• ই-পেপার

ঈদের আগে বেতন পাননি ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী : সেলিম ভুঁইয়া

২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ : বাণিজ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিশ্বের ২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে। সোমবার (৮ জুন) সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং একটি খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

আরো পড়ুন
আগামী অর্থবছরে বিভিন্ন দেশে ১৪ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় সরকার : নূর

আগামী অর্থবছরে বিভিন্ন দেশে ১৪ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় সরকার : নূর

 

মন্ত্রী বলেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত থেকে আসে। এ নির্ভরতা কমাতে সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, ওষুধশিল্প, আইসিটি ও সফটওয়্যার সেবা, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক পণ্যের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে একই ধরনের নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে।

তিনি জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনার আলোকে এসব খাতের আংশিক রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক রপ্তানি বৃদ্ধি ও পণ্যের বৈচিত্র্য আনতে জাপানের ‘ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট’ মডেলের আদলে ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট (ওডিওপি)’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় দেশের ৬৪ জেলার জন্য ইতোমধ্যে ১৪টি পণ্য চিহ্নিত করা হয়েছে।

আরো পড়ুন
পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশে সঞ্চালন ব্যবস্থা ‘স্মার্ট’ করার নির্দেশ জ্বালানি মন্ত্রীর

পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশে সঞ্চালনব্যবস্থা ‘স্মার্ট’ করার নির্দেশ জ্বালানিমন্ত্রীর

 

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের ফলে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে, যা প্রায় ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানিকে প্রভাবিত করতে পারে।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছে। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সিইপিএ চুক্তির আলোচনা চলছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরসিইপি সদস্য দেশসমূহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, চীনসহ অন্যান্য সম্ভাব্য বাজারের সঙ্গে ইপিএ, সিইপিএ ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, টেকসই রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে রপ্তানি নীতি ২০২৪-২০২৭ প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রচলিত বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাইরে নতুন বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ব্রাজিল, মধ্যপ্রাচ্য, জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সিআইএসভুক্ত দেশ এবং বিভিন্ন আফ্রিকান দেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ।

মন্ত্রী বলেন, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও সিআইএসভুক্ত দেশগুলোতে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ বাণিজ্য প্রতিনিধি দল পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা ও সিআইএস অঞ্চলে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সিআইপি মর্যাদা ও এক্সপোর্ট ট্রফি প্রদানের মাধ্যমে রপ্তানিকারকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

রপ্তানিকারকদের দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, কাঁচামাল আমদানিতে সহায়তার জন্য এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ‘৫ হাজার কোটি টাকার প্রি-শিপমেন্ট ঋণ তহবিল’ গঠন করেছে, যেখানে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করা হয়েছে এবং বাণিজ্য উইংগুলো রপ্তানি বৃদ্ধি ও বাংলাদেশি পণ্যের ব্র্যান্ডিংয়ে কাজ করছে।

পণ্যের বৈচিত্র্য, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার ‘পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং প্রোডাক্টস’কে ২০২৬ সালের বর্ষসেরা রপ্তানি পণ্য ঘোষণা করেছে।

তিনি আরো জানান, পণ্যের মান ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছর ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করেছে, যা রপ্তানি উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে ইপিবি ৪৬টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাকে তাদের ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পার্শ্ব-আয়োজন হিসেবে ৮টি সেমিনারের আয়োজন করেছে।

মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে (গ্লোবাল ভ্যালু চেইন) অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং রপ্তানিনির্ভর বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এফটিএ, ইপিএ ও সিইপিএভিত্তিক উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

এলডিসি উত্তরণ এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়ম মেনে নগদ সহায়তার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মত বিকল্প প্রণোদনা ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।

দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি আরো গভীর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে এলডিসি-উত্তর সময়ে বাংলাদেশ নির্বিঘ্ন ও টেকসইভাবে এগিয়ে যেতে পারে।

এ ছাড়া জিসিসি, মার্কোসুরভুক্ত দেশ, রাশিয়া, পূর্ব ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। ভিয়েতনাম, হংকং, তুরস্ক ও নাইজেরিয়ার সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরের সম্ভাব্যতা সমীক্ষাও যথাসময়ে সরকারি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান।

জুলাইযোদ্ধা সুজনের পাশে দাঁড়ালেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাইযোদ্ধা সুজনের পাশে দাঁড়ালেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা

জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করা জুলাইযোদ্ধা সুজনের সহায়তায় পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। সুজনের পারিবারিক ও আর্থিক দুর্দশার কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দেন তিনি।

আজ সোমবার (৮ জুন) ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জুলাইযোদ্ধা সুজনের অসহায়ত্বের করুণ বর্ণনা শুনে জেলা প্রশাসক এই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।

এ সময় ​ সুজন জানান, জুলাই আন্দোলনে আহত হয়ে বর্তমানে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও শারীরিক অক্ষমতার কারণে তিনি সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সুজনের পরিবারে বর্তমানে একাধিক সংকট চলছে। তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। ঘরে রয়েছেন এক ডিভোর্সপ্রাপ্ত বোন, যার দেখভালের দায়িত্বও এই পরিবারের ওপর। অন্যদিকে তার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হওয়ায় চিকিৎসা ও সংসার ব্যয়ের চাপ আরো বেড়েছে। এমন চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের কাছে সহায়তার আবেদন জানান তিনি।

​সুজনের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে যারা আত্মত্যাগ করেছেন বা আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের গভীর দায়িত্ব রয়েছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছে। সুজনের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত কষ্টকর। তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি তার জন্য একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়েও আমরা উদ্যোগ নেব।’

তিনি আরো উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় অসহায় ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছেন এবং সেই ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসনও মানবিক দায়িত্ব পালনে কাজ করে যাচ্ছে।

​আর্থিক সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত সুজন বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে আহত হওয়ার পর জীবনটা যেন একেবারে থমকে গেছে। বাবা স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী, বোনের সংসার ভেঙে গেছে, আমার স্ত্রীও সন্তানসম্ভবা। পরিবারের দিকে তাকালে নিজেকে খুব অসহায় লাগত।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘অনেক জায়গায় ঘুরেছি, কিন্তু আজ জেলা প্রশাসক ম্যাডাম আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। শুধু আর্থিক সহায়তাই দেননি, ভবিষ্যতে কাজের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দিয়েছেন। এই সহযোগিতা আমার পরিবারের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।’

​সহায়তা প্রদানকালে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
 

আগামী অর্থবছরে বিভিন্ন দেশে ১৪ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় সরকার : নুর

অনলাইন ডেস্ক
আগামী অর্থবছরে বিভিন্ন দেশে ১৪ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় সরকার : নুর

আগামী অর্থবছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আনুমানিক ১৪ লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

আজ সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাকের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন বাংলাদেশি কর্মী বৈদেশিক কর্মসংস্থান লাভ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারের পক্ষ থেকে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নুরুল হক নুর জানান, যেসব দেশে বর্তমানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ বা সীমিত রয়েছে, সেসব দেশের শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত ও সম্প্রসারণের জন্য মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের সঙ্গে সরকারের কূটনৈতিক আলোচনা ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলমান রয়েছে।

পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশে সঞ্চালনব্যবস্থা ‘স্মার্ট’ করার নির্দেশ জ্বালানিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশে সঞ্চালনব্যবস্থা ‘স্মার্ট’ করার নির্দেশ জ্বালানিমন্ত্রীর
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশে পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের প্রস্তুতি হিসেবে বিদ্যমান বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আরো নিরাপদ, স্মার্ট ও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দ্রুত একটি ‘ওয়ার্কিং পেপার’ প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

সোমবার (৮ জুন) সকালে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন সঞ্চালন ও বিতরণ সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কম্পানিগুলোর চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনাসভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

সভায় দেশের বিদ্যমান বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ সক্ষমতা, দুর্বলতা, স্মার্ট গ্রিড ব্যবস্থা, পারমাণবিক বিদ্যুৎ সংযোজনের চ্যালেঞ্জ এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় বিদ্যুৎ-জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের প্রাক্কালে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো দ্রুত শনাক্ত করে সেগুলো মোকাবেলায় কার্যকর প্রস্তুতি নিতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে নিরাপদ ও আধুনিক করতে একটি ‘জাতীয় গবেষণা কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে পাওয়ার গ্রিড কম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-কে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা পরিচালনা করে একটি কনসেপ্ট পেপার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ বিদেশি পরামর্শকদের মাধ্যমে ওই কনসেপ্ট পেপার মূল্যায়ন করা হবে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় আধুনিকায়ন সম্পন্ন করা হবে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে আমরা এখন কয়লা ও সৌরবিদ্যুৎসহ বহুমুখী জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়েছি। এখন পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের প্রস্তুতি চলছে। তবে এর জন্য ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবস্থার মধ্যে পূর্ণ সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।’

বিগত সরকারের সমালোচনা করে বিদ্যুৎ-জ্বালানি মন্ত্রী অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে এ ধরনের সমন্বিত অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় বা ‘সিস্টেম কলাপ্স’-এর ঝুঁকি রয়ে গেছে। এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে প্রস্তুতিমূলক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সভায় স্মার্ট গ্রিড সিস্টেম বাস্তবায়নের জন্য বিস্তারিত কনসেপ্ট ও ওয়ার্কিং পেপার উপস্থাপনের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। এ বিষয়ে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা উপস্থাপনের আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর ও জটিল কারিগরি ব্যবস্থা হওয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।’ এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সভায় বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সক্ষমতা, চ্যালেঞ্জ ও উন্নয়ন পরিকল্পনার অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম এবং পিজিসিবির প্রধান প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম।