• ই-পেপার

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়াল

শ্রীলঙ্কার কারাগারে দাঙ্গায় নিহত ২৬, দায় স্বীকার করলেন আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
শ্রীলঙ্কার কারাগারে দাঙ্গায় নিহত ২৬, দায় স্বীকার করলেন আইনমন্ত্রী
ছবি: রয়টার্স

শ্রীলঙ্কার একটি কারাগারে ভয়াবহ দাঙ্গায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ব্যক্তিগতভাবে দায় স্বীকার করেছেন দেশটির আইনমন্ত্রী হর্ষণা নানায়াক্কারা। তিনি বলেছেন, এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশটির সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই দাঙ্গা ঘটেছে রাজধানী কলম্বোর উত্তরে উপকূলীয় শহর নেগোম্বোর একটি কারাগারে। সেখানে দুই দিন ধরে চলা সহিংসতায় বন্দি ও কারারক্ষীসহ ১০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। রবিবার কারাগারের ভেতরে বন্দিদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের মাধ্যমে অস্থিরতা শুরু হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই দুই গোষ্ঠীর সঙ্গে কারাগারের ভেতরে মাদক পাচারের যোগসূত্র ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারাগারের ভেতরে মাদক চক্রের তথ্য ফাঁস করা এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে বিরোধ তৈরি হয়। পরে সেই বিরোধ বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়। সোমবার সকালে বন্দিদের খাবার দেওয়ার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আরো বাইরে চলে যায়। কয়েকজন বন্দি কারাগারের বিভিন্ন অংশে ঢুকে পড়েন। তারা কারাগারের হাসপাতালেও প্রবেশ করেন এবং ওষুধ লুট করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন ধাতব জিনিস অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন।

কয়েকজন বন্দি কারাগার থেকে পালানোর চেষ্টা করেন বলেও জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে গুলির শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ, কাটা জখম এবং গুরুতর আহত ব্যক্তিদের প্রথমে নেগোম্বো হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত প্রায় ২০ জনকে কলম্বোর জাতীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কারাগারের গণমাধ্যম মুখপাত্র এ সি গজনায়াকে জানান, নিহতদের মধ্যে সাতজন কারারক্ষী এবং ১৯ জন বন্দি ছিলেন। তবে অন্যান্য সরকারি তথ্যেও নিহতের সংখ্যা ২৬ বলে জানানো হয়েছে। ঘটনার পর নেগোম্বো কারাগারের বাইরে স্বজনদের ভিড় জমে যায়। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং ভেতরে থাকা স্বজনদের খোঁজ জানতে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেন। কেউ কেউ ঘটনার ব্যাখ্যা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বর্তমান অবস্থা জানতে দাবি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, বিশেষ টাস্ক ফোর্স, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট, সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। কারাগারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোনও ব্যবহার করা হয়। 

আইনমন্ত্রী হর্ষণা নানায়াক্কারা বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে কোনো ধরনের প্রাণহানিই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, 'আমরা গভীরভাবে হতবাক। চারদিকে গভীর শোক ও মানসিক আঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। এটি আমাদের কর্মীদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। এই ঘটনা বন্দি ও কর্মী- উভয়ের সঙ্গেই জড়িত। মানুষের প্রাণহানি অত্যন্ত বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।' নানায়াক্কারা বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। তিনি বলেন, কোথায় ভুল হয়েছে, কার দায় ছিল এবং কীভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হলো- সব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। তিনি আরো বলেন, 'যেহেতু এই ঘটনা ঘটেছে, তাই আমাদের ঘটনাস্থলে যেতে হবে। বিস্তারিত তদন্ত করতে হবে। প্রকৃত ঘটনা জানতে হবে। এরপর নিশ্চিত করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে এমন কিছু আর না ঘটে। আমরা কারও ভুল ঢাকতে বা কাউকে রক্ষা করতে চাই না।' আইনমন্ত্রী বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কারা ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। তাই এই ঘটনার দায় নিজের ওপরও নিতে হবে। তিনি বলেন, 'আইনমন্ত্রী হিসেবে এই প্রতিষ্ঠান আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাই এই দায়িত্ব আমাকে স্বীকার করতেই হবে।' তবে তিনি জানান, শুধু দুঃখ প্রকাশ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ঘটনার পেছনে থাকা কারণ, দায়ী ব্যক্তি এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা খুঁজে বের করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

কারাগারের মুখপাত্র এ সি গজনায়াকে জানান, সংঘর্ষের কারণ জানতে বিশেষ তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও আলাদা তদন্ত চলছে। কারা বিভাগের মহাপরিচালক এ ঘটনার জন্য একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছেন। নেগোম্বো কারাগারের এই দাঙ্গা শ্রীলঙ্কার দীর্ঘদিনের কারা সংকটকে আবার সামনে এনেছে। দেশটির কারাগারগুলোতে অতিরিক্ত বন্দি, মাদক চক্রের প্রভাব এবং জনবলের ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে রয়েছে। শ্রীলঙ্কার কারাগার ব্যবস্থায় ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি বন্দি রয়েছে। দেশটির কারাগারগুলোতে প্রায় ১০ হাজার বন্দি রাখার ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে সেখানে ৩৯ হাজারের বেশি বন্দি রয়েছেন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই এই বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটল।

এর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কার একটি কারাগারে দাঙ্গায় ১১ জন নিহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় অভিযোগ ওঠে, অতিরিক্ত ভিড় থাকা কারাগারে মহামারি পরিস্থিতি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হলে তা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে কারারক্ষীরা গুলি চালিয়েছিলেন।

ইরানের পবিত্র শহর কোমে পৌঁছেছে খামেনির কফিন

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের পবিত্র শহর কোমে পৌঁছেছে খামেনির কফিন
ছবি : রয়টার্স

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ পবিত্র শহর কোমে পৌঁছেছে। সেখানে শহরটির দক্ষিণে অবস্থিত জামকারান মসজিদে হাজার হাজার মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়েছেন। খামেনির শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা এখানেই শেষ হচ্ছে না।

আগামী দিনগুলোতে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায়ও স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার নিজ শহর মাশহাদে চূড়ান্তভাবে দাফন করা হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন উপলক্ষে তেহরানের রাস্তায় বিপুল জনসমাগম ঘটেছে। শোকসভা, মিছিল ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে লাখো মানুষ অংশ নিচ্ছেন, যা দেশটির ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠী জাতীয় ঐক্যের প্রদর্শন হিসেবে তুলে ধরছে।

সরকারের পক্ষ থেকে পরিবহন, খাবার ও থাকার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এই জনসমাগমকে বিদেশি প্রতিপক্ষ ও অভ্যন্তরীণ সমালোচকদের উদ্দেশে শক্তি ও প্রতিরোধের বার্তা হিসেবে প্রচার করছে।

শিয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানে ধর্মীয় ঐতিহ্যের কারণে অনেক মানুষ এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন। সোমবারের সমাবেশে ঠিক কত মানুষ অংশ নিয়েছেন, তা রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে ড্রোনে ধারণ করা ভিডিওতে কয়েক লাখ মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে।

ইরানে সর্বোচ্চ নেতার দাফন খুবই বিরল একটি ঘটনা। এর আগে ১৯৮৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের নেতা ও ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি দাফন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তখন লাখো মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়া আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে যুদ্ধ চলার কারণে দ্রুত দাফন করা যায়নি। ফলে সরকার বড় পরিসরে রাষ্ট্রীয়ভাবে দাফন অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য আরো সময় পেয়েছে। 

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হুমকি অব্যাহত থাকলে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে এ মন্তব্য করেন।

আরাগচি বলেন, নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শেষকৃত্যে লাখো গর্বিত ইরানি অংশ নিচ্ছেন। তিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘এই মানুষগুলো কিংবা আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী কোনো হুমকিতে ভীত নয়।’ একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন।’

এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, নয়তো ‘বাকি কাজ শেষ করবে’।

সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের সেতুগুলো ধ্বংস করতে পারি, তাদের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা অচল করে দিতে পারি। এখন তাদের কাছে কোনো অর্থ নেই, আর আমরা তাদের কোনো অর্থও দিইনি।’

সিরিয়ায় পৌঁছালেন ম্যাখোঁ, আসাদ সরকার পতনের পর প্রথম ইইউ নেতার সফর

অনলাইন ডেস্ক
সিরিয়ায় পৌঁছালেন ম্যাখোঁ, আসাদ সরকার পতনের পর প্রথম ইইউ নেতার সফর
সংগৃহীত ছবি

সিরিয়ায় নিজের প্রথম সরকারি সফরে দামেস্কে পৌঁছে দেশটির জনগণের প্রতি ফ্রান্সের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। তিনি স্বাধীন, ঐক্যবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ সিরিয়ার পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

সোমবার স্থানীয় সময় দামেস্কে পৌঁছান ম্যাখোঁ। তার এই সফরকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো দায়িত্বশীল রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনিই প্রথম সরকারি সফরে সিরিয়া গেলেন। দামেস্কে পৌঁছানোর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ম্যাখোঁ বলেন, সিরিয়ার জনগণের প্রতি ফ্রান্সের প্রতিশ্রুতি জানাতেই তিনি দেশটিতে এসেছেন। তিনি বলেন, ফ্রান্স এমন একটি সার্বভৌম সিরিয়া দেখতে চায়, যা নিজেদের বৈচিত্র্য ধরে রেখেও ঐক্যবদ্ধ থাকবে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে। তিনি স্থিতিশীলতা ও শান্তির নতুন অধ্যায় শুরু করার আহ্বান জানান।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র ও প্রবাসীবিষয়ক মন্ত্রণালয়ও ম্যাখোঁর দামেস্কে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয় জানায়, সিরিয়ার রাজধানীতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ হাসান আল-শিবানি। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এটি সিরিয়ায় ম্যাখোঁর প্রথম সরকারি সফর এবং এ সফরের জন্য তাকে রাজধানী দামেস্কে স্বাগত জানানো হয়েছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স টোয়েন্টি ফোরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দেশটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং দুর্বল অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

২০০৯ সালে ফ্রান্সের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজির সফরের পর এবারই প্রথম কোনো ফরাসি প্রেসিডেন্ট সিরিয়া সফর করলেন। ২০১১ সালে বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ শুরু হলে কঠোর দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। দীর্ঘ ১৩ বছরের বেশি সময় ধরে চলা সেই সংঘাতে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে সিরিয়ার অবকাঠামো ও অর্থনীতির বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে আসাদ সরকারের পতনের পরও সিরিয়ার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। সম্প্রতি দামেস্কের একটি ক্যাফেতে প্রাণঘাতী বোমা হামলার ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির দুর্বলতা আবারও সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সংঘাতের পর দেশকে পুনরায় একত্রিত করা এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা নতুন নেতৃত্বের জন্য বড় পরীক্ষা।

গত বছর সিরিয়া ইসলামিক স্টেটবিরোধী আন্তর্জাতিক জোটে যোগ দেয়। একই সময়ে দেশটির নতুন নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ফ্রান্স টোয়েন্টি ফোর জানিয়েছে, প্রতিবেশী তুরস্ক সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক। অন্যদিকে, বাশার আল-আসাদের পতনের পর ইসরায়েল সিরিয়ায় একাধিকবার বিমান হামলা ও সামরিক অভিযান চালিয়েছে।

ম্যাখোঁর সফরের পরবর্তী ধাপে তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় যাবেন। সেখানে পরদিন তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে। এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বুধবার ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সম্প্রতি সিরিয়াকে লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে ফ্রান্স এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে।

ফ্রান্স টোয়েন্টি ফোরের তথ্য অনুযায়ী, আহমেদ আল-শারা বলেছেন, লেবাননের চলমান পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করার কোনো পরিকল্পনা সিরিয়ার নেই।

আদালতে মৃত্যুদণ্ড

ঘুষ নিয়ে প্রকল্পের চুক্তি, জমি ও অর্থায়নের ব্যবস্থা করে দিতেন ইয়াং

অনলাইন ডেস্ক
ঘুষ নিয়ে প্রকল্পের চুক্তি, জমি ও অর্থায়নের ব্যবস্থা করে দিতেন ইয়াং
ছবি : সিসিটিভি/বিবিসি

চীনের পূর্বাঞ্চলের একটি আদালত ৩০ বছরে ২২০ কোটির বেশি ইউয়ান ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে এক সাবেক নগর কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ইয়াং ইউলিন (৬৯) ১৯৯৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নানজিং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। আদালত তাকে ঘুষ গ্রহণ, অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থপাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়াং তার ক্ষমতা ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রকৌশল প্রকল্পের চুক্তি, জমি হস্তান্তর এবং অর্থায়নের ব্যবস্থা করে দিতেন। এর বিনিময়ে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান উপহার গ্রহণ করেন।

আদালত জানিয়েছে, তার অপরাধ ছিল অত্যন্ত গুরুতর এবং এতে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইয়াং ইউলিনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে। এই অভিযানে সামরিক বাহিনী, ব্যাংকিং খাত এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বহু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ক্ষমতায় আসার পর থেকে শি চিনপিং একাধিক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন। তবে সমালোচকদের দাবি, এসব অভিযান কখনো কখনো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরানোর হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। 

চীনে অর্থনৈতিক অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড তুলনামূলকভাবে বিরল। তবে এক বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি আর্থিক দুর্নীতির ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে এমন শাস্তি দেওয়া হয়। এর আগে ২০২১ সালে ১৮০ কোটি ইউয়ান ঘুষ নেওয়ার দায়ে দেশটির সাবেক আর্থিক খাতের শীর্ষ কর্মকর্তা লাই শিয়াওমিনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।

চীনে বড় অঙ্কের দুর্নীতির মামলায় মৃত্যুদণ্ডের নজির আগেও রয়েছে। ২০২৪ সালে ইনার মঙ্গোলিয়ার সাবেক কর্মকর্তা লি জিয়ানপিংকে ৩০০ কোটির বেশি ইউয়ান আত্মসাৎ ও ঘুষ নেওয়ার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে আদালত কারাদণ্ড বা স্থগিত মৃত্যুদণ্ড দিয়ে থাকে, যা নির্দিষ্ট সময় পর সাধারণত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিবর্তিত হয়। 

এ ছাড়া অন্য অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করলে কিছু ক্ষেত্রে সাজা কমানোরও নজির রয়েছে। ইয়াং ইউলিনও কর্তৃপক্ষকে তদন্তে সহযোগিতা করেছিলেন।

কিন্তু চাংঝৌ আদালতের মতে, তার অপরাধ এতটাই গুরুতর ছিল যে ওই সহযোগিতা শাস্তি কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইয়াং আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং শেষ বক্তব্যে অনুশোচনাও প্রকাশ করেছেন। তবুও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখে।