• ই-পেপার

ভারতে প্রশ্নফাঁসের মাস্টারমাইন্ড গ্রেপ্তার!

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

তরুণদের অভিনন্দন জানিয়ে যা বললেন কেজরিওয়াল

অনলাইন ডেস্ক
তরুণদের অভিনন্দন জানিয়ে যা বললেন কেজরিওয়াল
ছবি : রয়টার্স

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর তরুণদের অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশটির আম আদমি পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। 

শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক অভিনন্দন।’

কেজরিওয়াল আরো বলেন, ‘আমাদের দেশের জেন-জিদের অনেক অভিনন্দন। এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। আপনাদের সংগ্রাম সফল হয়েছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে হয়েছে।’

গণতন্ত্রের বড় বিজয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের গণতন্ত্রের ওপর থেকে আস্থা উঠে যাচ্ছিল। মানুষের মনে হচ্ছিল, সরকার জনগণের কথা শোনে না। জনগণ সরকারের সামনে চিৎকার করে, অনুরোধ করে, হাতজোড় করে, এমনকি পায়ে ধরেও আবেদন জানায়, তবু সরকার কথা শোনে না।’

 

কেজরিওয়াল আরো বলেন, ‘এত বড় আন্দোলনের পর শেষ পর্যন্ত সরকারের অহংকার নত হয়েছে। জনগণের সামনে সরকারকে মাথা নত করতে হয়েছে। এটি গণতন্ত্রের বড় বিজয়।’

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এখন সরকারের বোঝা উচিত যে জনগণের কথা শুনতে হবে। এটাই গণতন্ত্র। গণতন্ত্র জনগণের, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের জন্য।’

এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার নিট পরীক্ষার পুরো ব্যবস্থাকে সংস্কার করবে, যাতে আগামী বছর থেকে আর প্রশ্ন ফাঁস না হয়। এই দেশের কোনো শিক্ষার্থীকে আর আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে না হয়।’

এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের তৃতীয় দফার আলোচনার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

একনজরে ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক জীবন

অনলাইন ডেস্ক
একনজরে ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক জীবন
ছবি : রয়টার্স।

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে চলা ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের মধ্যে শনিবার (২৫ জুন) কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। বিভিন্ন প্রবেশিকা ও নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনা নিয়ে সরকারের ওপর সমালোচনা বাড়তে থাকায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।

ওড়িশার প্রবীণ বিজেপি নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান ছাত্রজীবনে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন। এর আগে ১৯৯৩ সালে এবিভিপির ওড়িশা রাজ্য সম্পাদক এবং ১৯৯৫ সালে জাতীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ধর্মেন্দ্র প্রধান সাবেক লোকসভা সদস্য ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ২০২১ সালের জুলাইয়ে তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস, ইস্পাত এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০০৪ সালে ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রথমবারের মতো লোকসভা সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছর তিনি বিজেপির যুব সংগঠন ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার (বিজেওয়াইএম) জাতীয় সভাপতির দায়িত্ব পান।

সংসদ সদস্য হিসেবে ধর্মেন্দ্র প্রধান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৪ সালে লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আবেদনপত্র বিষয়ক কমিটি এবং শক্তি বিষয়ক কমিটির সদস্য হন। ২০০৭ সালের আগস্ট থেকে তিনি সংসদের শক্তি বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি সরকারি আশ্বাস বিষয়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া ২০১২ সালের মে থেকে ২০১৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত টেলিকম লাইসেন্স ও স্পেকট্রাম বরাদ্দ ও মূল্য নির্ধারণ-সংক্রান্ত বিষয় তদন্তে গঠিত যৌথ সংসদীয় কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেন। তিনি ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। পরে ২০২৪ সালের জুনে অষ্টাদশ লোকসভায় নির্বাচিত হন।

কেন্দ্রীয় সরকারে দায়িত্ব পালনের সময় ধর্মেন্দ্র প্রধান একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলেছেন। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৯ সালের মে থেকে ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত তিনি পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী এবং ইস্পাতমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

তার রাজনৈতিক জীবনের বড় মোড় আসে ২০২১ সালের ৭ জুলাই, যখন তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের জুনে অষ্টাদশ লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর ৯ জুন তিনি আবারও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ধর্মেন্দ্র প্রধান ওড়িশা বিধানসভার সর্বোচ্চ আইনপ্রণেতা সম্মান ‘উৎকলমণি গোপবন্ধু প্রতিভা সম্মান’ লাভ করেন।

ব্যক্তিগত জীবন

ধর্মেন্দ্র প্রধান ১৯৬৯ সালের ২৬ জুন ওড়িশার তালচেরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দেবেন্দ্র প্রধান ও বসন্ত মঞ্জরী প্রধানের সন্তান। ওড়িশার বাণী বিহার ক্যাম্পাসের উৎকল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি নৃবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৮ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি মৃদুলা ঠাকুর প্রধানকে বিয়ে করেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

সিজেপির আন্দোলনে বিদেশি অর্থায়নের তথ্য নেই সরকারের কাছে

অনলাইন ডেস্ক
সিজেপির আন্দোলনে বিদেশি অর্থায়নের তথ্য নেই সরকারের কাছে
ছবি : রয়টার্স

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নবগঠিত ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপি প্রায় দেড় মাস ধরে আন্দোলন করছে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের এক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গত ১৬ মে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী অভিজিত দীপকে অনেকটা ব্যঙ্গ করে অনলাইনে ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপি গড়ে তোলেন। 

নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত ৭ মে যন্তর-মন্তরে প্রথম প্রতিবাদ সমাবেশ করে সিজেপি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়ে এসে সরাসরি সমাবেশে যোগ দেন অভিজিৎ। তারপর থেকে ঘুরেফিরে যন্তর-মন্তরেই দিন কাটাচ্ছেন সিজেপি নেতাকর্মীরা। 

গত ২৮ জুন থেকে অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক তাদের দাবির প্রতি সংহিতি জানিয়ে আমরণ অনশন শুরু করলে আন্দোলনে নতুন গতি আসে। তবে গত ২০ জুলাই সিজেপির ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা ও সংঘর্ষের ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় দিল্লির প্রাণকেন্দ্র। এরপর আন্দোলন দিল্লি ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে।

তবে দিনের পর দিন চালিয়ে যাওয়ায় এ আন্দোলনের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় একই ধরনের আন্দোলনে সরকার পতন ঘটেছে। 

তবে বিভিন্ন সময়ে এসব আন্দোলনে বিদেশি অর্থায়ন ও ডিপস্টেটের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও উঠেছে। ভারতের সিজেপির আন্দোলনের অর্থের উৎস নিয়ে গুঞ্জন শুরু হলেও আন্দোলনকারীরা তা অস্বীকার করেছেন। যন্তর-মন্তরে বিক্ষুব্ধ এক শিক্ষার্থীর হাতের ফেস্টুনে লেখা ছিল, ‘আমাদের কেউ অর্থ দিচ্ছে না। সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা বিনা পয়সায় আন্দোলন করে দিচ্ছি।’ 

আন্দোলনে বিদেশি অর্থায়নের প্রসঙ্গটি শেষ পর্যন্ত উঠে এসেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে। শুক্রবার নিয়মিত বিফ্রিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল সিজেপির আন্দোলনে বিদেশি অর্থায়ন প্রসঙ্গে। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, ‘এ ব্যাপারে বলার মতো কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।’

ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর ওয়াংচুকের প্রতিক্রিয়া

অনলাইন ডেস্ক
ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর ওয়াংচুকের প্রতিক্রিয়া
ছবি : রয়টার্স

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘোষণার পর শনিবার দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উল্লাস দেখা যায়। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘোষণার পর শনিবার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক।

তিনি এক্সে টুইট করে বলেন, ‘এটা প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের বিজয়—সরাসরি রাজপথ থেকে উঠে আসা মানুষের শক্তির বিজয়। এ শান্তি, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের বিজয়। অভিনন্দন সিজেপিকে। অভিনন্দন দেশের জেন জি প্রজন্মকে। ভয় ও ভয়ের সংস্কৃতি ঝেড়ে ফেলে দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শামিল হওয়া সব নাগরিককে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। এবার জবাবদিহিতার পর্ব পেরিয়ে সংস্কারের পালা।’

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার জবাবদিহির দাবিতে গত ২০ জুন দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনে অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক বিক্ষোভে যোগ দিয়ে আমরণ অনশন শুরু করার পর এই আন্দোলন আরো গতি লাভ করে। টানা ২৬ দিন অনশনের পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের উপস্থিতিতে  অনশন ভঙ্গ করেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক।

 

 

তবে এরপর তাকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পূরণ হওয়ার আগেই কেন তিনি অনশন প্রত্যাহার করলেন। এমনকি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ‘সমঝোতা’ হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই বিতর্কের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে সমালোচকদের জবাব দিতে শুক্রবার রাতে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন সোনম।

সমালোচকদের জবাব দিতে হাসপাতাল থেকে শুক্রবার রাতে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন সোনম। তিনি বলেন, ‘টানা ২৬ দিন অনশনের পরও কি আমাকে আমার আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে হবে? গভীর দুঃখ, বিস্ময়, ক্ষোভ ও শোক নিয়েই এই ভিডিও করছি।’ তিনি আরো জানান, দীর্ঘ অনশন, শারীরিক ধকল, আন্দোলন ও নানা চাপের কারণে তার শরীর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোনমের দাবি, তার পেশি ক্ষয়ে গেছে, অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও মস্তিষ্কেও অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া তার ওজনও ১১ কেজি কমেছে। এ অবস্থায়ও তার অনশনের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

সোনমের অনশন ভাঙার বিষয়ে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মুখপাত্র রাঙ্কা বলেন, এই সিদ্ধান্তে তারা সন্তুষ্ট। কারণ, দীর্ঘ অনশনের কারণে সোনমের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তারাও উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাই সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিকবার তাকে অনশন শেষ করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সোনমের অনশন ভাঙার সিদ্ধান্তের সঙ্গে আন্দোলনের মূল দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।

এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের বিজয়’ বলে মন্তব্য করেন। বিক্ষোভস্থলে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের কারণেই শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই ঘটনা প্রমাণ করেছে যে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জনচাপের মাধ্যমে পরিবর্তন আনা সম্ভব।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও কটাক্ষ করে অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘সকাল হয়ে গেল মামু।’ তুমুল হর্ষধ্বনি ও স্লোগানের মধ্যে মঞ্চে বক্তব্য দেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেন, এই আন্দোলন প্রমাণ করেছে, শান্তিপূর্ণ গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষও ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির মুখে দাঁড় করাতে পারে।

তিনি বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। এই পদত্যাগই প্রমাণ করে, মানুষ যদি ভয় না পায় এবং সরকারের সামনে মাথা নত না করে, তাহলে বড় বড় পদেও পরিবর্তন আনা সম্ভব।’ ছাত্র-নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলনকে একটি বড় বিজয় হিসেবে উল্লেখ করে দীপকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও কটাক্ষ করেন। 

সিজেপির নেতারা বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলেও এটি চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের দাবি, সরকারের কাছে উত্থাপিত বাকি দুটি দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।