• ই-পেপার

সিরিয়ায় পৌঁছালেন ম্যাখোঁ, আসাদ সরকার পতনের পর প্রথম ইইউ নেতার সফর

ইরানের পবিত্র শহর কোমে পৌঁছেছে খামেনির কফিন

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের পবিত্র শহর কোমে পৌঁছেছে খামেনির কফিন
ছবি : রয়টার্স

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মরদেহ পবিত্র শহর কোমে পৌঁছেছে। সেখানে কোম শহরের দক্ষিণে অবস্থিত জামকারান মসজিদে হাজার হাজার মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়েছেন। খামেনির শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা এখানেই শেষ হচ্ছে না।

আগামী দিনগুলোতে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায়ও স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার নিজ শহর মাশহাদে চূড়ান্তভাবে দাফন করা হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন উপলক্ষে তেহরানের রাস্তায় বিপুল জনসমাগম ঘটেছে। শোকসভা, মিছিল ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে লাখো মানুষ অংশ নিচ্ছেন, যা দেশটির ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠী জাতীয় ঐক্যের প্রদর্শন হিসেবে তুলে ধরছে।

সরকারের পক্ষ থেকে পরিবহন, খাবার ও থাকার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এই জনসমাগমকে বিদেশি প্রতিপক্ষ ও অভ্যন্তরীণ সমালোচকদের উদ্দেশে শক্তি ও প্রতিরোধের বার্তা হিসেবে প্রচার করছে।

শিয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানে ধর্মীয় ঐতিহ্যের কারণে অনেক মানুষ এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন। সোমবারের সমাবেশে ঠিক কত মানুষ অংশ নিয়েছেন, তা রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে ড্রোনে ধারণ করা ভিডিওতে কয়েক লাখ মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে।

ইরানে সর্বোচ্চ নেতার দাফন খুবই বিরল একটি ঘটনা। এর আগে ১৯৮৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের নেতা ও ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি দাফন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তখন লাখো মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়া আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে যুদ্ধ চলার কারণে দ্রুত দাফন করা যায়নি। ফলে সরকার বড় পরিসরে রাষ্ট্রীয়ভাবে দাফন অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য আরো সময় পেয়েছে। 

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হুমকি অব্যাহত থাকলে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে এ মন্তব্য করেন।

আরাগচি বলেন, নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শেষকৃত্যে লাখো গর্বিত ইরানি অংশ নিচ্ছেন। তিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘এই মানুষগুলো কিংবা আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী কোনো হুমকিতে ভীত নয়।’ একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন।’

এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, নয়তো ‘বাকি কাজ শেষ করবে’।

সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের সেতুগুলো ধ্বংস করতে পারি, তাদের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা অচল করে দিতে পারি। এখন তাদের কাছে কোনো অর্থ নেই, আর আমরা তাদের কোনো অর্থও দিইনি।’

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়াল

অনলাইন ডেস্ক
ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়াল
ছবি : রয়টার্স

ভেনেজুয়েলায় ২৪ জুন আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে পৌঁছেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে। ভূমিকম্পের এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পরও প্রায় ১৮ হাজার মানুষ গৃহহীন অবস্থায় রয়েছেন।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে ১৬ হাজার ৭৪০ জন আহত হয়েছেন এবং ১৭ হাজার ৮৫৪ জন তাদের বাড়িঘর হারিয়েছেন।

৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় অঞ্চল লা গুয়াইরা। সেখানে এবং রাজধানী কারাকাসে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এদিকে দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনাও বাড়ছে।

সরকার জানিয়েছে, কারাকাস ও লা গুয়াইরার ৮০টি আশ্রয়কেন্দ্রে অন্তত ১২ হাজার ৮০০ মানুষ অবস্থান করছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অতিরিক্ত ভিড়, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের অভাব, নিরাপদ পানির সংকট, স্যানিটেশন সমস্যা এবং খাদ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

প্যান আমেরিকান হেলথ অরগানাইজেশনের জরুরি কার্যক্রমবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. মাউরিসিও সেরপা ক্যালদেরন বলেন, বর্তমানে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, ডায়রিয়া, চর্মরোগ, ক্ষতস্থানে সংক্রমণ, ডেঙ্গু এবং টিটেনাস, হাম, রুবেলা, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিওর মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগ মোকাবেলা করাই সবচেয়ে জরুরি। এদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সরকারের পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। 

তিনি বলেন, ভূমিকম্পের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে জরুরি পরিস্থিতি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় একটি নতুন সামরিক ইউনিটও গঠন করা হয়েছে। তবে অনেক ভেনেজুয়েলাবাসী সরকারের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমকে বিলম্বিত ও অপর্যাপ্ত বলে অভিযোগ করেছেন। আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর কয়েকটিও সরকারের দুর্যোগ মোকাবেলার সমালোচনা করেছে।

ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা লা গুয়াইরায় সোমবারও উদ্ধার ও দাফন কার্যক্রম চলতে দেখা গেছে। রয়টার্সের সাংবাদিকরা সেখানে কফিন বহনকারী ট্রাক এবং ফরেনসিককর্মীদের কাজ করতে দেখেছেন। একই সঙ্গে খোলা একটি এলাকায় যন্ত্রের সাহায্যে নতুন কবর খোঁড়া হচ্ছিল, যেখানে নিহতদের মরদেহ দাফন করা হচ্ছে। অনেক কবরের ওপর সাদা ক্রস স্থাপন করা হয়েছে।

স্পেনের সংবাদপত্র এল পাইস প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, কিছু কবরের ওপর নিহতদের নাম লেখা রয়েছে, আবার কিছু কবর শুধু নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক নিহতের মরদেহ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দিতে প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন (পিএএইচও) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রযুক্তিগত সহায়তা, মরদেহ সংরক্ষণের ব্যাগ এবং লা গুয়াইরা বন্দরে তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনার সরবরাহ করেছে। এ ছাড়া অন্য এলাকায় দুটি দাহকেন্দ্র পরিচালনায়ও সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, তারা কারাকাস সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম আরো বাড়িয়ে চলেছে। সংস্থাটির মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনো অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারীদল কাজ করছে। পাশাপাশি বিশেষায়িত প্রকৌশলীদল ও চিকিৎসা সহায়তাও সেখানে পৌঁছাচ্ছে।

এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে টিকাদান কর্মসূচি চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঝুঁকির মাত্রা, টিকার প্রাপ্যতা এবং জাতীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী কোথায় টিকাদান কার্যক্রম চালানো হবে, তা মূল্যায়ন করছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

আদালতে মৃত্যুদণ্ড

ঘুষ নিয়ে প্রকল্পের চুক্তি, জমি ও অর্থায়নের ব্যবস্থা করে দিতেন ইয়াং

অনলাইন ডেস্ক
ঘুষ নিয়ে প্রকল্পের চুক্তি, জমি ও অর্থায়নের ব্যবস্থা করে দিতেন ইয়াং
ছবি : সিসিটিভি/বিবিসি

চীনের পূর্বাঞ্চলের একটি আদালত ৩০ বছরে ২২০ কোটির বেশি ইউয়ান ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে এক সাবেক নগর কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ইয়াং ইউলিন (৬৯) ১৯৯৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নানজিং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। আদালত তাকে ঘুষ গ্রহণ, অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থপাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়াং তার ক্ষমতা ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রকৌশল প্রকল্পের চুক্তি, জমি হস্তান্তর এবং অর্থায়নের ব্যবস্থা করে দিতেন। এর বিনিময়ে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান উপহার গ্রহণ করেন।

আদালত জানিয়েছে, তার অপরাধ ছিল অত্যন্ত গুরুতর এবং এতে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইয়াং ইউলিনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে। এই অভিযানে সামরিক বাহিনী, ব্যাংকিং খাত এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বহু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ক্ষমতায় আসার পর থেকে শি চিনপিং একাধিক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন। তবে সমালোচকদের দাবি, এসব অভিযান কখনো কখনো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরানোর হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। 

চীনে অর্থনৈতিক অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড তুলনামূলকভাবে বিরল। তবে এক বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি আর্থিক দুর্নীতির ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে এমন শাস্তি দেওয়া হয়। এর আগে ২০২১ সালে ১৮০ কোটি ইউয়ান ঘুষ নেওয়ার দায়ে দেশটির সাবেক আর্থিক খাতের শীর্ষ কর্মকর্তা লাই শিয়াওমিনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।

চীনে বড় অঙ্কের দুর্নীতির মামলায় মৃত্যুদণ্ডের নজির আগেও রয়েছে। ২০২৪ সালে ইনার মঙ্গোলিয়ার সাবেক কর্মকর্তা লি জিয়ানপিংকে ৩০০ কোটির বেশি ইউয়ান আত্মসাৎ ও ঘুষ নেওয়ার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে আদালত কারাদণ্ড বা স্থগিত মৃত্যুদণ্ড দিয়ে থাকে, যা নির্দিষ্ট সময় পর সাধারণত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিবর্তিত হয়। 

এ ছাড়া অন্য অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করলে কিছু ক্ষেত্রে সাজা কমানোরও নজির রয়েছে। ইয়াং ইউলিনও কর্তৃপক্ষকে তদন্তে সহযোগিতা করেছিলেন।

কিন্তু চাংঝৌ আদালতের মতে, তার অপরাধ এতটাই গুরুতর ছিল যে ওই সহযোগিতা শাস্তি কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইয়াং আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং শেষ বক্তব্যে অনুশোচনাও প্রকাশ করেছেন। তবুও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখে।

প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ প্রকাশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ প্রকাশ
সংগৃহীত ছবি

প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের পর বেইজিংয়ের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (৬ জুলাই) একটি ডামি ওয়ারহেডসহ (বোমার নকল রূপ) এই পরীক্ষা চালায় চীন।

দুই বছর আগে ফরাসি পলিনেশিয়ার কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় চীনের একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর সোমবারের এই পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হলো। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরীক্ষাটির মাধ্যমে চীন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেন, এমন এক সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে কঠোর পরিশ্রম করছে, চীন তখন তার বিপরীত কাজ করছে। বেইজিংয়ের এই দ্রুত ও অস্বচ্ছ পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ পুরো বিশ্বের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই চীনকে আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিউ স্টার্ট’ নামের প্রধান পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র চাচ্ছিল নতুন চুক্তিতে চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করতে, কিন্তু বেইজিং সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এবারের ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে ছোড়া হয়েছিল এবং এটি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের সলোমন দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি গিয়ে পড়েছে।

‘এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউট’-এর সিনিয়র ফেলো লায়েল মরিস বলেন, এই পরীক্ষাটি চীনের একটি বড় অগ্রগতি। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, চীনের নৌবাহিনী এখন নিজেদের জলসীমার কাছাকাছি ঘাঁটি থেকেই সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে নিখুঁতভাবে পারমাণবিক হামলা চালাতে সক্ষম। চীনের এই শক্তি প্রদর্শনের দিনে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে অস্ট্রেলিয়া ও ফিজি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেছেন, চীনের এই পরীক্ষা পুরো অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

জাপানও চীনের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক কার্যকলাপ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে চীনের এই পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে তাদের মিত্র দেশ রাশিয়া। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পরীক্ষা চীনের সার্বভৌম অধিকার এবং বেইজিং বিশ্বের কারো জন্য হুমকি নয়। চীনের নৌবাহিনীর মুখপাত্র ওয়াং শুয়েমেং জানিয়েছেন, এটি তাদের বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণের একটি নিয়মিত অংশ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে নিয়ম মেনেই আগে থেকে জানানো হয়েছিল।