গত এক যুগে ভারতের ঐতিহ্যবাহী গণতন্ত্রকে নিজের কৌশলের দাস বানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য আছে বটে, কিন্তু নির্বাচনের মাঠ প্রায়ই অসমতল হয়ে ওঠে মোদি আর অমিত শাহর ইচ্ছায়, কৌশলে। যত দিন যাচ্ছে, নরেন্দ্র মোদি যেন আরো শক্তি সঞ্চয় করছেন, নতুন নতুন রাজ্য জয় করছেন। বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো সর্বভারতীয় কোনো শক্তি দেখা যাচ্ছে না। রিলাক্স মুডে থাকা বিজেপি শিবিরে হঠাৎ আঘাত হেনেছে অচেনা এক ঝড়। দুর্বল তেলাপোকার দুর্বলতর পাখার হাওয়ায় যেন টলটলায়মান নরেন্দ্র মোদির দুর্ভেদ্য দুর্গ।
প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো কংগ্রেস ১২ বছরে যেটা পারেনি, ৭০ দিনের পুরনো দল মাত্র দেড় মাসের আন্দোলনে কিভাবে কাঁপন ধরাল নরেন্দ্র মোদির মসনদে? পুরনো রাজনীতিবিদরা কেন তরুণদের কানেক্ট করতে পারছেন না? তরুণরা কেন তেলাপোকার পেছনে লাইন দিচ্ছে?
এসব প্রশ্নের কোনো শর্টকার্ট উত্তর নেই। অনেকগুলো ফ্যাক্টর মিলেই তবে ডানা মেলেছে তেলাপোকার দল। প্রথম ফ্যাক্টর অবশ্যই বয়স। সুকান্ত ভট্টাচার্যের ’আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি পড়েছেন অনেকেই- ‘এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয়/পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে, এ বয়সে তাই নেই কোনো সংশয়/এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।’ আসলে বয়স একটা দারুণ টনিক। ১৮ থেকে ৩০- এটা খুব বিপজ্জনক বয়স। একটু বয়স হলে মানুষ অনেক কিছুই মেনে নেয়, আপস করে।
তারুণ্য আপোশ করতে চায় না, আপস করতে জানে না। তরুণরা পড়াশোনা শেষ করে বুক ভরা স্বপ্ন আর চোখ ভরা আশা নিয়ে মাঠে নামে। কিন্তু মাঠে নেমেই দেখে চারপাশে শুধু হতাশা, তাদের চোখের সামনেই একের পর এক বন্ধ হয়ে যায় স্বপ্নের দরজা। তাদের কাজের জায়গাগুলো দখল করে ফেলে অন্য কেউ। তাদের কাছে সবকিছুই বেঠিক লাগে। এটা এমন কেন, ওটা তো হওয়ার কথা নয়। এমন শত অসংগতি, হাজারটা প্রশ্ন তাদের মাথায় কিলবিল করে। তারা সবকিছু ভেঙেচুরে গড়তে চায়। তারা হতাশ হয়, ক্ষুব্ধ হয়, ক্রুদ্ধ হয়। কিছু একটা করার জন্য রাগে তড়পাতে থাকে। তখন কেউ বামপন্থী, কেউ ডানপন্থী, কেউ চরমপন্থী দলে যোগ দিয়ে সমাজ বদলাতে চায়। কেউবা ডিপস্টেটের পাল্লায় পড়ে।
এভাবে যুগে যুগে দেশে দেশে তরুণরা অনেককিছু করতে চেয়েছে। কেউ পেরেছে, কেউ জীবন দিয়েছে। বুকের ভেতর ঝড় নিয়ে তড়পাতে থাকা অনেকগুলো মানুষ যখন একত্রিত হয়, তখন সেই ঝড় সাইক্লোন হয়ে যায়। ভারতের অভিজিৎ দীপক তেমন তড়পাতে থাকা অনেকগুলো মানুষকে একসাথে করতে পেরেছেন। এটাই তার মূল কৃতিত্ব।
অভিজিৎ দীপককেই সবাই ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা বলেন। কিছুই ভুল নেই। তবে ককরোচ জনতা পার্টি প্রতিষ্ঠার মূল কৃতিত্ব দিতে হবে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে। গত ১৫ মে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, ’দেশে এমন কিছু তরুণ রয়েছে, যারা তেলাপোকার মতো, তারা না কোনো কাজ পায়, না নিজেদের কোনো পেশাগত অবস্থান তৈরি করতে পারে। তাদের কেউ কেউ মিডিয়া বা সোশ্যাল মিডিয়া কর্মী হয়ে ওঠে, কেউ বনে যায় অ্যাক্টিভিস্ট এবং এরপর তারা সবাইকেই আক্রমণ করা শুরু করে দেয়।’ ব্যাস, আর যায় কোথায়? এ যেন স্তূপ করে রাখা তপ্ত বারুদে অগ্নি শলাকা।
পরদিনই উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তরুণ অভিজিৎ দীপক ভার্চুয়াল জগতে ব্যঙ্গ করে গড়ে তোলেন ককরোচ জনতা পার্টি- সিজেপি। বিজেপির পাল্টা সিজেপি। ‘ম্যায় হুঁ ককরোচ’ বলে দলে দলে তরুণ তার পেছনে লাইন দেয়। বেকার, অলস, দীর্ঘ সময় অনলাইনে কাটানো এবং পেশাগতভাবে ক্ষোভ প্রকাশের ক্ষমতা থাকাই ছিল দলটিতে যোগ দেওয়ার মূল যোগ্যতা। দেখা গেল ভারতে তথাকথিত ‘বেকার, অলস ও দীর্ঘ সময় অনলাইনে কাটানো’র মত তরুণের অভাব নেই।
প্রতিষ্ঠার ২১ দিনের মাথায় গত ৭ জুন অনলাইন থেকে মাঠে নামে সিজেপি। দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে তেলাপোকার দল। মাঠে নামার জন্য তাদের একটা জুতসই ইস্যু দরকার ছিল। আবার ইস্যুটা হতে হবে এমন, যাতে তরুণদের সহজেই কানেক্ট করা যায়। সিজেপির প্রতিষ্ঠার দুই সপ্তাহ আগে গত ৩ জুন নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। সে অভিযোগে সে পরীক্ষা বাতিলও করা হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি নিয়েই মাঠে নামে তারা। ৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়ে এসে সরাসরি যন্তর-মন্তরে সমাবেশে যোগ দেন অভিজিৎ। তারপর ঘুরেফিরে তারা যন্তর-মন্তরেই আছেন। গত ২৮ জুন তাদের দাবির সাথে সংহতি প্রকাশ করে আমরণ অনশন শুরু করেন লাদাখের অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক। যা আন্দোলনে নতুন মাত্রা আনে।
গত ২০ জুলাই ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি করতে গিয়ে প্রথম পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়ায় তেলাপোকার দল। আম আদমি পার্টির সাবেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপক শুরুটা করেছিলেন ফান থেকে। কিন্তু এখন আর বিষয়টা ফান পর্যায়ে নেই। বানের জলের মতো ভাসিয়ে নিতে চাইছে সবকিছু। হঠাৎ করেই ফান থেকে সিরিয়াস, যেন আন্দোলনের গিয়ার চেঞ্জ। যুগে যুগে দেশে দেশে তরুণরা তাদের ক্ষোভের আগুনে প্রচলিত অনেক সিস্টেমকে ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। উদাহরণ পেতে ইতিহাসের পাতা ওলটাতে হবে না। ঘরের কাছেই বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপালে তরুণরা দেখিয়ে দিয়েছে তারা কী করতে পারে। প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলো বছরের পর বছর ধরে যা করতে পারেনি, তরুণরা কয়েকদিনেই তা করে চমকে দিয়েছে সবাইকে।
ককরোচ জনতা পার্টির ক্ষোভ নিছক সরকারের বিরুদ্ধে নয়, সিস্টেমের বিরুদ্ধে। তরুণদের অভিযোগ, এই সিস্টেম তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে পারে না। প্রচলিত রাজনীতিতে তাদের জন্য স্পেস নেই বললেই চলে। তেলাপোকার দলের টিকে থাকার কৌশলটা ফাঁস করে দিয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক, ‘রাষ্ট্রব্যবস্থার কাছে আমরা শুধুই ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ। আমরা তুচ্ছ, সহজেই অবহেলা যোগ্য ও পুরোপুরি আবর্জনার মতো। কিন্তু তেলাপোকা সব পরিবেশেই টিকে থাকে। আপনারা আমাদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু একেবারে মুছে ফেলতে পারবেন না।’ তেলাপোকাদের মুছে যে ফেলা সম্ভব নয়, এখন সেটা টের পাচ্ছেন সবাই।
বাংলাদেশ থেকে যারা যন্তর-মন্তরের আন্দোলনটা ফলো করছেন, তারা হয়ত দুই বছর আগে বাংলাদেশের আন্দোলনের সাথে মেলাতে পারবেন। তরুণ শিক্ষার্থীরা জীবনের মায়া না করে বুকভরা বঞ্চনার আগুন নিয়ে রাজপথে নেমেছেন। তাদের পাশে আছেন রাজনীতিবিদরা, আছেন সেলিব্রেটিরা। মায়েরা বাসা থেকে খাবার নিয়ে আসছেন, কেউ পানি এগিয়ে দিচ্ছেন। কেউ অনলাইনে খাবার অর্ডার করে যন্তর-মন্তরের ঠিকানা দিয়ে দিচ্ছেন। এ এ অভূতপূর্ব গণজাগরণ। বাংলাদেশের ২৪ এর জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে ভারতের ককরোচ পার্টির আন্দোলনের মিল আছে আরো। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারি চাকরির প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারদের তুলনা করেছিলেন। তাতেই চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে থাকা তরুণরা ‘তুমি কে, আমি কে, রাজাকার রাজাকার’ স্লোগান দিয়ে মধ্যরাতে রাস্তায় নামলো। আন্দোলন পেলো নতুন গতি।
ভারতের প্রধান বিচারপতির ককরোচের সাথে তুলনায় ক্ষেপে গেল তরুণ প্রজন্ম। এবার আন্দোলনের ইস্যুটা মিলিয়ে দেখুন। বাংলাদেশে আন্দোলন শুরু হয়েছিল চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে। ককরোচ পার্টির প্রতিবাদ প্রশ্নপত্র ফাঁসের। তবে সমসাটা নিছক শিক্ষামন্ত্রীর নয়। এটাই আসলে সিস্টেমের সংকট। ভারত-বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে যখন তখন আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামতে পারবেন। যে কোনো সময় ইস্যু তৈরিই থাকে। শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখানোটা আরো সহজ। কারণ তাতে বঞ্চিত তারুণ্যকে পাশে পাওয়া যায়।
সিজেপির অবিশ্বাস্য উত্থানের বড় কারণ ভারতে বাড়তে থাকা বেকারত্ব। ভারতে শিক্ষিত গ্র্যাজুয়েটদের ২৯ ভাগই কাজ পাচ্ছে না। আর এই ‘অলস বেকারদের’ই ডাক দিয়েছে তেলাপোকাদের দল। পড়াশোনা শেষ করে ঠিকঠাক চাকরি না পেলে তরুণরা ক্ষুব্ধ হবেনই। এটা বিশ্বের সব দেশেরই বাস্তবতা। তবে ভারত-বাংলাদেশের মত জনবহুল দেশে বেকারত্বের হার বেশি, তাই ক্ষুব্ধ তরুণের সংখ্যাও বেশি। ভারতে প্রতিবছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী চাকরির বাজারে নামে। চাকরির জন্য তারা বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশ নেয়। দারুণ প্রতিযোগিতামূলক এসব পরীক্ষা নিয়ে তাদের অভিযোগের অন্ত নেই। প্রশ্নপত্র ফাঁস, নাম্বার দেওয়ায় ভুল, নানান কারিগরি ত্রুটি শিক্ষার্থীদের ক্ষুব্ধ করে। উল্টো করে ভাবুন, পরীক্ষা পদ্ধতি যদি একদম ঠিকও হয়ে যায়, ক্ষুব্ধ তরুণের সংখ্যা কিন্তু কমবে না। কর্মসংস্থান না বাড়িয়ে সিস্টেম ঠিক করলেও বেকারদের সংখ্যা একই থাকবে। তাই বেকার, ক্ষুব্ধ, নিজেদের বঞ্চিত মনে করা তারুণ্যের মধ্যে বিক্ষোভের আগুন জ্বালানোটা কঠিন নয়।
সিজেপি বলছে, তাদের আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়, অনিয়মের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের শুরুটাও সরকার পতনের দাবিতে ছিল না। তবে বাংলাদেশ বা নেপাল আর ভারতের রাজনৈতিক চিত্র এক নয়। বাংলাদেশ আর নেপাল এত ছোট, এক বিক্ষোভেই সরকার কাবু হয়ে গেছে। কিন্তু ভারত এত বড়, দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলনের উত্তাপ অরুণাচলে পৌছাবেই না হয়ত। ভারতের ক্ষমতা কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করতে নিছক জলোচ্ছ্বাসে কাজ হবে না, সর্বগ্রাসী সুনামি লাগবে। তবে সিজেপিই বলছে, তারা বিজেপিকে উৎখাত করতে মাঠে নামেনি। তারা যদি সিস্টেমের ত্রুটিগুলো সারাতে পারে, তরুণদের মনে যদি বঞ্চনার বোধ কমে আসে, তাও তো কম প্রাপ্তি নয়।
তবে শঙ্কাও আছে। নেপালের বিপ্লবীরা নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসতে না আসতেই হতাশা ভর করেছে। আর বাংলাদেশের তরুণরা তো নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতার অংশীদার হয়ে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে আন্দোলনের মূল চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। বাংলাদেশের তরুণদের দাবি যৌক্তিক ছিল, বিক্ষোভ তীব্র ছিল। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, সেই ক্ষোভ কাজে লাগিয়ে ডিপ স্টেট পেছন থেকে আন্দোলনকে পরিচালনা করেছে। আন্দোলন পরবর্তী ক্ষমতাসীনরাই স্বীকার করেছেন, এ আন্দোলন ছিল ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’এর অংশ। ভারতের তেলাপোকাদের ওড়ার পেছনেও ডিপ স্টেটের কৌশল আছে কিনা, তা নিয়েও গুঞ্জন আছে। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, তারা কোনো ফান্ডেড আন্দোলন করছেন না। সিস্টেম বদলাতে তা ফ্রি আন্দোলন করছেন।
ভবিষ্যতে কী হবে জানি না, তবে সিজেপির আন্দোলনের নৈতিক বিজয় হয়ে গেছে। শুরুতে তাদের কেউ পাত্তা না দিলেও এখন প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষামন্ত্রী সবাই তাদের কথা শুনতে, সংসদে আলোচনা করতে, প্রশ্ন ফাঁসের শাস্তি দিতে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে ২৭ দিন পর অনশন ভেঙেছেন সোনম ওয়াংচুক। ১২ বছরে নরেন্দ্র মোদি এত বড় চ্যালেঞ্জে আর পড়েননি। বিজেপির তুলনায় সিজেপি ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র। বিজেপি যদি হয় হাতি, সিজেপি তেলাপোকাও নয়; অতি ক্ষুদ্র পিঁপড়া মাত্র। কিন্তু সেই পিঁপড়াই জায়গামতো কামড়াতে পারলে হাতিকেও বিরক্ত করতে পারে।
ভারতেরই একটি সিনেমা আছে ‘মাক্ষি’ নামে। মহা প্রতাপশালী এক লোকের মাথায় ঢুকে পড়া এক মাছি তার জীবন অতিষ্ঠ করে ফেলে। এই তেলাপোকাও সেই মাছির মতো ক্ষমতাসীনদের মাথা খারাপ করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। তেলাপোকাকে যতই অবহেলা আর তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হোক, আদতে তেলাপোকা একটি নিরীহ পোকা। ‘করে নাকো ফোঁসফাঁস, মারে নাকো ঢুসঢাস’ মার্কা। কিন্তু কেন যেন অধিকাংশ মানুষ তেলাপোকাকে ভয় পায়। ভারতের ক্ষমতাসীনরা স্বীকার করুন আর নাই করুন, তেলাপোকা কিন্তু মহাপরাক্রমশালী নরেন্দ্র মোদির মনেও ভয় ধরাতে পেরেছেন। আপাতত এটাই প্রাপ্তি।