• ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে সাইবার হামলায় শীর্ষে উত্তর কোরিয়া

‘ইরানিরা আমেরিকানদের একেবারেই বিশ্বাস করে না’

অনলাইন ডেস্ক
‘ইরানিরা আমেরিকানদের একেবারেই বিশ্বাস করে না’
সংগৃহীত ছবি

ইরানিরা আমেরিকানদের একেবারেই বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই। তিনি বলেন, ‘এই অবিশ্বাসের পেছনে রয়েছে ঐতিহাসিক ঘটনা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা।’

বার্তা সংস্থা আলজাজিরা বলছে, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি তাসনিম বার্তা সংস্থা।

তিনি দাবি করেন, চলমান যুদ্ধে ইরান শত্রুদের নেতৃত্বকে নির্মূল করতে এবং আগ্রাসীদের শক্তি ভেঙে দিতে সফল হয়েছে।

মোহসেনি এজেই বর্তমান যুদ্ধের শুরুতে গঠিত তিন সদস্যের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদের সদস্য ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুদ্ধের প্রথম দিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, নিহত হওয়ার পর এই পরিষদ তেহরানের নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করে।

১২ লাখ ইউরোর গহনা জব্দ, তদন্তের মুখে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
১২ লাখ ইউরোর গহনা জব্দ, তদন্তের মুখে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী
ছবি : স্প্যানিশ ন্যাশনাল পুলিশ

স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসে লুইস রদ্রিগেজ সাপাতেরো নতুন একটি তদন্তের মুখে পড়েছেন। তার কাছ থেকে বিলাসবহুল ঘড়ি ও গহনা উদ্ধারের পর তিনি নতুন এই তদন্তের মুখে পড়েছেন।  

সাপাতেরো ২০০৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সমাজতান্ত্রিক সরকারের নেতৃত্ব দেন এবং বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলে প্রভাবশালী। এর আগে ২০২১ সালে স্প্যানিশ বিমান সংস্থা প্লাস আলট্রাকে দেওয়া সরকারি আর্থিক সহায়তা (বেইলআউট) নিয়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগেও তিনি তদন্তের মুখে পড়েছিলেন।

সেই তদন্তের অংশ হিসেবে গত মাসে তার অফিসে অভিযান চালানো হয়। স্প্যানিশ গণমাধ্যম জানায়, সেখানে প্রায় ১.২ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের নেকলেস, ব্রেসলেট, আংটি ও কানের দুল পাওয়া যায়। তার মুখপাত্র লুইস আরোয়ো জানিয়েছেন, তিনি বিচারকের সামনে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেবেন।

গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এসব গহনা জিম্বাবুয়ে বা থাইল্যান্ড থেকে আসা স্বর্ণ, নীলকান্তমণি ও পান্না দিয়ে তৈরি। তদন্তকারীদের দাবি, এসব গহনার শুল্ক পরিশোধের প্রমাণ দেখাতে না পারার কারণে সাপাতেরোকে কর ফাঁকি ও চোরাচালানের সন্দেহে তদন্ত করা হচ্ছে। তার ঘনিষ্ঠরা আগে জানিয়েছিলেন, এসব জিনিস পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া।
তিনি এ মাসের শেষ দিকে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তাকে তলব করা হয়েছে।

স্পেনের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের আওতায় আনা হলো। এর আগে অন্য কয়েকজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দুর্নীতির মামলায় সাক্ষ্য দিতে তলব করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক তদন্ত হয়নি। এই ঘটনা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সোশ্যালিস্ট পার্টিকে ঘিরে চলমান বিতর্কের সর্বশেষ সংযোজন। জাপাতেরো দলটির একজন প্রভাবশালী ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। 

প্লাস আলট্রা মামলায় জাপাতেরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০২১ সালে বিমান সংস্থাটির জন্য ৫৩ মিলিয়ন ইউরোর সরকারি বেইলআউট অনুমোদনে নিজের প্রভাব খাটিয়েছিলেন এবং এর বিনিময়ে কমিশন নিয়েছিলেন। তবে তিনি বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং দাবি করেছেন, প্লাস আলট্রা থেকে তিনি কখনো কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি।

কভিড-১৯ মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৌশলগত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করার জন্য গঠিত একটি সরকারি তহবিল থেকে ওই বেইলআউট অনুমোদন করা হয়েছিল। গত মাসে কথিত দুর্নীতির তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ সোশ্যালিস্ট পার্টির মাদ্রিদ সদর দপ্তরে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু নথি জব্দ করে।

এ ছাড়া দলের এক শীর্ষ নেতা এবং এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বাসভবনেও তল্লাশি চালানো হয়। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের স্ত্রী ও ভাইসহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট সবাই কোনো ধরনের অনিয়ম বা অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন নীতি কার্যকর

অনলাইন ডেস্ক
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন নীতি কার্যকর
সংগৃহীত ছবি

মাইগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি প্যাক্ট বা অভিবাসন ও শরণার্থী সংক্রান্ত নতুন চুক্তি সব সদস্য রাষ্ট্রে কার্যকর করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। শুক্রবার (১২ জুন) থেকে এই নীতি কার্যকর হয়। 

ইইউ কমিশনের মুখপাত্র মার্কাস লামার্ট এক ব্রিফিংয়ে বলেন, দুই বছরের প্রস্তুতির পর এখন নতুন নিয়ম পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়েছে। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য একটি বড় অর্জন।

তিনি জানান, নতুন নীতিমালায় বহির্বিশ্ব সীমান্ত আরো নিরাপদ করা, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগি এবং আশ্রয় ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরো দ্রুত ও কার্যকর করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েনের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, অভিবাসন একটি যৌথ ইউরোপীয় সমস্যা। এর জন্য একটি কার্যকর ও ন্যায়সংগত সমাধান প্রয়োজন।

তবে হাঙ্গেরির মতো কয়েকটি দেশ এই চুক্তির বাধ্যতামূলক ‘সলিডারিটি মেকানিজম’ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে লামার্ট বলেন, হাঙ্গেরির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা চলছে।

তিনি আরো জানান, হাঙ্গেরিতে সম্প্রতি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্রাসেলস তাদের সঙ্গে সব বিষয়ে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

তবে চুক্তি বাস্তবায়ন না করলে ইইউ তহবিল বন্ধ করা হবে কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি।

২০১৫ সালের শরণার্থী সংকটের পর তৈরি এই প্যাক্টে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার, দ্রুত আশ্রয় প্রক্রিয়া এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর এটি ২০২৪ সালের মে মাসে গৃহীত হয়।

মহাবিশ্বের বৃহত্তম কাঠামোগুলোর একটি ধরা পড়ল নাসার হাবলে

অনলাইন ডেস্ক
মহাবিশ্বের বৃহত্তম কাঠামোগুলোর একটি ধরা পড়ল নাসার হাবলে
ছবি: নাসা

মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় ও ঘনসন্নিবিষ্ট গঠনগুলোর একটি নতুন ছবিতে প্রকাশ করেছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা। ছবিটি তুলেছে নাসার পরিচালিত হাবল মহাকাশ দূরবীন। এতে দেখা গেছে হাজার হাজার গ্যালাক্সির এক বিশাল সমাবেশ, যেখানে মহাকর্ষের শক্তিশালী প্রভাবও স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। সেখানকার মহাকর্ষ বল এর আড়ালে লুকিয়ে থাকা অনেক দূরবর্তী বস্তু থেকে আসা আলোকে বাঁকিয়ে দেয় এবং বিবর্ধিত করে।

ছবির কেন্দ্রে রয়েছে 'গ্যালাক্সি ক্লাস্টার এমএসি এস০৩২৯-০২১১'। এটি এমন একটি বিশাল গ্যালাক্সির সমষ্টি, যেখানে অসংখ্য গ্যালাক্সি মহাকর্ষের টানে একসঙ্গে যুক্ত হয়ে রয়েছে। নাসা জানিয়েছে, এই ধরনের গ্যালাক্সি ক্লাস্টার বা ছায়াপথের গুচ্ছ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় কাঠামোগুলোর মধ্যে অন্যতম।

প্রথম দেখায় পুরো ছবিটি বেশ জটিল ও এলোমেলো মনে হয়। বিভিন্ন আকারের গ্যালাক্সি পুরো দৃশ্যজুড়ে ছড়িয়ে আছে। তবে এই বিশৃঙ্খল সৌন্দর্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে মহাবিশ্বের গঠন ও বিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমএসি এস০৩২৯-০২১১-এর মতো গ্যালাক্সি ক্লাস্টারগুলো মহাবিশ্ব কীভাবে কোটি কোটি বছরে তৈরি হয়েছে, তা বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্লাস্টারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর শক্তিশালী মহাকর্ষীয় প্রভাব। এই মহাকর্ষ শুধু গ্যালাক্সিগুলোকে একসঙ্গে ধরেই রাখে না, বরং এর আশপাশের আলোকে বাঁকিয়ে দেয় এবং অনেক সময় দূরের গ্যালাক্সিকে বড় করে দেখায়। এই ঘটনাকে বলা হয় মহাকর্ষীয় লেন্সিং। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এমন দূরের বস্তু দেখতে পান, যা সাধারণভাবে দেখা সম্ভব নয়। কারণ, সেগুলোর আলো অনেক সময় অত্যন্ত দুর্বল হয়ে আসে বা দূরত্বের কারণে হারিয়ে যায়।

হাবলের ছবিতে দেখা গেছে, ক্লাস্টারের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের গ্যালাক্সি ছড়িয়ে রয়েছে। এর মধ্যে বড় ও উজ্জ্বল উপবৃত্তাকার গ্যালাক্সি যেমন আছে, তেমনি সর্পিল গ্যালাক্সিও রয়েছে, যেগুলোর ঘূর্ণায়মান বাহু স্পষ্টভাবে দেখা যায়। কিছু গ্যালাক্সি পাশ থেকে দেখা যাওয়ায় সরু রেখার মতো মনে হচ্ছে। এছাড়া ছবিতে লেন্টিকুলার গ্যালাক্সিও দেখা গেছে, যেগুলো উপবৃত্তাকার ও সর্পিল, দুই ধরনের বৈশিষ্ট্যই বহন করে। সব মিলিয়ে এটি একটি অত্যন্ত ঘন ও বৈচিত্র্যপূর্ণ মহাজাগতিক দৃশ্য তৈরি করেছে।

ছবির কিছু অংশে আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সির সামনের দিকের কয়েকটি তারকাও দেখা গেছে। এগুলো তাদের আলোর বিশেষ বিচ্ছুরণ বৈশিষ্ট্যের কারণে দূরের গ্যালাক্সিগুলোর থেকে আলাদা করে চিহ্নিত করা যায়।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো মহাকর্ষীয় লেন্সিংয়ের প্রভাব। ছবির কিছু জায়গায় বাঁকানো আলোর রেখা দেখা যায়, যা আসলে কোনো আলাদা গঠন নয়। এগুলো অনেক দূরের গ্যালাক্সি, যাদের আলো বিশাল ক্লাস্টারের মহাকর্ষীয় টানের কারণে বাঁকিয়ে গেছে। একটি জায়গায় মোচড়ানো আটের মতো একটি আকৃতিও দেখা গেছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি একটি দূরের গ্যালাক্সি, যার চেহারা মহাকর্ষীয় লেন্সিংয়ের কারণে বিকৃত হয়ে গেছে। নাসা জানিয়েছে, এই ধরনের বিকৃতি শুধু দৃশ্যমান সৌন্দর্য নয়, বরং এটি বৈজ্ঞানিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আলো কীভাবে বাঁকছে তা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ক্লাস্টারের ভেতরে থাকা অদৃশ্য পদার্থের বণ্টন সম্পর্কেও ধারণা পান।

হাবল এই ক্লাস্টারটি পর্যবেক্ষণ করেছে একটি বিশেষ গবেষণা কর্মসূচির অংশ হিসেবে, যেখানে শক্তিশালী এক্স-রে বিকিরণ ছড়ানো গ্যালাক্সি ক্লাস্টারগুলোকে অধ্যয়ন করা হয়। এসব ক্লাস্টার মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় ও সক্রিয় অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম। পর্যবেক্ষণে হাবল তার দুটি প্রধান যন্ত্র- অ্যাডভান্সড ক্যামেরা ফর সার্ভে এবং ওয়াইড ফিল্ড ক্যামেরা থ্রি ব্যবহার করেছে। এগুলো দৃশ্যমান আলো ও অবলোহিত তরঙ্গদৈর্ঘ্যে তথ্য সংগ্রহ করেছে, যা ক্লাস্টারের গঠন আরো বিস্তারিতভাবে বুঝতে সাহায্য করেছে।