• ই-পেপার

সাক্ষাৎকার

বিইউএফটি এআইকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করছে

  • ফারুক হাসান, চেয়ারম্যান, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি সাবেক প্রেসিডেন্ট, বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশন

সাক্ষাৎকার

এআইয়ের সঙ্গে ইউআইইউ তাল মিলিয়ে চলছে

প্রফেসর ড. দেওয়ান মো. ফরিদ, ডিরেক্টর, এমএসসিএসই প্রোগ্রাম সিএসই বিভাগ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

এআইয়ের সঙ্গে ইউআইইউ তাল মিলিয়ে চলছে

বিশ্বজুড়ে এআই বিপ্লব উচ্চশিক্ষায় কী ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসছে বলে আপনি মনে করেন?

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। রিসার্চের একটি মেজর এরিয়া হচ্ছে অ্যাডভান্স এআই মেশিন লার্নিং বা ডিপ লার্নিং। এই জিনিসগুলো বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষা বিপ্লবে বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। বিষয়টা একটা উক্তি দিয়ে বলা যেতে পারে। মার্ক কিউবান বলেছেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডিপ লার্নিং, মেশিন লার্নিংহোয়াটএভার ইউ আর ডুইং ইফ ইউ ডোন্ট আন্ডারস্ট্যান্ড ইট, লার্ন ইট; বিকজ আদারওয়াইজ, ইউ আর গোইং টু বি আ ডাইনোসোর উইদিন থ্রি ইয়ার্স। অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিপ লার্নিং কিংবা মেশিন লার্নিংআপনি যে ক্ষেত্রেই কাজ করুন, যদি এসব প্রযুক্তি সম্পর্কে না জানেন, তবে এখনই শেখা শুরু করুন। নইলে আগামী তিন বছরের মধ্যেই আপনি ডাইনোসরে পরিণত হবেন। এখনকার বিশ্বে এআই যদি না জানেন, মেশিন লার্নিং ডেটা যদি না জানেন, তাহলে আপনি খাপ খাওয়াতে পারবেন না। বিশ্বজুড়ে একটা ভীষণ পরিবর্তন আসছে।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এআই যুগের জন্য কতটুকু প্রস্তুত?

আমরা পিছিয়ে নেই। এআইয়ের সঙ্গে আমরা (ইউআইইউ) তাল মিলিয়ে চলছি। দেশের অনেক বেসরকারি ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণামূলক প্রবন্ধ যেমন জার্নাল বুক চ্যাপ্টার কনফারেন্সএগুলো করছে। আমাদের ইউআইইউয়ের শিক্ষার্থীরা এখন উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছে। এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা মেশিন লার্নিং বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করার জন্য আমাদের ইন্ডাস্ট্রিগুলো ডেভেলপড করেছে। একসময় আমরা সবাই কম্পিউটার ব্যবহার করতাম টাইপিংয়ের জন্য। আপনি যদি সময়ের সঙ্গে টেকনোলজিকে অ্যাডাপ্ট না করতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনি পিছিয়ে যাবেন। যারা এআই শিখবে বা ধারণ করতে পারবে, তারাই টিকে থাকবে। আর যারা পারবে না, তাদের জন্য এআই চ্যালেঞ্জ। যারা প্রযুক্তিকে ভালোবাসে বা ধারণ করে নিতে পারবে তাদের জন্য এটা একটা বিশাল সুযোগ। এই মুহূর্তে আপনি যদি উন্নত বিশ্বে দেখেন, সেখানে এআই ইঞ্জিনিয়ার বা ডেটা সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারের অনেক চাহিদা। এটা আমাদের জন্য একটা সুযোগ। আমি একজন প্রফেসর অব মেশিন লার্নিং হিসেবে অবশ্যই চিন্তা করি, এআই হচ্ছে আমাদের একটা
বিশাল সুযোগ।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এটা ব্যবহারের প্রবণতা কেমন?

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখন এআই ব্যবহারের প্রবণতা ব্যাপক। এখন লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের (এলএলএম) মতো বড় মডেল আছে। আপনি কোনো অ্যাসাইনমেন্ট বা কোনো একটা প্রশ্ন ছবি তুলে আপলোড করে দিলে এই লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ সঙ্গে সঙ্গে এর উত্তর বা সমাধান দিয়ে দিচ্ছে। আমার পরামর্শ হচ্ছে, এআই ব্যবহার করা ভালো; কিন্তু এর ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল হলে আপনার নিজের বুদ্ধিবৃত্তিক বা বিশ্লেষণমূলক সামর্থ্য কমে যাবে। ধরুন আপনার নিজের সমাধান করার সক্ষমতা আছে, কিন্তু সেটা না করে যদি আপনি এআইয়ের ওপর নির্ভরশীল হন, তাহলে আপনার বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধি পাবে না। তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। আমি বলব, ইতিবাচকভাবে এআই ব্যবহার করতে হবে।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এআই প্রশিক্ষণের জন্য কি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন?

অবশ্যই, এখন আমাদের কোর্স আছে। আমরা আমাদের কারিকুলামের মধ্যে এআইবিষয়ক অনেক কোর্স যুক্ত করেছি। এখন এআই মেজর করা যাচ্ছে, মেশিন লার্নিং মেজর করা যাচ্ছে, ডেটা সায়েন্স মেজর করা যাচ্ছে। তাই এগুলোর সঙ্গে নিয়মিত কিছু ওয়ার্কশপ বা সেমিনার যদি করা যায়, তাহলে শিক্ষার্থীদের বেশ
কাজে দেবে।

ভবিষ্যতে কর্মবাজার মাথায় রেখে কারিকুলামে কী ধরনের পরিবর্তন আনা দরকার?

আমি কিন্তু এখানে বসে অনলাইনে এমআইটিতে কী হচ্ছে, জানতে পারছি। সেখানে কোন কোর্সগুলো পড়ানো হচ্ছে, সেগুলোও জানতে পারছি। আমি চাইলেই জানতে পারছি, এমআইটিতে ডিপ লার্নিং, বিগ ডেটা, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মেশিন লার্নিংয়ের কোর্স কারিকুলাম কেমন। সুতরাং আমরা চাইলে সহজেই তাদের কারিকুলামগুলো অনুসরণ করতে পারি এবং কর্মবাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে কারিকুলামে কোর্সগুলো অন্তর্ভুক্ত করতে পারি।

ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে কোন ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন?

গুগলসহ শতাধিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান হিউম্যান রোবট বা মানুষের মতো রোবট বানাচ্ছে। এই রোবটগুলোকে তারা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করবে। এমনকি যুদ্ধের ময়দানে মানুষের পরিবর্তে মোতায়েন করবে। অর্থাৎ মানুষের পরিবর্তে যুদ্ধ করবে রোবট। হয়তো কিছুদিন পরে দেখা যাবে, বাসায় কাজের বুয়ার দরকার নেই। বাসা বা ফ্লোর পরিষ্কারের জন্য এরই মধ্যে কিছু রোবট আছে বাজারে। বাংলাদেশের কিছু প্রতিষ্ঠানও এরই মধ্যে এমন কিছু রোবট ব্যবহার করছে, যাদের প্রক্রিয়া বা কার্যক্রম রোবট দিয়ে করা হয়। ক্রিটিক্যাল সিচুয়েশনে অনেক ক্ষেত্রে মানুষ থেকেও রোবট ভালোভাবে কাজ করতে সক্ষম। তাই বলা যায়, ভবিষ্যতে অনেক কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তন বা রূপান্তর ঘটবে। তাই ভবিষ্যতে আপনি যদি অ্যাডভান্সড এআই বা রোবটিকস মেশিনকে আয়ত্ত করতে না পারেন, তাহলে আপনি ডাইনোসরের মতো অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবেন।

এআইয়ের যুগে মানুষের সফট স্কিল বা সৃজনশীলতা কি গুরুত্ব পাবে?

এআই মানুষের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। আপনি দুটি কমপ্লেক্স নাম্বার দিয়ে যদি বলেন যে এটার উত্তর কত হবে; তখন মুহূর্তের মধ্যেই আপনাকে বলে দেবে সঠিক উত্তর। কিন্তু একই জিনিজ মানুষকে দিলে পাঁচ থেকে ১০ মিনিট হয়তো সময় নেবে। এর পরও মানুষ তো মানুষই। এই প্রযুক্তি মানুষই তৈরি করেছে, মানুষকে প্রযুক্তি তৈরি করেনি। এই টেকনোলজি যতই দক্ষ হোক না কেন আসলে এখানে আমাদের বা মানুষের দরকার হবেই কোনো না কোনো ক্ষেত্রে।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাবিব তারেক

 

 

 

 

সাক্ষাৎকার

এআইসহ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর দিচ্ছে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি

প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল কবির, প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি

এআইসহ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর দিচ্ছে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি

বিশ্বজুড়ে এআই বিপ্লব উচ্চশিক্ষায় কী ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে বলে আপনি মনে করেন?

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই উচ্চশিক্ষার গতানুগতিক ধারাকে আমূল বদলে দিচ্ছে। এটি একদিকে যেমন গবেষণার গতি ও পরিধি বাড়িয়েছে, তেমনি ব্যক্তিগত শিখন (পারসোনালাইজড লার্নিং) পদ্ধতি ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিক্ষাদানে এক আধুনিক মাত্রা যোগ করেছে। 

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এআই যুগের জন্য কতটা প্রস্তুত? আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের এআইসংক্রান্ত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে আমরা এরই মধ্যে কারিকুলাম আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাদানে জোর দিচ্ছি। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে এআই চর্চা ও উদ্ভাবনে উৎসাহিত করতে আমাদের একটি সক্রিয় এআই ক্লাব রয়েছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের এআইভিত্তিক গবেষণায় আরো বেশি সম্পৃক্ত করা আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি এরই মধ্যে সেন্টার ফর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রোবটিকস রিসার্চ নামের একটি অত্যাধুনিক গবেষণাগার তৈরি করেছে, যা বাংলাদেশের এআইভিত্তিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক।

এআইকে আপনি সুযোগ হিসেবে দেখেন, নাকি এটি নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে? এআইয়ের কারণে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জনে নিরুৎসাহ হতে পারে, এমনও মনে করছে অনেকে। এ বিষয়ে আপনাদের
মত কী?

এআই মূলত একটি বিশাল সুযোগ, তবে এটি নিঃসন্দেহে কিছু নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে। অতিরিক্ত নির্ভরতা শিক্ষার্থীদের মৌলিক চিন্তাধারা ও জ্ঞান অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই এআইকে অন্ধভাবে অনুসরণ না করে একটি সহায়ক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরে এআই বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে কিভাবে বদলে দিতে পারে?

আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরে এআই বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। প্রশাসনিক কাজ থেকে শুরু করে শিক্ষাদান, মূল্যায়ন ও গবেষণায় এআইয়ের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠবে এবং শিক্ষাব্যবস্থা আরো বেশি ডেটানির্ভর হবে।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এআই টুল ব্যবহারের প্রবণতা কেমন? এ ব্যাপারে আপনার পরামর্শ কী? শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এআই প্রশিক্ষণের জন্য কী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন?

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে এআই টুল ব্যবহারের প্রবণতা অত্যন্ত দ্রুত বাড়ছে। আমার পরামর্শ হলো, এর ব্যবহার হতে হবে সম্পূর্ণ নৈতিক ও গঠনমূলক। এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এরই মধ্যে বিভাগ-নির্বিশেষে সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর জন্য নিয়মিতভাবে এআই লিটারেসি ও প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে, যাতে সবাই এই আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার শিখতে পারে।

চ্যাটজিপিটি বা এআই ব্যবহার করে অ্যাসাইনমেন্ট বা গবেষণাপত্র তৈরির বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখেন? কোন পর্যায় পর্যন্ত এআই ব্যবহার গ্রহণযোগ্য এবং কোথায় এটি অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে?

কোনো বিষয়ের প্রাথমিক ধারণা নেওয়া বা তথ্য গোছানোর জন্য চ্যাটজিপিটির মতো টুলের সহায়তা নেওয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে; কিন্তু এআই দিয়ে হুবহু কাজ করিয়ে নিজের নামে জমা দেওয়া বা নিজস্ব চিন্তার কোনো প্রয়োগ না করাটা সম্পূর্ণ একাডেমিক অসদাচরণ হিসেবেই বিবেচিত হবে।

অতিরিক্ত এআইনির্ভরতা ঠেকাতে কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন? এআই কি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বাড়াবে, নাকি কমিয়ে দেবে?

নির্ভরতা ঠেকাতে প্রজেক্ট ও ব্যাবহারিক কাজের ওপর জোর দিতে হবে। এআইকে সঠিক উপায়ে ব্যবহার করলে এটি রুটিন কাজে মানুষের সময় বাঁচিয়ে সৃজনশীল কাজে মনোযোগ দিতে সাহায্য করবে। তবে এর নেতিবাচক ব্যবহার শিক্ষার্থীদের নিজস্ব সৃজনশীলতা কমিয়ে দিতে পারে।

পরীক্ষাপদ্ধতি ও মূল্যায়ন ব্যবস্থায় কি পরিবর্তন আনার সময় এসেছে? এআইনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থায় প্রচলিত পরীক্ষাপদ্ধতি কি অচল হয়ে যাবে? এআই কি ভবিষ্যতে শিক্ষকদের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে?

প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা এখন অত্যাবশ্যক। মুখস্থবিদ্যার বদলে ক্রিটিক্যাল থিংকিংভিত্তিক মূল্যায়নের দিকে ঝুঁকতে হবে। তবে এআই কখনোই শিক্ষকদের বিকল্প হতে পারবে না; বরং এটি শিক্ষকদের একটি শক্তিশালী সহায়ক মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে এআই সম্পর্কিত কোর্স চালু করার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য কি এআই কোর্স থাকা উচিত?

এর প্রয়োজনীয়তা এখন প্রচুর। শুধু ইঞ্জিনিয়ারিং বা আইটি নয়, কলা, বাণিজ্য বা সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্যও এআইয়ের বেসিক কোর্স থাকা উচিত, কারণ প্রযুক্তির এই প্রভাব এখন সব খাতের জন্যই প্রাসঙ্গিক।

ভবিষ্যতের কর্মবাজার মাথায় রেখে কারিকুলামে কী ধরনের পরিবর্তন আনা দরকার? আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে?

কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে কারিকুলামে ইন্ডাস্ট্রির চাহিদার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে টিকে থাকতে হলে হাতে-কলমে শিক্ষা এবং স্কিলভিত্তিক আধুনিক কারিকুলামের কোনো বিকল্প নেই।

এআই কি কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি, নাকি নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করবে? ভবিষ্যতে কোন ধরনের চাকরিতে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন আসবে বলে আপনি মনে করেন?

এআই গতানুগতিক কিছু চাকরি বিলুপ্ত করলেও নতুন প্রযুক্তিনির্ভর অসংখ্য কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করবে। ডেটা এন্ট্রি বা রুটিন কাজের চাকরিতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসবে, তবে এআই পরিচালনা ও বিশ্লেষণে দক্ষ মানবসম্পদের চাহিদা বহুগুণ বাড়বে। আগামী দিনে এআইকে কে কত দক্ষতার সঙ্গে নিজের পেশাগত কাজে ব্যবহার করতে পারছে, সেটিই কর্মক্ষেত্রে চাকরিপ্রার্থীদের অন্যতম বড় একটি যোগ্যতা বা স্কিল হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

সাক্ষাৎকার

উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে গবেষণার সংস্কৃতি আরো শক্তিশালী করেছি

প্রফেসর ড. ইয়াসমীন আরা লেখা, উপাচার্য, উত্তরা ইউনিভার্সিটি

উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে গবেষণার সংস্কৃতি আরো শক্তিশালী করেছি
উত্তরা ইউনিভার্সিটি

পৃথিবী এখন এমন একটা জায়গায় পৌঁছেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রায় সবকিছুকেই নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। উচ্চশিক্ষাও তার ব্যতিক্রম নয়। আপনি কি মনে করেন প্রযুক্তি শিক্ষার পাশাপাশি দায়িত্বশীল এবং মানবিক মানুষ গড়ে তোলাও একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সমান রকম গুরুত্বপূর্ণ?

  উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে গবেষণার সংস্কৃতি আরো শক্তিশালী করেছিপ্রযুক্তি তো আসলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলায়, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ এবং মানবিকতা এগুলো একজন মানুষকে তার স্থায়ী পরিচয় তৈরি করে দেয়। তাই আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে একজন শিক্ষার্থী শুধু প্রযুক্তিতে দক্ষ পেশাজীবী হবে এমনটা নয়; বরং সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতা থাকবে, সে নৈতিকতার সঙ্গে জীবন যাপন করবে, একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে। এআই আমাদের কাজকে সহজ করবে, হয়তো ক্ষেত্র বিশেষে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে; কিন্তু আমাদের সৃজনশীলতা কিংবা এক মানুষের প্রতি অন্য মানুষের সহমর্মিতা, সহানুভূতি এসব মানবিক বিষয় একান্তই মানুষের কাছে থেকে যাবে। তাই আমি মনে করি প্রযুক্তি এবং মানবিকতার এই সমন্বয়ই আগামী দিনের উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় সুযোগ।

আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে কর্মক্ষেত্রের চাহিদা দ্রুত বদলে যাবে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উত্তরা ইউনিভার্সিটি কী ধরনের গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে চাইবে?

শুরুতেই বলে রাখি, আমাদের লক্ষ্য কিন্তু শুধু চাকরির জন্য গ্র্যাজুয়েট তৈরি করা নয়। আমরা কর্মমুখী শিক্ষার ওপর প্রাধান্য দিই; কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের লক্ষ্য থাকে এমন মানুষ গড়ে তোলার, যারা চিন্তা-ভাবনায় সৃজনশীল হবে, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করবে, গবেষণা করবে কিংবা নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। সে কারণেই আমরা পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি হাতে-কলমে শেখার ওপর গুরুত্ব দিই, আমরা গবেষণা, ল্যাবভিত্তিক শিক্ষাকে বাড়তি প্রাধান্য দিই, যাতে শিল্প খাতে যখন যে দক্ষতার চাহিদা দেখা দেয় সেটা মেটানোর যোগ্যতা আমাদের শিক্ষার্থীদের থাকে। আজকে সিএসইর একজন শিক্ষার্থী শুধু একটা প্রোগ্রামিং ভাষা জানবেএমনটা হলে তো চলবে না; তাকে শেখার দক্ষতাটাকেই এমনভাবে রপ্ত করতে হবে, যেন জীবনের যেকোনো সময় সে যেকোনো নতুন জিনিস শিখে ফেলতে পারে। আজীবন শিখে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি করে ফেলতে পারলে আমাদের শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের জায়গা তৈরি করে নিতে পারবে।

আমরা দেখতে পাচ্ছি উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিকীকরণ করাটা সারা পৃথিবীতেই আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। বৈশ্বিক একাডেমিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আপনাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য কী?

যোগাযোগের এই যুগে উচ্চশিক্ষা যে আর কোনো দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই এটা আমরা খুব ভালো করে বুঝি। জ্ঞান, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের ভাষা এখন বৈশ্বিক, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ যেকোনো বিষয় সম্পর্কে জানতে পারে, জানাতে পারে। এটা বুঝি বলেই আমরা এমন একটা একাডেমিক পরিবেশ তৈরি করতে চাইছি, যেখানে গবেষণা হবে আন্তর্জাতিক মানের, শিল্প খাতের সঙ্গে থাকবে অর্থবহ সংযোগ এবং আমাদের শিক্ষার্থীরা নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে দেওয়ার সুযোগ পাবে। আমরা উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে গবেষণার সংস্কৃতিকে আরো শক্তিশালী করেছি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে ২৫টা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি এবং আমরা চাইছি এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে, যেখানে আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের যেকোনো জায়গায় নিজেদের প্রমাণ করার আত্মবিশ্বাস পাবে।

অনেক শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক এখন বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করেন ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বিবেচনা করে। তাঁদের উদ্দেশে আপনি কী বার্তা দিতে চান?

আমি সব সময় বলি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু একটা ডিগ্রি দেয় না; বরং তার কাজ একজন শিক্ষার্থীকে চিন্তা করতে শেখানো, ভাবতে শেখানো, তার শেখার দক্ষতা তৈরি করে দেওয়া। তাই অভিভাবকদের আমি বলব, সন্তানদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিতে গিয়ে শুধু নাম কিংবা অবকাঠামো না; বরং সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলে শিক্ষার মান কেমন, গবেষণার সুযোগ আছে কি না, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং তাঁরা আসলেই কর্মমুখী শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয় কি না, সেটা দেখে নেওয়া উচিত। উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে আমরা শিক্ষার্থীদের এমনভাবে প্রস্তুত করতে চাই, যাতে তারা কখনো কোনো দিন পরিবর্তনকে ধেয়ে আসতে দেখে ভয় না পায়; বরং তারাই যেন পরিবর্তনকে এগিয়ে দিতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা কোনো একটা চাকরিতে টিকে নয়; বরং নতুন কিছু শেখার এবং নিজেকে প্রতিনিয়ত নতুন করে গড়ে তোলার সক্ষমতা।

আপনার নেতৃত্বে উত্তরা ইউনিভার্সিটির আসছে সময়টাকে কেমন দেখতে চান? যদি আগামী ১০ বছর পর কেউ আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে মূল্যায়ন করে, তাহলে কোন তিনটা অর্জনের কথা আপনি নিজেই বলবেন?

আমি চাই, আগামী ১০ বছরে উত্তরা ইউনিভার্সিটি এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হোক, যাকে শুধু বাংলাদেশের নয়, দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষার একটি মানদণ্ড হিসেবে দেখা হবে। যদি তিনটি বিষয় বলি, তাহলে প্রথমত, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, দেশের শিল্প খাতের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারা। আর তৃতীয়ত, আমাদের ক্যাম্পাসে একটা মানবিক, প্রযুক্তিবান্ধব এবং আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলা, যেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থী নিজের সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে ঠিকভাবে বিকশিত করার সুযোগ পাবে।

আমাদের ফাউন্ডার প্রফেসর ড. এম আজিজুর রহমানের যে স্বপ্ন ছিল উত্তরা ইউনিভার্সিটিকে ঘিরে, যে এটা একটা ভবিষ্যত্মুখী, গবেষণানির্ভর এবং আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান হবে, আমি চাই সেই স্বপ্নটাকে আরো বিস্তৃত পরিসরে বাস্তব রূপ দিতে। এটুকু অর্জন করতে পারলে ধরে নেব আমি সফল।

 

 

সাক্ষাৎকার

এআইকে শেখার সহকারী হিসেবে ব্যবহার করুন, মস্তিষ্কের বিকল্প হিসেবে নয়

সাদিয়া হামিদ কাজী, পিএইচডি, চেয়ারপারসন, ডিপার্টমেন্ট অব কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি

এআইকে শেখার সহকারী হিসেবে ব্যবহার করুন, মস্তিষ্কের বিকল্প হিসেবে নয়

বিশ্বজুড়ে এআই বিপ্লব উচ্চশিক্ষায় কী ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে বলে আপনি মনে করেন?

বিশ্বজুড়ে এআই বিপ্লব উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসছে, তবে এর প্রভাব পুরোটাই নির্ভর করছে আমরা এটি কিভাবে ব্যবহার করছি তার ওপর। এআই যেমন শিক্ষার্থীদের নিজস্ব গতিতে শেখার (পারসোনালাইজড লার্নিং) সুযোগ করে দিচ্ছে, তেমনি গবেষকদের বিশাল তথ্য বা ডেটা অ্যানালিসিস করতে সাহায্য করছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের রুটিনমাফিক বা একঘেয়ে কাজের সময় কমিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ক্রিটিক্যাল থিংকিং, সৃজনশীলতা এবং প্রবলেম সলভিং দক্ষতা বাড়ানোর পেছনে বেশি সময় দিতে পারছেন। তবে এআইয়ের কারণে একাডেমিক সততা রক্ষা করা, ভুল তথ্যের বিস্তার ঠেকানো এবং এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানোর মতো নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। আর এই কারণেই আমি মনে করি, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সুনির্দিষ্ট এআই পলিসি বা নীতিমালা থাকা দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীরা কোথায় এআই ব্যবহার করতে পারবে, কোথায় পারবে না এবং কতটুকু সাহায্য নিল, তা কিভাবে সততার সঙ্গে উল্লেখ করবে, সেটি স্পষ্ট করে দেওয়া।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এআই যুগের জন্য কতটা প্রস্তুত? আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের এআইসংক্রান্ত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এআই যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে শুরু করেছে। তবে আমাদের এখনো অনেক পথ যাওয়া বাকি। দক্ষ শিক্ষক তৈরি, প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং অবকাঠামো গড়ে তোলা, কারিকুলাম আধুনিক করা এবং দায়িত্বশীল এআই নীতিমালা তৈরি করাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে আমরা এরই মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছি। এআই গবেষণাকে শক্তিশালী করতে আমরা উন্নত জিপিইউসমৃদ্ধ কম্পিউটিং ল্যাবের সুবিধা বাড়াচ্ছি। আমাদের এমএসসি প্রোগ্রামে এআই স্পেশালাইজেশন চালু করেছি। আন্ডারগ্র্যাজুয়েট লেভেলে এআই ও ডেটা সায়েন্সের বেশ কিছু ইলেকটিভ কোর্স যুক্ত করেছি। এমনকি অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্যও আমরা এআই কোর্স চালু করেছি। এর বাইরেও আমরা নিয়মিত হ্যান্ডস-অন ট্রেনিং প্রোগ্রাম আয়োজন করছি। সেই সঙ্গে এআই রিসার্চ ও ইনোভেশনের জন্য ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে কোলাবোরেশন বা যৌথ উদ্যোগ বাড়াচ্ছি। তবে আমি বিশ্বাস করি, প্রযুক্তির যত পরিবর্তনই আসুক, আমাদের মূল দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের বেসিক বা ভিত্তি মজবুত করে দেওয়া। টেকনোলজি আজ আছে কাল বদলে যাবে, কিন্তু ম্যাথমেটিকস, প্রোগ্রামিং, অ্যালগরিদম, ক্রিটিক্যাল থিংকিং এবং প্রবলেম সলভিংয়ের মৌলিক জ্ঞান সব সময় মূল্যবান থাকবে। আমাদের লক্ষ্য হলো, এই মূল ভিত্তিটাকে শক্ত রাখা। পাশাপাশি নতুন নতুন টেকনোলজিকে ইলেকটিভ কোর্স, রিসার্চ ও ইন্ডাস্ট্রি প্রজেক্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে নিয়ে আসা।

আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কোন কোন ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করা হচ্ছে? প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে এআই কিভাবে সহায়ক হতে পারে?

আমাদের বিভাগে শিক্ষাদান, গবেষণা ও প্রশাসনিকসব ক্ষেত্রেই এআইয়ের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। গবেষণার কথাই যদি বলি, আমাদের ফ্যাকাল্টি মেম্বাররা মেশিন লার্নিং, ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং, কম্পিউটার ভিশন ও সাইবার সিকিউরিটির মতো অ্যাডভান্সড ক্ষেত্রে কাজ করছেন। আমাদের বিভাগে আন্তর্জাতিক মানের গবেষকরা আছেন। যেমনপ্রফেসর মো. গোলাম রবিউল আলম, যিনি টানা কয়েক বছর ধরে বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়ে আসছেন। শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে কোডিং, ডেটা অ্যানালিসিস এবং লেকচার কন্টেন্ট তৈরিতে শিক্ষকরা এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছেন। এ ছাড়া সেমিস্টারের শুরুতেই প্রতিটি কোর্সে আমাদের এআই নীতিমালা শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হয়, যাতে তারা এর সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন থাকে। দেশের অন্যতম বৃহত্তম বিভাগ হওয়ায় আমাদের প্রশাসনিক কাজের চাপও অনেক বেশি। নথিপত্রের সারসংক্ষেপ তৈরি, অ্যাপ্লিকেশন থেকে তথ্য যাচাই, ডিপার্টমেন্টের ডেটা অ্যানালিসিস এবং একাডেমিক সমন্বয়ের কাজে আমরা এআই-অ্যাসিস্ট্যান্ট টুল ব্যবহার করছি।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এআই টুল ব্যবহারের প্রবণতা কেমন? এ ব্যাপারে আপনার পরামর্শ কী? শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এআই প্রশিক্ষণের জন্য কী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন?

শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের মধ্যেই চ্যাটজিপিটি, কোপাইলট কিংবা ক্লোড ইত্যাদির মতো এআই টুল ব্যবহারের প্রবণতা খুব দ্রুত বাড়ছে। আমার পরামর্শ, এআইকে নিজের শেখার সহকারী বা অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে ব্যবহার করুন, নিজের মস্তিষ্কের বিকল্প হিসেবে নয়। শিক্ষার্থীরা কোনো কঠিন ধারণা বুঝতে, নিজেদের কাজের মান উন্নত করতে এআইয়ের সাহায্য নিতে পারে। কিন্তু অন্ধভাবে এআইয়ের ওপর নির্ভর করা বা এআইয়ের তৈরি করা কাজ নিজের নামে জমা দেওয়া কোনোভাবেই ঠিক নয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এআইয়ের সঠিক, কার্যকর ও নৈতিক ব্যবহার শেখাতে নিয়মিত প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এআই এথিকসের ওপর হ্যান্ডস-অন ওয়ার্কশপ আয়োজন করা উচিত। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগে আমরা নিয়মিত একাডেমিক সিলেবাসের বাইরেও এমন স্কিল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং দিয়ে আসছি। পাশাপাশি প্রতিটি কোর্সের শুরুতেই আমাদের অফিশিয়াল এআই পলিসি ব্যাখ্যা করা হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা প্রথম থেকেই দায়িত্বশীল হতে শেখে।

এআই ব্যবহার করে অ্যাসাইনমেন্ট বা গবেষণাপত্র তৈরির বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখেন?

কোনো বিষয়ের আইডিয়া জেনারেশন, ভাষার মান উন্নত করা, কোডের বাগ বা ত্রুটি খুঁজে বের করা, বড় আর্টিকলের সামারি করা কিংবা লিটারেচার রিভিউয়ের কাজে এআই একটি চমৎকার টুল হতে পারে; কিন্তু দিনশেষে অ্যাসাইনমেন্ট বা গবেষণাপত্রে শিক্ষার্থীর নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা, বিশ্লেষণ, সৃজনশীলতা ও সিদ্ধান্তই প্রধান হতে হবে। এআইয়ের তৈরি করা কনটেন্ট হুবহু কপি করে নিজের নামে জমা দেওয়া স্পষ্টতই একাডেমিক অসদাচরণ। এই কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা দরকার।