• ই-পেপার

এইচএসসির প্রস্তুতি : বহু নির্বাচনী মডেল প্রশ্ন

  • জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী শিক্ষক, আলবার্ট ভিক্টোরিয়া যতীন্দ্র মোহন গভ. গার্লস হাই স্কুল, মুন্সীগঞ্জ

মজার গণিত

মজার গণিত

হাতের আঙুলে ৯-এর নামতা

​৯-এর ঘরের নামতা মুখস্থ করা অনেকের কাছেই ঝামেলার। কিন্তু তুমি কি জানো, তোমার হাতের ১০টি আঙুলই আসলে ৯-এর নামতার এক জীবন্ত ক্যালকুলেটর?

​প্রথম ধাপ : দুই হাতের ১০টি আঙুল চোখের সামনে মেলে ধরো। এবার বাঁ থেকে ডান দিকের আঙুলগুলোকে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত ক্রমিক নম্বর হিসেবে কল্পনা করো।

​দ্বিতীয় ধাপ : ধরো, তুমি ৯-কে ৪ দিয়ে গুণ করতে চাও (৯ ৪)। বাঁ দিক থেকে তোমার ৪ নম্বর আঙুলটি (বাঁ হাতের তর্জনী) ভাঁজ করে ফেলো।

​ফলাফল : ভাঁজ করা আঙুলটির বাঁ পাশে কয়টি আঙুল দাঁড়িয়ে আছে? ৩টি। ডান পাশে কয়টি আঙুল আছে? ৬টি। সংখ্যা দুটি পাশাপাশি বসিয়ে দাও, উত্তর : ৩৬! একইভাবে ৯ × ৭ বের করতে ৭ নম্বর আঙুলটি ভাঁজ করো। বাঁয়ে থাকবে ৬টি, ডানে ৩টি; উত্তর ৬৩। হিসাবটি একদম জাদুর মতোই সহজ, তাই না?

 

মাইল থেকে কিলোমিটার

​ধরো, তুমি দেশের বাইরে কোথাও ঘুরতে গিয়েছ। রাস্তার সাইনবোর্ডে দূরত্ব লেখা ‘মাইল’-এ, কিন্তু তুমি অভ্যস্ত ‘কিলোমিটার’-এ। ক্যালকুলেটর বা ইন্টারনেটের সাহায্য ছাড়াই শুধু ফিবোনাচি সিরিজ ব্যবহার করে এই হিসাব বের করে ফেলা সম্ভব!

​প্রথম ধাপ : ফিবোনাচি সিরিজের সংখ্যাগুলো (১, ১, ২, ৩, ৫, ৮, ১৩, ২১...) ক্রমানুসারে মনে করো।

​দ্বিতীয় ধাপ : এই সিরিজের কোনো একটি সংখ্যা যদি ‘মাইল’ নির্দেশ করে, তবে ঠিক তার পরের সংখ্যাটি হবে প্রায় সমপরিমাণ ‘কিলোমিটার’।

​ফলাফল : ৫ মাইল = প্রায় ৮ কিলোমিটার।

৮ মাইল = প্রায় ১৩ কিলোমিটার।
১৩ মাইল = প্রায় ২১ কিলোমিটার!

 

ডুমসডে অ্যালগরিদম

​বিখ্যাত গণিতবিদ জন কনওয়ে চমৎকার একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলেন, যার মাধ্যমে ক্যালেন্ডার না দেখেই অতীত বা ভবিষ্যতের যেকোনো তারিখ কী বার ছিল বা হবে, তা মুখে মুখেই বলে দেওয়া যায়।

​প্রথম ধাপ : বছরের নির্দিষ্ট কিছু ‘ডুমসডে’ বা তারিখ মনে রাখো, যেগুলো সব সময় একই বারে পড়ে। জোড় মাসের ডুমসডেগুলো মনে রাখা বেশ সহজ। যেমন : ৪ এপ্রিল (৪/৪), ৬ জুন (৬/৬), ৮ আগস্ট (৮/৮), ১০ অক্টোবর (১০/১০) এবং ১২ ডিসেম্বর (১২/১২)।

​দ্বিতীয় ধাপ : যে বছরের হিসাব করতে চাও, সেই বছরের ডুমসডেগুলো কী বার, তা জেনে নাও। যেমন : চলতি ২০২৬ সালের ডুমসডে হলো ‘শনিবার’। তার মানে, এ বছর ৪/৪, ৬/৬, ৮/৮, ১০/১০-এর প্রতিটি তারিখই শনিবার।

​তৃতীয় ধাপ : এবার যে তারিখের বার বের করতে চাও, তার সবচেয়ে কাছের ডুমসডে থেকে দিন গুনে বা যোগ-বিয়োগ করে সহজেই সেটি বের করে ফেলো। যেমন : ধরো, তুমি ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর কী বার, তা বের করতে চাও। দ্বিতীয় ধাপ থেকে তুমি জানো যে, ১০ অক্টোবর (১০/১০) শনিবার। ১০ তারিখ শনিবার হলে, এর ৭ দিন পর ১৭ তারিখ শনিবার এবং আরো ৭ দিন পর ২৪ তারিখও শনিবার। ২৪ তারিখ শনিবার হলে, ঠিক তার পরের দিন অর্থাৎ ২৫ অক্টোবর হবে ‘রবিবার’!

 

৯-এর অবিনশ্বর সত্তা

​গণিতের দুনিয়ায় ৯ সংখ্যাটিকে বলা হয় ‘ম্যাজিক নম্বর’। একে তুমি যে সংখ্যা দিয়েই গুণ করো না কেন, এর মূল অস্তিত্ব কখনো মুছে ফেলা যায় না।

​প্রথম ধাপ : ৯-এর সঙ্গে যেকোনো একটি সংখ্যা গুণ করো। যেমন : ৯ × ১৫ = ১৩৫।

​দ্বিতীয় ধাপ : এবার প্রাপ্ত গুণফলের অঙ্কগুলো পরস্পর যোগ করো : ১ + ৩ + ৫ = ৯।

​তৃতীয় ধাপ : ৯ দিয়ে আরও বড় সংখ্যা গুণ করে দেখতে পারো। যেমন : ৯ × ৫৬ = ৫০৪। অঙ্কগুলো যোগ করে দেখো : ৫ + ০ + ৪ = ৯।

​ফলাফল : যেকোনো বড় সংখ্যা দিয়ে ৯-কে গুণ করা হোক না কেন, প্রাপ্ত গুণফলের অঙ্কগুলো পর্যায়ক্রমে যোগ করে এক অঙ্কে নামিয়ে আনলে ঘুরেফিরে সব সময় সেই ৯-ই আসবে!

♦ আমানুর রহমান

 

 

সপ্তম শ্রেণি : ত্রিভুজ

সাধন সরকার, সহকারী শিক্ষক, লৌহজং বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মুন্সীগঞ্জ

সপ্তম শ্রেণি : ত্রিভুজ

নবম অধ্যায়

দ্বিতীয় অধ্যায় (অনুশীলনী-৯.১)

বহু নির্বাচনী প্রশ্ন

১।           বিষম বাহু ত্রিভুজের তিনটি কোণের পরিমাপ কত?

   ক. 900     খ. 1800

   গ. 2700            ঘ. 1200

২।           একটি ত্রিভুজের তিনটি বাহু সমান হলে ত্রিভুজটি কোন ধরনের?

   ক. সমকোণী ত্রিভুজ খ. সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ

   গ. সমবাহু ত্রিভুজ
ঘ. সমকোণী সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ

৩।           ত্রিভুজের মধ্যমা কয়টি?

   ক. ১     খ. ২  

   গ. ৩               ঘ. ৪

৪।           সমকোণী ত্রিভুজের—

   i. একটি কোণ ৯০০

   ii. সূক্ষ্মকোণদ্বয় পরস্পর পূরক

   iii. তিনটি কোণই সমকোণ

   নিচের কোনটি সঠিক?

   ক. i ও ii      খ. i ও iii   

   গ. ii ও iii          ঘ. i, ii ও iii

   নিচের তথ্যের আলোকে ৫-৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও :

   একটি সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের ভূমিসংলগ্ন একটি সূক্ষ্মকোণ ৪৫০।

৫।           উদ্দীপক অনুসারে ত্রিভুজের অন্য কোণগুলোর সমষ্টি কত?

   ক. 1800   খ. 1300

   গ. 2750   ঘ. 1350

৬।           ত্রিভুজটি হলো—

   i. সমকোণী    ii. সমবাহু    iii. সমদ্বিবাহু

   নিচের কোনটি সঠিক?

   ক. i ও ii      খ. i ও iii   

   গ. ii ও iii          ঘ. i, ii ও iii

৭।           মধ্যমাত্রয় পরস্পর সমান কোন ত্রিভুজের?

   ক. সমকোণী সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ    
খ. সমবাহু ত্রিভুজ গ. সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ                ঘ. সমকোণী ত্রিভুজ   

৮।           সমকোণী ত্রিভুজের একটি সূক্ষ্মকোণ ৬৫০ হলে অপরটি কত?

   ক. 350     খ. 250  

   গ. 450       ঘ. 1150

৯।  ∆ABC একটি সমকোণী সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ, যার B = 900 হলে—

   i. C=600   ii. A, C সূক্ষ্মকোণ

   iii. AB = AC

   নিচের কোনটি সঠিক?

   ক. i ও ii      খ. i ও iii   

   গ. ii ও iii          ঘ. i, ii ও iii

১০।          ত্রিকোণীর একটি কোণ নির্দিষ্ট থাকে, তার মান কত?

   ক. 1800            খ. 900

   গ.  450            ঘ. 2700

১১।                    ∆ABC ত্রিভুজের B + C = ৯০০  হলে  A = কত?

   ক. 1200            খ. 1800

   গ. 2700            ঘ. 900     

১২।          সন্নিহিত কোণের কয়টি বাহু থাকে?

   ক. একটি           খ. দুইটি

   গ. তিনটি           ঘ. চারটি

১৩।          একটি ত্রিভুজের কয়টি অংশ থাকে?

   ক.  তিনটি          খ. চারটি

   গ. পাঁচটি            ঘ. ছয়টি

১৪।          সমকোণী ত্রিভুজের সূক্ষ্মকোণদ্বয়ের একটি ৪০০ হলে অন্য সূক্ষ্মকোণদ্বয়ের মান কত?

   ক. 600     খ. 1300

   গ. 2200    ঘ. 500      

১৫।          সমবাহু ত্রিভুজের বহিঃস্থ কোণগুলোর সমষ্টি কত?

   ক. 3600    খ. 1800

   গ. 2000           ঘ. 1500      

১৬।          চতুর্ভুজের চার কোণের সমষ্টি কত?

   ক. 2600    খ. 1800

   গ. 900     ঘ. 3600   

১৭।          ত্রিভুজের বাহু তিনটির দৈর্ঘ্যের সমষ্টিকে কী বলে?

   ক. উচ্চতা       খ. পরিসীমা

   গ. আয়তন      ঘ. ক্ষেত্রফল

১৮।          সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের—

   i. সব কোণ সমান

   ii. একটি কোণ ৯০০ হলে অপর কোণদ্বয় ৪৫০

   iii. সমান সমান বাহুর বিপরীত কোনদ্বয় সমান

   নিচের কোনটি সঠিক?

   ক. i ও ii      খ. i ও iii   

   গ. ii ও iii          ঘ. i, ii ও iii

১৯।          ত্রিভুজের যেকোনো দুইটি বাহুর সাধারণ বিন্দুকে কী বলে?

   ক. পরিসীমা     খ. শীর্ষবিন্দু

   গ. মধ্যবিন্দু           ঘ. পাদবিন্দু

২০।          কোণভেদে ত্রিভুজ কত প্রকার?

   ক. ৪               খ. ৩

   গ. ২               ঘ. ১

২১।          ত্রিভুজ—

   i. এর সব কোণ সমান

   ii. বাহু তিনটির সমষ্টিই ত্রিভুজের পরিসীমা

   iii. দুই বাহুর সাধারণ বিন্দুই শীর্ষবিন্দু

   নিচের কোনটি সঠিক?

   ক. i ও ii      খ. i ও iii   

   গ. ii ও iii          ঘ. i, ii ও iii

   উত্তর : ১. খ ২. গ ৩. গ ৪. ক ৫. ঘ ৬. খ  ৭. খ ৮. খ ৯. গ ১০. খ ১১. ঘ ১২. গ ১৩. ঘ  ১৪. ঘ ১৫. ক ১৬. ঘ ১৭. খ ১৮. গ ১৯. খ ২০. খ ২১. গ।

 

 

 

 

 

অষ্টম শ্রেণি : কবিতা : বঙ্গভূমির প্রতি

আতাউর রহমান সায়েম, সিনিয়র শিক্ষক, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা

অষ্টম শ্রেণি : কবিতা : বঙ্গভূমির প্রতি
‘বঙ্গভুমির প্রতি’ কবিতার রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত। অঙ্কন : তানভীর মালেক

বাংলা প্রথম পত্র

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

১। ‘মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে’ কথাটির অর্থ ব্যাখ্যা করো।

   উত্তর : ‘মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে’ বলতে কবির মাতৃভূমি যেন তাঁকে স্নেহধারা থেকে বঞ্চিত না করেন, তা  বোঝানো হয়েছে।

   কবি মধুসূদন দত্ত মনে করেছিলেন যে তিনি বিলেতে না গেলে বড় কবি হতে পারবেন না। তাই তিনি স্বদেশ ত্যাগ করে বিলেতে যান। নিজের ভাষা এবং দেশ ত্যাগ করা যে তাঁর মারাত্মক ভুল হয়েছে, এটা ভেবে তিনি অনুতপ্ত হন। তাই জন্মভূমির কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, দেশমাতৃকা যেন তার স্নেহধারা থেকে তাঁকে বঞ্চিত না করে। তাঁর ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে তাঁকে যেন বুকে ধারণ করে।

২।           স্বদেশের প্রতি কবির শ্রদ্ধা ও একাগ্রতা প্রকাশের কারণ কী?

   উত্তর : স্বদেশের প্রতি কবির শ্রদ্ধা ও একাগ্রতা প্রকাশের কারণ স্বদেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা।

   দেশের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য থেকেই কবি স্বদেশের প্রতি শ্রদ্ধা ও একাগ্রতা প্রকাশ করেছেন। কবি দেশকে নিজের মায়ের আসনে বসিয়েছেন। আর তাই সন্তান যেমন মায়ের কাছে মিনতি জানায়, ভালোবাসার নিবেদন করে, ঠিক সেভাবেই কবিও দেশকে ভালোবেসে নিজের ভালোবাসা নিবেদন করেছেন। জন্মভূমির প্রতিটি কণায় লেগে আছে তাঁর স্মৃতিময় ভালোবাসা। নিজের মাতৃভূমির প্রতি তাঁর এই অনুভূতি থেকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে।

 

৩।           ‘কহ গো শ্যামা জন্ম দে’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

   উত্তর : কবি কোন গুণের জন্য অমরতা প্রত্যাশা করবেন সেই বিষয়টি জানতে শ্যামল জন্মভূমির কাছে প্রশ্ন করেছেন।

   কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বিদেশে থাকলে দেশের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ আলোচ্য কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে। কবি দেশকে ভালোবাসেন বলেই স্বদেশের স্মৃতিতে অমর হয়ে থাকতে চান। কিন্তু তিনি মনে করেন, তাঁর এমন কোনো গুণ নেই, যার কারণে তিনি অমরতা লাভ করতে পারেন। তবে তিনি নতুন করে সৃষ্টিশীল লেখা লিখে পাঠকের মনে অমর হয়ে থাকতে চান। কবি তাই শ্যামল জন্মভূমির কাছে উক্ত কথা তুলে ধরার চেষ্টা করেন।

 

৪।           ‘মধুহীন করো না’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

   উত্তর : ‘মধুহীন করো না’ বলতে মাতৃভূমি কবিকে যেন স্নেহধারা থেকে বঞ্চিত না করে, তা বোঝানো হয়েছে।

   কবি মধুসূদন দত্ত মনে করেছিলেন যে তিনি বিলেতে না গেলে বড় কবি হতে পারবেন না। বিদেশ যাওয়া যে তাঁর মারাত্মক ভুল হয়েছে, এটা ভেবে তিনি অনুতপ্ত হন এবং জন্মভূমির কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন দেশমাতৃকা যেন তাঁকে স্নেহধারা থেকে বঞ্চিত না করে। তার ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে তাকে যেন বক্ষে ধারণ করেন সেই প্রত্যাশা করেছেন।

 

৫।           ‘মনের মন্দিরে সদা সেবে সর্বজন’ পঙিক্তটির অর্থ ব্যাখ্যা করো।

   উত্তর : কেউ যদি তার কর্মগুণ দিয়ে লোকের হৃদয়ে প্রবেশ করতে পারে তবে সর্বজনের মনের মন্দিরে সে সদা পূজা পেতে থাকে।

   মানুষ তার কর্মগুণে মৃত্যুর পরও মানুষের মাঝে বেঁচে থাকে। কেননা কর্মগুণই তাকে বাঁচিয়ে রাখে। একজন মানুষ তখনই সর্বজনের মনের মন্দিরে সদা সেবিত হয়, যখন সে তার সৃষ্টি দিয়ে, কর্ম দিয়ে সর্বজনের মনের মন্দিরে আসন করে নেয়। অতএব, কেউ তাঁর সৃষ্টিকর্ম দিয়ে লোকের হৃদয়মন্দিরের দেবতা হলে সর্বজনের মনের মন্দিরে সার্বক্ষণিকই সে সেবিত হবে।

 

৬। কবি বর প্রার্থনা করেন অমরত্ব লাভ অর্থাৎ দেশমাতৃকার স্মৃতিতে পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকার জন্য।

   উত্তর : ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতার কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত নিজেকে দেশমাতৃকার অধম সন্তান ভাবলেও তার স্নেহ সুধা থেকে কখনোই বঞ্চিত হতে চান না। তাই তিনি প্রার্থনা করেছেন, দেশমাতা যেন তার দোষগুলো ক্ষমা করে তাঁকে অমরত্ব দেয় অর্থাৎ তাঁর স্মৃতিতে পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকার মতো বর দান করে।

 

 

 

বানানচর্চা

বানানচর্চা

বিসর্গ (ঃ)-এর ব্যবহার

ক. কোথায় বসে

বিসর্গ (ঃ) বাংলা বর্ণমালার স্বতন্ত্র ব্যঞ্জনবর্ণ নয়; এটি একটি ধ্বনি-চিহ্ন। এর উৎস হলো সংস্কৃত ভাষা। সংস্কৃতে বিসর্গের উচ্চারণ ছিল হালকা ‘হ্’-ধ্বনির মতো। বাংলা ভাষায় সেই উচ্চারণ প্রায় লোপ পেলেও অনেক তৎসম শব্দে বিসর্গের বানান আজও বজায় আছে।

উদাহরণ : দুঃখ, দুঃসহ, স্বতঃস্ফূর্ত, নিঃশ্বাস, নিঃসঙ্গ, প্রাতঃকাল, অন্তঃপুর, বহিঃপ্রকাশ, বহিঃবিশ্ব, দুঃস্বপ্ন, নিঃস্ব, অন্তঃসার।

 

বিসর্গ-সন্ধির প্রভাব : সংস্কৃত ভাষায় কোনো শব্দের শেষে বিসর্গ থাকলে, তার পরবর্তী ধ্বনির ওপর নির্ভর করে বিসর্গের উচ্চারণ ও রূপ পরিবর্তিত হতো।

আধুনিক বাংলা ভাষায় বিসর্গের সেই উচ্চারণগত নিয়ম প্রায় অনেকটাই লোপ পেয়েছে। অর্থাৎ, আমরা দৈনন্দিন কথ্য ভাষায় বিসর্গকে আলাদা ধ্বনি হিসেবে উচ্চারণ করি না। তবে তৎসম শব্দের বানানে সংস্কৃতের সেই ঐতিহ্য ও সন্ধিজনিত রূপটি এখনো সংরক্ষিত রয়েছে।

উদাহরণ : নিঃ + শব্দ = নিঃশব্দ, নিঃ + স্ব = নিঃস্ব, দুঃ + সংবাদ = দুঃসংবাদ , দুঃ + সাধ্য = দুঃসাধ্য, অন্তঃ + পুর = অন্তঃপুর, বহিঃ + বিশ্ব = বহিঃবিশ্ব

 

খ. কোথায় বসে না

বাংলা ভাষার দেশজ, তদ্ভব এবং বেশির ভাগ বিদেশি উেসর শব্দে বিসর্গ ব্যবহৃত হয় না। কারণ, এসব শব্দ সংস্কৃতের মূল রূপ থেকে সরাসরি গৃহীত নয়; বরং ধ্বনিগত পরিবর্তন, ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন কিংবা অন্য ভাষা থেকে আগমন হওয়ার ফলে গঠিত হয়েছে। তাই এসব শব্দে বিসর্গের কোনো স্থান নেই।
উদাহরণ : মানুষ, সকাল, রাস্তা, হাসপাতাল, স্কুল, বাজার (এগুলোর কোনোটিতেই বিসর্গ নেই।)

 

‘উ’ ও ‘ঊ’-এর ব্যবহার

বাংলা ভাষায় ‘উ’ ও ‘ঊ’-দুই বর্ণের উচ্চারণ প্রায় একই হওয়ায় বানান লেখার সময় বিভ্রান্তি দেখা যায়। অনেকে মনে করেন, শব্দের শুরুতে উচ্চারণে একটু জোর থাকলে ‘ঊ’ হবে, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।

বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী, যেসব তৎসম (সংস্কৃত) শব্দে ‘উ’ ও ‘ঊ’ উভয় বানানই সংস্কৃতে গ্রহণযোগ্য ছিল, সেসব ক্ষেত্রে ‘উ’ ব্যবহৃত হবে।
উদাহরণ : উষা (শুদ্ধ), ঊষা (অশুদ্ধ), উর্ণা (শুদ্ধ), ঊর্ণা (অশুদ্ধ), উরু (শুদ্ধ), ঊরু (অশুদ্ধ), উর্মি (শুদ্ধ), ঊর্মি (অশুদ্ধ), উর্মিলা (শুদ্ধ), ঊর্মিলা (অশুদ্ধ)।

এ ছাড়া পরিমাণ বা গণনাবাচক সংখ্যার সব বানানে ‘উ’ ব্যবহার করা হয়।
যেমন : উনিশ, উনত্রিশ, উনপঞ্চাশ ইত্যাদি।

তবে ক্রমবাচক বা পূরণবাচক সংখ্যায় ‘ঊ’ ব্যবহৃত হয়।
যেমন : ঊনবিংশ, ঊনত্রিংশ ইত্যাদি।

 

‘স’, ‘শ’ ও ‘ষ’-এর ব্যবহার

বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী, ‘স’, ‘শ’ ও ‘ষ’-এর ব্যবহার মূলত শব্দের উৎস (ব্যুৎপত্তি), বিশেষ করে তৎসম শব্দের মূল সংস্কৃত বানানের ওপর নির্ভরশীল। 

সংস্কৃত ভাষায় ‘স’, ‘শ’ ও ‘ষ’—এই তিন ধ্বনির উচ্চারণই আলাদা ছিল। ‘স’ = দন্ত্য ‘স’, ‘শ’ = তালব্য ‘শ’ ও ‘ষ’ = মূর্ধন্য ‘ষ’। বাংলা ভাষায় এসে এই তিনটি ধ্বনির উচ্চারণের পার্থক্য প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। কিন্তু বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যাতে শব্দের ব্যুৎপত্তিগত পরিচয় অক্ষুণ্ন থাকে।

‘স’ সাধারণত দেশজ, তদ্ভব ও অনেক বিদেশি শব্দে বেশি ব্যবহৃত হয়। যেসব শব্দ তৎসম নয় বা সংস্কৃত মূলের বানান অনুসরণ করে না, সেসব ক্ষেত্রে সাধারণত ‘স’ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। উদাহরণ : সকাল, সাত, সোনা, সহজ, সমান, স্কুল, স্টেশন, বাস, অফিস, সংসার, সংবাদ, সমুদ্র, সরল, সন্তান ইত্যাদি।

‘শ’ প্রধানত তৎসম, তদ্ভব এবং কিছু দেশি ও বিদেশি উেসর শব্দে ব্যবহৃত হয়। তবে তৎসম শব্দে ‘শ’ ব্যবহারের পেছনে সংস্কৃতের মূল বানান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সংস্কৃত শব্দে যেখানে (শ) ছিল, বাংলা তৎসম শব্দেও সাধারণত সেখানে ‘শ’-ই বজায় থাকে।
যেমন : শিক্ষা, শিল্প, শান্তি, শোক, শিষ্য, শীত, শরীর, শিশু, শিক্ষক ইত্যাদি। শুধু তা-ই নয়, আরবি, ফারসি ও ইংরেজি থেকে আগত অনেক শব্দেও উচ্চারণের সুবিধা ও প্রচলিত রীতির কারণে ‘শ’ ব্যবহৃত হয়েছে।

যেমন : শহর (ফারসি), শার্ট (ইংরেজি), শ্যাম্পু (ইংরেজি), শেরওয়ানি (ফারসি)।

তৎসম (সংস্কৃত) যেসব শব্দে ‘ষ’ ছিল বাংলা প্রমিত বানানেও সেখানে ‘ষ’ ব্যবহৃত হয়।

উদাহরণ : কষ্ট, দোষ, ভাষা, বর্ষা, কৃষক, পুষ্টি, নিষ্ঠা, ওষুধ, বিষ, বিশেষ, উষ্ণ, শিষ্য।

মনে রাখা আবশ্যক, বাংলায় ‘ষ’ দিয়ে শুরু হওয়া শব্দের সংখ্যা খুবই কম। বেশির ভাগই তৎসম।
যেমন : ষাট, ষোলো, ষণ্ড, ষড়ঋতু, ষষ্ঠী, ষড়ঙ্গ, ষড়যন্ত্র, ষড়ানন ইত্যাদি।

অন্যদিকে অনেক তৎসম শব্দে ‘ষ’ অন্য ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ, যুক্তব্যঞ্জনে ‘ষ’ বহুল ব্যবহৃত হয়ে থাকে। উদাহরণ : কষ্ট (ষ্ট), নিষ্ঠা (ষ্ঠ), পুষ্টি (ষ্ট), কৃষ্ণ (ষ্ণ), উষ্ণ (ষ্ণ), ভাষ্য (ষ্য), নিষ্কাশন (ষ্ক), নিষ্প্রাণ (ষ্প), উষ্ম (ষ্ম)।

 

♦ সামিন ইয়াসার