kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

নতুন ধারা তৈরি করেছে ‘বিচিত্রা’

চিন্ময় মুত্সুদ্দী

১২ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



নতুন ধারা তৈরি করেছে ‘বিচিত্রা’

‘বিচিত্রা’র হাত ধরে স্বাধীনতার পর ম্যাগাজিনের যে জোয়ার এসেছে, সেখানে অনেক  সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক যুক্ত হয়েছিল। এগুলোর চরিত্র, বিষয়সূচি ছিল অভিনব। ম্যাগাজিনের সে এক যৌবন গেছে

 

ষাটের দশক পর্যন্ত এ দেশের সাপ্তাহিকগুলো দৈনিকের আদলেই প্রকাশিত হয়েছে। এগুলোর বেশির ভাগই ছিল রাজনৈতিক বিষয়প্রধান, সঙ্গে কিছুটা সামাজিক খবর ও বিনোদন। ফলে ‘পূর্বদেশ’, ‘জনতা’, ‘হলিডে’ বহু দৈনিকের চেয়েও পাঠকের কাছে তখন বেশি আকর্ষণীয় ছিল। ষাটের দশকের শেষ দিকে ট্যাবলয়েড সাইজের ইংরেজি সাপ্তাহিক ‘এক্সপ্রেস’ তার ভিন্ন আদলের কারণে পাঠকদের মধ্যে নতুন আমেজ নিয়ে আসে। এটিই সম্ভবত সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন প্রকাশের ভিত্তিটি তৈরি করে। শুধু রাজনীতি আর কঠিন বিষয় নয়, জীবনযাপনের অন্যান্য দিকও গুরুত্ব নিয়ে সাংবাদিকতার বিষয় হতে পারে—এ থেকে সেটিই বোঝা গেল। এরই মধ্যে পাক্ষিক ‘চিত্রিতা’ সামাজিক পত্রিকা হিসেবে ঢাকার পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করল। তখন সামাজিক বা সোসাইটি ম্যাগাজিন করাচি থেকে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হতো। অবশ্য মাসিক ম্যাগাজিন পঞ্চাশের দশক থেকেই ঢাকায় বইয়ের সাইজে, কিছুটা কলকাতার ‘উল্টো রথ’ আর ‘জলসা’ অনুসরণে প্রকাশিত হয়েছে। এগুলোর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো ‘সচিত্র সন্ধানী’, ‘ঝিনুক’, ‘জোনাকী’। বগুড়া থেকে মাসিক ‘সিনেমা’ প্রকাশিত হয়েছে। সাহিত্য পত্রিকা ‘অগত্যা’ খুব নিয়মিত না হলেও এর শাণিত মন্তব্য, বিশেষ করে চিঠিপত্রের জবাবের জন্য লেখকমহলে আলোড়ন তুলেছিল। এতে কঠোর ভাষায় গ্রন্থ সমালোচনা করা হতো।

স্বাধীনতার পর প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকার নাম ‘বিচিত্রা’। এটিই সম্ভবত ম্যাগাজিন আকারে বাংলায় প্রথম প্রফেশনাল ও বাণিজ্যিক সাপ্তাহিক প্রকাশনা। দুই রঙের প্রচ্ছদ ও ভেতরে সাদাকালো পত্রিকা। ১৯৭২ সালের ১৮ মে বিচিত্রার প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। প্রথম সংখ্যার প্রচ্ছদ শিরোনাম ‘শেখ মুজিব নতুন সংগ্রাম’। ভেতরে সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে প্রচ্ছদ কাহিনী ও প্রতিবেদন থাকলেও দ্বিতীয় সংখ্যা থেকে পত্রিকাটি রম্য রূপ ধারণ করে। বিচিত্রার শুরুর কয়েক মাসে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নারীর মুখ প্রচ্ছদে আনা হয়েছিল। বিষয় ছিল যেমন ‘হাসি হাসি এবং; বিয়ে একটি সনাতন প্রথা; ঢাকার বিজ্ঞাপনে মডেল; আপনি বিমানবালা হতে চান?’ ইত্যাদি। তবে বিচিত্রার এই রম্য রূপ বেশি দিন থাকেনি। মুক্তিযুদ্ধফেরত সৈনিকদের হাতে কলম হয়ে উঠেছিল শাণিত অস্ত্র। বছর ঘুরে যেতে না যেতেই এটি সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাবলির বিশ্লেষণাত্মক ম্যাগাজিনে পরিণত হয়। বিচিত্রা ‘কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স নিউজ অ্যান্ড ভিউজ’ ম্যাগাজিন হয়ে উঠল। একসময় অনেকের কাছে আরাধ্য এই সাপ্তাহিকটি স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ম্যাগাজিন সাংবাদিকতায় একটি নতুন ধারা তৈরি করেছে। এ পত্রিকার ফোকাস হয়ে উঠেছে সাত দিনের বাংলাদেশ, সঙ্গে চলমান বিশ্বের চিত্র।

নানা সময়ে করা বিচিত্রার অসংখ্য রিপোর্ট ও প্রচ্ছদ কাহিনী সমাজ বিনির্মাণে নানাভাবে ভূমিকা রেখেছে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ সামনে রেখে যুদ্ধের স্মৃতিচারণা উঠে এসেছে যোদ্ধাদের কলমে ও সাক্ষাৎকারে। মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের ঘটনা প্রায় প্রতি সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের শনাক্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ‘গোলাম আযম ও জামাতের রাজনীতি’ শীর্ষক প্রচ্ছদ কাহিনী এবং এতে প্রকাশিত গোলাম আযমের সাক্ষাৎকারের বক্তব্য ‘একাত্তরে আমরা ভুল করিনি’ সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে এবং রাজনীতিতেও নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। রাজাকারদের বিরুদ্ধে জাতি নতুন করে রুখে দাঁড়িয়েছে। দুর্নীতি, চোরাচালান, শিশু পাচার, নারী অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে বিচিত্রার একের পর এক প্রচ্ছদ কাহিনী সমাজের ভিত্তিমূলে নাড়া দিয়েছে। বিচিত্রার ‘জীবন এখন যেমন’ বিভাগটি এ কালের সব দৈনিকের একাধিক ক্রোড়পত্রের ভিত্তি। এরই অনুসরণে প্রকাশিত হচ্ছে ফ্যাশন, রান্নাবান্না, পারিবারিক জীবন, আইন আদালত, নগরজীবন ইত্যাদি।

১৯৮৩ সালের কিছুকাল পর স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারি পত্রিকা হিসেবে বিচিত্রার ওপর পদাধিকারবলে প্রভাব ফেলতে শুরু করলে অনেক পাঠক ম্যাগাজিনটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করে। এদের অনেকেই ‘যায়যায়দিন’ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে অথবা অন্য ম্যাগাজিনের দিকে হাত বাড়ায়। এ সময় বিচিত্রায় ‘শামসুর রাহমানের নির্বাচিত কবিতা’ শিরোনামে মাঝেমধ্যে এরশাদের কবিতা ছাপানো হতো। ফলে পাঠক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেছে এবং প্রতিবাদ জানিয়ে অনেকে ম্যাগাজিনটি কেনাও বন্ধ করে দেয়। বিচিত্রার শেষ সংখ্যাটি ১৯৯৭ সালের ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত হয়। বিচিত্রা বন্ধ হয়ে গেলেও এটা ঠিক যে যায়যায়দিন কোনোভাবেই বিচিত্রার পরিপূরক হয়ে উঠতে পারেনি। বিচিত্রার সংরক্ষণ গুরুত্ব অর্জন করতে পারেনি। এরশাদের হস্তক্ষেপে তাঁর কবিতা এতে প্রকাশিত হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিবেদন কখনো কখনো বস্তুনিষ্ঠতা হারিয়েছে, কিন্তু নানা সামাজিক বিষয়ে গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে এই সময়গুলোতে বিচিত্রা তার মর্যাদা কিছুটা হলেও রেখেছে।

স্বাধীনতার পর সচিত্র সন্ধানী রূপ পাল্টে ম্যাগাজিনের আকারে প্রকাশিত হলো। ধরনটিও বদলে গেল। এটি সংস্কৃতিবিষয়ক পত্রিকা হিসেবেই পাঠকের কাছে পরিচিত হয়ে উঠল। রাজনীতি, সমাজ, অর্থনীতির কলাম ছিল। তবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন খুব একটা ছিল না। 

বিচিত্রা প্রকাশের পর থেকে বেশির ভাগ ম্যাগাজিনই বিচিত্রার ধারায় প্রকাশিত হতে হয়েছে। বিচিত্রা ফরম্যাটে এবং পরে প্রকাশিত হওয়ায় সেগুলোকে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখেও পড়তে হয়েছে। এর আঙ্গিকে ও অনুসরণে কয়েক বছর পর প্রকাশিত হয় ‘রোববার’ ও ‘পূর্ণিমা’। রোববারের শুরুর দিকে দায়িত্বে ছিলেন কবি রফিক আজাদ। তবে সম্পাদক হিসেবে প্রিন্টার্স লাইনে নামটি ছিল আবদুল হাফিজ। নানা স্তরের পাঠক টানার চেষ্টা করলেও পত্রিকাটির সম্পাদকীয় চরিত্রটি স্পষ্ট ছিল না। শুরুতে পাঠকের বিভ্রান্তিও ছিল—এটি কি সাহিত্য পত্রিকা? সাহিত্য প্রাধান্য পেয়েছে বলেই তারা এমনটি মনে করেছে। রোববারে সাহিত্য ও সাহিত্যজগৎ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রচ্ছদ কাহিনী প্রকাশিত হয়েছে। দেশের ও বিদেশের খ্যাতিমান ও বিতর্কিত লেখকরা প্রচ্ছদে এসেছেন। তত দিনে বিচিত্রায় সাহিত্য ক্ষীণ হয়ে পড়েছে, ক্রমে প্রায় উঠে গেছে। প্রতি সপ্তাহে গল্প ও কবিতা প্রকাশের ধারাটি বন্ধ হয়ে গেছে। তবে সাহিত্য ও সাহিত্যজগৎ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রচ্ছদ কাহিনী প্রকাশিত হয়েছে, যার ভিত্তি ছিল সংবাদমূল্য। অর্থাৎ এখানেও নিউজ ম্যাগাজিনের চরিত্রটিই প্রাধান্য পেয়েছে।

রোববার রাজনৈতিক সংকটে জনদাবির প্রতি সহানুভূতিশীল থেকেছে। ১৯৯০ সালের এরশাদবিরোধী আন্দোলনে রোববার জনতার কাতারে ছিল। এ সময় একটি প্রচ্ছদের শিরোনাম ছিল ‘গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশের অভিযাত্রা’। সে বছর বিজয় দিবসের বিশেষ সংখ্যার প্রচ্ছদে আন্দোলনের ছবি গুরুত্ব পেয়েছে। ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে গণতন্ত্রের প্রতি তাদের অবিচল সমর্থন একাধিক প্রচ্ছদ কাহিনীতে পাওয়া যায়।

সাপ্তাহিক পূর্ণিমা চেষ্টা করলেও স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত মাওলানা মান্নানের মালিকানায় প্রকাশিত দৈনিক ‘ইনকিলাব’-এর সাপ্তাহিক প্রকাশনা হওয়ায় পাঠকের কাছে এর বিশ্বাসযোগ্যতা ছিল না।

১৯৮৩ সাল থেকে প্রকাশিত যায়যায়দিন কাভারসহ পুরো পত্রিকা নিউজপ্রিন্টে সাদামাটাভাবে ছেপে সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনের নতুন ধারা তৈরি করে। এর লেখাগুলো ছিল হুল ফোটানো, ভঙ্গি ছিল আক্রমণাত্মক ও শ্লেষমিশ্রিত। এই স্টাইল অবশ্য নতুন নয়। ঢাকায়ই ষাটের দশকের শেষ দিকে ‘ললনা’তে এ ধরনের লেখা আমরা পেয়েছি। তবে পুরো পত্রিকা নয়, সেই ভাষায় কয়েকটি নির্বাচিত লেখা ছাপা হতো। তারও আগে একাধিক অনিয়মিত সাময়িকীতে এ ধরনের লেখালেখি চালু ছিল। তবে যায়যায়দিনের বৈশিষ্ট্য ছিল—প্রায় পুরো পত্রিকা এই ধরনের ভাষায় ঠাসা। স্বল্প মূল্যের, কম ফটো নিয়ে মতামতভিত্তিক এই ম্যাগাজিন প্রকাশিত হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে পাঠকের হাতে হাতে পৌঁছে গেল। বিচিত্রার অনেক পাঠকের দ্বিতীয় পছন্দ হয়ে উঠল; রোববার, পূর্ণিমা কিংবা সচিত্র সন্ধানী যা হতে পারেনি।

চলচ্চিত্র পত্রিকা হিসেবে ‘চিত্রালী’, ‘পূর্বাণী’ ও ‘সিনেমা’ স্বাধীনতা-উত্তর পাঠকদের অনেকটা ‘ফ্যান’ পত্রিকার অবয়বে আকৃষ্ট করতে চেয়েছে। দৈনিকের সাইজে প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠাসহ কয়েকটি রঙিন পৃষ্ঠার এসব পত্রিকা একসময় চলচ্চিত্র দর্শকদের কাছে অবশ্যপাঠ্য হয়ে উঠেছিল। এ তিনটি পত্রিকার সূচি অনেকটা একই রকমের। চলচ্চিত্র তারকাদের খবর, তাঁদের নিয়ে গুজব-গুঞ্জন, দেশের ও বিদেশের চলচ্চিত্র সংবাদ, নিবন্ধ, সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র বিষয়ে কলাম, বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের খবর এগুলোতে ছিল। অবজারভার হাউস থেকে প্রকাশিত চিত্রালী বিনোদন পত্রিকার জগতে অনেক দিন শীর্ষস্থানে ছিল, বিশেষ করে সত্তরের দশকে। ১৯৮০ সালের শেষ দিক থেকে বিনোদন ম্যাগাজিনের চাপে এবং অবজারভার হাউসে মালিক-শ্রমিক বিরোধে পত্রিকাটি অনেক দিন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলার পর বন্ধ হয়ে গেল। আবার ইত্তেফাক গ্রুপের মালিকপক্ষ লোকসানের মুখে রোববার বন্ধ করে দিল। ‘বাংলার বাণী’র সাপ্তাহিক প্রকাশনা সিনেমা বাংলার বাণীর সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায়। তারও আগে এই ঘটনা ঘটেছে ‘চিত্রাকাশ’-এর সঙ্গে। আজাদ গ্রুপ থেকে প্রকাশিত এই সাপ্তাহিক পত্রিকাটি ষাটের দশকে প্রকাশিত হয়েছিল। তবে স্বাধীনতার পর মালিকপক্ষ এটি আর প্রকাশ করেনি।

নতুন শতাব্দীর আগমনে ম্যাগাজিনের বাজারেও সংকট দেখা গেছে। একাধিক দৈনিক ২০ থেকে ২৪ পৃষ্ঠা হয়ে গেলে তাদের সূচিতে সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনের বিষয়গুলো চলে আসে। এসব দৈনিক পত্রিকার সঙ্গে একই দামে প্রায় প্রতিদিনই ট্যাবলয়েড ও ম্যাগাজিন সাইজের বিশেষ ক্রোড়পত্র যুক্ত হয়। ফলে সাপ্তাহিকগুলো তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়ে। ম্যাগাজিনগুলো ফিচার ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও পিছিয়ে পড়ে। সে কারণেই এখনকার সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনগুলো সত্তরের দশকের বিচিত্রা বা টাইমের কাছাকাছি রিপোর্ট দিতে পারছে না। একই সঙ্গে রচনার মানও দুর্বল এবং বিষয় অনাকর্ষণীয় হচ্ছে। প্রতিবেদনের ‘সংরক্ষণ ভ্যালু’ও তৈরি করতে পারছে না। সব মিলিয়ে ম্যাগাজিনগুলো পাঠকদের চমক দিতে পারছে না। সাপ্তাহিকে দৈনিকের চেয়ে বেশি কিছু না পাওয়ায় পাঠক দৈনিক নিয়েই সন্তুষ্ট থাকছে। তবে ম্যাগাজিন হিসেবে আর্ট পেপারে ছাপানো সম্পূর্ণ রঙিন ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল প্রকাশনাগুলো তৈরি করেছে নতুন বাজার, নতুন পাঠক শ্রেণি।  

 

 লেখক : সাংবাদিক ও মিডিয়া বিশ্লেষক

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা