• ই-পেপার

‘বড় ভাই’ মোদি, ‘ছোট বোন’ তাকাইচি

ট্রাম্পকে ইরানি দূতাবাস

‘মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে নয়’

অনলাইন ডেস্ক
‘মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে নয়’
সংগৃহীত ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জবাব দিয়েছে আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরান দূতাবাস। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া সবাইকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি এবং ইরানিদের আবেগ নিয়ে ট্রাম্পের করা মন্তব্যের পর এই প্রতিক্রিয়া এলো।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠান চলাকালীন কোনো গুলি চালানো হবে না। তবে তিনি যোগ করেন, তিনি চাইলে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দিতে পারেন, কিন্তু তা করলে ‘আলোচনা করার মতো আর কেউ থাকবে না।’ সাক্ষাৎকারে জানাজায় ইরানিদের কান্না দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম মানুষ খামেনিকে ঘৃণা করে।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাবে আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে অবস্থিত ইরান দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি কড়া বার্তা পোস্ট করেছে। বার্তায় ইরান দূতাবাস লিখেছে, ‘মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে নয়। তোমরা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছ, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তোমরা একটি সুগন্ধির বোতল ভেঙেছ—যার সুবাস এখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তোমরা এসব বুঝবে না, কারণ তোমাদের সভ্যতা, ইতিহাস বা সম্মা—কোনোটাই নেই।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যে ট্রাম্পের এই নতুন মন্তব্য এবং ইরানের পাল্টা জবাব দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে দিল।

তামিলনাড়ুতে ৫০ ‘বাংলাদেশি’ আটক, ফেরত পাঠাচ্ছে বিজয় সরকার

অনলাইন ডেস্ক
তামিলনাড়ুতে ৫০ ‘বাংলাদেশি’ আটক, ফেরত পাঠাচ্ছে বিজয় সরকার

‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’; কোনোভাবেই ভারত সরকারের এই নীতি থেকে যে বাংলায় বিজেপি সরকার সরে আসবে না, তা এরই মধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার সে পথেই হাঁটছে তামিলনাড়ুর জোসেফ বিজয়ের সরকার! অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে তামিলনাড়ুর বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক ৫০ বাংলাদেশি নাগরিককে পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হচ্ছে। আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে তাদের উত্তর ২৪ পরগনার পেট্রাপোল-হরিদাসপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

তামিলনাড়ু পুলিশের বরাত দিয়ে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধৃতি করে সংবাদ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে আটক ৫০ জনকে সালেম জেলার আট্টুর মহকুমা কমপ্লেক্সের বিশেষ শিবিরে রাখা হয়েছিল। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের ডিপোর্টের নির্দেশ জারি করা হয়। এরপরেই গত ৩ জুলাই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তিনটি বিশেষ পুলিশ ভ্যানে সড়কপথে তিরুচিরাপল্লি রেলস্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওই সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, তিরুচিরাপল্লি স্টেশন থেকে হাওড়া এক্সপ্রেসে তোলা হবে আটক ৫০ বাংলাদেশিকে। এরপর কড়া নিরাপত্তায় নির্ধারিত কোচে তাদেরকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হচ্ছে। জানা গেছে, আটক হওয়া এই ৫০ জনের মধ্যে ৪৪ জন পুরুষ এবং ৬ জন মহিলা রয়েছে।

তামিলনাড়ু পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ট্রেনটি পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছানোর পর আটক ব্যক্তিদের পেট্রাপোল-হরিদাসপুর সীমান্তে নিয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

উল্লেখ্য, ভারতের রাজ্য সরকার নির্বাচনের পরেই অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা সন্দেহে আটকদের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরি করা হবে। সেই অনুযায়ী জেলায় জেলায় তৈরি হয়েছে হোল্ডিং সেন্টার। সেখানেই আটক অনুপ্রবেশকারীদের রাখা হচ্ছে। এরপরেই তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

মোদিকে প্রাণনাশের হুমকি, তদন্তে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক
মোদিকে প্রাণনাশের হুমকি, তদন্তে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ
সংগৃহীত ছবি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মেলবোর্নে আয়োজিত ‘মেলবোর্ন মিট মোদি’ অনুষ্ঠানের প্রচারমূলক পোস্টে করা ওই মন্তব্যের পর বিষয়টির তদন্তে নেমেছে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ। একই সঙ্গে মোদির সফর ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরো জোরদার করা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমর রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ৯ জুলাই মেলবোর্নে মার্ভেল স্টেডিয়ামে হতে চলেছে ‘মেলবোর্ন মিট মোদি’ নামে একটি অনুষ্ঠান। সেই প্রোগ্রামের প্রচারমূলক একটি পোস্ট করা হয় সমাজমাধ্যমে। সেই পোস্টের কমেন্ট সেকশনেই হুমকি আসে বলে দাবি করা হয়। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, আবু মুফাসা নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে মোদিকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে কমেন্ট করা হয়। কমেন্টে লেখা ছিল, ‘অনুষ্ঠান চলাকালীন স্টেডিয়ামের ছাদ যেন বন্ধ থাকে, না হলে অস্ট্রেলিয়াতেই তার মৃত্যু হবে।’

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদ সংস্থা সূত্রের খবর, সমাজমাধ্যমে মন্তব্য প্রকাশের পরেই বিষয়টি অস্ট্রেলীয় ফেডারেল পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে। সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট কমেন্টটি চিহ্নিত করে তদন্তকারীরা ওই ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত আইপি ঠিকানা শনাক্ত করেছেন এবং তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

অস্ট্রেলিয়া প্রশাসন জানিয়েছে, সাধারণত যেকোনো ভিভিআইপির ক্ষেত্রেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকে প্রশাসনের বিশেষ নিরাপত্তা সুরক্ষা ইউনিট। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে অস্ট্রেলিয়ায় আঁটোসাঁটো করা হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ইউরোপ এখন তৃতীয় বিশ্বে পরিণত হচ্ছে : ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
ইউরোপ এখন তৃতীয় বিশ্বে পরিণত হচ্ছে : ট্রাম্প
ছবি : রয়টার্স

ইউরোপের অভিবাসন নীতির তীব্র সমালোচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার খেসারত দিচ্ছে ইউরোপ। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়াটা আমেরিকার জন্য একেবারে সঠিক সময়ে হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেন, ইউরোপ এখন শিখছে যে, যখন আপনি তৃতীয় বিশ্বের অপরাধীদের আশ্রয় দেবেন, তখন আপনি নিজেই একটি তৃতীয় বিশ্বের দেশে পরিণত হবেন

এর আগেও ট্রাম্প যুক্তি দিয়েছিলেন যে, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে ব্যাপক অভিবাসন যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করতে পারে। তিনি তার পোস্টে নিজের রাজনৈতিক আন্দোলনের মূল স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ উল্লেখ করে অভিবাসন ও জাতীয় পরিচয়ের ওপর তার কঠোর অবস্থানের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন।

অভিবাসন ইস্যুর পাশাপাশি ট্রাম্প সম্প্রতি ফেডারেল বিচারকদেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন। গত ৮ জুন এইচ-১বি ভিসার ওপর তার প্রশাসনের আরোপিত ১ লক্ষ মার্কিন ডলার ফি আদালত বাতিল করে দিলে তিনি এই সিদ্ধান্তকে ‘উন্মাদনাপূর্ণ’ বলে আখ্যা দেন। উল্লেখ্য, এই ভিসা ব্যবস্থার আওতায় মার্কিন সরকার প্রতি বছর সাধারণ ক্যাটাগরিতে ৬৫,০০০ এবং উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য ২০,০০০ কর্মীকে কাজের সুযোগ দেয়।

এ ছাড়া গত এপ্রিলে ট্রাম্প জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনেরও সমালোচনা করেন। তিনি একটি ভিডিও শেয়ার করে যুক্তি দেন যে, কিছু অভিবাসী তাদের সন্তানদের জন্য আমেরিকার নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে গর্ভাবস্থার শেষ দিকে আইনটির অপব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন।