নরসিংদীর রায়পুরায় মেঘনা নদীর ভাঙন রোধের আশায় নদীতে গাঁদা ও গোলাপ ফুলের ‘ভোগ’ দিয়েছেন খোরশেদ পাগলা নামের এক কথিত পীর। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) ভাইরাল হওয়া ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, খোরশেদ পাগলা উপজেলার চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের বাটখোলা ও মহিষভেড় এলাকার মেঘনা নদীতে গাঁদা ফুলের মালা, গোলাপসহ বিভিন্ন ফুল ভাসিয়ে দিচ্ছেন। এ সময় আরো দুই ব্যক্তি তাকে সহযোগিতা করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার হাঁটুভাঙা এলাকার বাসিন্দা খোরশেদ পাগলা স্থানীয় আক্কেল আলী শাহ (র.)-এর অনুসারী এবং ‘পরম আনন্দ আখড়া’র কথিত পীর হিসেবে পরিচিত। নদীভাঙন রোধের আশায় করা মানত পূরণ করতেই তিনি কয়েক হাজার টাকার ফুল কিনে নদীতে ‘ভোগ’ দেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আমান উল্লাহ বলেন, মেঘনার ভাঙনে অতীতে চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের মহিষভেড় ও বাটখোলা এলাকার বহু পরিবার বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়েছে। ভাঙন রোধের আশা থেকেই খোরশেদ পাগলা এ উদ্যোগ নিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে খোরশেদ পাগলার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শাহ জালাল সুমন নামে একজন মন্তব্য করেন, ‘কথায় আছে, নাইল্লা পাতায় আগা মানে না। এই পীর আর ফুল ভোগ দিয়ে যদি নদীভাঙন ঠেকানো যেত, তাহলে সবাই বাঁধ নির্মাণ না করে ফুল কিনেই ভোগ দিত।’
আরেক ব্যবহারকারী মান্নান মিয়া লিখেছেন, ‘এ ভণ্ড, দয়াল বাবা কিভাবে হয়? ফাজলামিরও একটা সীমা থাকা দরকার।’
তবে অধিকাংশ মন্তব্যেই নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।





