসদের কার্যপ্রণালি যথাযথভাবে অনুসরণ না করা ও পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলতে না দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তাঁরা জানান, গতকাল রবিবার রাতে জাতীয় সংসদ অধিবেশন মুলতবি ঘোষণার আগ মুহূর্তে ওয়াক আউট করেছেন।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে দিনের কার্যসূচির শেষে ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করা হয়। বিল দুটি উত্থাপনের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নাজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, কার্যপ্রণালি বিধির ৭৭ অনুযায়ী বিল উত্থাপনের কমপক্ষে তিন দিন আগে সংসদ সদস্যদের কাছে বিলের কপি পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা করা হয়নি। তিনি বলেন, স্পিকারের তিন দিনের শর্ত শিথিল করার ক্ষমতা থাকলেও তা প্রয়োগ করা হলে সংসদকে অবহিত করা উচিত ছিল। নিয়মিতভাবে এ ধরনের ব্যতিক্রমী প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে কার্যপ্রণালি বিধির মূল উদ্দেশ্য ক্ষুণ্ন হবে। এ সময় আগের আইনের সঙ্গে নতুন বিলের তুলনামূলক সারণি না দেওয়ার বিষয়েও আপত্তি জানান তিনি।
জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বিল দুটি উত্থাপনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করা হয়েছে। তিনি জানান, ১৫ জুন বিলের নোটিশ দেওয়া হয় এবং ২৩ জুন সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিলের কপি বিতরণ করা হয়েছে।




