• ই-পেপার

হাদিসের বাণী

শুধু যে তিন ব্যক্তি অন্যের কাছে চাইতে পারবে

নেক আমলকারীদের অমুল্য প্রতিদান

ইসলামী জীবন ডেস্ক
নেক আমলকারীদের অমুল্য প্রতিদান
সংগৃহীত ছবি

মানুষ এই পৃথিবীতে নানা উদ্দেশ্যে ছুটে বেড়ায়। কেউ সম্পদের পেছনে, কেউ সম্মানের পেছনে, আবার কেউ ক্ষমতার পেছনে জীবন ব্যয় করে। কিন্তু এসব অর্জন একদিন ফুরিয়ে যাবে। কবরের অন্ধকারে, হাশরের ময়দানে এবং জান্নাত-জাহান্নামের চূড়ান্ত বিচারের মুহূর্তে মানুষের প্রকৃত সম্পদ হবে তার নেক আমল। তাই আল্লাহ তাআলা কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে নেক আমলকারীদের জন্য এমনসব মহাপুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের কল্পনাতেও আসেনি। 

আরো পড়ুন
জান্নাতে বিশেষ আপ্যায়নে আমিষজাতীয় খাদ্য

জান্নাতে বিশেষ আপ্যায়নে আমিষজাতীয় খাদ্য

 

একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা হলো এই বিশ্বাস যে, তার প্রতিটি সৎকাজ, প্রতিটি ইবাদত, প্রতিটি ত্যাগ ও প্রতিটি অশ্রুবিন্দুর প্রতিদান আল্লাহ তাআলার কাছে সংরক্ষিত আছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘পুরুষ কিংবা নারীর মধ্যে যে ব্যক্তিই নেক আমল করবে এমতাবস্থায় সে হবে একজন মুমিন, তাহলে অবশ্যই তাকে আমি দুনিয়ার বুকে পবিত্র জীবনযাপন করাবো এবং আখিরাতের জীবনেও আমি তাদের কৃতকর্মের উত্তম বিনিময় দান করব।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯৭)।

আল্লাহ নেক আমলকারীদের সম্পর্কে আরো বলেন, ‘আর যারাই আল্লাহতায়ালার ওপর ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে তাদের কোনো ভয় নেই, কেননা আমি কখনো তাদের বিনিময় বিনষ্ট করি না, যারা নেক আমল করে। তাদের জন্য রয়েছে এমন এক স্থায়ী জান্নাত, তার পাদদেশ দিয়ে ঝরনাধারা প্রবাহিত হবে, তাদের সেখানে সোনার কাঁকন দ্বারা অলংকৃত করা হবে, তারা পরিধান করবে মিহি ও পুরু রেশমের পোশাক। এমনকি তারা সমাসীন হবে সুসজ্জিত আসনে। কত সুন্দর তাদের এ বিনিময়, কত চমৎকার তাদের আশ্রয়ের স্থানটি।’ (সুরা : কাহাফ, আয়াত : ৩০-৩১)

প্রত্যেক মুসলমান নিয়মিত আমলের মাধ্যমে আল্লাহ রব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। নিয়মিত আমল এবং আল্লাহকে ভয় মানুষকে পরকালে নাজাত পেতে সাহায্য করবে এবং আল্লাহর শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ থাকবে। ভালো কাজের মধ্য দিয়ে যারা নিজেকে সমর্পণ করবে এবং ইসলামের বিধিবিধান অনুযায়ী ইহকালীন জীবন অতিবাহিত করবে, আল্লাহ তাদের সুখ শান্তিময় বেহেশত দান করবেন। আল্লাহ বলেন, ‘আজ প্রত্যেক মানুষকে সে পরিমাণ প্রতিফলই দেওয়া হবে যে পরিমাণ সে দুনিয়ায় অর্জন করে এসেছে, আজ কারও প্রতি কোনো রকম অবিচার করা হবে না, অবশ্যই আল্লাহতায়ালা দ্রুত হিসাব গ্রহণে তৎপর।’ (সুরা : মুমিন, আয়াত : ১৭)

কেয়ামতের ময়দানে কারও প্রতি আল্লাহ জুলুম করবেন না। সেদিন গুনাহ ও সওয়াবের মাধ্যমে সব জুলুমের বদলা নেওয়া হবে। সেদিন প্রত্যেককে তার কাজের হিসাব দিতে হবে। তা গোপন হোক কিংবা প্রকাশ্য। নেক কাজের জন্য পুরস্কার ও অন্যায় বা পাপ কাজের জন্য ভোগ করতে হবে শাস্তি। তবে ক্ষমা বা মুক্তি থাকবে আল্লাহর ইচ্ছাধীন। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে কোনো ব্যক্তিই নেক আমল করে সে নিজের উপকার বা কল্যাণের জন্য করে আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজ করে তার ওপরই তা বর্তাবে। আপনার রব তাঁর বান্দাদের প্রতি কখনোই জুলুম করেন না।’ (সুরা : হা-মিম সাজদা, আয়াত : ৪৬)

আল্লাহ আরও বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা ইমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে তাদের মেহমানদারির জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস সাজানো রয়েছে।’ (সুরা আল কাহাফ, আয়াত ১০৭)

আরো পড়ুন
নেক আমলের পুরস্কার

নেক আমলের পুরস্কার

 

আয়েশা (রা.) মহানবী (সা.)-এর কাছে জানতে চাইলেন, ‘আল্লাহর কাছে কোন আমল সর্বাধিক প্রিয়? তিনি উত্তর দিলেন, যে আমল সর্বদা করা হয়, চাই তা কম হোক।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬৪৬৫)

হাদিসে আরও এসেছে, বান্দা যখন কোনো নেক আমল করতে থাকে এরপর সে অসুস্থ হয়ে পড়ে তখন তার আমলনামা লেখার ফেরেশতাকে বলা হয় এই বান্দা সুস্থ অবস্থায় যে আমল করত (এখন অসুস্থ হওয়ায়) তার আমলনামায় তা লিখতে থাক। যতক্ষণ না তাকে আমি মুক্ত করে দিই অথবা তাকে আমার কাছে ডেকে আনি। (মিশকাত শরিফ, হাদিস : ১৫৫৯)। 

অতএব, নেক আমল কখনো বৃথা যায় না। মানুষের চোখে তা ক্ষুদ্র মনে হলেও আল্লাহ তাআলার দরবারে তার মূল্য হতে পারে পাহাড়সম। একটি আন্তরিক সিজদা, একটি গোপন সদকা, একটি উত্তম চরিত্র কিংবা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা সামান্য ত্যাগও আখিরাতে অসীম প্রতিদানের কারণ হতে পারে। তাই একজন বুদ্ধিমান মুমিন দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী লাভের চেয়ে আখিরাতের চিরস্থায়ী সফলতাকে প্রাধান্য দেয়। আসুন, আমরা সবাই নেক আমলের পথে অবিচল থাকি, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করি এবং সেই মহান দিনের প্রস্তুতি গ্রহণ করি, যেদিন আল্লাহ তাআলা নেককার বান্দাদের এমন পুরস্কার দান করবেন, যা হবে অনন্ত সুখ, চিরস্থায়ী শান্তি এবং তাঁর সন্তুষ্টি লাভের সর্বোচ্চ সম্মান। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুক। আমিন। 

কোরআনের বাণী

কেয়ামতে আগে ইয়াজুজ-মাজুজের আত্মপ্রকাশ

ইসলামী জীবন ডেস্ক
কেয়ামতে আগে ইয়াজুজ-মাজুজের আত্মপ্রকাশ
সংগৃহীত ছবি

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

 حَتّٰۤی اِذَا فُتِحَتۡ یَاۡجُوۡجُ وَ مَاۡجُوۡجُ وَ هُمۡ مِّنۡ كُلِّ حَدَبٍ یَّنۡسِلُوۡنَ

সরল অনুবাদ : 
‘অবশেষে যখন ইয়াজুজ ও মাজুজকে মুক্তি দেয়া হবে, আর তারা প্রতিটি উঁচু ভূমি হতে ছুটে আসবে।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৯৬) 

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা : 
হুজায়ফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা কয়েকজন সাহাবি একত্রিত হয়ে পরস্পর কিছু আলোচনা করছিলাম। ইতিমধ্যে মহানবী (সা.) আগমন করলেন। জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি বিষয়ে আলোচনা করছো? আমরা বললাম, আমরা কেয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করছি। তখন তিনি বললেন, যতক্ষণ পর্যন্ত দশটি আলামত প্ৰকাশ না পাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কেয়ামত সংঘটিত হবে না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ২৯০১) তিনি দশটি আলামতের মধ্যে ইয়াজুজ-মাজুজের আত্মপ্রকাশের কথাও উল্লেখ করেছেন।

তারা হলো নবী নুহ (আ.)-এর বংশধর এবং অত্যন্ত শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক মানবগোষ্ঠী। তারা বর্তমানে একটি প্রাচীরের আড়ালে বন্দী রয়েছে। প্রতিদিন তা ভাঙার চেষ্টা করছে। তারা প্রতিদিন দেয়াল খনন করে কিন্তু ‘ইনশাআল্লাহ’ বলে না। তাই আল্লাহ প্রতিদিন দেয়ালটি আগের চেয়েও শক্তিশালী করে দেন। তবে কিয়ামতের ঠিক আগে একদিন তারা ‘ইনশাআল্লাহ’ বলবে এবং দেয়াল ভেঙে তারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে। মুক্ত হওয়ার পর এই বিশাল দলটি পৃথিবীর সব জলাশয় ও নদী শুকিয়ে ফেলবে এবং সর্বত্র চরম বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাবে। তখন হযরত ঈসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীরা এদের হাত থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবেন। তারপর আল্লাহর হুকুমে ইয়াজুজ-মাজুজের ঘাড়ে এক ধরনের পোকা বা রোগ দেখা দেবে এবং এর ফলেই তারা সকলে একসঙ্গে মৃত্যুবরণ করবে। এরপর আল্লাহ বিশেষ পাখি বা বৃষ্টির মাধ্যমে তাদের মৃতদেহ পরিষ্কার করবেন। (

এ আয়াতে ইয়াজুজ-মাজুজের আত্মপ্রকাশের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে فتحت শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এর বাহ্যিক অর্থ হলো, সেই নির্ধারিত সময়ের পূর্বে তারা কোন বাধার সম্মুখীন হয়ে থাকবে।

 حدب শব্দের অর্থ প্রত্যেক উচ্চ ভূমি-বড় পাহাড় কিংবা ছোট ছোট টিলা। (ইবন কাসির) সুরা কাহফে ইয়াজুজ-মাজুজের আলোচনা থেকে তাদের বর্তমান অবস্থান কোন কোন পর্বতমালার পশ্চাতে তা জানা যায়। তাই আত্মপ্রকাশের সময় তারা পর্বত ও টিলাসমূহ থেকে বের হয়ে জমিনের মধ্যে ফাসাদ সৃষ্টি করবে। (ইবন কাসির, তাফসিরে জাকারিয়া)

ইয়াজুজ-মাজুজের বিস্তারিত বিবরণ সুরা-কাহফের শেষে (৯৩-৯৮ আয়াতে) উল্লেখ করা হয়েছে। কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে ঈসা (আ.)-এর বর্তমানে তাদের আত্মপ্রকাশ ঘটবে। এরা এত বেশি দ্রুত পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে যে, মনে হবে প্রতিটি উঁচু জায়গা হতেই তারা ছুটে আসছে। তাদের অনিষ্টতা ও অত্যাচারে মুসলিমরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠবে। এমনকি ঈসা (আ.) মুসলিমদের নিয়ে তুর পাহাড়ে গিয়ে আশ্রয় নেবেন। তারপর ঈসা (আ.)-এর অভিশাপে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। তাদের শবদেহের দুর্গন্ধে সর্বদিক ভরে উঠবে। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা এক জাতীয় পাখি প্রেরণ করবেন; যারা তাদের লাশগুলো তুলে সমুদ্রে নিক্ষেপ করবে। তারপর প্রবল বৃষ্টি বর্ষন করবেন, যাতে সারা পৃথিবী পরিষ্কার হয়ে যাবে। (তাফসিরে আহসানুল বায়ান)

প্রচন্ড গরম থেকে বাঁচতে যে দোয়া পড়বেন

মুফতি ওমর বিন নাছির
প্রচন্ড গরম থেকে বাঁচতে যে দোয়া পড়বেন
সংগৃহীত ছবি

প্রচণ্ড গরম মানুষের জীবনকে অনেক সময় দুর্বিষহ করে তোলে। তীব্র রোদ, গরম বাতাস ও অসহনীয় তাপদাহে মানুষ শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিক অস্বস্তিতেও ভোগে। কিন্তু একজন মুমিন জানে, পৃথিবীর প্রতিটি অবস্থা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই আসে এবং প্রতিটি পরিস্থিতিতে তাঁরই আশ্রয় গ্রহণ করা উচিত। তাই ইসলামে কষ্ট, বিপদ, রোগব্যাধি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো তীব্র গরমের সময়ও আল্লাহর কাছে সাহায্য ও নিরাপত্তা কামনা করার শিক্ষা দিয়েছে। হাদিসে গরমকে আল্লাহর ক্রোধ বলা হয়েছে। আর আল্লাহর ক্রোধ থেকে বাঁচার জন্য মহানবী (সা.) যেমন দান সদকা করতে বলেছেন, তেমনি দোয়াও শিখিয়ে গেছেন। দোয়াটি হলো:-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ وَجَمِيعِ سَخَطِكَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন জাওয়ালি নিমাতিকা ওয়া তাহাউলি আফিয়াতিকা ওয়া ফুজাআতি নিকমাতিকা ওয়া জামিয়ি সাখাতিকা।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আপনার নেয়ামত (বা অনুগ্রহ) দূর হয়ে যাওয়া থেকে, আপনার দেওয়া নিরাপত্তা ও সুস্থতা পরিবর্তন হওয়া থেকে, আপনার আকস্মিক শাস্তি থেকে এবং আপনার যাবতীয় অসন্তুষ্টি ও ক্রোধ থেকে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ২৭৩৯)

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ লাগানো মহাপাপ

মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ লাগানো মহাপাপ
সংগৃহীত ছবি

ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক পারস্পরিক পরিপূরক, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তাঁর নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং তিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও অনুগ্রহ।’ (সুরা : রুম, আয়াত : ২১)

এ মেলবন্ধনের তৎপর্য—
‘কোনো কালে একা হয়নি ক জয়ী পুরুষের তরবারী
প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে বিজয়লক্ষ্মী নারী।’
(কাজী নজরুল ইসলাম)

পবিত্র কোরআনের শিক্ষায় স্বামী-স্ত্রী পরস্পর ‘ভূষণতুল্য’। পোশাক যেমন লজ্জা নিবারণের উপায়, তেমনি আকর্ষণের অবলম্বন। পারস্পরিক অনুভূতি, মনের কথা মুখে প্রকাশ, প্রিয়তমাকে রোমান্টিক কথকতায় আকৃষ্ট করা প্রিয় নবী (সা.)-এর আদর্শ।

সংসারের ঘানি টেনে ক্লান্ত দম্পতি নিজের যত্ন, নিজের সৌন্দর্য সম্পর্কে বেখেয়াল হয়ে পড়েন। অথচ প্রিয় নবীর (সা.) শিক্ষা—‘আমি আমার স্ত্রীদের জন্য এমনই পরিপাটি থাকা পছন্দ করি, যেমন আমি তাদের ক্ষেত্রে সাজগোজ করে থাকা পছন্দ করি।’ (বায়হাকি)

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নারীর প্রতি সহিংসতায় বাংলাদেশের অবস্থান ঊর্ধ্বমুখী। ঘটনার ৮০ শতাংশ হয় পরিবারের মধ্যে এবং এর ৮৪ শতাংশ শাশুড়ি ও ৬৩ শতাংশ ননদের হাতে। মুসলিম পরিবার দর্শন হলো প্রীতিময় সহাবস্থান। কিন্তু এতে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ান আপনজনরাই! এখানেই স্পষ্ট অব্যক্ত হাহাকার—
আমার শিয়রে শাশুড়ি ঘুমায় জ্বলন্ত নাগিনী 
হায়রে জ্বলন্ত নাগিনী
আমার পৈথানে ননদী শুয়ে দুরন্ত ডাকিনী...
...বন্ধুর বাড়ি আমার বাড়ি মধ্যে নলের বেড়া
ওরে হাত বাড়ায়া দিতে পান
কপাল দেখি পোড়া!

মহান আল্লাহর কাছে চরম অপছন্দনীয় বিষয় এবং জঘন্যতম কবিরা গুনাহ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ লাগানো। জাদুর ক্ষতিকর দিক প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে আছে, ‘তাদের (হারুত মারুত)-এর কাছে তারা এমন জাদু শিখত, যা দিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো যায়...।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১০২)

খারাপ কাজে উৎসাহ না দেওয়া ইসলামের বিঘোষিত নীতি—‘...মন্দকর্ম ও সীমা লঙ্ঘনে পরস্পরের সহযোগিতা করো না’। (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ২)

কিন্তু স্বার্থান্বেষী জঘন্য মানুষ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ লাগানোকে পৌঁছিয়েছে শিল্পের পর্যায়ে। এদের সম্পর্কে প্রিয় নবী (সা.)-এর সতর্কবার্তা, ‘কোনো নারী যেন নিজ স্বার্থের জন্য এবং বিয়ে বসার জন্য তার বোনের তালাক না চায়...।’ (বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ)
শয়তানের দৌরাত্ম্য বোঝাতে প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘ফিতনা-ফাসাদ ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য শয়তান তার বাহিনী পাঠায়। ...শয়তানের বাহিনী যখন ফিরে আসে প্রত্যেকে সরদারের কাছে নিজ নিজ রিপোর্ট পেশ করে... এরই মাঝে এক সৈন্য সরদারের সামনে গিয়ে তার রিপোর্ট পেশ করে বলে ‘এভাবে আমি সুকৌশলে সূক্ষ্মভাবে আমার দায়িত্ব পালন করেছি। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত আমি ক্ষান্ত হইনি।’ তিনি (সা.) বলেন, শয়তান এ রিপোর্ট শুনে খুশিতে লাফিয়ে উঠল। তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে উদ্বেলিত স্বরে বলল, ‘তুমিই আসল কাজ করেছ!’ (মুসলিম)

দুটি প্রাণ ও পরিবারের মেলবন্ধনে সংসার সুখের স্বর্গ। সংসারধর্ম বজায় রাখা ইবাদততুল্য পুণ্যময় সাধনা। কিন্তু একেবারেই যদি তা অসম্ভব হয়ে ওঠে, তবে তো আফসোস! ভিন্ন কথা। বিরুদ্ধ পরিবেশে পারিবারিক শান্তি-স্বস্তির নির্দেশনায় মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যেসব নারীর অবাধ্যতা আশঙ্কা করো, তবে তাদেরকে উপদেশ দাও; শয্যাসঙ্গী হতে বিরত রাখো এবং তাদেরকে শাসন করো (সামান্য প্রহার)। যদি তারা অনুগত হয়ে যায়, তবে তাদের জন্য অন্য কোনো বিকল্প খুঁজবে না...। আর যদি উভয়ের মধ্যে বিরুদ্ধভাব প্রবল মনে করো, তবে পুরুষ ও নারীর পক্ষে একজন করে স্বজনকে মীমাংসাকারী মেনে সমাধানে উদ্যোগী হও। যদি তারা সমাধানে ইচ্ছুক হয়, তবে আল্লাহও তাদের প্রতি অনুকূল হবেন...।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩৪ ও ৩৫ ভাবানুবাদ)

বিচ্ছেদের চরম সিদ্ধান্তের আগে চারটি উপায় অনুসরণের নির্দেশের পাশাপাশি মহান আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যেন দুপক্ষই আন্তরিক হয়ে সমঝোতায় পৌঁছে। কেননা প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তালাকের চেয়ে অধিক ঘৃণ্য কোনো জিনিস বৈধ করেননি।’ (আবু দাউদ)

বস্তুত পুরুষ মানুষ সময়মতো ঘরে না ফিরলে ‘বউ গরম ভাত ঠাণ্ডা’-এর ঘটনা ঘটে! বিরোধের কারণ আরো অনেক—

অসম দৃষ্টিভঙ্গি—ব্যক্তিত্বের সংঘাত,
প্রবাসজীবন এবং পরকীয়া,
জৈবিক আর্থিক অসাম্য,
অবহেলা—সময় না দেওয়া,
পারিবারিক অশিক্ষা, তৃতীয়পক্ষ।

প্রেমময় সম্পর্কের একজন ছাড়া, আরেকজনের জীবন একেবারে শেষ; এমনও নয়। শরত্চন্দ্রের ভাষায়, ‘দেবদাস ভাবিয়াছিল তাহাকে ছাড়া পার্বতী মরিয়া যাইবে, অথচ তাহার জ্বরটুকু অব্দি আসিল না!’

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর-১৭৩০