• ই-পেপার

চার দশকের নেতৃত্বের অবসান, প্রতিশোধের প্রতিজ্ঞা লাখো ইরানির

৫২ হাজার কোটি রুপির অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র কিনছে ভারত

অনলাইন ডেস্ক
৫২ হাজার কোটি রুপির অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র কিনছে ভারত
সংগৃহীত ছবি

প্রায় ৫২ হাজার কোটি রুপি সমমূল্যের বেশ কয়েকটি সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ (ডিএসি)। সশস্ত্র বাহিনীর জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এবং অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার লক্ষ্যে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোনবিধ্বংসী সরঞ্জাম, নজরদারি ও চালকবিহীন ব্যবস্থা জোরদার করা।

ভারতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রে এই অনুমোদন হলো প্রথম ধাপ। এই ধাপের মাধ্যমে ক্রয়ের জন্য নীতিগত অনুমতি মেলে। এরপর রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি), বাণিজ্যিক মূল্যায়ন এবং চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনার মতো পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়ে থাকে।

নতুন ক্রয়প্রস্তাবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য আকাশ তরঙ্গ অ্যান্টি-আনম্যানড অ্যারিয়াল ভেহিকল (ইউএভি) ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম, ম্যান পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল (এমপিএটিজিএম) সিস্টেম, মিডিয়াম রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (এমআরএসএএম) বা মাঝারি পাল্লার ভূপৃষ্ঠ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, ভেরি শর্ট-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (ভি-শোরেডস), ট্যাংকের জন্য অ্যাক্টিভ প্রটেকশন সিস্টেম (এপিএস) এবং জেট-চালিত কামিকাজে ড্রোন সিস্টেম ক্রয়ের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আকাশ তরঙ্গ ব্যবস্থাটি শত্রুপক্ষের ড্রোন থেকে সেনাবাহিনীকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইউএভি বা চালকবিহীন বিমানের বিরুদ্ধে সুরক্ষার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এই সরঞ্জামটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হবে।

এ ছাড়া এমপিএটিজিএম ব্যবস্থাটি সাঁজোয়া যানের হুমকি মোকাবেলায় পদাতিক বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। আর এমআরএসএএম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা প্রদান করবে।

ভি-শোরেডস ব্যবস্থাটি মাল্টি-স্পেকট্রাল সেন্সর দ্বারা সুসজ্জিত থাকবে, যা শত্রুপক্ষের পাল্টা প্রতিরোধ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কার্যকরী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এপিএস প্রযুক্তির কারণে অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে সুরক্ষা পাওয়ায় ট্যাংকের টিকে থাকার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

অন্যদিকে, জেট-চালিত কামিকাজি ড্রোন ব্যবস্থা কম খরচে অধিক কার্যকারিতা ও টিকে থাকার ক্ষমতার পাশাপাশি আরও উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা বৈদ্যুতিক যুদ্ধ সক্ষমতা নিশ্চিত করবে।

এদিকে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য মাল্টি ইনফ্লুয়েন্স গ্রাউন্ড মাইন (এমআইজিএম), নেভাল শিপবর্ন আনম্যানড অ্যারিয়াল সিস্টেম (এনএসইউএএস) এবং ইলেকট্রিক প্রপালশন ব্যবস্থার জন্য একটি ল্যান্ড-বেসড টেস্টিং ফ্যাসিলিটি (এলবিটিএফ) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এই মাইনগুলো শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে ভারতীয় নৌবাহিনীকে সমুদ্র-অবরোধ সক্ষমতা তৈরি করতে সাহায্য করবে এবং ভারতীয় জলসীমায় শত্রুদের চলাচল সীমিত করবে। এনএসইউএএস-এর উন্নত সেন্সর ব্যবস্থার কারণে তা সামুদ্রিক নজরদারি সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

ভারতীয় বিমানবাহিনীকেও (আইএএফ) একটি ফিক্সড-উইং হাই-অল্টিটিউড সিউডো স্যাটেলাইট (এফডব্লিউ-এইচএপিএস) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বিমানবাহিনীর আরো কয়েকটি ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে বিমানবাহিনীর আইএসআর (ইন্টেলিজেন্স, সারভেইলেন্স অ্যান্ড রিকনেসান্স বা গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারি ও অনুসন্ধান), টেলিযোগাযোগ এবং রিমোট সেন্সিং বা দূর অনুধাবন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি বানচালের চেষ্টা করছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি বানচালের চেষ্টা করছে ইসরায়েল
রয়টার্স ছবি

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া শান্তি চুক্তিটি নষ্ট করার চেষ্টা করছে ইসরায়েল। কারণ, যুদ্ধ আর সংঘাত ছাড়া টিকতে পারবে না তারা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ইস্তাম্বুলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শান্তি ফেরানোর এই মধ্যস্থতা খুব কঠিন ছিল। তুরস্ক এ অঞ্চলে শান্তি আনতে যেকোনো সাহায্য করতে প্রস্তুত।

ইসরায়েলকে সতর্ক করে তিনি বলেন, সিরিয়া ও লেবাননসহ পুরো অঞ্চলের সংঘাতের ওপরই ইসরায়েলের টিকে থাকা নির্ভর করে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রশাসন। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’। এই চুক্তিতে মূলত হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর থেকে কিছু আর্থিক নিষেধাজ্ঞা কমানোর কথা বলা হয়েছে।

বিনিময়ে ইরান তাদের পারমাণবিক বর্জ্য ধ্বংস করবে। চুক্তির পর ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘গ্রহণযোগ্য’ আচরণ করলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের আরো অর্থনৈতিক সুবিধা দেবে। চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ৬০ দিন সময় পাওয়া যাবে।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে কড়া ভাষায় জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার চাইবে। এটি তাদের দীর্ঘস্থায়ী লক্ষ্য হয়ে থাকবে।

এছাড়া, ইরানের সদ্য প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় সারা বিশ্বের বড় বড় নেতাদের উপস্থিতি প্রমাণ করে, তিনি ও ইরানের মানুষ কতটা মহান।

শান্তি আলোচনায় যেভাবে ইরানি নেতাদের হত্যার ছক এঁকেছিল ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
শান্তি আলোচনায় যেভাবে ইরানি নেতাদের হত্যার ছক এঁকেছিল ইসরায়েল
রয়টার্স ছবি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের ৪০ দিন পর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি শান্তি আলোচনা হয়েছিল। যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার লক্ষ্যে উচ্চ-স্তরের এই আলোচনা চলাকালে সেখানে অবস্থানরত ইরানের শীর্ষ দুই নেতাকে হত্যার  ছক এঁকেছিল ইসরায়েল। এ নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেরও উদ্বেগ ছিল। কারণ এ ধরনের হামলা বাস্তবায়ন হলে যুদ্ধবিরতির আলোচনা ভেঙে আবারও তীব্র যুদ্ধ শুরু হতে পারে।

মার্কিন বার্তা সংস্থা দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এপ্রিলে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা শেষে ইরানে ফেরার পথে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

তখন এ ধরনের হামলার তীব্র আশঙ্কা করেছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারাও। তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘ইরানি নেতাদের হত্যার যেকোনো চেষ্টা আলোচনার ইতি টানবে এবং আবারও সংঘাত শুরু করবে।’

এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের মাধ্যমে ইরানকে সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে সতর্ক করার উদ্যোগ নেয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গালিবাফ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে ইসলামাবাদ সফরে গেলে তার বহরকে যুদ্ধবিমান দিয়ে নিরাপত্তা দেয় পাকিস্তান। কারণ, আশঙ্কা ছিল ইসরায়েল ওই প্রতিনিধিদলের ওপর হামলার চেষ্টা করতে পারে।

ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, ইসলামাবাদ থেকে ফেরার পথে গালিবাফকে বহনকারী বিমানের ক্রুরা গোয়েন্দা তথ্য পান যে ইসরায়েল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে ইরাক সীমান্তসংলগ্ন পশ্চিম দিক দিয়ে দুটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে।

এরপর বিমানটি জরুরি ভিত্তিতে মাশহাদে অবতরণ করে। সেখান থেকে গালিবাফসহ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রায় আট ঘণ্টা সড়কপথে তেহরানে পৌঁছান।

গালিবাফের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি, যিনি ওই সফরে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন, সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ইরানি আইন প্রণেতা মোহসেন জাঙ্গানেহ এপ্রিলে স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গালিবাফ, আরাগচি এবং আলোচক দলের অন্য সদস্যরা গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি জেনেও আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। এটি রাজনৈতিক কৌশল নয়, প্রকৃত আত্মত্যাগ।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোলেও ইসরায়েল সম্ভাব্য সমঝোতাকে যথেষ্ট মনে করেনি। এর কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল ইরানে শাসন পরিবর্তন, তেহরানের আঞ্চলিক মিত্রদের দুর্বল করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসের এক মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

আর যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চেয়েছিলেন শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাক এবং সে কারণেই আলোচনা অব্যাহত ছিল।

খামেনিকে বিদায় জানাতে তেহরানে মানুষের ঢল

অনলাইন ডেস্ক
খামেনিকে বিদায় জানাতে তেহরানে মানুষের ঢল
রয়টার্স ছবি

ইরানের প্রয়াত সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে রাজধানী তেহরানে মানুষের ঢল নেমেছে। তার জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে এক কোটিরও বেশি মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরুর আগেই হাজারো মানুষ প্রার্থনা কমপ্লেক্সের বাইরে জড়ো হন। অনেকেই রাতভর অপেক্ষা করেছেন, যাতে দরজা খুললেই ভেতরে প্রবেশ করে শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।

অপেক্ষমাণদের একজন সোমাইয়ে। তিনি সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরাকে বলেন, ‘আমরা আমাদের নেতার প্রতি ভালোবাসা থেকেই এসেছি। এই অপেক্ষা একই সঙ্গে মধুর, আবার বেদনাদায়কও।’

অনেকের মতে, দেশের জন্য খামেনির অবদানের তুলনায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা খুবই সামান্য ত্যাগ।

দেশটির এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ফাতেমেহ বলেন, ‘তাকে বিদায় জানাতে কোনো ধরনের কমতি রাখা উচিত নয়।’

আরেক শিক্ষার্থী মাহদি বলেন, ‘১০ থেকে ১২ ঘণ্টা অপেক্ষা করা কোনো বিষয়ই নয়। মনে হচ্ছে যেন আমরা নিজের পরিবারের একজন সদস্যের শোকানুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি।’

এদিকে দেশটির প্রায়াত এই নেতার সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে বাংলাদেশ, চীন, রাশিয়া, ভারত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, পাকিস্তানসহ বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। তারা মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারানো আলি খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।