পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি বিক্ষোভকারী সংগঠনের সমর্থকদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
এ মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আঞ্চলিক নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার (১৫ জুলাই) বড় একটি মিছিল করার পরিকল্পনা করেছিল সংগঠনটি। তবে তার আগেই বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই সংঘর্ষের পেছনে মূল বিরোধ আঞ্চলিক আইনসভার ১২টি সংরক্ষিত আসন নিয়ে। এসব আসন পাকিস্তানের অন্য অঞ্চলে বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য নির্ধারিত। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থা স্থানীয় মানুষের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে দিচ্ছে। তাদের দাবি, সংরক্ষিত আসনের কারণে নির্বাচনে স্থানীয় জনগণের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না।
পুঞ্চ বিভাগের কমিশনার ওয়াহিদ খান বলেন, পুঞ্চ এলাকায় বিক্ষোভকারীরা একটি নিরাপত্তা বহরের পথ আটকে দেন। এ সময় তারা দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের ওপরও হামলা চালান। তার দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আত্মরক্ষার জন্য পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা ব্যবস্থা নেন। ওয়াহিদ খান জানান, তারারখাল এলাকায় সংঘর্ষে ছয়জন বিক্ষোভকারী এবং একজন পুলিশ সদস্য নিহত হন। অন্যদিকে রাওয়ালাকোটে আরেকটি সংঘর্ষে একজন বিক্ষোভকারী ও একজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে মোট সাতজন বিক্ষোভকারী এবং দুইজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।
যৌথ কর্মপরিষদ বা জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) নামে পরিচিত সংগঠনটিকে গত জুন মাসে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সংগঠনটি বুধবার রাওয়ালাকোটের দিকে মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। পুঞ্চ বিভাগের কমিশনার বলেন, রাওয়ালাকোট শহরে যাতে মিছিলকারীরা প্রবেশ করতে না পারেন, সে জন্য নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের হিসাব অনুযায়ী, জুন মাসে অস্থিরতা শুরু হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সহিংস ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন নিহত হয়েছেন। নির্বাচন ঘিরে চলমান এই উত্তেজনায় পরিস্থিতি আরো অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।





