• ই-পেপার

উত্তেজনার মধ্যেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বার্তা আদান-প্রদান চলছে

বিজেপি জোটে যেতে চান ২০ তৃণমূল সাংসদ, স্পিকারকে চিঠি

অনলাইন ডেস্ক
বিজেপি জোটে যেতে চান ২০ তৃণমূল সাংসদ, স্পিকারকে চিঠি
সংগৃহীত ছবি

তৃণমূল কংগ্রেসে এবার লোকসভা স্তরেও বড় ধরনের ভাঙনের ইঙ্গিত মিলেছে। পরিষদীয় দলের পর সংসদীয় দলেও বিভাজনের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি জমা দিয়েছেন দলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদেরা।

সূত্রের খবর, ২৮ জন সাংসদের মধ্যে অন্তত ২০ জনের স্বাক্ষর করা একটি চিঠি স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। চিঠিটি জমা দেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ওই সাংসদেরা আর তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে থাকতে চান না এবং তারা আলাদা অবস্থান নিতে ইচ্ছুক।  ক্ষমতা বদলের একমাস পার হওয়ার আগেই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পরিষদীয় দলের মালিকানা হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জনই নেত্রীর সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। সেই থেকেই গুঞ্জন উঠেছিল, একইভাবে ভাঙতে চলেছে সংসদীয় দলও। 

জানা গেছে, বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিজেদের জন্য লোকসভায় পৃথক ব্লক গঠনের আবেদন জানিয়েছে এবং এনডিএ-র সঙ্গে যুক্ত হয়ে বসার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে মুখ্য সচেতক হিসেবে রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমে লোকসভায় তৃণমূলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ কার্যত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হাতে চলে যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। ফলে দলীয় অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

এসব জল্পনার মাঝেই রবিবার ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবারে বৈঠক হয়েছে। এককালের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী সোনিয়া গান্ধীকে জড়িয়ে ধরেছেন মমতা। কিন্তু এতেও কোনো লাভ হল না। মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় দিল্লিতে অবস্থানকালেই ভেঙে গেল তৃণমূলের সংসদীয় দল। 

সূত্র অনুযায়ী, রবিবার দিল্লিতে এক গোপন বৈঠকে অন্তত ২০ থেকে ২১ জন তৃণমূল সাংসদ একত্রিত হন। সেখানে দলের একাধিক পরিচিত মুখ উপস্থিত ছিলেন। তালিকায় কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, অসিত মাল, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ চক্রবর্তী, আবু তাহের খান, সুখেন্দু শেখর রায়, শর্মিলা সরকার, খলিলুর রহমান ও জগদীশ বর্মা বসুনিয়ার মতো নাম উঠে এসেছে।

এই বৈঠকে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতির কথাও সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই স্পষ্ট হয় যে, দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদদের মধ্যে বড় ধরনের পুনর্গঠন হতে চলেছে।

পরদিনই সেই গুঞ্জন বাস্তবে রূপ নেয়। ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে চলা বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাকলি ঘোষ দস্তিদার লোকসভার স্পিকারের কাছে গিয়ে চিঠি জমা দেন। সেখানে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট সাংসদেরা আর তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান না এবং পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান নিতে ইচ্ছুক।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, তারা সংসদে আলাদা ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি পেতে চান এবং এনডিএ-র সঙ্গে আসন বিন্যাসের আবেদন করেছেন।

এদিকে সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী এই পরিবর্তন স্বীকৃতি পেলে লোকসভায় তৃণমূলের আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব বদলে যেতে পারে বলে ধারণা। ফলে দলনেতার পদ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে, যেখানে বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে লোকসভায় তৃণমূলের প্রতীক ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়েও ভবিষ্যতে বিতর্ক তৈরি হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।

অন্যদিকে বিদ্রোহী সাংসদ শর্মিলা সরকারের বক্তব্যে অসন্তোষের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, এটি হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং দীর্ঘদিনের ক্ষোভের ফল। তাঁর দাবি, দলের ভেতরে অব্যবস্থাপনা, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং প্রশাসনিক সমস্যা বহুদিন ধরেই চলছিল।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, উন্নয়নমূলক কাজ করতে গিয়ে বারবার বাধার মুখে পড়তে হয়েছে এবং এমপি তহবিল ব্যবহারেও সমস্যা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, এনডিএ-কে সমর্থন জানিয়ে আলাদা ব্লক গঠন করাই এখন তাঁদের সিদ্ধান্ত।

সব মিলিয়ে লোকসভা ও রাজ্যসভা- দুই কক্ষেই তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন স্পিকারের সিদ্ধান্ত এবং বিদ্রোহী সাংসদদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

ইসরায়েল ও ইরানের অবিলম্বে গোলাগুলি বন্ধ করতে হবে : ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েল ও ইরানের অবিলম্বে গোলাগুলি বন্ধ করতে হবে : ট্রাম্প
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ইরান ও ইসরায়েলকে অবিলম্বে সব ধরনের হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের সংযমের আহ্বান সত্ত্বেও সংঘাত থামেনি।

ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা এবং আরো কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

ট্রুথ সোশ্যালে একটি নতুন পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েল ও ইরানকে অবিলম্বে ‘গুলি চালানো’ বন্ধ করতে হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাল্টা হামলা না চালানোর আহ্বান জানালেও ইসরায়েল সামরিক হামলা চালিয়েছে। জানা গেছে, লেবাননে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান হামলা নিয়ে ট্রাম্প আগেই ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং নেতানিয়াহুর কিছু পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের আশঙ্কা, ইসরায়েলের এই সামরিক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

অ্যাক্সিওস নিউজের বরাতে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে অপেক্ষা করতে বলেছিলেন, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছানো গেছে।

গত সপ্তাহে দুই নেতার মধ্যে একটি উত্তপ্ত ফোনালাপও হয়। লেবাননে ইসরায়েলের হামলা নিয়ে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন, এমন খবর প্রকাশিত হলেও তিনি তা সরাসরি অস্বীকার করেননি।

এর আগে ট্রাম্প ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তি করলে তা নেতানিয়াহুকে মেনে নিতে হবে, কারণ তার ‘কোনো বিকল্প থাকবে না’।

তিনি আরো দাবি করেন, ‘সব কিছু আমিই নিয়ন্ত্রণ করি, সে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।’ ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে অতীতেও তিনি এমন দাবি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের পর একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। কিন্তু সোমবার প্রথমবারের মতো ইরান ও ইসরায়েল আবার একে অপরের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, যা নতুন করে পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

রাতভর ইরান ইসরায়েলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর জবাবে ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সতর্কতা উপেক্ষা করেছেন।

এর আগে ইসরায়েল লেবাননের রাজধানী বৈরুতে দক্ষিণ উপশহরে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। ইরান আগেই সতর্ক করেছিল, বৈরুতে হামলা হলে তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাবে। সাম্প্রতিক এই হামলা-পাল্টা হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।

বিজেপি নেতার বাড়িতে বৈঠকে ‘বিক্ষুব্ধ’ সংসদ সদস্যরা, আজই ভাঙছে তৃণমূল?

অনলাইন ডেস্ক
বিজেপি নেতার বাড়িতে বৈঠকে ‘বিক্ষুব্ধ’ সংসদ সদস্যরা, আজই ভাঙছে তৃণমূল?
সংগৃহীত ছবি

বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের দিল্লির সরকারি বাসভবনকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের দাবি, ওই বাড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক বিক্ষুব্ধ সাংসদ বর্তমানে বৈঠক করছেন। একইসঙ্গে সেখানে আরো কয়েকটি রাজনৈতিক আলোচনার পর্ব চলছে বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি এমন সময় সামনে এল, যখন রাজধানীতে বিরোধী 'ইন্ডি-শিবিরের' গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে কনস্টিটিউশন ক্লাবে। সেখানে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নিচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে দিল্লিতে একই সময়ে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণের ছবি সামনে এসেছে।

সূত্রের দাবি, ৮ জুনের ওই বৈঠকের আগেই তৃণমূলের লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদরা আলাদা একটি গোপন বৈঠকে মিলিত হন। এরপরই ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে গিয়ে একাংশ সাংসদ আবারও বৈঠকে বসেন বলে জানা যায়।

এর মধ্যে রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন প্রবীণ সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়। তাঁর পদত্যাগকে কেন্দ্র করে দলীয় অভ্যন্তরে অস্থিরতা ও মতবিরোধ আরো স্পষ্ট হয়েছে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

সূত্রের আরো দাবি, ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়ির বৈঠকে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত ছিলেন। কিছুক্ষণ আলোচনার পর তিনি দুপুর প্রায় ২টার দিকে সেখান থেকে বেরিয়ে যান বলে জানা গেছে। তবে এরপরও তৃণমূলের একাধিক বিক্ষুব্ধ সাংসদ ওই বাসভবনে অবস্থান করছেন।

জানা গেছে, ওই বৈঠকের আগে সাংসদদের আরেকটি পৃথক বৈঠকও হয়। সেখানে লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুখ উপস্থিত ছিলেন। পুরোনো ও নতুন- দুই ধরনের সাংসদের অংশগ্রহণ ছিল বলে দাবি করছে সূত্র।

সংখ্যা নিয়েও রয়েছে বিভ্রান্তি। কোনো সূত্র বলছে, প্রায় ২০ জন সাংসদ এই বিক্ষুব্ধ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। আবার অন্য সূত্রের মতে, সংখ্যাটি ১২-এর কাছাকাছি। তবে প্রকৃত সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ও অন্যান্য স্তরেও তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কিছুদিন আগেই বিধানসভায় দলের পরিষদীয় গোষ্ঠীতে বিভাজনের অভিযোগ সামনে আসে। যেখানে অধিকাংশ বিধায়ক আলাদা অবস্থান নেন বলে দাবি করা হয়। ৮০ জনের মধ্যে ৬০ জন আলাদা করে দল গঠন করে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা এবং  সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, শিউলি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিনকে উপ-বিরোধী দলনেতা  হিসেবে ঘোষণা করা হয়। 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্য থেকে শুরু হওয়া এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখন দিল্লির রাজনীতিতেও ছড়িয়ে পড়ছে। কলকাতা পৌরসভা ও অন্যান্য স্থানীয় স্তরেও অসন্তোষ ও অনুপস্থিতির ঘটনা ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে।

অন্যদিকে, বিধানসভার বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, সাংসদদের একসঙ্গে বসা স্বাভাবিক বিষয়। তিনি বলেন, তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে, এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। তিনি আরো দাবি করেন, একাধিক সাংসদের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে এবং পদত্যাগী সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়ের বক্তব্যের সঙ্গে তিনি সহমত।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় যেমন বিদ্রোহী বিধায়করা নতুন নেতৃত্ব বেছে নিয়েছিলেন, তেমনই একই ধরনের সমীকরণ দিল্লিতে লোকসভা ও রাজ্যসভায়ও তৈরি হতে পারে। এমন গুঞ্জন কয়েকদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে অবস্থান করলেও একই সময়ে এই ধরনের একাধিক বৈঠক রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সব মিলিয়ে দিল্লিতে একদিকে বিরোধী জোটের বৈঠক, অন্যদিকে ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের উপস্থিতি- দুইয়ের মাঝে তৃণমূলের ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ত্যাগের আহ্বান ভারতের

অনলাইন ডেস্ক
নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ত্যাগের  আহ্বান ভারতের
ছবি : সংগৃহীত।

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা জারি করেছে ভারতীয় দূতাবাস।

ভারতীয় নাগরিকদের ইরানে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস এবং বর্তমানে যারা সেখানে অবস্থান করছেন, তাদের দ্রুত সম্ভব সব ধরনের পরিবহন ব্যবহার করে দেশ ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। 

সাম্প্রতিক সামরিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এই সতর্কতা আরো জোরদার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। দূতাবাস নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে ইরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। 

 

দূতাবাস জানিয়েছে, সব ভারতীয় নাগরিককে ইরানে যাওয়া এড়িয়ে চলতে বলা হচ্ছে এবং বর্তমানে যারা সেখানে অবস্থান করছেন, তাদের দ্রুত সম্ভব সব ধরনের পরিবহন ব্যবহার করে দেশ ত্যাগ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা আগের পরামর্শ পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, সব ভারতীয় নাগরিককে ইরান ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে হবে এবং যারা বর্তমানে আছেন, তাদের দ্রুত দেশ ছাড়তে হবে।’ 

এই নির্দেশনা ইরানে অবস্থানরত সব ভারতীয় নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য, যার মধ্যে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, তীর্থযাত্রী ও পর্যটকরা রয়েছেন। চলমান ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে এটি ভারতের দেওয়া অষ্টম সতর্কবার্তা। এর আগে এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির পরপরই ভারতীয় দূতাবাস নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিল এবং জরুরি সহায়তার জন্য একটি হেল্পলাইনও চালু করেছিল, যাতে পরিস্থিতি খারাপ হলে নিরাপদে দেশ ছাড়তে পারেন তারা।

প্রায় সাত হাজার ৫০০ ভারতীয় নাগরিক এখনো ইরানে রয়েছেন। এর আগে, দূতাবাস আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সঙ্গে স্থলসীমান্ত দিয়ে ইরান থেকে হাজার হাজার ভারতীয় নাগরিককে দেশত্যাগে সহায়তা করেছে।