যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল অডিট অফিস (এনএও) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সম্পত্তি ও অর্থব্যবস্থার নানা তথ্য উঠে এসেছে। প্রায় ২০ বছরের মধ্যে রাজকীয় আবাসন নিয়ে এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর রয়্যাল লজ এস্টেটের তিনটি কটেজ অন্যদের কাছে ভাড়া দিয়ে আয় করেছেন। তবে তিনি কত অর্থ পেয়েছেন, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই এবং রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের তৃতীয় সন্তান অ্যান্ড্রু। সাম্প্রতিক মার্কিন ফাইল প্রকাশের পর দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে তিনি বেশ কিছুদিন আগে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
রাজপ্রাসাদের দাবি, এসব কটেজ বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল এবং ভাড়ার অর্থ মূলত রক্ষণাবেক্ষণ খরচ মেটাতেই ব্যবহার করা হয়েছে।
এনএও জানিয়েছে, অ্যান্ড্রু ও তার পরিবারের ব্যবহারের জন্য মোট ১২টি সম্পত্তি ছিল, যেগুলোর মালিক ক্রাউন এস্টেট বা রয়্যাল হাউসহোল্ড। যদিও তিনি চলতি বছর রয়্যাল লজ ছেড়ে নরফোকের স্যান্ড্রিংহামে চলে গেছেন, তবুও ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত রয়্যাল লজের লিজ তার কাছেই রয়েছে। প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম বা আইন ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজা তার কন্যা রাজকুমারী বিয়াট্রিস ও রাজকুমারী ইউজেনি-এর আবাসনের ভাড়া ব্যক্তিগত তহবিল থেকে পরিশোধ করেন। তারা সরকারি দায়িত্ব পালন না করলেও লন্ডনের রাজপ্রাসাদে আবাসনের সুবিধা পান। তবে রাজপ্রাসাদের দাবি, এসব ভাড়া সরকারি ব্যয়ের সমপরিমাণ হওয়ায় করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্সেস ক্যাথরিনের কেনসিংটন প্যালেসে একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এছাড়া আরও ২১ জন রাজকীয় পদধারী রাজপ্রাসাদে বিনা ভাড়ায় বসবাসের সুবিধা পান, যার মধ্যে ১৭ জন সামরিক নাইট।
প্রতিবেদনটি রাজপরিবারের অর্থায়নের তিনটি প্রধান উৎসও ব্যাখ্যা করেছে। ক্রাউন এস্টেট একটি স্বাধীন সম্পত্তি সংস্থা, যার মুনাফা সরকারি কোষাগারে জমা হয়। সোভেরেন গ্রান্ট হলো রাজতন্ত্রের সরকারি কাজ পরিচালনার জন্য দেওয়া সরকারি অর্থ, যার পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ১৩৮ মিলিয়ন পাউন্ড। আর প্রিভি পার্স হলো রাজার ব্যক্তিগত তহবিল, যার একটি বড় অংশ আসে ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টার থেকে।
রাজপ্রাসাদ জানিয়েছে, প্রতিবেদনটি তাদের স্বচ্ছতা বজায় রাখার অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি রাজকীয় সম্পত্তি নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা দূর করতে সহায়তা করবে। তবে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি দায়িত্বে না থাকা রাজপরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ আবাসন সুবিধা দেওয়া কতটা যৌক্তিক।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মার্গারেট হজ বলেন, অ্যান্ড্রু ভাড়া দেওয়া সম্পত্তি থেকে কত আয় করেছেন তা নির্ধারণ করা না যাওয়াটা উদ্বেগজনক। তার মতে, ক্রাউন এস্টেটের সম্পদ জনগণের সম্পদ, তাই এর ব্যবস্থাপনায় সবসময় করদাতাদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।




