• ই-পেপার

‘সুপার’ এল নিনোর প্রভাবে ২০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে আফ্রিকা

দেশের স্বার্থে ট্রাম্পের বিরোধিতা করতেও পিছপা হবো না : ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
দেশের স্বার্থে ট্রাম্পের বিরোধিতা করতেও পিছপা হবো না : ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজন হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। 

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর দেশটির সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রথম আলাপচারিতা বেশ ভালো হয়েছে এবং তাকে ‘খুবই আন্তরিক’ বলে মনে হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তিনি বিশ্বাস করেন কি না, এই প্রশ্ন দুবার করা হলেও বার্নহ্যাম কিছু বলেননি। তবে উত্তরে তিনি বলেন, ‘পৃথিবী তো পরিবর্তনশীল, তাই না? আর পরিস্থিতি যেমন এগোবে, আপনাকে সেভাবেই তার জবাব দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, ‘আমি কোনো অবস্থাতেই বলতে পারি না যে আমি তার (ট্রাম্পের) ভিন্নমত গ্রহণ করব না। যুক্তরাজ্যের জন্য সঠিক এমন কোনো ভিন্ন ধারণাও আমাকে তুলে ধরতে হবে। আমার শক্তি হলো মানুষের, জনগণের কাছাকাছি থাকা, প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও এর কোনো পরিবর্তন হবে না।’

ট্রাম্পের সমালোচনা করা সঠিক হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই।’

প্রয়োজন হলে নিজের মতামত প্রকাশ করতে পিছপা হবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অন্য সব কিছুর আগে, আপনাকে নিজের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। এই কাজটি সঠিকভাবে করতে হলে এটাই আপনার করণীয়।’ 

এর আগে সাবেক সরকারের অর্থমন্ত্রী জন হিলি পদত্যাগের সময় বলেছিলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির ৩ শতাংশ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি না দিলে দেশ নিরাপদ থাকবে না।

তবে সরকার ঠিক কবে জিডিপির ৩ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করবে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কোনো নির্দিষ্ট তারিখের প্রতিশ্রুতি দেননি। কিন্তু বার্নহ্যাম বলেন, ‘প্রতিরক্ষা ব্যয়ের গুরুত্ব অপরিহার্য এবং এ বিষয়ে তিনি (জন হিলি) যে অবস্থান নিয়েছিলেন, সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত হয়েই আমি আমার নতুন চ্যান্সেলরকে নিয়োগ দিয়েছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসা ফি বৃদ্ধিতে ট্রাম্পের প্রস্তাব খারিজ

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসা ফি বৃদ্ধিতে ট্রাম্পের প্রস্তাব খারিজ
সংগৃহীত ছবি

বিদেশি দক্ষ কর্মীদের এইচ-১বি ভিসা ফি বাড়িয়ে ১ লাখ মার্কিন ডলার করার সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি মার্কিন ফেডারেল কোর্টে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ জুলাই) এক রায়ে মার্কিন আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, ভিসা ফি অস্বাভাবিক বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসন নিয়েছিল, তা আইনিভাবে ভিত্তিহীন এবং বাতিলযোগ্য।

এর আগে গত ৮ জুন বোস্টনের ইউএস সার্কিট কোর্ট অব অ্যাপিলস কর্মী ভিসা ফি বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তকে ‘অনৈতিক’ আখ্যা দিয়ে খারিজ করেছিল। ডেমোক্রেটপন্থী ২০ জন অ্যাটর্নি জেনারেল যৌথভাবে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে এই নীতিকে চ্যালেঞ্জ জানান।

আদালতে তাদের প্রধান যুক্তি ছিল—মার্কিন কংগ্রেসের কোনো অনুমোদন ছাড়াই সম্পূর্ণ একতরফাভাবে এই নতুন ফি বা কর কাঠামো চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিন বিচারকের বিচারপীঠ সেই আবেদনের ভিত্তিতেই ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের পক্ষে রায় দেন।

ক্যালিফোর্নিয়াসহ মোট ২০টি অঙ্গরাজ্য এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়। মামলায় রাজ্যগুলোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলা হয়, ১ লাখ ডলারের এই বিশাল ফি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক এবং সরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি কর্মী নিয়োগে বড় বাধা সৃষ্টি করবে। এর ফলে একাডেমিক ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

একই সঙ্গে মার্কিন স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে জরুরি চিকিৎসাকর্মীর তীব্র সংকট দেখা দেবে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন তোয়াক্কা না করেই রাতারাতি এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার নির্ধারণ করেছিলেন।

আদালতের সর্বশেষ এই রায়ের পর হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করবেন। তবে মার্কিন আদালতের এই রায়কে স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখছেন প্রবাসী বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় আন্তর্জাতিক পেশাজীবীরা।

পশ্চিম তীরে দুই মসজিদে আগুন দিল ইসরায়েলি বসতিরা

অনলাইন ডেস্ক
পশ্চিম তীরে দুই মসজিদে আগুন দিল ইসরায়েলি বসতিরা
ছবি : রয়টার্স

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা রাতের আঁধারে দুটি মসজিদে আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেন নাবলুস শহরের দক্ষিণে অবস্থিত কুসরা শহরের মেয়র আবদেল আজিম ওয়াদি।

তিনি জানান, বসতি স্থাপনকারীরা শহরের দক্ষিণাংশে নির্মাণাধীন একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মসজিদের প্রবেশপথ পুড়ে যায় এবং পাথরের কাঠামোরও ক্ষতি হয়।

এছাড়াও হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় ‘প্রতিশোধ’ শব্দসহ বিভিন্ন স্লোগান লিখে রেখে যায় বলেও জানান তিনি।

এদিকে, ফিলিস্তিনের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তুলকারেম শহরের কাছে কুর গ্রামেও আরেকটি মসজিদে আগুন দিয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। সেখানে মসজিদের দেয়ালে বর্ণবাদী স্লোগানও লেখা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এর একদিন আগে, গত শুক্রবার পশ্চিম তীরের তাল গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ৪ ফিলিস্তিনি ও ২ ইসরায়েলি নিহত হন।

সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো অধিকৃত পশ্চিম তীরে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তবে মসজিদে অগ্নিসংযোগের অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাশিয়াকে ৩০ হাজার সেনা দিচ্ছে উত্তর কোরিয়া, জেলেনস্কির দাবি

অনলাইন ডেস্ক
রাশিয়াকে ৩০ হাজার সেনা দিচ্ছে উত্তর কোরিয়া, জেলেনস্কির দাবি
ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সুবিধা পেতে উত্তর কোরিয়া থেকে আরো ৩০ হাজার সৈন্য আনার পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার (২৫ জুলাই) এক ভিডিও বার্তায় এই দাবি করেন। তিনি জানান, এই নতুন সেনাদের অভ্যর্থনা ও আশ্রয় দেওয়ার জন্য মস্কো ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।

জেলেনস্কি জানান, ২০২৪ সালে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় উত্তর কোরিয়া প্রথম দফায় প্রায় ১৪ হাজার সৈন্য রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চলে পাঠিয়েছিল। এবার তাদের সৈন্য সংখ্যা আরো ৩০ হাজার বাড়াতে চাইছে ক্রেমলিন। জেলেনস্কির মতে, নতুন আসা এই সেনাদের গ্রহণ করার জন্য রাশিয়ার ভোরোনেঝ অঞ্চলে চলতি বছরের জুন মাস থেকেই প্রস্তুতি চলছে। সৈন্য পাঠানোর পাশাপাশি উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক (লঞ্চার) সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও তিনি জানান।

জেলেনস্কি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, উত্তর কোরিয়ার এই অংশগ্রহণ শুধু ইউক্রেনের জন্যই নয়, বরং সমগ্র এশিয়ার জন্য এক বড় হুমকি। কারণ, যুদ্ধের ময়দানে উত্তর কোরিয়া বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জন করছে এবং তাদের অস্ত্রের আধুনিকায়ন ঘটাচ্ছে। এতে পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র সীমার মধ্যে থাকা এশিয়ার দেশগুলোর নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়বে বলে মনে করেন তিনি। ইউক্রেনও এই সম্মিলিত হুমকির উপযুক্ত জবাব দেবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন জেলেনস্কি।