• ই-পেপার

রয়্যাল লজের কটেজ ভাড়া দিয়ে আয় করতেন অ্যান্ড্রু

সাহারা মরুভূমিতে বিকল ট্রাক : তৃষ্ণায় ৫০ জনের মৃত্যু, হেঁটে বাঁচলেন ২ জন

অনলাইন ডেস্ক
সাহারা মরুভূমিতে বিকল ট্রাক : তৃষ্ণায় ৫০ জনের মৃত্যু, হেঁটে বাঁচলেন ২ জন
সংগৃহীত ছবি

নাইজারের সাহারা মরুভূমির এক প্রত্যন্ত এলাকায় ট্রাক বিকল হয়ে জলশূন্যতায় ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মরুভূমির চরম প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে পনি ছাড়া আটকে পড়ে তারা মারা যান। তবে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন দুজন। তারা মরুভূমির তপ্ত বালুর ওপর দিয়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটার হেঁটে লোকালয়ে এসে প্রশাসনকে খবর দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়। খবর ফ্রান্স 24

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) নাইজারের আগাদেজ অঞ্চলের গভর্নর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এক ফেসবুক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহত ব্যক্তিরা মালি থেকে একটি মুসলিম ধর্মীয় উৎসব শেষ করে দেশে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে নাইজার ও আলজেরিয়া সীমান্তের আসামাকা শহর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে মরুভূমির ভেতরে তাদের বহনকারী ট্রাকটি বিকল হয়ে যায়।

গভর্নর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পানি ফুরিয়ে যাওয়ার পর চালক, তার সহকারী ও যাত্রীরা মিলে আপ্রাণ চেষ্টা করেও গাড়িটি মেরামত করতে পারেননি। তীব্র তাপমাত্রা ও কোনো ধরনের পানির উৎস না থাকায় ওই বৈরী পরিবেশের মধ্যে যাত্রীরা আটকা পড়েন। সেখানে বেঁচে থাকা অসম্ভব ছিল।’ পরে উদ্ধারকারী দল গিয়ে নিহত ব্যক্তিদের মরুভূমিতেই গণকবর দেয়।

ভয়াবহ এই বিপর্যয় থেকে বেঁচে ফেরা দুজনের বিষয়ে প্রশাসন জানিয়েছে, তারা কোনো রকমে পায়ে হেঁটে ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রথমে একটি পানির উৎসের সন্ধান পান। পরে সেখান থেকে আসামাকা শহরে পৌঁছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে পুরো বিষয়টি জানান।

উল্লেখ্য, আফ্রিকা থেকে ইউরোপে যাওয়ার জন্য অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয় সাহারা মরুভূমির এই অঞ্চলটি। প্রচণ্ড দাবদাহ আর জল-খাবারের অভাবে প্রায়ই এই দুর্গম মরুভূমিতে অভিবাসী ও যাত্রীদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

মালবাহী জাহাজে হামলা, প্রাণ হারালেন আজারবাইজানের ৫ নাগরিক

অনলাইন ডেস্ক
মালবাহী জাহাজে হামলা, প্রাণ হারালেন আজারবাইজানের ৫ নাগরিক
ছবি : রয়টার্স

আজভ সাগরে দুটি মালবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় পাঁচজন আজারবাইজানি নাগরিক নিহত এবং আরো তিনজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যভাগে অবস্থিত এই সাগরের কোনো উপকূল বা স্থল সীমানা নেই। এর বদলে, মহাসাগরীয় স্রোতের বৃত্তাকার ঘূর্ণন দিয়ে এর চারপাশের সীমানা নির্ধারিত হয়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার তাগানরগ উপসাগরে হামলার শিকার জাহাজ দুটির ক্রুদের মধ্যে মোট ২৫ জন আজারবাইজানি নাগরিক ছিলেন। তবে জাহাজগুলো আজারবাইজানের মালিকানাধীন নয়। এর আগে শুক্রবার ইউক্রেন দাবি করে, তাদের ড্রোন রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের উপকূলীয় জলসীমা এবং মারিউপোল ও বেরডিয়ানস্ক বন্দরে থাকা পাঁচটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।

ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভডি এক বিবৃতিতে বলেন, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল কয়েকটি মালবাহী জাহাজ ও একটি তেলবাহী জাহাজ। তার দাবি, এসব জাহাজ ইউক্রেনীয় শস্য পরিবহন এবং সামরিক সরঞ্জাম ও জ্বালানি সরবরাহে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

তিনি আরো বলেন, জাহাজগুলোর পরিচয় গোপন করতে তাদের নাম মুছে ফেলা হয়েছিল এবং রাডার বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে হামলার বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফিরহাদ হাকিম

অনলাইন ডেস্ক
মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফিরহাদ হাকিম

কলকাতা পৌরসভা মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ফিরহাদ হাকিম। শুক্রবার কলকাতা পৌরসভায় আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। পরে তিনি পৌরসভার চেয়ারম্যান মালা রায়ের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন।

২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন ফিরহাদ হাকিম। সেই হিসেবে প্রায় সাড়ে সাত বছর তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ এই সময় শেষে তিনি মেয়র পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।

সাংবাদিক বৈঠকে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ফিরহাদ হাকিম বলেন, তিনি এতদিন দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং মানুষের সমস্যার সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই কাজ আর আগের মতোভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরো বলেন, 'চেয়ারের সম্মানহানি করতে পারি না। চেয়ার ধরে বসে থাকলাম অথচ ঢাল নেই, তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার। তাই আমি আজ ইস্তফা দিচ্ছি।'

মেয়র পদ ছাড়ার বিষয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ফিরহাদ। তিনি জানান, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি দলের অনুমতি চেয়েছিলেন এবং তা পেয়েছেন। তার ভাষায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্মতি দিয়েছেন বলেই তিনি পদত্যাগ করছেন।

পদত্যাগের পর ফিরহাদ হাকিম বলেন, কলকাতার পরবর্তী প্রশাসন যেন স্বচ্ছভাবে কাজ করে এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে- এটাই তাঁর বার্তা।

তিনি মেয়র হিসেবে তার কিছু অসমাপ্ত কাজের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর আশা, সেই কাজগুলো ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ হবে। পাশাপাশি তিনি স্মরণ করেন কোভিড-১৯ পরিস্থিতির সময় পৌরসভাকে যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল।

ফিরহাদ হাকিম দীর্ঘদিন কলকাতা পৌরসভার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। ২০০০, ২০০৫ এবং ২০১০ সালে তিনি ওই ওয়ার্ড থেকেই নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালে তিনি পুরভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পর তিনি কলকাতার মেয়র হন এবং উপনির্বাচনে ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী হয়ে ফিরে আসেন। ২০২১ সালেও তিনি একই ওয়ার্ড থেকে পুনর্নির্বাচিত হন।

মেয়র হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক মাস আগেই তার এই পদত্যাগকে ঘিরে কলকাতা পৌরসভায় বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এর ফলে কলকাতা পৌরসভার প্রশাসনিক কাঠামোয় নতুন অধ্যায় শুরু হলো।

এর আগে রাজ্যের অন্যান্য পৌরসংস্থাতেও মেয়র পদে পরিবর্তন হয়েছে। বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী এবং চন্দননগর পুরনিগমের মেয়র রাম চক্রবর্তী সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার কলকাতার মেয়র পদেও পরিবর্তন ঘটল।

অস্ট্রেলিয়ায় ১ লাখ অবৈধ ‘হিসিং’ তেলাপোকা জব্দ

অনলাইন ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ায় ১ লাখ অবৈধ ‘হিসিং’ তেলাপোকা জব্দ
ছবি : ডিসিইইডব্লিউ

অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যে এক বাণিজ্যিক প্রজননকারীর কাছ থেকে ১ লাখের বেশি অবৈধ বিদেশি তেলাপোকা জব্দ করেছে। এর মধ্যে কিছু তেলাপোকা মানুষের হাতের তালুর সমান বড় ছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জব্দ করা তেলাপোকাগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার। 

এগুলোর মধ্যে ছিল মাদাগাস্কার হিসিং তেলাপোকা এবং দুবিয়া তেলাপোকা। অস্ট্রেলিয়ায় এই দুই প্রজাতির তেলাপোকা আমদানি, পালন, প্রজনন বা বিক্রি করা আইনত নিষিদ্ধ। সিডনি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত বাথার্স্ট এলাকার এক প্রজননকারীর কাছ থেকে এসব তেলাপোকা জব্দ করা হয়।

কর্তৃপক্ষের মতে, এটি অস্ট্রেলিয়ায় অবৈধ বিদেশি অমেরুদণ্ডী প্রাণী জব্দের সবচেয়ে বড় ঘটনা। তারা সতর্ক করেছে, এসব বিদেশি পোকামাকড় রোগ ছড়াতে পারে এবং স্থানীয় বন্যপ্রাণী ও কৃষির জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। জব্দ করা তেলাপোকাগুলো সাধারণত পোষা সরীসৃপ প্রাণীর খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে এগুলো অবৈধ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ সেগুলো ধ্বংস করে ফেলবে বলে জানিয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন, শক্তি, পরিবেশ ও পানি বিভাগের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা বহিরাগত তেলাপোকার অবৈধ প্রজনন ও ব্যবসা দেখতে পাচ্ছি এবং আমরা পোষ্য প্রাণীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মালিকদের সতর্ক করছি।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘যদি আপনার কাছে ডুবিয়া তেলাপোকা এবং মাদাগাস্কার হিসিং তেলাপোকার মতো তেলাপোকা পাওয়া যায়, তবে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করা হবে। এ ছাড়া আপনাকে ফেডারেল আইনের অধীনে শাস্তির সম্মুখীন হতে হতে পারে।’ মাদাগাস্কার হিসিং তেলাপোকা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম প্রজাতি। এদের এমন নামকরণের কারণ হলো এরা এমন জোরে হিসহিস শব্দ করতে পারে, যা শুনতে পাওয়া যায়।