• ই-পেপার

শতবর্ষী ভবনে ৫ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের অ্যাপার্টমেন্ট!

রাশিয়াকে ৩০ হাজার সেনা দিচ্ছে উত্তর কোরিয়া, জেলেনস্কির দাবি

অনলাইন ডেস্ক
রাশিয়াকে ৩০ হাজার সেনা দিচ্ছে উত্তর কোরিয়া, জেলেনস্কির দাবি
ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সুবিধা পেতে উত্তর কোরিয়া থেকে আরো ৩০ হাজার সৈন্য আনার পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার (২৫ জুলাই) এক ভিডিও বার্তায় এই দাবি করেন। তিনি জানান, এই নতুন সেনাদের অভ্যর্থনা ও আশ্রয় দেওয়ার জন্য মস্কো ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।

জেলেনস্কি জানান, ২০২৪ সালে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় উত্তর কোরিয়া প্রথম দফায় প্রায় ১৪ হাজার সৈন্য রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চলে পাঠিয়েছিল। এবার তাদের সৈন্য সংখ্যা আরো ৩০ হাজার বাড়াতে চাইছে ক্রেমলিন। জেলেনস্কির মতে, নতুন আসা এই সেনাদের গ্রহণ করার জন্য রাশিয়ার ভোরোনেঝ অঞ্চলে চলতি বছরের জুন মাস থেকেই প্রস্তুতি চলছে। সৈন্য পাঠানোর পাশাপাশি উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক (লঞ্চার) সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও তিনি জানান।

জেলেনস্কি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, উত্তর কোরিয়ার এই অংশগ্রহণ শুধু ইউক্রেনের জন্যই নয়, বরং সমগ্র এশিয়ার জন্য এক বড় হুমকি। কারণ, যুদ্ধের ময়দানে উত্তর কোরিয়া বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জন করছে এবং তাদের অস্ত্রের আধুনিকায়ন ঘটাচ্ছে। এতে পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র সীমার মধ্যে থাকা এশিয়ার দেশগুলোর নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়বে বলে মনে করেন তিনি। ইউক্রেনও এই সম্মিলিত হুমকির উপযুক্ত জবাব দেবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন জেলেনস্কি।

স্বামীর চেয়ে আয় বেশি হলে খোরপোশ নয়—বোম্বে হাইকোর্টের রায়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
স্বামীর চেয়ে আয় বেশি হলে খোরপোশ নয়—বোম্বে হাইকোর্টের রায়
প্রতীকী ছবি

স্বামীর চেয়ে বেশি আয় করেন, এমন এক নারীর অন্তর্বর্তীকালীন খোরপোশের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন বোম্বে হাইকোর্ট। আবেদনকারী নারী ২০১১ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে বসবাস করেন। সেখানকার উচ্চ ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি তার স্বামীর কাছে মাসে এক লাখ টাকা অন্তর্বর্তীকালীন খোরপোশ চেয়েছিলেন। কিন্তু বোম্বে হাইকোর্ট তার আবেদন খারিজ করে দিয়ে বলেছেন, কেবল যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ ব্যয় অন্তর্বর্তীকালীন খোরপোশ পাওয়ার যুক্তি হতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রে থাকাটা তার ব্যক্তিগত পছন্দ। তারচেয়ে বড় কথা হলো, আবেদনকারী নারী মাসে ৮ লাখ রুপি (৮ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার) আয় করেন, যা তার স্বামীর আয়ের চেয়ে ঢের বেশি।

আলোচিত দম্পতির দুজনই আইটি প্রফেশনাল। আবেদনকারী নারী যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে নয়াদিল্লিভিত্তিক আইটি সলিউশন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘মার্ক ইনফোটেক’-এ কাজ করছেন। তার স্বামী কাজ করেন ভারতে। ২০১৮ সাল থেকে পুনের একটি পারিবারিক আদালতে তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদের মামলা চলছে। 
দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৩ সালে পুনের পারিবারিক আদালত তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদের আবেদনটি আংশিকভাবে মঞ্জুর করেন এবং তাদের বিয়ে ভেঙে দেওয়ার ডিক্রি জারি করেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এই দম্পতির বড় সন্তান বাবার হেফাজতে আর ছোট সন্তান মায়ের হেফাজতে রয়েছে।

পুনের পারিবারিক আদালত মামলার খরচ বাবদ স্ত্রীকে ২৫ হাজার রুপি দেওয়ার জন্য স্বামীকে আদেশ দিয়েছেন। তবে আদালত নারীর স্থায়ী খোরপোশের দাবিটি খারিজ করে দিয়েছিলেন। পারিবারিক আদালতের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবং স্থায়ী খোরপোশের দাবি নিয়ে সেই নারী পরবর্তীতে বোম্বে হাইকোর্টে আপিল করেন। হাইকোর্টে আপিলটি বিচারাধীন থাকা অবস্থাতেই আবেদনকারী অন্তর্বর্তীকালীন খোরপোশ হিসেবে প্রতিমাসে ১ লাখ টাকা চেয়ে আবেদন করেছিলেন। বিচারপতি ভারতী ডাংরে এবং বিচারপতি মঞ্জুষা দেশপাণ্ডের বেঞ্চ সম্প্রতি সে আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন।

আবেদনকারী নারীর প্রধান যুক্তি ছিল, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে বসবাস করেন এবং সেখানে জীবনযাত্রার অত্যন্ত উচ্চ ব্যয় ও সন্তানের পড়াশোনার খরচের কারণে তিনি তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আদালত তার আবেদন খারিজ করে দিয়ে বলেন, আবেদনকারী নারীর জমা দেওয়া বেতনের নথি থেকেই প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি তার স্বামীর চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি আয় করেন। আদালত স্পষ্ট জানায়, বিদেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি, কেবল এই অজুহাত দেখিয়ে উচ্চ উপার্জনকারী কোনো পেশাদার ব্যক্তি খোরপোশ দাবি করতে পারেন না। এটি সম্পূর্ণ তার নিজস্ব জীবনযাত্রার পছন্দ। তা ছাড়া আদালত পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, বর্তমান সময়ে আইটি শিল্পে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের ফলে স্বামীর চাকরিই বড় ঝুঁকিতে রয়েছে।

আদালতে স্বামীর আইনজীবী দাবি করেন, অস্ট্রেলিয়ার সন্তানের লেখাপড়ার ব্যয় এবং বৃদ্ধ বাবা-মার দেখাশোনা করতে গিয়েই তার টানাটানি লেগে যায়।

আলোচিত এই মামলাটি পরিচালিত হচ্ছে হিন্দু বিবাহ আইনের ২৪ নম্বর ধারার অধীনে। এই ধারার মূল উদ্দেশ্য হলো আর্থিকভাবে দুর্বল পক্ষকে সুরক্ষা দেওয়া। হিন্দু বিবাহ আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী, কেবল স্ত্রী নন, স্বামীও যদি উপার্জনহীন বা আর্থিকভাবে সক্ষম না হন, তবে তিনি কর্মক্ষম ও সচ্ছল স্ত্রীর কাছ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন খোরপোশ দাবি করতে পারেন।

আইনে বলা আছে, আবেদনকারীর যদি নিজের ভরণপোষণ এবং মামলার খরচ চালানোর মতো ‘স্বাধীন ও পর্যাপ্ত আয়’ থাকে, তবে তিনি খোরপোশ পাওয়ার যোগ্য নন। আইনটি জীবনযাত্রার মান সমান করার কোনো বিলাসবহুল চুক্তি নয়, এটি কেবল জীবনধারণের আইনি অধিকার।

মার্কিন অবরোধের মধ্যেই ১৮ বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রির দাবি ইরানের

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন অবরোধের মধ্যেই ১৮ বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রির দাবি ইরানের
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে যুদ্ধের সময় এবং পরবর্তীতে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও মোট ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের তেল বিক্রি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির তেল মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়টির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘যুদ্ধকালীন চরম সংকটের মাঝেও ইরান ১১.৫ বিলিয়ন ডলার এবং পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছে।’

বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, উদ্ভূত বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সংকটের মধ্যেও তেলের এই বিশাল অঙ্কের আয় চলতি অর্থবছরের বাজেটে নির্ধারিত রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রার ৬০ শতাংশের বেশি পূরণ করেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

তবে দেশটির তেল মন্ত্রণালয়ের এমন দাবি ঘিরে জন্ম নিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কারণ, গত জুনের শেষের দিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বন্দর অবরোধ ও কঠোর নজরদারির মুখে ইরান কোনো তেল রপ্তানি করতে সমর্থ হয়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের অভ্যন্তরে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ হামলার মাধ্যমে এ অঞ্চলের ভয়াবহ সংঘাতের সূচনা হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানও পাল্টা জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক মিত্র দেশের ওপর বিধ্বংসী আঘাত হানে।

পরবর্তীতে গত এপ্রিলে এক চুক্তির মাধ্যমে সংঘাত সাময়িক স্তিমিত হলেও চলতি জুলাইয়ের শুরু থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘হরমুজ প্রণালি’র আধিপত্যকে কেন্দ্র করে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। 

উপসাগরে মার্কিন হামলা বন্ধ, তবে ইরান যুদ্ধ ছড়াল লোহিত ও কাস্পিয়ান সাগরে

অনলাইন ডেস্ক
উপসাগরে মার্কিন হামলা বন্ধ, তবে ইরান যুদ্ধ ছড়াল লোহিত ও কাস্পিয়ান সাগরে
ছবি : রয়টার্স

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলা হঠাৎ স্থগিত হলেও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন আরো ছড়িয়ে পড়ছে। একদিকে লোহিত সাগর উপকূলীয় সৌদি তেল স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। অন্যদিকে কাস্পিয়ান সাগরে নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইউক্রেনকে অভিযুক্ত করেছে তেহরান।

টানা ১৩ রাত ধরে ব্যাপক হামলার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী হঠাৎ আক্রমণ থামিয়ে দিয়েছে। তবে লোহিত সাগরে ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া নৌ অবরোধ এখনো বহাল রয়েছে। হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, অস্ত্রাগারে মার্কিন অস্ত্রের মজুদ কমে যাওয়া, বিশ্বজুড়ে জ্বালানিসংকট ও আঞ্চলিক মিত্রদের উদ্বেগের কথা মাথায় রেখে ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত কৌশলগতভাবে কূটনীতিতে প্রাধান্য দিচ্ছে।

তবে এই বিরতির সুযোগেও যুদ্ধ থামেনি, বরং নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা জিজান ও ইয়ানবু শহরের সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কম্পানি আরামকোর একাধিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইয়েমেনের মারিব ও আল-জাওফ প্রদেশে হুথি অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী। এর মাধ্যমে ২০২২ সাল থেকে ইয়েমেনে চলা দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি জাহাজে হামলার পর তেহরান ও কিয়েভের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এতে একজন নাবিক নিহত ও একজন আহত হওয়ায় তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইউক্রেনীয় লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে ইরানকে উপগ্রহের (স্যাটেলাইট) তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া।

বিশ্ব অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি নৌপথ হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর—একযোগে যুদ্ধের কারণে ঝুঁকিতে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বে হুথিরা সৌদি আরবের ওপর নিজস্ব নৌ অবরোধ ঘোষণা করে এবং দেশটির সব তেল স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছিল, যা এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে।