তামাক নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সংশোধিত আইন পাস হলেও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ কাটেনি। তাদের মতে, ই-সিগারেট, ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচসহ বিভিন্ন তামাকজাত পণ্য এখনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় শিশু, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকি বাড়ছে। তাই নতুন আইনের কঠোর বাস্তবায়নের পাশাপাশি এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিক্রি ও প্রচার নিষিদ্ধে পৃথক ও কঠোর আইন প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন তারা।
সোমবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ, প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব দাবি তুলে ধরেন।
আরো পড়ুন
সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি), ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট (বাটা) এবং তামাকবিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ) আয়োজিত সভায় তামাক নিয়ন্ত্রণে ৫ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
সুপারিশে তামাক কম্পানির প্রভাব ও কৌশল কঠোরভাবে মোকাবেলা, খুচরা শলাকা বিক্রি, ভ্রাম্যমাণ বিক্রি ও লাইসেন্স ছাড়া তামাকপণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ, ই-সিগারেট, ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের তামাকজাত পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, পরিবহন, বিক্রি, বিতরণ, মজুদ ও বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করতে পৃথক আইন প্রণয়ন, তামাক চাষনীতি ও তামাক করনীতি প্রণয়ন এবং সংশোধিত আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন ও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।
আরো পড়ুন
হলুদ সমুদ্রে নিশীথের সূর্য হালান্ড
সভায় বক্তারা বলেন, সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধনী) আইন, ২০২৬’ তামাক নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও এর সুফল নির্ভর করবে কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। এজন্য মাঠপর্যায়ে আইন প্রয়োগে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। আইন বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সক্ষমতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
আরো পড়ুন
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে বিভ্রান্তির জবাব
এ সময় বক্তারা বলেন, তামাক ও নিকোটিন কম্পানিগুলো নতুন মোড়ক, আধুনিক উপস্থাপন ও আগ্রাসী বিপণন কৌশলের মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও তরুণদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। এসব পণ্যকে তুলনামূলক কম ক্ষতিকর বা আধুনিক হিসেবে প্রচার করা হলেও এ ধরনের দাবির পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং এগুলো তরুণদের নিকোটিন নির্ভরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে প্রচলিত তামাকপণ্য ব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।
আরো পড়ুন
২০১ উপজেলায় নতুন ক্রীড়া অফিস, ৬০৩টি পদ সৃজনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন
সভায় বক্তারা বলেন, সংশোধিত আইনে ই-সিগারেট, ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচসহ বিভিন্ন তামাকজাত পণ্য নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব চূড়ান্ত আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে এসব পণ্য কার্যত নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাজারে বিক্রি হচ্ছে, যা শিশু, কিশোর ও তরুণদের নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাই তরুণ প্রজন্মকে সুরক্ষায় এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর আইন প্রণয়ন করতে হবে।