kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

কামান

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

১১ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কামান

১৮৮৫ সালে চকবাজার শাহি মসজিদের সামনে অবস্থিত বিবি মরিয়ম কামান

[পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে কামানের উল্লেখ আছে]

কামান এক রকম আগ্নেয়াস্ত্র। লোহা বা অন্য ধাতুর দ্বারা নির্মিত কামানের নলের মধ্যে গোলা ও বারুদ ভরে তাতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শত্রুপক্ষকে আক্রমণ করা হয়। বিস্ফোরণের ফলে কামানের গোলাটি সজোরে নলের খোলা মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে এবং শত্রুপক্ষের ওপরে পড়ে এবং শত্রুপক্ষের সেনাদের নিহত ও আহত করে।

১২ শ শতক থেকে চীনে ব্যাপকভাবে কামান ব্যবহার শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

ধারণা করা হয়, ১২৬০ সালে মধ্যপ্রাচ্যে মামলুক ও মোঙ্গলদের মধ্যে সংঘটিত আইন জালুতের যুদ্ধে সর্বপ্রথম হস্তচালিত কামান ব্যবহার করা হয়।

১৩ শ শতাব্দীতে আইবেরিয়া উপদ্বীপের যুদ্ধে, পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যেও একই সময়ে কামানের ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। ১৩৪৬ সালে ক্রেসির যুদ্ধে ব্রিটেনে কামান ব্যবহৃত হয়। সে সময়ের কামান অনেক ভারী। মধ্যযুগের পর ভারী কামানের পরিবর্তে হালকা ও সহজে বহনযোগ্য কামান তৈরি হয়। গ্রেট ব্রিটেনের রাজকীয় নৌবাহিনীর জাহাজে কামান সংযোজন করা হয়। এর নলের ভেতরে রিফলিংয়ের পরিবর্তন আনা হয়, যাতে নির্ভুলভাবে নিশানায় আঘাত হানতে পারে। ক্রমেই কামানের নিশানা অব্যর্থ হতে শুরু করে।

প্রচলিত আছে, ভারতবর্ষের মাটিতে প্রথম কামান ব্যবহার করেছিলেন মোগল সম্রাট বাবর। তাঁর ডজনখানেক কামান ছিল। তবে পরের ২০ বছরের মধ্যেই হুমায়ুন, শেরশাহ হালকা ও বহনযোগ্য কামান নির্মাণ করতে শুরু করেন। তাই হাজার হাজার কামান নিয়েও যুদ্ধযাত্রায় সমস্যা ছিল না। মোগল আমলেই আগ্রা, সুরাট, গুজরাটের পাশাপাশি ঢাকা আর সিলেটেও রমরমা হয়ে ওঠে কামান নির্মাণশিল্প। সিলেটের পাঁচগাঁওয়ের জনার্দন কর্মকারের তৈরি ‘জাহানকোষা কামান’ এখন মুর্শিদাবাদে দর্শনীয় বস্তু। ধারণা করা হয়, তিনিই ঢাকার দুটি কামান ‘কালে খাঁ’ ও ‘বিবি মরিয়ম’-এর নির্মাতা।

কম্পানির এক কর্মকর্তা রবার্ট লিন্ডসে (১৭৯১-১৮৫৫) তাঁর স্মৃতিচারণায় ‘কালে খাঁ’ কামান সম্পর্কে বলেছেন, ‘৩৬ ফুট লম্বা পেটানো লোহায় তৈরি এই কামান যে কারোর দৃষ্টি কাড়ে। কামানটির ওজন হবে ৬৪ হাজার ৮১৪ পাউন্ড। ’ ‘কালে খাঁ’ বুড়িগঙ্গায় তলিয়ে গেলেও ‘বিবি মরিয়ম’ কামানটি সোয়ারীঘাট, চকবাজার, সদরঘাট, গুলিস্তান হয়ে এখন ঠাঁই করে নিয়েছে ওসমানী উদ্যানে। ১৬৬১ সালে আসাম অভিযানের সময় মীর জুমলার ৬৭৫টি ভারী কামানের মধ্যে সবচেয়ে ভারী ছিল এই ‘বিবি মরিয়ম’। পেটানো লোহায় তৈরি ‘বিবি মরিয়ম’-এর দৈর্ঘ্য ১১ ফুট।

[আরো বিস্তারিত জানতে পত্রপত্রিকায় কামান সম্পর্কিত লেখাগুলো পড়তে পারো]



সাতদিনের সেরা