কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারায় ডাকাতের ছদ্মবেশে দুর্বৃত্তের গুলিতে গৃহবধূ ফারজানা শারমিন আক্তার খুনের মামলাটি এখন তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এর আগে মামলাটির তদন্ত শেষে থানা পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু স্পর্শকাতর হিসেবে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে সমপ্রতি মামলাটির তদন্তভার নেয় সিআইডি পুলিশ। জানা গেছে, গৃহবধূ ফারজানা শারমিন খুনের ঘটনায় জড়িত হিসেবে গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামি গিয়াস উদ্দিন, আয়াত উল্লাহ ও শাহজাহানকে ঘটনার চার মাস পর রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য জেলা সিআইডি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই) মো. জাহাঙ্গীর আলম উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে আদালতের আদেশে আয়াত উল্লাহকে তিনদিন, গিয়াস উদ্দিনকে দুদিন এবং শাহজাহানকে একদিন কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এই হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে তিনজনকে নতুন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে সিআইডি পুলিশের এস আই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'আদালত থেকে রিমান্ড আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।' তিনি বলেন, 'তদন্তভার পাওয়ার পর এই মামলার অনেক অগ্রগতি হয়েছে। চেষ্টা চালাচ্ছি ব্যবসায়ী ছৈয়দ আহমদের বাড়িতে ডাকাতি ও গুলিতে গৃহবধূ হত্যার ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম সিআইডি পুলিশের ক্রাইম সিন টিমের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার লা সিং প্রুসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেছেন।' পুলিশ জানায়, গত বছরের ২১ আগস্ট ভোররাতে উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের রংমহল গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী ছৈয়দ আহমদের বাড়িতে ডাকাতের ছদ্মবেশে একদল দুর্বৃত্ত হানা দেয়। এ সময় বাড়ি থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ দামি মালামাল লুটের পাশাপাশি বড়ছেলে সিরাজ আহমদের আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করের শ্বশুর ব্যবসায়ী ছৈয়দ আহমদ। প্রথমে মামলাটি তদন্ত করার দায়িত্ব নেন চকরিয়া থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এই হত্যাকাণ্ডের পর বাদী আসামি করার ক্ষেত্রে মামলায় কারো নাম উল্লেখ করেননি। কিন্তু পুলিশের তদন্তে ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা গেছে। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত একজন আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। কিন্তু এই হত্যা মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করার মুহূর্তে গত ২০ নভেম্বর স্পর্শকাতর মামলা হিসেবে এটির তদন্তভার সিআইডি পুলিশ নিয়ে নেয়।' স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, পারিবারিক বিরোধ বা কলহের জের ধরে গৃহবধূ ফারজানা শারমিন খুনের ঘটনায় ভাড়াটে দুর্বৃত্তদের ব্যবহার করেছে একটি চক্র। এই চক্রের সঙ্গে এমন কেউ জড়িত রয়েছেন তা হয়তো সিআইডি পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসবে। এ কারণে ফারজানার শ্বশুরবাড়ির লোকজনও আতঙ্কে রয়েছে। নিহত গৃহবধূ ফারজানার শ্বশুর ও মামলার বাদী ছৈয়দ আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমি মামলা করেছি অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে। পুলিশ এই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ঘটনায় জড়িত হিসেবে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তারা এই হত্যায় জড়িত ছিল বলে পুলিশ বলেছিল। কিন্তু এখন মামলাটি সিআইডি পুলিশের হাতে চলে যাওয়ায় মামলার গতি-প্রকৃতি কি হবে তা বুঝতে পারছি না। তারাও (সিআইডি পুলিশ) নিজেদের মতো করে তদন্ত করছে।' তবে এই হত্যাকাণ্ডে পারিবারিক কলহ থাকার বিষয়টি সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।