ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য সরকার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে।
শেখ রবিউল আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী

ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য সরকার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে।
শেখ রবিউল আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী

সারা দেশে নির্মিত মডেল মসজিদগুলোর প্রকল্প ব্যয় ও নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাস্তবায়নের সার্বিক বিষয় তদন্তে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সংসদকে জানান, ধর্মীয় উগ্রবাদ, অপপ্রচার ও সামাজিক বিভাজন প্রতিরোধে তরুণদের সচেতন করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে সারা দেশে তরুণসমাজকে ইসলামের প্রকৃত শান্তির বাণী ও নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে স্থানীয় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান তিনি। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদের অনুপস্থিতিতে তাঁর পক্ষে সংসদে প্রশ্নোত্তরে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নে সরকারদলীয় সদস্য জয়নাল আবেদিন ফারুক জানতে চান, নতুন মডেল মসজিদ নির্মাণের চেয়ে আগে বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর ব্যয় ও নির্মাণমান তদন্ত করা প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, যেসব মডেল মসজিদ নির্মাণে শুরুতে ১৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল, সেগুলোর ব্যয় পরে ২১ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে অনেক মসজিদে নির্মাণ ত্রুটি দেখা দিয়েছে। তাঁর নির্বাচনী এলাকার সেনবাগের মডেল মসজিদে পানি পড়ার কারণে সেটি ব্যবহার করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও নিজের নির্বাচনী এলাকার একটি মডেল মসজিদের নির্মাণসংক্রান্ত সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুর্গাপুরে একটি মডেল মসজিদের সামনে বড় একটি পুকুর থাকায় সেখানে যেতে সেতু নির্মাণের প্রয়োজন। স্থানীয়রা মসজিদটির নাম দিয়েছে ‘তাজমহল’। কিন্তু অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে সেটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগ রয়েছে। মডেল মসজিদ নির্মাণ একটি ভালো উদ্যোগ হলেও প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন যথাযথ হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, একটি মসজিদের নির্মাণ ব্যয় ১৩ কোটি টাকা থেকে কিভাবে ২১ কোটিতে উন্নীত হলো, সারা দেশে মোট কতটি মডেল মসজিদ নির্মিত হয়েছে, প্রতিটি প্রকল্পে কত ব্যয় হয়েছে এবং ব্যয় বৃদ্ধির কারণ কী, এসব বিষয় তদন্ত করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মডেল মসজিদগুলোর সব প্রকল্পের ব্যয়, নির্মিত মসজিদের সংখ্যা এবং প্রতিটি মসজিদভিত্তিক ব্যয়ের বিষয় তদন্তের জন্য আজই মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সরকারের অন্যান্য সংস্থাকেও এ তদন্তে সম্পৃক্ত করা হবে। তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন মেগাপ্রকল্পে ব্যয় ও সময় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে। তাই মডেল মসজিদ প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়নও তদন্তের আওতায় আনা হবে।
ধর্মীয় উগ্রবাদ রুখতে নানা উদ্যোগ : অধিবেশনে স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানা জানতে চান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সরাইল-আশুগঞ্জ এবং বিজয়নগর উপজেলার আংশিক এলাকায় ধর্মীয় উগ্রবাদ, গুজব ও সামাজিক বিভাজন প্রতিরোধে তরুণদের জন্য সচেতনতামূলক ধর্মীয় শিক্ষা এবং সম্প্রীতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণে সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে? জবাবে মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারের লক্ষ্য সামাজিক শান্তি, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা অক্ষুণ্ন রাখা। এ উদ্দেশ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বহুমুখী সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকার এমপির পরামর্শ ও সহযোগিতায় ভবিষ্যতে যুবসমাজের জন্য নৈতিক শিক্ষা, ধর্মীয় সচেতনতা ও সামাজিক সম্প্রীতিবিষয়ক কার্যক্রম আরো বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদারে বিভিন্ন ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টও নিজ নিজ পরিসরে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সরকারি দলের এমপি খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবাইত এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাদের চলমান কর্মসূচির আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে ১৩ হাজার ৯৪৯ জনের অনুকূলে সম্মানী দেওয়া হয়েছে।
একদলীয় শাসনের আশঙ্কা নাকচ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের কার্যপরিধি নিয়ে বিরোধী দলের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কোনো চেষ্টা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের নির্দিষ্ট কোনো নির্বাচনী এলাকা নেই। সংবিধান অনুযায়ী তাঁদের কার্যপরিধি পুরো বাংলাদেশ।
সোমবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধী দলের এমপি আখতার হোসেন বিষয়টি উত্থাপন করলে তাঁর জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পয়েন্ট অব অর্ডারে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, সরকারি দলের এক সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি বক্তব্যে দুটি সংসদীয় আসনকে তাঁর ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডারের মধ্যে না পড়লেও বিভ্রান্তি দূর করতে ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ ৩০০টি সাধারণ আসনের সদস্য এবং অতিরিক্ত ৫০ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য নিয়ে গঠিত। সাধারণ আসনের সদস্যদের জন্য সীমানা নির্ধারণ আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকা থাকলেও সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের কার্যপরিধি সমগ্র বাংলাদেশ। তাঁরা কোনো নির্দিষ্ট এলাকার প্রতিনিধি নন। তাই কোনো সদস্য যদি নিজেকে একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ হিসেবে উপস্থাপন করেন, সেটি সঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন। অনেকেই হয়তো এই ম্যাচে ফ্রান্সকেই এগিয়ে রাখবেন। এর পেছনে যথেষ্ট কারণও আছে। তাদের আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, ব্র্যাডলি বারকোলার মতো ভয়ংকর গতিময় ফুটবলারও আছেন। বেঞ্চেও এমন খেলোয়াড় রয়েছেন, যাঁরা যেকোনো মুহূর্তে নেমে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন। বড় ম্যাচে অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত দক্ষতা এবং মুহূর্ত তৈরি করার ক্ষমতার কারণে ফ্রান্সকে অনেকেই ফেভারিট ভাবছেন। তবে আমার বিশ্বাস, এই ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠবে স্পেন।
এর সবচেয়ে বড় কারণ, স্পেন শুধু ভালো ফুটবলই খেলছে না, তারা এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে পরিপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবেও নিজেদের প্রমাণ করেছে। আক্রমণ, মাঝমাঠ, রক্ষণ—প্রতিটি বিভাগে তারা ধারাবাহিক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই দল জানে কিভাবে একটি ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। বিশ্বকাপে স্পেনের পথচলার দিকে তাকালেই সেটা পরিষ্কার বোঝা যায়। গ্রুপ পর্বে তারা প্রতিপক্ষকে শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চাপে রেখেছে। নক আউটে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা দেয়। এরপর শক্তিশালী পর্তুগালের বিপক্ষে এসেছে ভিন্ন ধরনের পরীক্ষা। সেখানে গোলের বন্যা বইয়ে দেওয়ার সুযোগ ছিল না। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে, লড়াই করতে হয়েছে প্রতিটি বলের জন্য। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় দেখিয়েছে, প্রয়োজন হলে স্পেন সৌন্দর্যের চেয়ে ফলকেই বেশি গুরুত্ব দিতে পারে। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষেও সহজ সময় কাটেনি। প্রতিপক্ষ কয়েকবার ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছে। কিন্তু স্পেন নিজেদের পরিকল্পনা থেকে একটুও সরে যায়নি। ২-১ গোলের সেই জয় ছিল পরিণত ফুটবলের আরেকটি উদাহরণ। এই বিশ্বকাপে তারা প্রতিটি ম্যাচে ভিন্ন ধরনের পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে।
আমার কাছে স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের মাঝমাঠ। আধুনিক ফুটবলে ম্যাচ জিততে শুধু ভালো ফরোয়ার্ড থাকলেই হয় না, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। স্পেনের মিডফিল্ড সেটাই করে দেখাচ্ছে। রদ্রি, পেদ্রি, ফাবিয়ান রুইজরা ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে জানেন। বল নিজেদের কাছে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে ফেলেন। এতে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাঁক তৈরি হয়, আর সেই সুযোগ কাজে লাগায় স্পেন। সবচেয়ে ভালো লাগে, তারা একজন ফুটবলারের ওপর নির্ভর করে না। আক্রমণ গড়ে ওঠে পুরো দলকে নিয়ে। মাঝমাঠ, উইং, ফুল ব্যাক—সবাই আক্রমণে অংশ নেয়। ফলে একজনকে আটকে দিলেও অন্য কেউ সামনে চলে আসে। প্রতিপক্ষের জন্য তাই নির্দিষ্ট কাউকে থামিয়ে স্পেনকে থামানো কঠিন হয়ে পড়ে। রক্ষণেও তারা অসাধারণ শৃঙ্খলাবদ্ধ। এর প্রমাণ, এবার তারা মাত্র একটি গোল হজম করেছে। মাঝমাঠের খেলোয়াড়রা দ্রুত নিচে নেমে এসে রক্ষণকে সাহায্য করে। পুরো দল মিলে ডিফেন্স করে বলেই স্পেনের বিপক্ষে পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করা সহজ নয়। আমি মনে করি, এই ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হবে মাঝমাঠে। যদি স্পেন নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে বল পায়ে রেখে খেলতে পারে, তাহলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তাদের কাছেই থাকবে। আর যদি ফ্রান্স দ্রুত বল কেড়ে নিয়ে ফাঁকা জায়গায় এমবাপ্পে-দেম্বেলেদের ব্যবহার করতে পারে, তাহলে স্পেনের জন্য কঠিন হয়ে যাবে।

বিশ্বকাপে অনেক শক্তিশালী দল আসে, অনেক দলকে নিয়ে শিরোপার আলোচনা হয়। কিন্তু এই ফ্রান্সকে দেখে আমার বারবার একটাই প্রশ্ন মাথায় আসে, তাদের থামাবে কে? আমার এটা মনে হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ, এই দলের আক্রমণভাগ। আমরা একসময় রোনালদিনহো, রিভালদো ও রোনালদোর মতো কিংবদন্তিদের দেখেছি। কিন্তু ফ্রান্সের বর্তমান আক্রমণভাগ যেন সেই ধারণাকেও ছাড়িয়ে গেছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলে, দেজিরে দুয়ে, ব্র্যাডলি বারকোলা—এরা সবাই গতিময়, সৃজনশীল এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তাদের একজনকে সামলাতে না সামলাতেই আরেকজন হাজির হয়।
আর সবচেয়ে অবাক করা তথ্য, ইন্টার মিলানের হয়ে গত মৌসুমে ১৯ গোল করা মার্কাস থুরামও এই দলে শুরুর একাদশে থাকেন না। তিনি ষষ্ঠ বিকল্প! কোনো জাতীয় দলের বেঞ্চে যদি এমন একজন স্ট্রাইকার বসে থাকেন, তাহলে সেই দলের আক্রমণভাগের গভীরতা সহজেই বোঝা যায়। এই ফ্রান্সের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক শুধু প্রতিভা নয়, তাদের গতি। মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচের ছন্দ বদলে দেওয়ার সামর্থ্য আছে তাদের। কয়েক মিনিট শান্ত থাকার পর হঠাৎ করেই গতি বাড়িয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ছিন্নভিন্ন করে ফেলতে পারে। এমন ক্ষমতা খুব কম দলেরই থাকে।
আমাকে আরো বেশি মুগ্ধ করেছে কিলিয়ান এমবাপ্পের মানসিকতা। সাধারণত তাকে আমরা গোল করার জন্যই চিনি, কিন্তু এবার তাকে দেখলাম নিজ দলের ডিফেন্ডারের পেছনে ছুটে গিয়ে বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে। বিশ্বকাপ জিততে হলে যে শুধু গোল করলেই হবে না, দলের জন্য পরিশ্রমও করতে হবে—এটা সে বুঝেছে। এমবাপ্পে যদি আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করতেও প্রস্তুত থাকে, তাহলে ফ্রান্স আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠে। কারণ তার সেই মানসিকতা পুরো দলকেই বদলে দেয়। তবে ফ্রান্সকে নিয়ে আমার একটি প্রশ্ন থেকেই যায়, তাদের মাঝমাঠ। আদ্রিয়েন রাবিও ভালো ফুটবলার, কিন্তু মাঝেমধ্যে মনে হয়, মিডফিল্ডে তারা পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না। এই জায়গাটিই হয়তো প্রতিপক্ষের জন্য একমাত্র সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবু একটি বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই, প্রতিপক্ষ স্পেন হলেও ফ্রান্স গোল করবে। কিন্তু কাজটা সহজ হবে না। এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম গোল হজম করা দল তারা। তাদের রক্ষণ সুসংগঠিত। এমবাপ্পেদের চ্যালেঞ্জই হবে স্পেনের রক্ষণ দেয়াল ভেঙে ফেলা।
অনেকে ফ্রান্সের রক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন তোলে; কিন্তু আমি সেই দলে নই। দায়োত উপামেকানো ও উইলিয়াম সালিবার মতো দুই মানসম্পন্ন সেন্টার ব্যাক আছে তাদের। অভিজ্ঞতা, শক্তি ও গতি—সব মিলিয়ে এই রক্ষণ যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য। তাই শুধু আক্রমণ নয়, রক্ষণেও ফ্রান্সের শক্তির জায়গা স্পষ্ট। অবশ্য নক আউট ফুটবলের সৌন্দর্যই হলো, সব হিসাব এক ম্যাচে বদলে যেতে পারে। কোনো একদিন প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক জীবনের সেরা ম্যাচ খেলতে পারেন, ফ্রান্স একের পর এক সুযোগ নষ্ট করতে পারে। এমন কিছু ঘটলে তা চমক হয়ে যাবে। কিন্তু স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই ফ্রান্সকে হারানো ভীষণ কঠিন। আক্রমণে এত বৈচিত্র্য, বেঞ্চে এত গভীরতা, রক্ষণে নির্ভরতা এবং এমবাপ্পের মতো একজন নেতা যখন দলের জন্য সবকিছু উজাড় করে দিতে প্রস্তুত, তখন স্পেনকে হারিয়ে ফ্রান্সই ফাইনালে যাবে বলে মনে করছি।