কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘোষণার পর শনিবার দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উল্লাস দেখা যায়। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘোষণার পর শনিবার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক।
তিনি এক্সে টুইট করে বলেন, ‘এটা প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের বিজয়—সরাসরি রাজপথ থেকে উঠে আসা মানুষের শক্তির বিজয়। এ শান্তি, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের বিজয়। অভিনন্দন সিজেপিকে। অভিনন্দন দেশের জেন জি প্রজন্মকে। ভয় ও ভয়ের সংস্কৃতি ঝেড়ে ফেলে দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শামিল হওয়া সব নাগরিককে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। এবার জবাবদিহিতার পর্ব পেরিয়ে সংস্কারের পালা।’
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার জবাবদিহির দাবিতে গত ২০ জুন দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনে অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক বিক্ষোভে যোগ দিয়ে আমরণ অনশন শুরু করার পর এই আন্দোলন আরো গতি লাভ করে। টানা ২৬ দিন অনশনের পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের উপস্থিতিতে অনশন ভঙ্গ করেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
তবে এরপর তাকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পূরণ হওয়ার আগেই কেন তিনি অনশন প্রত্যাহার করলেন। এমনকি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ‘সমঝোতা’ হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই বিতর্কের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে সমালোচকদের জবাব দিতে শুক্রবার রাতে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন সোনম।
সমালোচকদের জবাব দিতে হাসপাতাল থেকে শুক্রবার রাতে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন সোনম। তিনি বলেন, ‘টানা ২৬ দিন অনশনের পরও কি আমাকে আমার আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে হবে? গভীর দুঃখ, বিস্ময়, ক্ষোভ ও শোক নিয়েই এই ভিডিও করছি।’ তিনি আরো জানান, দীর্ঘ অনশন, শারীরিক ধকল, আন্দোলন ও নানা চাপের কারণে তার শরীর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোনমের দাবি, তার পেশি ক্ষয়ে গেছে, অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও মস্তিষ্কেও অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া তার ওজনও ১১ কেজি কমেছে। এ অবস্থায়ও তার অনশনের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
সোনমের অনশন ভাঙার বিষয়ে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মুখপাত্র রাঙ্কা বলেন, এই সিদ্ধান্তে তারা সন্তুষ্ট। কারণ, দীর্ঘ অনশনের কারণে সোনমের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তারাও উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাই সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিকবার তাকে অনশন শেষ করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সোনমের অনশন ভাঙার সিদ্ধান্তের সঙ্গে আন্দোলনের মূল দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের বিজয়’ বলে মন্তব্য করেন। বিক্ষোভস্থলে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের কারণেই শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই ঘটনা প্রমাণ করেছে যে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জনচাপের মাধ্যমে পরিবর্তন আনা সম্ভব।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও কটাক্ষ করে অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘সকাল হয়ে গেল মামু।’ তুমুল হর্ষধ্বনি ও স্লোগানের মধ্যে মঞ্চে বক্তব্য দেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেন, এই আন্দোলন প্রমাণ করেছে, শান্তিপূর্ণ গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষও ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির মুখে দাঁড় করাতে পারে।
তিনি বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। এই পদত্যাগই প্রমাণ করে, মানুষ যদি ভয় না পায় এবং সরকারের সামনে মাথা নত না করে, তাহলে বড় বড় পদেও পরিবর্তন আনা সম্ভব।’ ছাত্র-নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলনকে একটি বড় বিজয় হিসেবে উল্লেখ করে দীপকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও কটাক্ষ করেন।
সিজেপির নেতারা বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলেও এটি চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের দাবি, সরকারের কাছে উত্থাপিত বাকি দুটি দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।