• ই-পেপার

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ৯

মার্কিন হামলায় শিশু ক্যান্সার হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত, দাবি ইরানি চিকিৎসকের

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন হামলায় শিশু ক্যান্সার হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত, দাবি ইরানি চিকিৎসকের
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া।

ইরানের এক চিকিৎসক দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় দেশটির একটি শিশু ক্যান্সার হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মার্কিন হামলার পর ইরানের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করছেন। বাসিন্দাদের দাবি, হামলায় একটি বন্দরসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানি ওই চিকিৎসক ও দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজে শহীদ বাঘাই হাসপাতালের কাছাকাছি এলাকায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। হাসপাতালটিতে শিশু ও অন্যান্য ক্যান্সার রোগীদের কেমোথেরাপি চিকিৎসা দেওয়া হয়। হামলার পর নিরাপত্তার কারণে রোগীদের সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ নেয়। তবে হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না বা হাসপাতালটির কতটা ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
 

আইআরজিসিকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি ঘোষণা, ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করল ইরান

অনলাইন ডেস্ক
আইআরজিসিকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি ঘোষণা, ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করল ইরান
ছবি : রয়টার্স

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জেরে তেহরানে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাসনিম সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বুধবার (১৫ জুন) ইরান যুক্তরাজ্যের এ সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, এই পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে এবং বিষয়টি উপেক্ষা করা হবে না। তেহরানের মতে, এ সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর একদিন আগে লন্ডনে ইরানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আলি নাসিমফারকে তলব করেছিল যুক্তরাজ্য। 

ব্রিটিশ সরকারের অভিযোগ, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাতে প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের ভূমিকা রয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইতেই তাকে তলব করা হয়।

গত সোমবার যুক্তরাজ্য নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় আইআরজিসি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। ব্রিটিশ সরকার বলেছে, বিদেশি রাষ্ট্রগুলো যাতে নজরদারি, নাশকতা ও অন্যান্য গোপন কর্মকাণ্ডে প্রক্সি গোষ্ঠী ব্যবহার করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।


 

কিডনি প্রতিস্থাপন নয়তো মৃত্যু, ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে ৫ মায়ের আবেদন

অনলাইন ডেস্ক
কিডনি প্রতিস্থাপন নয়তো মৃত্যু, ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে ৫ মায়ের আবেদন
সংগৃহীত ছবি

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের কোটা শহরে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর কিডনি বিকল হয়ে যাওয়া পাঁচ নারী ডায়ালাইসিস করাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, বারবার ডায়ালাইসিসের পরিবর্তে দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। আর সরকার যদি সেই চিকিৎসা নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে তাদের স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিতে হবে।

এই দাবিতে পাঁচ নারীর পরিবার ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়েছে। সেখানে কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা অথবা স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এর আগে কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করতে জেলা প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছিলেন ওই নারীরা। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হলেও তারা কোনো লিখিত আশ্বাস বা ইতিবাচক সাড়া পাননি। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাঁচ নারীর চিকিৎসা এখনো চলছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধান্নি সুমন, রাগিণী মীনা, সুশীলা মাহাওয়ার, পিঙ্কি আইরওয়াল ও আরতি চৌবদার গত মে মাসের শুরুতে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের কিডনি বিকল হয়ে যায়। এরপর থেকে তারা নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত প্রত্যেকে ৩২ বার ডায়ালাইসিস নিয়েছেন। গত ৭০ দিনের বেশি সময় ধরে তারা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। একই সময়ে কোটার নিউ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও জে কে লোন হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর জটিলতায় আরো পাঁচ নারীর মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

সুমনের স্বামী মোহন লাল বলেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে তার স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এখন তিনি ‘ডায়ালাইসিস’ শব্দটিই শুনতে চান না। তার ভাষায়, ডায়ালাইসিস শুরু হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই সুমনের বমি শুরু হয়। শরীর প্রচণ্ড কাঁপতে থাকে এবং পরে জ্বর আসে। প্রতিবার চিকিৎসার সময় একই ধরনের কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। রাগিণী মীনা বলেন, ডায়ালাইসিসের পুরো প্রক্রিয়াই খুব কষ্টকর। এতদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও তাদের অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। বুধবার পিঙ্কি ও আরতির ডায়ালাইসিস করানোর কথা ছিল। কিন্তু তারা চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে বেরিয়ে যান। এ সময় তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তোলেন। রাগিণীর স্বামী লোকেশ মীনা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের ওয়ার্ডের কর্মীরা প্রতিদিন তাদের ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেন।

পাঁচ নারীর পরিবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে পাঠানো স্মারকলিপিতে জানিয়েছে, দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে তাদের স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেওয়া হোক। এর আগে একই দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সিদ্ধান্ত বা লিখিত আশ্বাস মেলেনি। এর আগে মোহন লাল বলেছিলেন, পরিবারের সদস্যরা আর তাদের এই কষ্ট সহ্য করতে পারছেন না। তিনি বলেন, '৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি কিডনি প্রতিস্থাপনের লিখিত আশ্বাস না পাই, তাহলে আমরা আর তাদের ডায়ালাইসিস করাতে আনব না। এভাবে কষ্ট দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেয়ে মৃত্যুই ভালো। আমরা নিজেরাও যেন জীবন্ত লাশের মতো জীবন কাটাচ্ছি।'

নিউ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. নিলেশ জৈন বলেছেন, পাঁচ নারীর চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের সবার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তিনি জানান, প্রায় ২০ দিন আগেই তাদের এমন অবস্থায় আনা হয়েছিল, যাতে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া সম্ভব ছিল। চাইলে তারা বাড়িতে থেকে নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে এসে ডায়ালাইসিস করাতে পারেন। ডা. জৈন বলেন, ডায়ালাইসিস বন্ধ করে দিলে রোগীদের জীবনের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে। তিনি আরো জানান, এ ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা প্রথমে প্রায় তিন মাস ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসার মাধ্যমে কিডনির কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। এরপর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেন, কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন হবে কি না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অবহেলার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। তার দাবি, চিকিৎসার সময় কোনো সমস্যা হলে রোগী বা তাদের স্বজনদের তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। তাহলে দ্রুত সেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা সম্ভব হবে।

বিশ্বে চীনের গ্রহণযোগ্যতা এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি : পিউ গবেষণা

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বে চীনের গ্রহণযোগ্যতা এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি : পিউ গবেষণা
ছবি: রয়টার্স

বিশ্বের অনেক দেশে এখন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনকে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের নতুন এক বৈশ্বিক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির ২০০২ সাল থেকে পরিচালিত জরিপের ইতিহাসে এবারই প্রথম এত বেশি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের প্রতি মানুষের ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেল।

পিউ রিসার্চ সেন্টার জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চীন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা এখন রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে মানুষের ইতিবাচক ধারণা আগের তুলনায় আরো কমেছে। জরিপে আরো দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং—দুজনের প্রতিই মানুষের আস্থা তুলনামূলকভাবে কম। তবে বেশির ভাগ দেশে ট্রাম্পের চেয়ে শি চিনপিংয়ের ওপর কিছুটা বেশি আস্থা প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারীরা। গবেষণার জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে বিশ্বের ৩৬টি দেশের ৪২ হাজারের বেশি মানুষের মতামত নেওয়া হয়। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে খুব ইতিবাচক, কিছুটা ইতিবাচক, কিছুটা নেতিবাচক নাকি খুব নেতিবাচকভাবে দেখেন। জরিপে অংশ নেওয়া ৩৬টি দেশের মধ্যে ২৫টিতে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা মানুষের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি। মাত্র ছয়টি দেশে এখনো যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের চেয়ে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখা হয়েছে। দেশগুলো হলো পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান ও ইসরায়েল। এগুলোর বেশির ভাগই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষক জনাথন শুলম্যান বলেন, ২০০২ সাল থেকে তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড় শক্তিধর দেশগুলো সম্পর্কে মানুষের মতামত নিয়ে কাজ করছেন। কিন্তু এবারই প্রথম এত বেশি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনকে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখা হয়েছে। তিনি জানান, অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তা কমেছে। বিশেষ করে ২০০৮ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের শেষ দিকে এবং ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুতে এমন প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। তবে তখনও চীনের ভাবমূর্তি সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের সমান বা কিছুটা কম ছিল। এবারের জরিপে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব সবচেয়ে বেশি বেড়েছে স্পেন, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, গ্রিস ও কানাডায়। এ ছাড়া ইতালি, স্পেন, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও তুরস্কে চীন সম্পর্কে ইতিবাচক মতামত ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষ সাধারণভাবে চীনকে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখেন। অন্যদিকে ধনী দেশগুলোতে চীন সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তুলনামূলক বেশি।

তবে এই প্রবণতার একটি ব্যতিক্রম সিঙ্গাপুর। মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে জরিপে থাকা দেশগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুর শীর্ষে থাকলেও দেশটিতে চীন সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব শক্তিশালী। জরিপে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক মত এসেছে পাকিস্তান থেকে। সেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চীনকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ইতিবাচক মত এসেছে জাপান থেকে। সেখানে মাত্র ১১ শতাংশ মানুষ চীন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা প্রকাশ করেছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কাছে আরো জানতে চাওয়া হয়, বিশ্ব রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি চিনপিংয়ের ওপর কতটা আস্থা রাখেন। ফলাফলে দেখা যায়, দুই নেতার প্রতিই আস্থার হার বেশির ভাগ দেশে ৫০ শতাংশের নিচে। তবে অনেক দেশেই ট্রাম্পের তুলনায় শি চিনপিংয়ের প্রতি মানুষের আস্থা বেশি। শি চিনপিংয়ের প্রতি সবচেয়ে বেশি আস্থা দেখা গেছে পাকিস্তানে। সেখানে ৮৩ শতাংশ মানুষ তার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। বিপরীতে সবচেয়ে কম আস্থা দেখা গেছে জাপানে। সেখানে মাত্র ৭ শতাংশ মানুষ শির ওপর আস্থা রাখেন। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সবচেয়ে বেশি আস্থা প্রকাশ করেছেন ফিলিপাইনের মানুষ। সেখানে তার প্রতি আস্থার হার ৬৮ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম আস্থা দেখা গেছে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে। সেখানে মাত্র চার শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। গবেষক জনাথন শুলম্যান বলেন, শি চিনপিংকে নিয়ে মানুষের মতামত সাধারণত খুব শক্ত অবস্থানের হয় না। কিন্তু ট্রাম্পের ক্ষেত্রে মানুষ অনেক বেশি স্পষ্ট ও চরম অবস্থান থেকে মতামত দিয়েছেন।

জরিপে দেখা গেছে, এখনো বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন, চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিজেদের নাগরিকদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে বেশি সম্মান করে। তবে আগের তুলনায় এই ব্যবধান কমে এসেছে। অন্যদিকে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। মধ্যম আয়ের কয়েকটি দেশে করা অতিরিক্ত জরিপে ৭৫ শতাংশ মানুষ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনেক বেশি হস্তক্ষেপ করে। একই প্রশ্নে চীনের ক্ষেত্রে এই মত দিয়েছেন ৪৫ শতাংশ মানুষ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্যান্য আন্তর্জাতিক গবেষণাতেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। জরিপকারী প্রতিষ্ঠান গ্যালাপ জানিয়েছে, গত বছর বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে চীন প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে। গত দুই দশকের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় ব্যবধান।

তবে এশিয়া সোসাইটির আরেকটি গবেষণায় বলা হয়েছে, করোনা মহামারির সময় চীনের যে ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তা এখন পর্যন্ত সীমিত পরিসরে উন্নতি করেছে। কার্নেগি চায়নার গবেষক ড. চং জা ইয়ান বলেন, পিউর সর্বশেষ ফল তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়নি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে ঘন ঘন পরিবর্তন, শক্তি প্রয়োগের প্রবণতা এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব অনেক দেশকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ফলে অনেক দেশের মানুষ চীনকে তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন। তিনি বলেন, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে চীন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এর প্রভাবও এখন দেখা যাচ্ছে। তবে ড. চং মনে করেন, চীনের প্রতি ইতিবাচক ধারণা বাড়লেও শি চিনপিংয়ের প্রতি মানুষের আস্থা তুলনামূলক কম থাকার কারণও রয়েছে।

তার ভাষায়, অনেক মানুষ চীনকে একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে দেখেন। কিন্তু একই সঙ্গে তারা শি চিনপিংকে একজন শক্তিশালী কর্তৃত্ববাদী নেতা বলেও মনে করেন। তিনি আরো বলেন, শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চীন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান অন্য দেশগুলোর ওপরও জোর দিয়ে তুলে ধরছে। এ ছাড়া দেশটিতে সংখ্যালঘুদের অধিকার ও তাদের সঙ্গে আচরণ নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন রয়েছে। তার মতে, অনেক মানুষ প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মতো ইতিবাচক বিষয়গুলো চীনের সাফল্য হিসেবে দেখেন। তবে কঠোর নীতি ও চাপ সৃষ্টি করা সিদ্ধান্তগুলোর জন্য ব্যক্তিগতভাবে শি চিনপিংকেই দায়ী করেন।