পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭ খ্রি.-১৯৭০ খ্রি.)
প্রথম অধ্যায়
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১। মৌলিক গণতন্ত্র বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : মৌলিক গণতন্ত্র হলো পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খান প্রবর্তিত একটি বিতর্কিত নির্বাচনব্যবস্থা। আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের শাসনক্ষমতা দখল করেন। তিনি গণতন্ত্রকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার নামে মৌলিক গণতন্ত্র নামে একটি নতুন নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করেন। বাস্তবে এর লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র ও প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি সামরিক শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করা।
২। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলার শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতিতে কিভাবে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে?
উত্তর : ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলার শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে লেখনীর মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে কবি মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ শীর্ষক প্রথম কবিতা রচনা করেন। আলাউদ্দিন আল আজাদ ‘স্মৃতির মিনার’ কবিতাটি রচনা করেন। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচনা করেন ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।’ সংগীতশিল্পী আবদুল লতিফ রচনা ও সুর করেন ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’ এবং ‘তোরা ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি’র মতো সংগীত। মুনীর চৌধুরী রচনা করেন ‘কবর’ নাটক। জহির রায়হান রচনা করেন ‘আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাস।
৪। পাকিস্তানের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তানের ভূমিকা নগণ্য ছিল কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে পাকিস্তানের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তানের ভূমিকা নগণ্য ছিল। সামরিক শাসনের ফলে সব ক্ষমতা পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল। ফলে পূর্ব পাকিস্তানের সব ক্ষেত্রে বৈষম্য চরম আকার ধারণ করতে থাকে। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এ বৈষম্য ছিল ব্যাপক। ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান প্রশাসনের প্রেসিডেন্ট সচিবালয়ে ৮১ শতাংশ পশ্চিম পাকিস্তানির বিপরীতে ১৯ শতাংশ বাঙালির পদায়ন উক্ত বৈষম্যের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

