পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত একটি নৌকায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। বুধবারের এ ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর থেকে যাদের ‘নারকো-টেররিস্ট’ বা মাদক-সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে নৌকা হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২০৭ জন নিহত হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন লাতিন আমেরিকায় কথিত মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এ অভিযানের অংশ হিসেবে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবিয়ান সাগরের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালানো হচ্ছে।
মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, পরিচিত মাদক পাচার রুটে চলাচলকারী একটি নৌকাকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। তবে নৌকাটিতে মাদক ছিল, এমন কোনো প্রমাণ তারা প্রকাশ করেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দ্রুতগতিতে চলা নৌকাটিতে হামলার পর আগুন ধরে যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, লাতিন আমেরিকার মাদক চক্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত ‘সশস্ত্র সংঘাতে’ রয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহ ও অতিরিক্ত মাদক সেবনে মৃত্যুর ঘটনা ঠেকাতে এসব অভিযান প্রয়োজন। তবে প্রশাসনের সমালোচকদের অভিযোগ, ‘মাদক-সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে যাদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর নৌকা হামলাগুলোর বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী মাদক ওভারডোজের জন্য দায়ী ফেন্টানাইলের বেশিরভাগই মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে স্থলপথে প্রবেশ করে। এই মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সাধারণত চীন ও ভারত থেকে আসে।
এ কারণে সমুদ্রপথে কথিত মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে সমস্যার সমাধান হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। হামলাগুলো নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক দলের কিছু আইনপ্রণেতা ও সামরিক আইন বিশেষজ্ঞও তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের শুরুতে চালানো প্রথম হামলাটি ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে।
ওই হামলায় একটি নৌকায় থাকা ১১ জনের মধ্যে ৯ জন নিহত হন। হামলার পর দুজন জীবিত ছিলেন এবং ধ্বংসাবশেষ আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছিলেন। পরে নৌকাটিতে আবার হামলা চালানো হলে তারাও নিহত হন।
হোয়াইট হাউস দ্বিতীয় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, নৌকাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা এবং আত্মরক্ষার স্বার্থে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তাদের দাবি, এটি সশস্ত্র সংঘাতের আইন মেনেই করা হয়েছে। তবে কিছু আইন বিশেষজ্ঞের মতে, কোনো সংঘাত চললেও আহত বা বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে দ্বিতীয়বার হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ হতে পারে।
এদিকে পেন্টাগনের তদারকি সংস্থা মে মাসে জানিয়েছে, এসব হামলা পরিচালনার সময় মার্কিন সামরিক বাহিনী নির্ধারিত লক্ষ্য নির্বাচন ও হামলার প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করেছে কি না, তা তারা পর্যালোচনা করবে। তবে তদন্তটি হামলার বৈধতা নয়, বরং সামরিক বাহিনী তাদের নিজস্ব লক্ষ্য নির্ধারণের নিয়ম মেনেছে কি না, সেটির ওপরই কেন্দ্রীভূত থাকবে।







