লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে তোরাবগঞ্জ বাজারে অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষকের নামে ইজারাকৃত পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। তোরাবগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক ব্যবসায়ী মোছলেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক আলী আকবর। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে দুটি টিনশেড দোকানঘর নির্মাণ করেছেন ওই বিএনপি নেতা।
এদিকে ঘটনার প্রতিকার চেয়ে শিক্ষক আকবর লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ৩ জন ব্যবসায়ী জানান, সরকার পরিবর্তনের পর মোছলেহ উদ্দিন তোরাবগঞ্জ বাজারের একাধিক স্থানে পাউবোর জায়গায় মাটি ভরাটসহ দখল করেছেন। পূর্ব বাজারে পাউবোর জমিতে একটি মাদরাসা বসিয়ে প্রায় ৪০ শতক একটি খাল ভরাট করে ফেলেছেন। এতে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। সব শেষ তিনি উপজেলার দক্ষিণ চরমার্টিন এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আকবরের নামে ইজারাকৃত জমি দখল করে দোকান নির্মাণ করেছেন।
অভিযোগে আলী আকবর উল্লেখ করেন, ১৯৭৫ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে তিনি তফসিলভুক্ত একটি ভূমি ইজারা গ্রহণ করেন। এরপর থেকেই নিয়মিত সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করেও আসছেন। লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়কের তোরাবগঞ্জ উত্তর বাজারে সড়কের পূর্ব পাশে তার দোকানঘরের জায়গাটি দীর্ঘ দিন খালি পড়ে ছিল। বিএনপি নেতা মোছলেহ উদ্দিন গত ঈদুল আযহার বন্ধের সুযোগে তার ইজারাকৃত জমিটি রাতের আঁধারে দখল করেন। পরে সেখানে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করেন। ঈদের ছুটির পর এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরপর ঘটনাটি শিক্ষককের নজরে এলে তাৎক্ষণিক তিনি জেলা প্রশাসক এবং কমলনগর থানায় অভিযোগ দাখিল করেন।
আলী আকবর বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপি নেতার বড় ভাই কৃষক লীগ নেতা আজিজুল হক ফারুক একই কায়দায় ২০০৯ সালের ২০ জুন ওই জমিটি দখলের চেষ্টা করেন। সে সময়েও বর্তমান এমপি এবং লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপারের নিকট অভিযোগ দিলে ফারুক মুচলেকা দিয়ে থেকে সরে যান। এখন ক্ষমতার পালাবদলে এবার বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ওই জমিতে দোকানঘর তৈরি করেছেন।’
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোছলেহ উদ্দিন বলেন, ‘তোরাবগঞ্জ বাজারে অধিকাংশ দোকানপাটই পাউবোর জমিতে। আর জমিটি পাউবো থেকে আমাদের লিজ নেওয়া আছে।’
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ জামান খান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। বিস্তারিত জানা ছাড়া কিছু বলা যাচ্ছে না।’
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসানের মোবাইলফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।