মেডিকেল ভর্তির জন্য নির্ধারিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে এখন উত্তাল ভারত। ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপির আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তবে ভারতে প্রশ্নফাঁস কোনো নতুন ঘটনা নয়। শুধু নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হয়, ব্যাপারটা এমনও নয়। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন ভর্তি বা চাকরির পরীক্ষার অহরহই প্রশ্নফাঁস হয়।
ভারতজুড়ে একটি সিন্ডিকেট এই প্রশ্নপ্রত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম মাস্টারমাইন্ডকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে মহারাষ্ট্র পুলিশ। দীর্ঘদিন চেষ্টার পর শনিবার সকালে বিহার থেকে প্রশ্নফাঁস মামলার মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি বিজেন্দ্র গুপ্তকে গ্রেপ্তার করে। বেশ কয়েকদিন ধরেই পুলিশ তাকে খুঁজছিল। কিন্তু বারবার সে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেরাচ্ছিল।
গত ২৮ জুন মহারাষ্ট্রে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষার আগের দিন প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এলে তা বাতিল করা হয়। প্রশ্নফাঁস নিয়ে আন্দোলনের মধ্যেই নতুন করে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে মহারাষ্ট্র পুলিশ।
মহারাষ্ট্রে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছিল বিজেন্দ্র। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার স্ত্রীসহ কয়েকজন সহযোগীকে আগেই গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। কিন্তু বিজেন্দ্রর হদিস মিলছিল না। বারবার অবস্থান বদলের কারণে পুলিশ তার খোঁজে একটি বিশেষ দল গঠন করে আন্তঃরাজ্য তল্লাশি জারি রেখেছিল পুলিশ।
অবশেষে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার সকালে মহারাষ্ট্রের থানে জেলার ভিওয়ান্ডি থানার পুলিশ ও বিশেষ তদন্ত দল বিহারে একটি যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। অভিযান চলাকালীন পুলিশ বিজেন্দ্র গুপ্তের পাশাপাশি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইন্দ্রজিৎ সিং ওরফে পিকু নামের আরো এক অভিযুক্তকেও গ্রেপ্তার করেছে।
সূত্রের খবর, শুধু মহারাষ্ট্র শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রই নয়, দেশজুড়ে বহু সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে বিজেন্দ্র জড়িয়ে রয়েছেন বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। ওই সূত্রের দাবি, প্রশ্নফাঁসের সিন্ডিকেট চালাতেন বিজেন্দ্র।
গত ৫ জুলাই মহারাষ্ট্র পুলিশের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের মামলায় আগ্রার একটি প্রিন্টিং প্রেসের তিন কর্মীকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন নরেশকুমার মহোরে, সঞ্জয়কুমার সুরেশচন্দ্র চন্দ্র এবং বাবুলাল নারায়ণসিংহ কুশওয়াহা।
পুলিশ সূত্রে খবর, ছাপাখানা থেকে প্রশ্নফাঁস করেন মহোরে। তার পর সেটি চলে যায় সঞ্জয়কুমার শর্মা নামে ওই ছাপাখানার প্রাক্তন কর্মী এবং আরো এক অভিযুক্ত সোনু কুমারের কাছে। এই দুজন বিজেন্দ্রকে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন। আর বিজেন্দ্র তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেয়।
গ্রেপ্তারের পরপরই রিজেন্দ্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিমানে করে পুনে হয়ে ভিওয়ান্ডিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুলিশের ধারণা তাকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রশ্নফাঁস চক্রের বৃহত্তর নেটওয়ার্ক সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা যাবে। তাছাড়া দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁসের অন্য নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে বিজেন্দ্রর সম্পৃক্ততাও খতিয়ে দেখবে পুলিশ।






