• ই-পেপার

রাজশাহী

৯ বছরের শিশুকে যৌন হয়রানি, অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

চিকিৎসককে লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে নন্দীগ্রাম হাসপাতালে সেবা বন্ধ

বগুড়া অফিস
চিকিৎসককে লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে নন্দীগ্রাম হাসপাতালে সেবা বন্ধ
সংগৃহীত ছবি

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শনিবার (৬ জুন) থেকে বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তবে জরুরি বিভাগ ও অন্তর্বিভাগের সেবা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত শুক্রবার বিকেলে কাহালু উপজেলার দেবখন্দ গ্রামের রুবেল আহমেদের মেয়ে মারজানা খাতুন (১২) কীটনাশক পান করলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে বিকেল ৪টার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। ওই সময় জরুরি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন ডা. আতিক শাহরিয়ার। তখন রোগীর চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে স্বজনদের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে চিকিৎসক শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ ওঠে।

ডা. আতিক শাহরিয়ার দাবি করেন, রোগীকে হাসপাতালে আনার পর তিনি তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করেন এবং স্টমাক ওয়াশের প্রস্তুতির জন্য সহকর্মীদের ডাকেন। তবে সহকর্মীরা আসতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় রোগীকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রোগীর স্বজনরা তাঁর ওপর চড়াও হন।

অন্যদিকে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও চিকিৎসক কার্যকর কোনো চিকিৎসা দেননি। পরে বগুড়ায় পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বললে তাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে শনিবার থেকে বহির্বিভাগের চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তোফাজ্জল হোসেন মণ্ডল বলেন, চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে জরুরি বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালু রয়েছে।

নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. এস এম নূর-ই-শাদীদ হাসপাতাল পরিদর্শন করে চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে বহির্বিভাগের সেবা কবে চালু হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি।

ময়মনসিংহে ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহে ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাতে হেলাল উদ্দিন (২৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। 

সোমবার (৮ জুন) বিকেলে পৌরশহর এলাকার উপজেলা ভূমি অফিসের পেছনেই এ ঘটনা ঘটে।

নিহত হেলাল পৌর শহরের কাঁচারীপাড়া এলাকার মৃত আলী হোসেনের পুত্র।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হেলালের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় তার পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এ অবস্থায় সে দৌড়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে চাইলে ঘাতকরা সেখানেও তার ওপর হামলা করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে তারা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হেলালকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়।

হালুয়াঘাট সার্কেল এএসপি মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলে রেললাইনের পাশ থেকে ২ নারীর মরদেহ উদ্ধার

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলে রেললাইনের পাশ থেকে ২ নারীর মরদেহ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। একই এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় আরেক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

সোমবার (৮ জুন) সকালে উপজেলার মিরহামজানী এলাকায় দুটি মরদেহ পাওয়া যায়। নিহত মুক্তা বেগম (৩০) ওই এলাকার সুজন মিয়ার স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের মিরহামজানী এলাকায় স্বামী ও শিশু সন্তানকে নিয়ে রেললাইনের পাশ দিয়ে হেঁটে বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন মুক্তা বেগম। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

আরো পড়ুন
জয়পুরহাটে স্কুল পরিচালনা কমিটির নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ, প্রার্থীসহ আহত ৯

জয়পুরহাটে স্কুল পরিচালনা কমিটির নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ, প্রার্থীসহ আহত ৯

 

এদিকে একই এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পুলিশের ধারণা, ওই নারীকে হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছিল। মরদেহে পচন ধরায় তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা রেলওয়ে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এনামুল হক বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় দুটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

জয়পুরহাটে স্কুল পরিচালনা কমিটির নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ, প্রার্থীসহ আহত ৯

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
জয়পুরহাটে স্কুল পরিচালনা কমিটির নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ, প্রার্থীসহ আহত ৯
সংগৃহীত ছবি

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই প্যানেলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক প্রার্থীসহ অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন প্রার্থী শেখ শাহাঙ্গীর আলম, তাঁর সমর্থক শেখ হাবিবুর রহমান, মিথন মণ্ডল ও ইউসুফ আলী। অপর প্যানেলের আহতরা হলেন সাদিক হোসেন, মুনছুর রহমান, জুয়েল রানা, রশিদুল ইসলাম ও রানা মিয়া। আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে চারজন অভিভাবক সদস্য নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আনিছুর রহমান ও শেখ শাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বাধীন দুটি প্যানেলসহ মোট নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সকাল ৯টা থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চললেও শেষ পর্যায়ে এসে উত্তেজনা দেখা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ভোটারের সঙ্গে কথা বলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহত প্রার্থী শেখ শাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা থেকে প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাঁর ও সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষ প্যানেলের প্রার্থী আনিছুর রহমান বলেন, সংঘর্ষে তাঁদের পক্ষের লোকজনও আহত হয়েছেন। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করলে সত্য বেরিয়ে আসবে।

নির্বাচনের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনাটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চালিয়ে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।’

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, ‘বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কোনো পক্ষ অভিযোগ দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’