• ই-পেপার

মার্কিন হামলায় শিশু ক্যান্সার হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত, দাবি ইরানি চিকিৎসকের

ফেডের গুরুত্বপূর্ণ পদে ২ ভারতীয়কে নিয়োগ দিল যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
ফেডের গুরুত্বপূর্ণ পদে ২ ভারতীয়কে নিয়োগ দিল যুক্তরাষ্ট্র
রঘুরাম রাজন। ছবি : রয়টার্স

দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পর আর্থিক নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়াকে অরো কার্যকর করতে বড় ধরনের সংস্কার উদ্যোগ শুরু করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)। এর অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি বিভিন্ন নীতি ও কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য পাঁচটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে।

এসব টাস্ক ফোর্সে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিআই) সাবেক গভর্নর রঘুরাম রাজন, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ রাজ চেটি এবং মাইক্রোসফটের শীর্ষ কর্মকর্তা আশা শর্মাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাবেক গভর্নর মার্ভিন কিং, ওয়ালমার্টের সাবেক সিইও ডগ ম্যাকমিলন, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ টমাস সার্জেন্ট এবং সিলিকন ভ্যালির বিনিয়োগকারী মার্ক অ্যান্ড্রেসেনও এসব দলে রয়েছেন।

ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থা। ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্বাধীন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কাজ হলো দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সুদের হার নির্ধারণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা।

নবনিযুক্ত ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ বৃহস্পতিবার বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রের শীর্ষ বিশেষজ্ঞদের একত্র করে ফেডের কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করাই তাদের লক্ষ্য। তিনি জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করা হবে।

ওয়ার্শ বলেন, গত পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে মুদ্রাস্ফীতি ফেডের লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকায় নতুন চিন্তাভাবনা ও সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সে কারণেই এই টাস্ক ফোর্সগুলো গঠন করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, ১৫ জন অভিজ্ঞ ও বিভিন্ন মতাদর্শের বিশেষজ্ঞকে এই উদ্যোগে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে নতুন ধারণা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।

ফেডের কাজের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র, যোগাযোগ কৌশল, ব্যালেন্স শিট নীতি, অর্থনৈতিক তথ্যের ব্যবহার, উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থান এবং মুদ্রাস্ফীতির কাঠামো, এই টাস্ক ফোর্সগুলো পর্যালোচনা করবে। রঘুরাম রাজন হার্ভার্ডের অর্থনীতিবিদ ক্যারেন ডাইনান এবং ফেডের সাবেক গভর্নর জেরেমি স্টাইনের সঙ্গে ব্যালেন্স শিট পলিসি টাস্ক ফোর্সে কাজ করবেন। এই দল ফেডের বর্তমান ব্যালেন্স শিট ব্যবস্থার ব্যয়, সুবিধা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব মূল্যায়ন করবে। পাশাপাশি সম্পদ ধারণ এবং মুদ্রানীতি বাস্তবায়নে এসব সম্পদের ভূমিকা পর্যালোচনা করবে।

রাজন ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আরবিআইয়ের গভর্নর ছিলেন। এর আগে তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আর্থিক স্থিতিশীলতা ও মুদ্রানীতি নিয়ে তার কাজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। অন্যদিকে রাজ চেটি ডেটা টাস্ক ফোর্সের নেতৃত্ব দেবেন। এই দলের কাজ হবে অর্থনৈতিক তথ্যের মান ও দ্রুত প্রাপ্যতা উন্নত করা, যাতে ফেড আরো কার্যকর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। 

অর্থনৈতিক সুযোগ, বৈষম্য ও শ্রমবাজার নিয়ে গবেষণার জন্য চেটি সুপরিচিত। মাইক্রোসফটের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও এক্সবক্স প্রধান আশা শর্মা প্রোডাক্টিভিটি অ্যান্ড জবস টাস্ক ফোর্সে কাজ করবেন। এই দল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)সহ নতুন প্রযুক্তির উৎপাদনশীলতা, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব মূল্যায়ন করবে। ফেড বর্তমানে তার মুদ্রানীতি কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন করছে। 

কোভিড-১৯ মহামারির সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি তার ব্যালেন্স শিট প্রায় ৯ ট্রিলিয়ন ডলারে সম্প্রসারণ করেছিল। এখন মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সেই ব্যালেন্স শিট ধীরে ধীরে কমানোর প্রক্রিয়াও চলছে। এই প্রেক্ষাপটে গঠিত নতুন টাস্ক ফোর্সগুলো ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।


 

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ৯

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ৯
ফাইল ছবি

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি বিক্ষোভকারী সংগঠনের সমর্থকদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আঞ্চলিক নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার (১৫ জুলাই) বড় একটি মিছিল করার পরিকল্পনা করেছিল সংগঠনটি। তবে তার আগেই বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই সংঘর্ষের পেছনে মূল বিরোধ আঞ্চলিক আইনসভার ১২টি সংরক্ষিত আসন নিয়ে। এসব আসন পাকিস্তানের অন্য অঞ্চলে বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য নির্ধারিত। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থা স্থানীয় মানুষের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে দিচ্ছে। তাদের দাবি, সংরক্ষিত আসনের কারণে নির্বাচনে স্থানীয় জনগণের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। 

পুঞ্চ বিভাগের কমিশনার ওয়াহিদ খান বলেন, পুঞ্চ এলাকায় বিক্ষোভকারীরা একটি নিরাপত্তা বহরের পথ আটকে দেন। এ সময় তারা দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের ওপরও হামলা চালান। তার দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আত্মরক্ষার জন্য পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা ব্যবস্থা নেন। ওয়াহিদ খান জানান, তারারখাল এলাকায় সংঘর্ষে ছয়জন বিক্ষোভকারী এবং একজন পুলিশ সদস্য নিহত হন। অন্যদিকে রাওয়ালাকোটে আরেকটি সংঘর্ষে একজন বিক্ষোভকারী ও একজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে মোট সাতজন বিক্ষোভকারী এবং দুজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।

যৌথ কর্মপরিষদ বা জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) নামে পরিচিত সংগঠনটিকে গত জুন মাসে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সংগঠনটি বুধবার রাওয়ালাকোটের দিকে মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। পুঞ্চ বিভাগের কমিশনার বলেন, রাওয়ালাকোট শহরে যাতে মিছিলকারীরা প্রবেশ করতে না পারেন, সে জন্য নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের হিসাব অনুযায়ী, জুন মাসে অস্থিরতা শুরু হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সহিংস ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন নিহত হয়েছেন। নির্বাচন ঘিরে চলমান এই উত্তেজনায় পরিস্থিতি আরো অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।


 

আইআরজিসিকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি ঘোষণা, ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করল ইরান

অনলাইন ডেস্ক
আইআরজিসিকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি ঘোষণা, ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করল ইরান
ছবি : রয়টার্স

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জেরে তেহরানে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাসনিম সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বুধবার (১৫ জুন) ইরান যুক্তরাজ্যের এ সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, এই পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে এবং বিষয়টি উপেক্ষা করা হবে না। তেহরানের মতে, এ সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর একদিন আগে লন্ডনে ইরানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আলি নাসিমফারকে তলব করেছিল যুক্তরাজ্য। 

ব্রিটিশ সরকারের অভিযোগ, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাতে প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের ভূমিকা রয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইতেই তাকে তলব করা হয়।

গত সোমবার যুক্তরাজ্য নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় আইআরজিসি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। ব্রিটিশ সরকার বলেছে, বিদেশি রাষ্ট্রগুলো যাতে নজরদারি, নাশকতা ও অন্যান্য গোপন কর্মকাণ্ডে প্রক্সি গোষ্ঠী ব্যবহার করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।


 

কিডনি প্রতিস্থাপন নয়তো মৃত্যু, ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে ৫ মায়ের আবেদন

অনলাইন ডেস্ক
কিডনি প্রতিস্থাপন নয়তো মৃত্যু, ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে ৫ মায়ের আবেদন
সংগৃহীত ছবি

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের কোটা শহরে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর কিডনি বিকল হয়ে যাওয়া পাঁচ নারী ডায়ালাইসিস করাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, বারবার ডায়ালাইসিসের পরিবর্তে দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। আর সরকার যদি সেই চিকিৎসা নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে তাদের স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিতে হবে।

এই দাবিতে পাঁচ নারীর পরিবার ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়েছে। সেখানে কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা অথবা স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এর আগে কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করতে জেলা প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছিলেন ওই নারীরা। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হলেও তারা কোনো লিখিত আশ্বাস বা ইতিবাচক সাড়া পাননি। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাঁচ নারীর চিকিৎসা এখনো চলছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধান্নি সুমন, রাগিণী মীনা, সুশীলা মাহাওয়ার, পিঙ্কি আইরওয়াল ও আরতি চৌবদার গত মে মাসের শুরুতে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের কিডনি বিকল হয়ে যায়। এরপর থেকে তারা নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত প্রত্যেকে ৩২ বার ডায়ালাইসিস নিয়েছেন। গত ৭০ দিনের বেশি সময় ধরে তারা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। একই সময়ে কোটার নিউ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও জে কে লোন হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর জটিলতায় আরো পাঁচ নারীর মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

সুমনের স্বামী মোহন লাল বলেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে তার স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এখন তিনি ‘ডায়ালাইসিস’ শব্দটিই শুনতে চান না। তার ভাষায়, ডায়ালাইসিস শুরু হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই সুমনের বমি শুরু হয়। শরীর প্রচণ্ড কাঁপতে থাকে এবং পরে জ্বর আসে। প্রতিবার চিকিৎসার সময় একই ধরনের কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। রাগিণী মীনা বলেন, ডায়ালাইসিসের পুরো প্রক্রিয়াই খুব কষ্টকর। এতদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও তাদের অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। বুধবার পিঙ্কি ও আরতির ডায়ালাইসিস করানোর কথা ছিল। কিন্তু তারা চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে বেরিয়ে যান। এ সময় তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তোলেন। রাগিণীর স্বামী লোকেশ মীনা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের ওয়ার্ডের কর্মীরা প্রতিদিন তাদের ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেন।

পাঁচ নারীর পরিবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে পাঠানো স্মারকলিপিতে জানিয়েছে, দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে তাদের স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেওয়া হোক। এর আগে একই দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সিদ্ধান্ত বা লিখিত আশ্বাস মেলেনি। এর আগে মোহন লাল বলেছিলেন, পরিবারের সদস্যরা আর তাদের এই কষ্ট সহ্য করতে পারছেন না। তিনি বলেন, '৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি কিডনি প্রতিস্থাপনের লিখিত আশ্বাস না পাই, তাহলে আমরা আর তাদের ডায়ালাইসিস করাতে আনব না। এভাবে কষ্ট দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেয়ে মৃত্যুই ভালো। আমরা নিজেরাও যেন জীবন্ত লাশের মতো জীবন কাটাচ্ছি।'

নিউ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. নিলেশ জৈন বলেছেন, পাঁচ নারীর চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের সবার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তিনি জানান, প্রায় ২০ দিন আগেই তাদের এমন অবস্থায় আনা হয়েছিল, যাতে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া সম্ভব ছিল। চাইলে তারা বাড়িতে থেকে নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে এসে ডায়ালাইসিস করাতে পারেন। ডা. জৈন বলেন, ডায়ালাইসিস বন্ধ করে দিলে রোগীদের জীবনের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে। তিনি আরো জানান, এ ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা প্রথমে প্রায় তিন মাস ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসার মাধ্যমে কিডনির কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। এরপর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেন, কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন হবে কি না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অবহেলার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। তার দাবি, চিকিৎসার সময় কোনো সমস্যা হলে রোগী বা তাদের স্বজনদের তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। তাহলে দ্রুত সেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা সম্ভব হবে।